হে আল্লাহ! আমার নামাজ, আমার ইবাদত-বন্দেগি, আমার জীবন এবং আমার মরণ সবকিছুই একমাত্র আপনার জন্য নিবেদিত। আর আপনার দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন, এবং হে আমার রব! আমার রেখে যাওয়া সবকিছু বা উত্তরাধিকারের মালিকও আপনি।
হে আল্লাহ! আমাকে আপনার প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা আদায়কারী, আপনাকে অধিক স্মরণকারী, আপনার নসীহত ও অনুশাসন অনুসরনকারী এবং আপনার উপদেশ ও আদেশ হেফাজতকারী বানিয়ে দিন।
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমাদের অন্তর, আমাদের ললাট (ভাগ্য ও নিয়ন্ত্রণ) এবং আমাদের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আপনারই কুদরতি হাতে নিহিত; এগুলোর কোনো কিছুর ওপরই আপনি আমাদের কর্তৃত্ব দেননি।
তাই আপনি যখন আমাদের নিয়ে এই ফয়সালা করেছেন, তখন আপনিই আমাদের অভিভাবক ও রক্ষক হয়ে যান এবং আমাদের সহজ-সঠিক ও সরল পথ দেখান।
হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, চারিত্রিক পবিত্রতা (সংযম), আমানতদারিতা, সৎ ও সুন্দর চরিত্র এবং তাকদীর বা ভাগ্যের সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক।
হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। আর অনুগ্রহ ও দানের অধিকারী আপনিই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার পছন্দনীয় আমল করার তাওফীক, আপনার ওপর যথার্থভাবে ভরসা করার এবং আপনার প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করার তাওফীক প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ! আপনার যিকিরের জন্য আমার অন্তরের শ্রবণশক্তি উন্মুক্ত করে দিন। আমাকে আপনার আনুগত্য, আপনার রাসূলের আনুগত্য এবং আপনার কিতাব অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন।
হে আল্লাহ! আমাকে এমনভাবে আপনার ভয় ও সম্মান অন্তরে ধারণকারী বানিয়ে দিন, যেন আমি সর্বদা আপনাকে দেখছি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত। আপনার তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে আমাকে সৌভাগ্যবান করুন এবং আপনার অবাধ্যতার কারণে আমাকে দুর্ভাগা করবেন না।
হে আল্লাহ! প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। নিশ্চয়ই প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ করে দেওয়া আপনার জন্য সহজ। আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও মহান দাতা।
হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে মুনাফিকী থেকে, আমার আমলকে লোকদেখানো থেকে, আমার জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে এবং আমার চোখকে খিয়ানত থেকে পবিত্র করুন। নিশ্চয়ই আপনি চোখের গোপন খিয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন করে, তা জানেন।
হে আল্লাহ! আমাকে এমন দুটি চোখ দান করুন, যা থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরে; আপনার ভয়ে সেই অশ্রুধারা আমার অন্তরকে সিক্ত করে। এমন সময় আসার আগেই, যখন চোখের পানি রক্তে পরিণত হবে এবং দাঁতগুলো জ্বলন্ত অঙ্গারে পরিণত হবে।
হে আল্লাহ! আপনার ক্ষমতাবলে আমাকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন, আপনার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করুন, আপনার আনুগত্যের মধ্যে আমার নির্ধারিত জীবনকাল পূর্ণ করুন, আমার জীবনের শেষ আমলকে উত্তম আমল বানিয়ে দিন এবং এর প্রতিদান জান্নাত নির্ধারণ করুন।
হে আল্লাহ! দুশ্চিন্তা দূরকারী, দুঃখ-কষ্ট মোচনকারী এবং অসহায়দের দু‘আ কবুলকারী! হে দুনিয়ার পরম দয়াময় ও করুণাময়! আপনিই আমার প্রতি দয়া করেন। অতএব, আপনি আমার প্রতি এমন রহমত করুন, যার মাধ্যমে আপনি ছাড়া অন্য কারও রহমতের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আমি অমুখাপেক্ষী হতে পারি।
হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি ও নিরাপত্তার উৎস, আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে এবং আপনার দিকেই শান্তি ফিরে যায়। হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আপনি যেন আমাদের দু‘আ কবুল করেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন এবং আপনার সৃষ্টির মধ্যে যাদের থেকে আমাদের অমুখাপেক্ষী করেছেন, তাদের থেকে আমাদেরও অমুখাপেক্ষী করে দেন।
আল্লাহুম্মা আরদিনী বিক্বাদা'ইকা, ওয়া বারিক লী ফীমা কুদ্দিরা লী, হাত্তা লা উহিব্বা তা‘জীলা মা আখখারতা, ওয়া লা তা’খীরা মা ‘আ'জ্জালতা।
অর্থ
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ফয়সালায় রাজি-খুশি রাখুন আর যা কিছু আমার জন্য ধার্য হয়েছে, তাতে আমার জন্য বরকত দিন, যেন আপনি যা বিলম্বে রেখেছেন, তাতে আমি ত্বরা না করি আর যা আপনি অবিলম্বে রেখেছেন, তাতে বিলম্ব অন্বেষণ না করি।
হে আল্লাহ! আমাকে মিসকীন (বিনয়ী ও আপনার মুখাপেক্ষী) অবস্থায় জীবিত রাখুন, মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং মিসকীনদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমাকে হাশরের ময়দানে উঠান।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার পক্ষ থেকে এমন রহমত প্রার্থনা করছি, যার মাধ্যমে আপনি আমার অন্তরকে সঠিক পথ দেখাবেন, আমার যাবতীয় বিষয় সুবিন্যস্ত করবেন, আমার বিক্ষিপ্ততা ও অগোছালো অবস্থা দূর করবেন, আমার দ্বীনকে সংশোধন করবেন, আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন, আমার অনুপস্থিত বিষয় ও সম্পদ সংরক্ষণ করবেন, আমার উপস্থিত অবস্থা ও মর্যাদা উন্নত করবেন, আমার চেহারা উজ্জ্বল করবেন, আমার আমলকে পবিত্র করবেন, আমাকে সঠিক পথের প্রেরণা দেবেন, আমার ঐক্য ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে দেবেন এবং সেই রহমতের মাধ্যমে আমাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।
হে আল্লাহ! আমাকে এমন ঈমান দান করুন, যা প্রত্যাহার হয়ে যায় না; এমন দৃঢ় বিশ্বাস দান করুন, যার পরে কুফর আসে না; আর এমন রহমত দান করুন, যার মাধ্যমে আমি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা লাভ করতে পারি।
হে আল্লাহ! আমাকে এমন ঈমান দান করুন, যা প্রত্যাহার হয়ে যায় না; এমন দৃঢ় বিশ্বাস দান করুন, যার পরে কুফর আসে না; আর এমন রহমত দান করুন, যার মাধ্যমে আমি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা লাভ করতে পারি।
হে আল্লাহ! আমার চিন্তা-ভাবনা যে কল্যাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, আমার আমল যে কল্যাণ অর্জনে অক্ষম হয়েছে এবং আমার আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা যে কল্যাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, আপনার সৃষ্টির কাউকে আপনি যে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অথবা আপনার বান্দাদের কাউকে যে কল্যাণ আপনি দান করবেন, আমি সেই কল্যাণ আপনার কাছে কামনা করছি। আমি আপনার কাছে তা প্রার্থনা করছি এবং আপনার রহমতের উসিলায় আপনার কাছে চাইছি, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক!
হে আল্লাহ! আমি আমার প্রয়োজন আপনার কাছে পেশ করছি, যদিও আমার চিন্তা-ভাবনা সীমিত এবং আমার আমল দুর্বল। আমি আপনার রহমতের মুখাপেক্ষী হয়েছি। অতএব, হে সকল বিষয়ের ফয়সালাকারী! হে অন্তরসমূহের প্রশান্তিদাতা! যেমন আপনি সমুদ্রসমূহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করেন, তেমনি আমাকে জাহান্নামের শাস্তি, ধ্বংসের আহ্বান এবং কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।
হে আল্লাহ! হে সুদৃঢ় বন্ধনের অধিকারী এবং সঠিক নির্দেশ ও সুবিবেচনাপূর্ণ সিদ্ধান্তের অধিকারী! আমি আপনার কাছে প্রতিশ্রুত শাস্তির দিনের নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী জীবনের দিন জান্নাত প্রার্থনা করছি, নিকটবর্তী ও সম্মানিত বান্দাদের সঙ্গে, যারা ইবাদতে উপস্থিত থাকে, রুকু ও সিজদা করে এবং অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করে। নিশ্চয়ই আপনি পরম দয়ালু, অত্যন্ত স্নেহশীল। নিশ্চয়ই আপনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে হিদায়াতদাতা ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন; পথভ্রষ্ট নয় এবং অন্যকে পথভ্রষ্টকারীও নয়। আপনার বন্ধুদের প্রতি শান্তি ও ভালোবাসা পোষণকারী এবং আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী বানিয়ে দিন। আপনার ভালোবাসার কারণে যারা আপনাকে ভালোবাসে, আমরাও তাদের ভালোবাসি। আর আপনার অবাধ্যতার কারণে আপনার সৃষ্টির মধ্যে যারা আপনার বিরোধিতা করে, আমরাও তাদের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করি।
হে আল্লাহ! এ হলো আমার দু‘আ, আর তা কবুল করার দায়িত্ব আপনারই। এ হলো আমার প্রচেষ্টা, আর আপনার ওপরই আমার ভরসা। হে আল্লাহ! চোখের পলকের সমপরিমাণ সময়ের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আর আপনি আমাকে যে কল্যাণ দান করেছেন, তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন না।
হে আল্লাহ! আপনি এমন কোনো উপাস্য নন, যাঁকে আমরা নতুন করে কল্পনা করেছি। আপনি এমন কোনো প্রতিপালক নন, যাঁর স্মৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং যাঁকে আমরা মনগড়াভাবে উদ্ভাবন করেছি। আপনার সঙ্গে এমন কোনো অংশীদার নেই, যারা আপনার সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আপনার আগে আমাদের এমন কোনো উপাস্য ছিল না, যার কাছে আমরা আশ্রয় নেব এবং আপনাকে পরিত্যাগ করব। আমাদের সৃষ্টির ব্যাপারে আপনাকে কেউ সাহায্য করেনি যে, আমরা তাকে আপনার অংশীদার বানাব। আপনি বরকতময় ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। অতএব, আমরা আপনার কাছেই প্রার্থনা করছি। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমাকে ক্ষমা করুন।
হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রাণ সৃষ্টি করেছেন এবং আপনিই তা কবয করবেন। এর মৃত্যু ও জীবন আপনারই অধীন। যদি আপনি একে জীবিত রাখেন, তবে আপনার নেককার বান্দাদের যেভাবে হেফাজত করেন, সেভাবে একে হেফাজত করুন। আর যদি আপনি একে মৃত্যুদান করেন, তবে একে ক্ষমা করুন এবং এর প্রতি রহম করুন।
ইয়া আল্লাহ! আমাকে ইলম দ্বারা সাহায্য করুন এবং স্থিরতা ও সহনশীলতা দ্বারা সজ্জিত করুন। আর তাকওয়ার দ্বারা মর্যাদা দান করুন এবং সুস্থতা ও নিরাপত্তার দ্বারা শোভন করুন।হে আল্লাহ! জ্ঞানের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করুন, সহনশীলতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে আমাকে সুশোভিত করুন, তাকওয়ার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করুন এবং সুস্থতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে আমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন।
হে আল্লাহ! এমন কোনো যুগ যেন আমাকে না পায় এবং তারাও যেন এমন যুগে উপনীত না হয়, যে যুগে জ্ঞানী ব্যক্তির অনুসরণ করা হবে না এবং সহনশীল ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে সম্মান করতে লজ্জাবোধ করা হবে না। তাদের অন্তর হবে অনারবদের অন্তরের মতো, আর তাদের ভাষা হবে আরবদের ভাষার মতো।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে একটি অঙ্গীকার করছি, আপনি কখনোই তা ভঙ্গ করবেন না। নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ। অতএব, কোনো মুমিনকে যদি আমি কষ্ট দিয়ে থাকি, গালি দিয়ে থাকি, প্রহার করে থাকি কিংবা অভিশাপ দিয়ে থাকি, তবে আপনি সেটিকে তার জন্য রহমত, পবিত্রতা ও নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে দিন, যার দ্বারা আপনি তাকে আপনার নিকটবর্তী করবেন।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে শ্বেতী রোগ, বিদ্বেষ, মুনাফিকি, মন্দ চরিত্র এবং আপনার জানা যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।
আমি জাহান্নামবাসীদের অবস্থা, জাহান্নাম এবং এমন কথা ও কাজ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই, যা জাহান্নামের নিকটবর্তী করে। আর যার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে, তার অনিষ্ট থেকেও আশ্রয় চাই।
আমি আপনার কাছে এই দিনের অনিষ্ট, পরবর্তী সময়ের অনিষ্ট, নিজের নফসের অনিষ্ট, শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে আশ্রয় চাই। আরও আশ্রয় চাই যেন আমরা নিজেদের ওপর কোনো মন্দ কাজ না করি, অথবা কোনো মুসলিমের ওপর তা চাপিয়ে না দিই; কিংবা এমন কোনো অপরাধ বা পাপ না করি, যা আপনি ক্ষমা করবেন না। আর কিয়ামতের দিন সংকীর্ণ ও কঠিন অবস্থানে পড়া থেকেও আপনার আশ্রয় চাই।