দু‘আ

আখলাক-চরিত্র

৭টি দু‘আ
১

ক্রোধ দমনের জন্যে এই দু‘আ পড়বে

۞ اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণ

আ‘ঊযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রজীম।

অর্থ

আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।

ফযীলত

হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রাযি) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর সম্মুখে দুই ব্যক্তি পরস্পর গালিগালাজ করছিল। এমনকি একজনের চেহারায় ত্রেুাধের আভাস ফুঠে উঠে। তখন নবী (ﷺ) বললেন, আমি এমন একটা কালিমা জানি যদি সে পাঠ করে তবে তার ত্রেুাধ প্রশমিত হয়ে যাবে ।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬০৪৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৬১০; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫২

২

কুপ্রবৃত্তি থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ يَاحَىُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثْ أَصْلِحْ لِىْ شَأْنِىْ كُلَّهٗ وَلَا تَكِلْنِيْ إِلَى نَفْسِىْ طَرْفَةَ عَيْنِ
উচ্চারণ

ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম বি রহমাতিকা আসতাগিস, আসলিহলি শা’নি কুল্লাহু ওলা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বরফাতা আঈন।

অর্থ

হে চিরঞ্জীব, হে জমিন আসমান ও সমস্ত মাখলূকের রক্ষাকারী। আমি আপনার রহমতের উসীলায় ফরিয়াদ করছি যে, আমার সমস্ত কাজ দুরস্ত করেদিন এবং আমাকে এক পলকের জন্যও আমার নফসের কাছে সোপর্দ করবেন না।

ফযীলত

হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযি) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত ফাতেমা (রাযি) কে বললেন, আমার নসীহত মনোযোগ দিয়া শোন, তুমি সকালে ও সন্ধ্যায় (এই দু‘আ) পড়বে।

তথ্যসূত্র: আন নাসায়ী ফিল কুবরা, হাদীস নং: ১০৪০৫; মুসতাদরাকে হাকিম, হাদীস নং: ২০০০

৩

চরিত্র ও কর্মের অশ্লীলতা থেকে আশ্রয়ের দু‘আ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ، وَالْأَعْمَالِ، وَالْأَهْوَاءِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন মুনকারা-তিল আখলা-কি ওয়াল আ‘মা-লি ওয়াল আহওয়া।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই মন্দ আখলাক, মন্দ আমল ও কূপ্রবৃত্তি থেকে।

জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৯১
ফযীলত

হযরত যিয়াদ ইবনে ইলাকা (রহ.) তাঁর চাচা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, হুজুর ﷺ উপরোক্ত দু‘আটি পাঠ করতেন।
হুজুর ﷺ আমাদের উক্ত দু'আর মাধ্যমে- চরিত্র, কর্ম ও অন্তরের প্রবৃত্তি সবকিছুকে পবিত্র ও কলুষমুক্ত রাখার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতে শিক্ষা দিয়েছেন।

৪

তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধি লাভের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اٰتِ نَفْسِيْ تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا، أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
উচ্চারণ

আল্লা–হুম্মা আতি নাফসি তাকওয়া-হা, ওয়া-জাক্কিহা, আনতা খাইরু মান জাক্কাহা, আনতা ওলিইউহা ওয়া মাওলা-হা।

অর্থ

ইয়া আল্লাহ! আমার সত্তাকে তাকওয়া দান করুন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করুন। আপনি-ই তো এর উত্তম পরিশুদ্ধকারী। আপনিই এর মালিক ও প্রভু।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭২২
৫

কুপ্রবৃত্তি ও গুনাহের প্রতি ঝোঁক কমানোর দু'আ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ فِعْلَ الْخَيْرَاتِ وَتَرْكَ الْمُنْكَرَاتِ وَحُبَّ الْمَسَاكِينِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ফি'লাল খইরাতি, ওয়া তারকাল মুনকারাতি, ওয়া হুব্বাল মাসাকীন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নেক কাজ করার, মন্দ কাজসমূহ বর্জন করার এবং অসহায়-দরিদ্রদের ভালোবাসার তাওফীক প্রার্থনা করছি।

জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৯১
ফযীলত

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী! কী প্রজ্ঞার সাথে এখানে এ সত্য প্রকাশ করা হল যে, প্রকৃত মাকসুদ যদিও আল্লাহরই ভালোবাসা; কিন্তু এর সাথে ঐ সকল আমলও মাকসুদ, যা হুব্বে ইলাহীর নিকটবর্তী করে। শুধু আল্লাহই নন, তাঁর বিধান ও আনুগত্যও প্রিয়। কারণ, এরা তো উপায় ঐ মানযিলে মাকসুদে পৌঁছার। ধনাঢ্যপ্রীতি নয়,وَحُبَّ الْمَسَاكِيْنِ (অভাবীর প্রতি ভালোবাসা) চাইতে বলা হয়েছে অভাবীর প্রতি ভালোবাসা। এ থেকেই বোঝা যায়, ইসলামী শরীয়তে নিঃস্ব ও অভাবীর মর্যাদা কী। এখানেই তো আছে প্রকৃত ‘সমাজতন্ত্র’ ও যথার্থ ‘কমিউনিজম’, যা অনাচার ও দুষ্কৃতিমুক্ত।

৬

কান, চোখ, জিহ্বা, অন্তর এবং কামভাবের অনিষ্ট থেকে বাঁচার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِيْ وَمِنْ شَرِّ بَصَرِيْ، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِيْ وَمِنْ شَرِّ قَلْبِيْ، وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّيْ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি সাম'ঈ, ওয়া মিন শাররি বাসারী, ওয়া মিন শাররি লিসানী, ওয়া মিন শাররি কালবী, ওয়া মিন শাররি মানিয়্যী।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আমার কান, চোখ, জিহ্বা, অন্তর এবং কামভাবের অনিষ্ট থেকে।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৬৫৭; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৯২
ফযীলত

হযরত শাকল ইবনে হুমায়দ (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে পানাহ চাওয়ার একটি দু‘আ শিখিয়ে দিন যদ্বারা আমি পানাহ চাইব। তিনি তখন আমার হাত ধরে বললেন, বল- “আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন শাররি সাম'ঈ, ওয়া মিন শাররি বাসারী, ওয়া মিন শাররি লিসানী, ওয়া মিন শাররি কালবী, ওয়া মিন শাররি মানিয়্যী।”

মানুষের বিভিন্ন বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ গুনাহের সঙ্গে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তরের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এগুলোকে গুনাহের বিভিন্ন প্রবেশপথ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আর এই দু‘আটি হলো এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তরের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার প্রার্থনা।

৭

উত্তম আখলাক ও আমল লাভ এবং মন্দ আখলাক ও আমল থেকে বাঁচার দু‘আ

اللَّهُمَّ اهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الأَخْلاَقِ لاَ يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلاَّ أَنْتَ وَقِنِي سَيِّئَ الأَعْمَالِ وَسَيِّئَ الأَخْلاَقِ لاَ يَقِي سَيِّئَهَا إِلاَّ أَنْتَ ".
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাহদিনী লি-আহসানিল আ‘মালি ওয়া আহসানিল আখলাক, লা ইয়াহদী লি-আহসানিহা ইল্লা আনতা, ওয়া কিনী সাইয়্যিআল আ‘মালি ওয়া সাইয়্যিআল আখলাক, লা ইয়াকী সাইয়্যিআহা ইল্লা আনতা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে সর্বোত্তম আমল ও সর্বোত্তম চরিত্রের দিকে হিদায়াত করুন। আপনি ছাড়া কেউ উত্তম আমল ও উত্তম চরিত্রের দিকে হিদায়াত করতে পারে না। আর আমাকে মন্দ আমল ও মন্দ চরিত্র থেকে রক্ষা করুন। আপনি ছাড়া কেউ এর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে না।

সুনানে নাসায়ী হাদীস নং: ৮৯৬
ফযীলত

জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী কারীম ﷺ যখন নামায দাঁড়াতেন, তখন উক্ত দু'আ পরতেন।