দু‘আ

ইস্তিগফার ও কৃতজ্ঞতা অধ্যায়

১৩টি দু‘আ
১

ইস্তিগফার

۞  أَسْتَغْفِرُ اللهَ
উচ্চারণ

আস্তাগ্‌ফিরুল্লাহ

অর্থ

আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বললেন, “আল্লাহর শপথ! আমি দৈনিক সত্তর বারের অধিক আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাওবা করি।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩০৭

২

সায়্যিদুল ইস্তিগফার

۞ اَللّٰهُمَّ أَنْتَ رَبِّيْ  لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِيْ وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلٰى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوْءُ لَكَ بِذَنْبِيْ فَاغْفِرْ لِي ْ فَإِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা- আ’হ্‌দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত্ব’তু আ’উযুবিকা মিন শার্‌রি মা ছা’নাতু আবূ-উলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূ-উলাকা বিযামবী ফাগ্‌ফির্‌লী ফাইন্নাহু- লা-ইয়াগফিরুয্‌যুনূবা ইল্লা- আনতা

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি আমার রব। তুমি ছাড়া আর কোনো সত্য মা‘বূদ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আমি তোমার বান্দা। আমি তোমার ওয়াদা ও অঙ্গীকারের উপর সাধ্যানুযায়ী প্রতিষ্ঠিত। আমি অনিষ্টকর যা কিছু করেছি তা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমার উপর তোমার যে নিয়ামত আছে তার স্বীকৃতি দিচ্ছি। তোমার নিকট আমার গুনাহের স্বীকৃতি দিচ্ছি। সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও; কেননা তুমি ছাড়া আর কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।  

ফযীলত

হযরত সাদ্দাদ ইবনে আওস (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি দিলের একিনের সাথে দিনের যে কোন অংশে এই কালিমাগুলো পড়েছে এবং সেইদিন সন্ধ্যার পূর্বে তার মৃত্যু হয়ে গিয়েছে সে জান্নাতীদের মধ্য থেকে হবে। এমনিভাবে যদি কেউ দিলের একিনের সাথে রাত্রের কোন অংশে এই কালিমাগুলো পড়েছে এবং সকাল হওয়ার পূর্বে তার মৃত্যু হয়ে গিয়েছে সে জান্নাতীদের মধ্য হতে হবে।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩০৬

৩

জান্নাতের ধনভান্ডার

۞  لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ
উচ্চারণ

লা-হাওলা ওলা- ক্বুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ্‌

অর্থ

আল্লাহর আশ্রয় ও শক্তি ছাড়া আর কারো কোনো ক্ষমতা নাই।

ফযীলত

হযরত আবূ মূসা আল আশ’আরী (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নবী (ﷺ) বললেন, হে আবূ মুসা অথবা বললেন, হে আব্দুল্লাহ! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধনভান্ডারের একটি বাক্য বাতলে দেব না? আমি বললাম, হ্যা, বলে দিন। তখন তিনি উক্ত দু‘আটি বলেছেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৪০৯

৪

ক্ষমার জন্য দু‘আ-১

۞  رَبَّـنَـا  فَـاغْـفِـرْلَـنَـا  ذُنُـوْبَـنَـا  وَكَـفِّـرْ  عَـنَّـا  سَـيِّـاٰ تِـنَـا  وَتَـوَفَّـنَـا  مَـعَ  الاَبْـرَارِ
উচ্চারণ

রাব্বানা ফাগ্‌ফিরলানা যুনূবানা ওয়া কাফ্‌ফির ’আন্না সাইয়্যি আ’তিনা ওয়া তাওয়াফ্‌ফানা মা’আল আব্‌রার।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত কর এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিও।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৯৩
৫

ক্ষমার জন্য দু‘আ-২

۞  رَبِّ  اغْـفِـرْ  وَارْحَـمْ  وَاَنْـتَ  خَـيْـرُ  الرّٰحِـمِـيْـنَ
উচ্চারণ

রাব্বিগ্‌ফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।

অর্থ

হে আমার রব! মাফ কর, রহম কর, তুমি সব দয়াবানের চেয়ে অতি উত্তম দয়াবান।

সূরা মুমিনূন, আয়াত নং: ১১৮
৬

মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা

۞  رَبَّـنَـا  اغْـفِـرْلِـىْ  وَلِـوَالِـدَىَّ  وَلِـلْـمُـؤْمِـنِـيْـنَ  يَـوْمَ  يَـقُـوْمُ  الْـحِـسَـابُ
উচ্চারণ

রাব্বানাগ্ ফিরলী ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল্ মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল্ হিসাব্।

অর্থ

হে আমার প্রতিপালক! যে দিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে সেই দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মু’মিনগণকে ক্ষমা করো।

সূরা ইবরাহীম, আয়াত নং: ৪১
৭

পরকালের আযাব থেকে মুক্তির দু‘আ

۞  رَبَّـنَـا  اِنَّـنَـا  اٰمَـنَّـا  فَـاغْـفِـرْلَـنَـا  ذُنُـوْبَـنَـا  وَقِـنَـا  عَـذَابَ  الـنَّـارِ
উচ্চারণ

রাব্বানা ইন্নানা আ-মান্না ফাগ্‌ফিরলানা যুনূবানা ওয়া ক্বিনা আযা-বান্ন না-র।

অর্থ

হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি। তুমি আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের আগুনের আযাব হতে রক্ষা কর।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৬
৮

জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের দু‘আ

۞  رَبَّـنَـا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إنَّهَا سَآءَتْ مُسْتَقَرًّ وَّمُقَاماً
উচ্চারণ

রাব্বানাসরিফ ‘আন্না আযাবা জাহান্নামা, ইন্না আযাবাহা কানা গারামা, ইন্নাহা সাআত মুস্তাক্বার্‌রাও ওয়া মুকামা।

অর্থ

হে আমাদের রব! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। বসবাস ও আবাসস্থল হিসেবে তা কত নিকৃষ্ট জায়গা

সূরা ফুরক্বান, আয়াত নং: ৬৫
৯

মজলিস থেকে উঠার সময় পড়বে

۞ رَبِّ اغْفِرْ لِيْ، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الغَفُوْرُ
উচ্চারণ

রব্বিগফির লী ওয়াতুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত্ তাউওয়া-বুল গাফূর।

অর্থ

হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে মাফ করুন এবং তাওবাহ কবূল করুন; নিশ্চয় আপনিই তওবা কবূলকারী ক্ষমাশীল।

ফযীলত

হযরত ইবনে উমর (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রতিটি মাজলিসে হিসাব করে দেখা গেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত মাজলিস থেকে উঠে যাওয়ার আগে এক শতবার বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার তাওবা গ্রহণ কর। কারণ তুমিই তওবা কবূলকারী, ক্ষমাকারী”।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৩৪

১০

মজলিসের কাফফারার দু‘আ

۞ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
উচ্চারণ

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লা- আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং প্রশংসা ব্যক্ত করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া অন্য কোন মা‘বুদ নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং আপনার দিকেই ধাবিত হচ্ছি।

ফযীলত

হযরত জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাযি) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোন যিকিরের মজলিসের শেষে এই দু‘আ পড়ল।
উক্ত মজলিস আল্লাহ তা’আলার নিকট কবূল হয়ে যায় এবং এর সওয়াব আল্লাহ তা‘আলার নিকট রক্ষিত হয়ে যায়। যদি এমন মজলিসে পড়া হয় যেখানে অযথা কথাবার্তা বলা হয়েছে তবে এই দু‘আ উক্ত মজলিসের কাফফারা হয়ে যায়। তাছাড়া এই দু‘আ সেই জিকিরের মজলিসের জন্য এমন, যেমন (গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্রের উপর) মোহর লাগিয়ে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২৩৪৬

১১

জীবিত, মৃত, নারী, পুরুষ সকলের জন্য ক্ষমা চেয়ে দু‘আ

رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَیۡرُ الرّٰحِمِیۡنَ۞
উচ্চারণ

রাব্বিগ্‌ফির্ ওয়ারহাম্ ওয়া আন্তা খাইরুর্ রাহিমীন।

অর্থ

হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

সূরা আল মু'মিনূন, আয়াত নং: ১১৮
১২

মুমিন নারী-পুরুষ, সকল মুমিনের জন্য মাগফিরাত ও ঐক্যের দু‘আ

اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাগফির লিলমুমিনীনা ওয়াল মুমিনাত, ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত, ওয়া আল্লিফ বাইনা কুলূবিহিম, ওয়া আসলিহ যাতা বাইনিহিম, ওয়ানসুরহুম আলা আদুউয়্যিকা ওয়া আদুউয়্যিহিম।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি সকল মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, সকল মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীকে ক্ষমা করুন। তাঁদের অন্তরসমূহের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করুন, তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দিন এবং আপনার ও তাঁদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁদের সাহায্য করুন।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ২১৯৫৯
ফযীলত

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-এর সকালের নামাযে কুনূতে নাঝেলার আমল
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) সকালের নামাযে রুকূ‘র পর কুনূত পাঠ করতেন। এরপর তিনি মুমিন ও মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য মাগফিরাত কামনা, তাঁদের অন্তরসমূহে ভালোবাসা ও ঐক্য সৃষ্টি, পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার জন্যে এই দু'আ পরতেন।

১৩

আনসারী সাহাবীদের জন্য রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মাগফিরাতের দু‘আ

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلأَنْصَارِ، وَلِأَبْنَاءِ الأَنْصَارِ، وَلِأَبْنَاءِ أَبْنَاءِ الأَنْصَارِ، وَلِنِسَاءِ الأَنْصَارِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাগফির লিল-আনসার, ওয়া লি-আবনা' ইল আনসার, ওয়া লি-আবনাই আবনা' ইল আনসার, ওয়া লি-নিসাইল আনসার।

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি মাফ করে দাও আনসারীদের, আনসারীদের সন্তানদের, আনসারীদের সন্তানের সন্তানদের এবং আনসারী মহিলাদের।

জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৯০৯
ফযীলত

ইসলামের জন্য আনসারী সাহাবীদের ত্যাগ ও কুরবানী ছিল অতুলনীয়। তাঁদের ঈমান, ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপে নবী কারীম ﷺ তাঁদের জন্য উপরোক্ত দু‘আ করেছেন।