মুয়াত্তা মালিক — হাদিস #৩৫৯১৩
হাদিস #৩৫৯১৩
حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي عَامَ حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ وَجَعٍ اشْتَدَّ بِي فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ بَلَغَ بِي مِنَ الْوَجَعِ مَا تَرَى وَأَنَا ذُو مَالٍ وَلاَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَةٌ لِي أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَىْ مَالِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " . فَقُلْتُ فَالشَّطْرُ قَالَ " لاَ " . ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ إِلاَّ أُجِرْتَ حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي فِي امْرَأَتِكَ " . قَالَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَأُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً صَالِحًا إِلاَّ ازْدَدْتَ بِهِ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ اللَّهُمَّ أَمْضِ لأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ وَلاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ " .
রেওয়ায়ত ৪. সা’আদ ইবন আবি ওয়াক্কাস (রাঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার অসুখের সময় আমাকে দেখিতে আসেন, আমার অসুখ খুব কঠিন ছিল। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি দেখিতেছেন যে, আমার অবস্থা কি এবং আমি খুব সম্পদশালী, আমার কেহই ওয়ারিস নাই এক মেয়ে ব্যতীত। এখন আমি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ সদকা করিয়া দিতে পারিব কি? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, না। আমি বলিলাম, তাহা হইলে অর্ধেক দান করিয়া দেই? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, না। অতঃপর তিনি নিজেই বলিলেন এক-তৃতীয়াংশ দান কর, যদিও ইহাও অনেক। মনে রাখিও, তুমি তোমার ওয়ারিসদিগকে ধনী রাখিয়া যাওয়া উত্তম তাহাদিগকে দরিদ্র এবং লোকের কাছে ভিক্ষা করুক এমন অবস্থায় রাখিয়া যাওয়ার চাইতে। তুমি যাহা কিছু আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য খরচ করিবে তাহার বিনিময় পাইবেই, চাই নিজ স্ত্রীর মুখে লোকমা উঠাইয়া দাও না কেন। অতঃপর আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমি আমার সঙ্গীদের পিছনে থাকিয়া যাইব। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যদি তুমি তাহাদের পিছনে পড় এবং নেকী করিতে থাক তবে তোমার সম্মান বুলন্দ হইবে। এমনও হইতে পারে যে, তুমি জীবিত থাকিবে এবং তোমার দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা বহু লোককে উপকৃত করিবেন, আর এক দলের তোমার দ্বারা ক্ষতি হইবে। হে আল্লাহ আমার সাহাবীগণের হিজরত পূর্ণ কর এবং তাহাদিগকে পশ্চাদপসরণ করিও না। কিন্তু বেচারা সা’আদ ইবন খাওলা যাহার জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্তর ব্যথিত হইয়াছিল, কেননা তিনি মক্কায় ইন্তিকাল করিয়াছিলেন। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কাহারও জন্য এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তির ওসীয়্যত করিয়া যায় এবং ইহাও বলে যে, আমার অমুক গোলাম অমুকের খেদমত আজীবন করিবে, অতঃপর সে আযাদ। তাহার পর যদি গোলামের মূল্য সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ হয় তবে গোলামের খেদমত গ্রহণ করা হইবে এবং গোলামের ভাগ বন্টন করা হইবে; যাহার জন্য সম্পদের ওসীয়াত করা হইয়াছে তাহার হিস্যা হইবে এবং যাহার জন্য খেদমত করার ওসীয়াত করা হইয়াছে তাহারও হিস্য খেদমতের মূল্য অনুযায়ী হইবে এবং এই দুইজন লোকই ঐ গোলামের কামাই ও খেদমত হইতে নিজ হিস্যা প্রাপ্ত হইবে। যখন ঐ ব্যক্তি মারা যাইবে যাহার খেদমতের কথা বলা হইয়াছে, তখন গোলাম আযাদ হইয়া যাইবে। মালিক (রহঃ) বলেনঃ যদি কেহ কয়েক ব্যক্তির নাম লইয়া বলে যে, অমুককে এত অমুককে এত দিবার ওসীয়্যত করিলাম; অতঃপর তাহার ওয়ারিসগণ বলে যে, ওসীয়্যত এক-তৃতীয়াংশের চাইতে অধিক হইয়াছে তবে ওয়ারিসগণের ইখতিয়ার হইবে, হয় তাহারা ওসীয়াত যাহাদেরকে করা হইয়াছে তাহাদের প্রত্যেককেই ঐ পরিমাণ বিনিময় দেবে এবং পূর্ণ সম্পদ নিজেরা লইয়া লইবে অথবা তাহাদিগকে এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ দিয়া দেবে যেন তাহারা বন্টন করিয়া লইতে পারে।
উৎস
মুয়াত্তা মালিক # ৩৭/১৪৫৮
গ্রেড
Sahih
বিভাগ
অধ্যায় ৩৭: অসিয়াত