আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখলে পড়বে
আল্লাহুম্মা ইন্না না‘ঊযুবিকা মিন শাররি মা উরসিলা বিহি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট ঐ সকল অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি, যাকে এ মেঘ বহন করে এনেছে।
আল্লাহুম্মা ইন্না না‘ঊযুবিকা মিন শাররি মা উরসিলা বিহি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট ঐ সকল অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি, যাকে এ মেঘ বহন করে এনেছে।
আল্লহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খইরাহা- ওয়া খইরা মা- ফী-হা- ওয়া খইরামা- উরসিলতা বিহি- ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন শাররিহা ওয়া শাররি মা-ফী-হা- ওয়া শাররি মা-উরসিলাত বিহি-।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করি এর কল্যাণ, এর মধ্যকার কল্যাণ এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার কল্যাণ। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট থেকে, এর ভেতরে নিহিত অনিষ্ট থেকে এবং যা এর সাথে প্রেরিত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে।
আবদুর রহমান ইবনে আসওয়াদ আবূ আমর বাসরী (রহ) আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যখন ঝাঞ্চা বায়ু বইতে দেখতেন তখন এই দু‘আ বলতেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৯
আল্লহুম্মা লা তাক্বতুলনা বি গদ্বাবিকা ওয়ালা তুহলিকনা বি ‘আযাবিকা ওয়া ‘আাফিনা ক্ববলা যালিকা।
হে আল্লাহ! দয়া করে আপনি আমাদেরকে আপনার গযবের দ্বারা মৃত্যু দেবেন না এবং আপনার আযাব দ্বারা ধ্বংস করবেন না। বরং এর পূর্বেই আমাদেরকে শান্তি ও নিরাপত্তা দান করুন।
কুতায়বা (রহ) হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি) তার পিতা থেকে বর্ণিত যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মেঘের ও বজ্রের আওয়াজ শুনতেন তখন এই দু‘আ বলতেন।
তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ৫৭৬৩; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫০
সুবহা-নাল্লাযী ইউসাব্বিহুর রা‘দু বিহামদিহি ওয়ালমালাইকাতু মিন খী-ফাতিহি
পবিত্র-মহান সেই সত্তা, যার ভয়ে রা‘দ ফেরেশতাসহ সকল ফেরেশতা মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে।
সাহাবায়ে কিরাম (রাযি) মেঘের গর্জন শুনলে এই দু‘আ পড়তেন।
আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযি) মেঘের গর্জন শুনলে কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং এই দু‘আ পড়তেন। অতঃপর তিনি (আমির ইবনে আবদুল্লাহ) বলতেন, যমীনের অধিবাসীদের জন্য এই আওয়াজ অত্যন্ত কঠিন আযাবের সংবাদ।
তথ্যসূত্র: মুওয়াত্তা মালেক, হাদীস নং: ১৮৬৭; আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৩৭১
আল্লহুম্মা ছইয়্যিবান নাফি‘আন।
হে আল্লাহ! (এ বৃষ্টিকে) কল্যাণকর, বরকতপূর্ণ এবং উপকারী বানিয়ে দিন।
হযরত আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বৃষ্টি দেখলে উপরোক্ত দু‘আ বলতেন।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১০৩২; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ২৭৭;
সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং ২: ৩৩৯
আল্লহুম্মা হাওয়া লাইনা ওয়ালা ‘আলাইনা।
হে আল্লাহ! এ বৃষ্টি আমাদের আশপাশে (যেখানে প্রয়োজন) বর্ষণ করুন এবং আমাদের উপর (যেখানে প্রয়োজন নেই) বর্ষণ করবেন না।
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুমু’আর দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খুৎবা দিচ্ছিলেন। তখন লোকেরা দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বলতে লাগল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে, গাছপালা লাল হয়ে গেছে এবং পশুগুলো মারা যাচ্ছে। তাই আপনি আল্লাহ্র নিকট দু‘আ করুন, যেন তিনি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ্! আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন। এভাবে দু’বার বললেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আল্লাহ্র কসম! আমরা তখন আকাশে এক খন্ড মেঘও দেখতে পাচ্ছিলাম না। হঠাৎ মেঘ দেখা দিল এবং বর্ষণ হলো। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বার থেকে নেমে সালাত আদায় করলেন। এরপর যখন তিনি চলে গেলেন, তখন থেকে পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত বৃষ্টি থেকে থাকে। তারপর যখন তিনি দাঁড়িয়ে জুমু’আর খুৎবা দিচ্ছিলেন, তখন লোকেরা উচ্চস্বরে তাঁর নিকট নিবেদন করল, ঘরবাড়ী বিদ্ধস্ত হচ্ছে, রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। তাই আপনি আল্লাহ্র নিকট দু‘আ করুন যেন আমাদের থেকে তিনি বৃষ্টি বন্ধ করেন। তখন নবী কারীম (ﷺ) মৃদু হেঁসে বললেন, اَللّٰهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا তখন মদীনার আকাশ মুক্ত হল এবং আশে পাশে বৃষ্টি থেকে লাগল। মদিনায় তখন এক ফোঁটা বৃষ্টিও হচ্ছিল না। আমি মদীনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মদীনা যেন মেঘ মুকুটের মাঝে শোভা পাচ্ছিল।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১০২১; সহীহ মুসলীম, হাদীস নং: ৮৯৭
আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা-‘আলাইনা। আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়ায্যিরাবি ওয়া বুতূনিল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজারি।
হে আল্লাহ! এ বৃষ্টি আমাদের আশপাশে (যেখানে প্রয়োজন) বর্ষণ করুন এবং আমাদের উপর (যেখানে প্রয়োজন নেই) বর্ষণ করবেন না। হে আল্লাহ! উঁচু ভূমিতে, পাহাড়ে, উপত্যকায় কোলে ও বনাঞ্চলে (বর্ষণ করুন)
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি জুমুআর দিন মসজিদে নববীতে দারুল কাযার দিকে স্থাপিত দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (অনাবৃষ্টির ফলে) মাল সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবিকার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন যেন তিনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু হাত উঠিয়ে দু‘আ করলেন, “আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লহুম্মা আগিসনা, আল্লহুম্মা আগিসনা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন।)। [৩ বার]
আনাস (রাযি) বলেন, আল্লাহর শপথ! এ সময় আসমানে কোন মেঘ বা মেঘের চিহ্নও ছিল না। আর আমাদের ও সালই পাহাড়ের মাঝে কোন ঘর-বাড়ী কিছুই ছিল না। (ক্ষণিকের মধ্যে) তার পেছন থেকে ঢালের ন্যায় অখণ্ড মেঘ উদিত হ’ল। একটু পর তা মাঝ আকাশে এলে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং বৃষ্টি শুরু হ’ল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহর শপথ আমরা সপ্তাহকাল যাবৎ আর সূর্যের মুখ দেখিনি।
অতঃপর পরবর্তী জুমু’আয় আবার এক ব্যক্তি ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মাল সম্পদ সব বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব, আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন যেন বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার হাত উঠিয়ে দু‘আ করলেন,
اَللّٰهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اَللّٰهُمَّ عَلَى الْاۤكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُوْنِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
এরপর বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেল। আমরা বের হয়ে সূর্য তাপের মধ্যে চলাচল করতে লাগলাম।
শারীক বলেন, আমি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) কে জিজ্ঞেস করলাম, এ ব্যক্তি কি প্রথম ব্যক্তি? আনাস বললেন, আমার জানা নেই।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮৯৭
মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহী
আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
হযরত যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা কি জানো, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কী বলেছেন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-ই উত্তম জানেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি মু’মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮০৬-৮৪৬