দু‘আ

মুনাজাতে মাকবুল - মঙ্গলবার

৩৪টি দু‘আ
১

দু‘আ-১১৭

اَللّٰهُمَّ لَكَ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ، وَإِلَيْكَ مَاٰبِيْ، وَلَكَ رَبِّ تُرَاثِيْ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা লাকা সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতী, ওয়া ইলাইকা মাআবী, ওয়া লাকা রাব্বি তুরাসী।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমার নামাজ, আমার ইবাদত-বন্দেগি, আমার জীবন এবং আমার মরণ সবকিছুই একমাত্র আপনার জন্য নিবেদিত। আর আপনার দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন, এবং হে আমার রব! আমার রেখে যাওয়া সবকিছু বা উত্তরাধিকারের মালিকও আপনি।

তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫২০
২

দু‘আ-১১৮

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْۤ اَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا تَجِيْٓءُ بِهِ الرِّيَاحُ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন খায়রি মা তাjeeউ বিহির রিয়াহু।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সেই কল্যাণ প্রার্থনা করছি, বাতাস যে কল্যাণ বয়ে আনে।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ১২৫৬৪
৩

দু‘আ-১১৯

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ أُعَظِّمُ شُكْرَكَ، وَأُكْثِرُ ذِكْرَكَ، وَأَتَّبِـعُ نَصِيْحَتَكَ وَأَحْفَظُ وَصِيَّتَكَ. اَللّٰهُمَّ إِنَّ قُلُوْبَنَا وَنَوَاصِيَنَا وَجَوَارِحَنَا بِيَدِكَ، لَمْ تُمَلِّكْنَا مِنْهَا شَيْئًا، فَإِذَا فَعَلْتَ ذٰلِكَ بِنَا فَكُنْ. أَنْتَ وَلِيَّنَا، وَاهْدِنَاۤ إِلٰى سَوَآءِ السَّبِيْلِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ‘আলনী উ‘আজ্জিমু শুকরাকা, ওয়া আকছিরু জিকরাকা, ওয়া আত্তাবি‘উ নাসীহাতাকা, ওয়া আহফাজু ওয়াসিয়্যাতাক।

আল্লাহুম্মা ইন্না কুলুবানা ওয়া নাওয়া'সিয়ানা ওয়া জাওয়া'রিহানা বিয়াদিকা, লাম তুমাল্লিকনা মিনহা শাইআন্, ফাইযা ফা‘আলতা যালিকা বিনা ফাকুন।

আন্তা ওয়ালিয়্যানা, ওয়াহদিনা ইলা সাওয়া-ইস্ সাবীল।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে আপনার প্রতি সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা আদায়কারী, আপনাকে অধিক স্মরণকারী, আপনার নসীহত ও অনুশাসন অনুসরনকারী এবং আপনার উপদেশ ও আদেশ হেফাজতকারী বানিয়ে দিন।

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমাদের অন্তর, আমাদের ললাট (ভাগ্য ও নিয়ন্ত্রণ) এবং আমাদের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আপনারই কুদরতি হাতে নিহিত; এগুলোর কোনো কিছুর ওপরই আপনি আমাদের কর্তৃত্ব দেননি।

তাই আপনি যখন আমাদের নিয়ে এই ফয়সালা করেছেন, তখন আপনিই আমাদের অভিভাবক ও রক্ষক হয়ে যান এবং আমাদের সহজ-সঠিক ও সরল পথ দেখান।

-তিরমিযী, কানযুল উম্মাল
৪

দু‘আ-১২০

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْ حُبَّكَ أَحَبَّ الْأَشْيَآءِ إِلَـيَّ، وَاجْعَلْ خَشْيَتَكَ أَخْوَفَ الْأَشْيَآءِ عِنْدِيْ، وَاقْطَعْ عَنِّيْ حَاجَاتِ الدُّنْيَا بِالشَّوْقِ إِلٰى لِقَآئِكَ، وَإِذَا أَقْرَرْتَ أَعْيُنَ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ دُنْيَاهُمْ فَأَقْرِرْ عَيْنِيْ مِنْ عِبَادَتِكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ-‘আল হুব্বাকা আহাব্বাল আশ'য়া-ই ইলাইয়্যা, ওয়ায‘আল খাশ'য়াতাকা আখওয়াফাল আশ'য়া-ই ‘ইনদী, ও'য়াক্বত্ব‘আ ‘আন্নী হাজাতিদ-দুন্ইয়া বিশ-শাওক্বি ইলা লিক্বা-ইকা, ওয়া ইযা আক্বরারতা আ'উনা আহলিদ-দুন্ইয়া মিন দুন্ ইয়াহুম, ফা-আক্বরার ‘আইনী মিন ‘ইবাদাতিক।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনার প্রতি ভালোবাসাকে আমার কাছে সব কিছুর চেয়ে প্রিয় বানিয়ে দিন,

এবং আপনার ভয়কে আমার কাছে সব ভয়ের চেয়ে প্রবল বানিয়ে দিন।

আপনার সাক্ষাতের আকুলতা দিয়ে আমার দুনিয়াবি চাওয়া-পাওয়া ও চাহিদাকে দূর করে দিন।

আর দুনিয়াদারদের চোখকে তাদের দুনিয়া পেয়ে যেভাবে শীতল করেছেন, আমার চোখকে আপনার ইবাদত দিয়ে তেমনি শীতল বানিয়ে দিন।

-কানযুল উম্মাল
৫

দু‘আ-১২১

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ وَالْعِفَّةَ وَالْأَمَانَةَ وَحُسْنَ الْخُلُقِ، وَالرِّضٰى بِالْقَدْرِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাস-স্বিহ্হাতা ওয়াল-‘ইফ্ফাতা ওয়াল-আমানাতা ওয়া হুসনাল-খুলুক্বি ওয়ার-রিদ্বা বিল-ক্বাদার।

অর্থ

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, চারিত্রিক পবিত্রতা (সংযম), আমানতদারিতা, সৎ ও সুন্দর চরিত্র এবং তাকদীর বা ভাগ্যের সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক।

-কানযুল উম্মাল
৬

দু‘আ-১২২

اَللّٰهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ شُكْرًا، وَلَكَ الْمَنُّ فَضْلًا. اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ التَّوْفِيْقَ لِمَحَآبِّكَ مِنَ الْأَعْمَالِ، وَصِدْقَ التَّوَكُّلِ عَلَيْكَ، وَحُسْنَ الظَّنِّ بِكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু শুকরান, ওয়া লাকাল মান্নু ফাদলান। আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাত তাওফীকা লিমাহা'ব্বিকা মিনাল আ‘মা'লি, ওয়া সিদকাত তাওয়াক্কুলি ‘আলাইকা, ওয়া হুসনায যন্নি বিকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনারই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ। আর অনুগ্রহ ও দানের অধিকারী আপনিই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার পছন্দনীয় আমল করার তাওফীক, আপনার ওপর যথার্থভাবে ভরসা করার এবং আপনার প্রতি উত্তম ধারণা পোষণ করার তাওফীক প্রার্থনা করছি।

-কানযুল উম্মাল
৭

দু‘আ-১২৩

اَللّٰهُمَّ افْتَحْ مَسَامِـعَ قَلْبِيْ لِذِكْرِكَ، وَارْزُقْنِيْ طَاعَتَكَ وَطَاعَةَ رَسُوْلِكَ وَعَمَلًا بِۢـكِتَابِكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাফতাহ মাসামি‘আ কালবী লিযিকরিকা, ওয়ারযুকনী ত্বা‘আতাকা ওয়া ত্বা‘আতা রাসূলিকা, ওয়া ‘আমালাম বিকিতাবিকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনার যিকিরের জন্য আমার অন্তরের শ্রবণশক্তি উন্মুক্ত করে দিন। আমাকে আপনার আনুগত্য, আপনার রাসূলের আনুগত্য এবং আপনার কিতাব অনুযায়ী আমল করার তাওফীক দান করুন।

-কানযুল উম্মাল
৮

দু‘আ-১২৪

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْۤ أَخْشَاكَ كَأَنِّيْۤ أَرٰكَ أَبَدًا حَتّٰىۤ أَلْقَاكَ، وَأَسْعِدْنِيْ بِتَقْوَاكَ، وَلَا تُشْقِنِيْ بِمَعْصِيَتِكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ‘আলনী আখশাকা কা-আন্নী আরা'কা আবাদান হাত্তা আলক্বাকা, ওয়া আস‘ইদনী বিতাকওয়াকা, ওয়া লা তুশকিনী বিমা‘সিয়াতিক।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে এমনভাবে আপনার ভয় ও সম্মান অন্তরে ধারণকারী বানিয়ে দিন, যেন আমি সর্বদা আপনাকে দেখছি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত। আপনার তাকওয়া অবলম্বনের মাধ্যমে আমাকে সৌভাগ্যবান করুন এবং আপনার অবাধ্যতার কারণে আমাকে দুর্ভাগা করবেন না।

-কানযুল উম্মাল
৯

দু‘আ-১২৫

اَللّٰهُمَّ الْطُفْ بِيْ فِيْ تَيْسِيْرِ كُلِّ عَسِيْرٍ، فَإِنَّ تَيْسِيْرَ كُلِّ عَسِيْرٍ عَلَيْكَ يَسِيْرٌ، وَأَسْأَلُكَ الْيُسْرَ وَالْمُعَافَاةَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ، اَللّٰهُمَّ اعْفُ عَنِّيْ فَاِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيْمٌ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মালতুফ বী ফী তাইসীরি কুল্লি ‘আসীরিন, ফা-ইন্না তাইসীরা কুল্লি ‘আসীরিন ‘আলাইকা ইয়াসীরুন। ওয়া আসআলুকাল ইউসরা ওয়াল-মু‘আফাতা ফিদ-দুনইয়া ওয়াল-আ'খিরাহ। আল্লাহুম্মা‘ফু ‘আন্নী, ফা-ইন্নাকা ‘আফুউন কারীম।

অর্থ

হে আল্লাহ! প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমার প্রতি অনুগ্রহ করুন। নিশ্চয়ই প্রতিটি কঠিন কাজ সহজ করে দেওয়া আপনার জন্য সহজ। আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও মহান দাতা।

-কানযুল উম্মাল
১০

দু‘আ-১২৬

اَللّٰهُمَّ طَهِّرْ قَلْبِيْ مِنَ النِّفَاقِ، وَعَمَلِيْ مِنَ الرِّيَآءِ، وَلِسَانِيْ مِنَ الْكَذِبِ، وَعَيْنِيْ مِنَ الْخِيَانَةِ، فَإِنَّكَ تَعْلَمُ خَآئِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُوْرُ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ত্বাহহির কালবী মিনান-নিফাক, ওয়া ‘আমালী মিনার-রিয়া’, ওয়া লিসানী মিনাল-কাযিব, ওয়া ‘আইনী মিনাল-খিয়ানাহ। ফা-ইন্নাকা তা‘লামু খা-ইনাতাল আ‘ইউনি ওয়া মা তুখফিস-সুদূর।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে মুনাফিকী থেকে, আমার আমলকে লোকদেখানো থেকে, আমার জিহ্বাকে মিথ্যা থেকে এবং আমার চোখকে খিয়ানত থেকে পবিত্র করুন। নিশ্চয়ই আপনি চোখের গোপন খিয়ানত এবং অন্তরসমূহ যা গোপন করে, তা জানেন।

-কানযুল উম্মাল
১১

দু‘আ-১২৭

اَللّٰهُمَّ ارْزُقْنِيْ عَيْنَيْنِ هَطَّالَتَيْنِ، تَسْقِيَانِ الْقَلْبَ بِذُرُوْفِ الدَّمْعِ مِنْ خَشْيَتِكَ، قَبْلَ أَنْ تَكُوْنَ الدُّمُوْعُ دَمًا وَّالْأَضْرَاسُ جَمْرًا.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মারযুকনী ‘আইনাইনি হাত্তালাতাইনি, তাসকিয়ানিল-কালবা বিযুরূফিদ-দাম‘ই মিন খাশইয়াতিকা, কাবলা আন তাকূনাদ-দুমূ‘উ দামাওঁ ওয়াল-আদরাসু জামরান।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে এমন দুটি চোখ দান করুন, যা থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরে; আপনার ভয়ে সেই অশ্রুধারা আমার অন্তরকে সিক্ত করে। এমন সময় আসার আগেই, যখন চোখের পানি রক্তে পরিণত হবে এবং দাঁতগুলো জ্বলন্ত অঙ্গারে পরিণত হবে।

-কানযুল উম্মাল
১২

দু‘আ-১২৮

اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ قُدْرَتِكَ، وَأَدْخِلْنِيْ فِيْ رَحْمَتِكَ، وَاقْضِ أَجَلِىْ فِيْ طَاعَتِكَ، وَاخْتِمْ لِيْ بِخَيْرِ عَمَلِيْ، وَاجْعَلْ ثَـوَابَهُ الْجَنَّةَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ‘আ'ফিনী ফী কুদরাতিকা, ওয়া আদখিলনী ফী রহমাতিকা, ওয়াক্বদি আজালী ফী ত্বা‘আতিকা, ওয়াখতিম লী বিখাইরি ‘আমালী, ওয়াজ‘আল সাওয়াবাহুল জান্নাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনার ক্ষমতাবলে আমাকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন, আপনার রহমতের অন্তর্ভুক্ত করুন, আপনার আনুগত্যের মধ্যে আমার নির্ধারিত জীবনকাল পূর্ণ করুন, আমার জীবনের শেষ আমলকে উত্তম আমল বানিয়ে দিন এবং এর প্রতিদান জান্নাত নির্ধারণ করুন।

-কানযুল উম্মাল
১৩

দু‘আ-১২৯

اَللّٰهُمَّ فَارِجَ الْهَمِّ! كَاشِفَ الْغَمِّ، مُجِيْبَ دَعْوَةِ الْمُضْطَرِّيْنَ! رَحْمٰنَ الدُّنْيَا وَرَحِيْمَهَا! أَنْتَ تَرْحَمُنِىْ، فَارْحَمْنِيْ بِرَحْمَةٍ تُغْنِيْنِيْ بِهَا عَنْ رَّحْمَةِ مَنْ سِوَاكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ফা'রিজাল-হাম্মি, কা'শিফাল-গাম্মি, মুজীবা দা‘ওয়াতিল-মুদতাররীনা! রাহমা'নাদ-দুনইয়া ওয়া রহীমাহা! আনতা তারহামুনী, ফারহামনী বিরাহমাতিন তুগনীনী বিহা ‘আন রাহমাতি মান সিওয়াক।

অর্থ

হে আল্লাহ! দুশ্চিন্তা দূরকারী, দুঃখ-কষ্ট মোচনকারী এবং অসহায়দের দু‘আ কবুলকারী! হে দুনিয়ার পরম দয়াময় ও করুণাময়! আপনিই আমার প্রতি দয়া করেন। অতএব, আপনি আমার প্রতি এমন রহমত করুন, যার মাধ্যমে আপনি ছাড়া অন্য কারও রহমতের মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আমি অমুখাপেক্ষী হতে পারি।

-মুসতাদরাক
১৪

দু‘আ-১৩০

اَللّٰهُمَّ اِنِّيۤ أَسْأَلُكَ مِنْ فُجَآءَةِ الْخَيْرِ وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فُجَآءَةِ الشَّرِّ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফুজা’আতিল-খাইরি, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ফুজা’আতিশ-শাররি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আকস্মিক কল্যাণ প্রার্থনা করছি এবং আকস্মিক অকল্যাণ থেকে আপনার আশ্রয় চাইছি।

-কিতাবুল আযকার
১৫

দু‘আ-১৩১

اَللّٰهُمَّ أَنْتَ السَّلَامُ، وَمِنْكَ السَّلَامُ وَإِلَيْكَ يَعُوْدُ السَّلَامُ، أَسْأَلُكَ يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ! أَنْ تَسْتَجِيْبَ لَنَا دَعْوَتَنَا، وَأَنْ تُعْطِيَنَا رَغْبَتَنَا، وَأَنْ تُغْنِيَنَا عَمَّنْ أَغْنَيْتَهٗ عَنَّا مِنْ خَلْقِكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আনতাস-সালাম, ওয়া মিনকাস-সালাম, ওয়া ইলাইকা ইয়া‘ঊদুস-সালাম। আসআলুকা ইয়া যাল-জালালি ওয়াল-ইকরামি, আন তাসতাজীবা লানা দা‘ওয়াতানা, ওয়া আন তু‘তিয়ানা রাগবাতানা, ওয়া আন তুগনিয়ানা ‘আম্মান আগনাইতাহূ ‘আন্না মিন খালকিকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি ও নিরাপত্তার উৎস, আপনার পক্ষ থেকেই শান্তি আসে এবং আপনার দিকেই শান্তি ফিরে যায়। হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, আপনি যেন আমাদের দু‘আ কবুল করেন, আমাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন এবং আপনার সৃষ্টির মধ্যে যাদের থেকে আমাদের অমুখাপেক্ষী করেছেন, তাদের থেকে আমাদেরও অমুখাপেক্ষী করে দেন।

-কিতাবুল আযকার
১৬

দু‘আ-১৩২

اَللّٰهُمَّ خِرْ لِيْ وَاخْتَرْ لِيْ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা খির লী, ওয়াখতার লী।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করুন এবং আমার জন্য আপনিই উত্তমটি বেছে দিন।

-তিরমিযী
১৭

দু‘আ-১৩৩

اَللّٰهُمَّ أَرْضِنِيْ بِقَضَآئِكَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْ مَا قُدِّرَ لِيْ، حَتّٰى لَاۤ أُحِبَّ تَعْجِيْلَ مَاۤ أَخَّرْتَ وَلَا تَأْخِيْرَ مَا عَجَّلْتَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আরদিনী বিক্বাদা'ইকা, ওয়া বারিক লী ফীমা কুদ্দিরা লী, হাত্তা লা উহিব্বা তা‘জীলা মা আখখারতা, ওয়া লা তা’খীরা মা ‘আ'জ্জালতা।

অর্থ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ফয়সালায় রাজি-খুশি রাখুন আর যা কিছু আমার জন্য ধার্য হয়েছে, তাতে আমার জন্য বরকত দিন, যেন আপনি যা বিলম্বে রেখেছেন, তাতে আমি ত্বরা না করি আর যা আপনি অবিলম্বে রেখেছেন, তাতে বিলম্ব অন্বেষণ না করি।

-কিতাবুল আযকার
১৮

দু‘আ-১৩৪

اَللّٰهُمَّ لَاعَيْشَ إِلَّاعَيْشُ الْاٰخِرَةِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা, লা ‘আইশা ইল্লা ‘আইশুল আখিরাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আখিরাতের জীবন ছাড়া প্রকৃত জীবন আর কিছুই নয়।

-কিতাবুল আযকার
১৯

দু‘আ-১৩৫

اَللّٰهُمَّ أَحْيِنِيْ مِسْكِيْنًا وَّأَمِتْنِيْ مِسْكِيْنًا، وَاحْشُرْنِيْ فِيْ زُمْرَةِ الْمَسَاكِيْنِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আহ'ইনী মিসকীনাওঁ, ওয়া আমিতনী মিসকীনাওঁ, ওয়াহ'শুরনী ফী যুমরাতিল-মাসাকীন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে মিসকীন (বিনয়ী ও আপনার মুখাপেক্ষী) অবস্থায় জীবিত রাখুন, মিসকীন অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং মিসকীনদের দলের অন্তর্ভুক্ত করে আমাকে হাশরের ময়দানে উঠান।

-কিতাবুল আযকার
২০

দু‘আ-১৩৬

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ الَّذِيْنَ إِذَاۤ أَحْسَنُوْا اسْتَبْشَرُوْا، وَإِذَا ۤ أَسَآءُوْا اسْتَغْفَرُوْا.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ‘আলনী মিনাল্লাযীনা ইযা আহসানূ'স্তাবশারূ, ওয়া ইযা আসাঊ'স্তাগফারূ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা ভালো কাজ করলে আনন্দিত হয় এবং মন্দ কাজ করে ফেললে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

-ইবনে মাজাহ
২১

দু‘আ-১৩৭

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ رَحْمَةً مِّنْ عِنْدِكَ تَهْدِيْ بِهَا قَلْبِيْ، وَتَجْمَعُ بِهَاۤ أَمْرِيْ، وَتَلُمُّ بِهَا شَعَثِيْ، وَتُصْلِحُ بِهَا دِيْنِيْ، وَتَقْضِيْ بِهَا دَيْنِيْ، وَتَحْفَظُ بِهَا غَائِـبِيْ، وَتَرْفَعُ بِهَا شَاهِدِيْ، وَتُبَيِّضُ بِهَا وَجْهِيْ، وَتُزَكِّيْ بِهَا عَمَلِيْ، وَتُلْهِمُنِيْ بِهَا رَشَدِىْ، وَتَرُدُّ بِهَا أُلْفَتِيْ، وَتَعْصِمُنِيْ بِهَا مِنْ كُلِّ سُوْٓءٍ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা রাহমাতাম মিন ‘ইনদিকা, তাহদী বিহা কালবী, ওয়া তাজমাউ বিহা আমরী, ওয়া তালুম্মু বিহা শা‘ছী, ওয়া তুসলিহু বিহা দীনী, ওয়া তাকদ্বী বিহা দাইনী, ওয়া তাহফাযু বিহা গা-ইবী, ওয়া তারফাউ বিহা শা'হিদী, ওয়া তুবাইয়িদ্বু বিহা ওয়াজহী, ওয়া তুযাক্কী বিহা ‘আমালী, ওয়া তুলহিমুনী বিহা রুশদী, ওয়া তারুদ্দু বিহা উলফাতী, ওয়া তা‘ছিমুনী বিহা মিন কুল্লি সূ-ইন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার পক্ষ থেকে এমন রহমত প্রার্থনা করছি, যার মাধ্যমে আপনি আমার অন্তরকে সঠিক পথ দেখাবেন, আমার যাবতীয় বিষয় সুবিন্যস্ত করবেন, আমার বিক্ষিপ্ততা ও অগোছালো অবস্থা দূর করবেন, আমার দ্বীনকে সংশোধন করবেন, আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবেন, আমার অনুপস্থিত বিষয় ও সম্পদ সংরক্ষণ করবেন, আমার উপস্থিত অবস্থা ও মর্যাদা উন্নত করবেন, আমার চেহারা উজ্জ্বল করবেন, আমার আমলকে পবিত্র করবেন, আমাকে সঠিক পথের প্রেরণা দেবেন, আমার ঐক্য ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে দেবেন এবং সেই রহমতের মাধ্যমে আমাকে সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবেন।

-কানযুল উম্মাল
২২

দু‘আ-১৩৮

اَللّٰهُمَّ أَعْطِنِيْۤ إِيْمَانًا لَّا يَرْتَدُّ، وَيَقِيْنًا لَّيْسَ بَعْدَهٗ كُفْرٌ، وَرَحْمَةً أَنَالُ بِهَا شَرَفَ كَرَامَتِكَ فِيْ الدُّنْيَا وَالْاٰخِرَةِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আ‘তিনী ঈমানান লা ইয়ারতাদ্দু, ওয়া ইয়াকীনান লাইসা বা‘দাহূ কুফরুন, ওয়া রাহমাতান আনা-লু বিহা শারাফা কারামাতিকা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে এমন ঈমান দান করুন, যা প্রত্যাহার হয়ে যায় না; এমন দৃঢ় বিশ্বাস দান করুন, যার পরে কুফর আসে না; আর এমন রহমত দান করুন, যার মাধ্যমে আমি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা লাভ করতে পারি।

-কানযুল উম্মাল
২৩

দু‘আ-১৩৯

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَسْأَلُكَ الْفَوْزَ فِيْ الْقَضَآءِ، وَنُزُلَ الشُّهَدَآءِ، وَعَيْشَ السُّعَدَآءِ، وَمُرَافَقَةَ الْأَنْبِيَآءِ، وَالنَّصْرَ عَلَى الْأَعْدَآءِ، إِنَّكَ سَمِيْعُ الدُّعَآءِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আ‘তিনী ঈমানান লা ইয়ারতাদ্দু, ওয়া ইয়াকীনান লাইসা বা‘দাহূ কুফরুন, ওয়া রাহমাতান আনা-লু বিহা শারাফা কারামাতিকা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আখিরাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে এমন ঈমান দান করুন, যা প্রত্যাহার হয়ে যায় না; এমন দৃঢ় বিশ্বাস দান করুন, যার পরে কুফর আসে না; আর এমন রহমত দান করুন, যার মাধ্যমে আমি দুনিয়া ও আখিরাতে আপনার বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা লাভ করতে পারি।

–কানয
২৪

দু‘আ-১৪০

اَللّٰهُمَّ مَا قَصُرَ عَنْهُ رَأْيِيْ وَضَعُفَ عَنْهُ عَمَلِيْ وَلَمْ تَبْلُغْهُ مُنْيَتِيْ وَ مَسْأَلَتِيْ مِنْ خَيْرٍ وَّعَدْتَهٗۤ أَحَدًا مِّنْ خَلْقِكَ، أَوْ خَيْرٍ أَنْتَ مُعْطِيْهِ أَحَدًا مِّنْ عِبَادِكَ فَإِنِّيْۤ أَرْغَبُ إِلَيْكَ فِيْهِ، وَأَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ رَبَّ الْعَالَمِيْنَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা মা ক্বাছুরা ‘আনহু রা’ইয়ী, ওয়া দ্বা‘উফা ‘আনহু ‘আমালী, ওয়া লাম তাবলুগহু মুনইয়াতী ওয়া মাসআলাতী, মিন খাইরিন ওয়া‘আদতাহূ আহাদাম মিন খালক্বিকা, আও খাইরিন আনতা মু‘তীহী আহাদাম মিন ‘ইবাদিকা, ফা-ইন্নী আরগাবু ইলাইকা ফীহি, ওয়া আসআলুকা বিরাহমাতিকা ইয়া রব্বাল ‘আলামীন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমার চিন্তা-ভাবনা যে কল্যাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, আমার আমল যে কল্যাণ অর্জনে অক্ষম হয়েছে এবং আমার আকাঙ্ক্ষা ও প্রার্থনা যে কল্যাণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি, আপনার সৃষ্টির কাউকে আপনি যে কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অথবা আপনার বান্দাদের কাউকে যে কল্যাণ আপনি দান করবেন, আমি সেই কল্যাণ আপনার কাছে কামনা করছি। আমি আপনার কাছে তা প্রার্থনা করছি এবং আপনার রহমতের উসিলায় আপনার কাছে চাইছি, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক!

–কানয
২৫

দু‘আ-১৪১

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أُنْزِلُ بِكَ حَاجَتِيْ وَإِنْ قَصُرَ رَأْيِيْ وَضَعُفَ عَمَلِىْ، اِفْتَقَرْتُ إِلٰى رَحْمَتِكَ، فَأَسْأَلُكَ يَا قَاضِيَ الْأُمُوْرِ! وَيَا شَافِيَ الصُّدُوْرِ! كَمَا تُجِيْرُ بَيْنَ الْبُحُوْرِ أَنْ تُجِيْرَنِيْ مِنْ عَذَابِ السَّعِيْرِ وَمِنْ دَعْوَةِ الثُّبُوْرِ، وَمِنْ فِتْنَةِ الْقُبُوْرِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী উনযিলু বিকা হাজাতী, ওয়া ইন ক্বাছুরা রা’ইয়ী ওয়া দ্বা‘উফা ‘আমালী। ইফতাক্বারতু ইলা রাহমাতিকা, ফা-আসআলুকা ইয়া ক্বাদিয়াল উমূরি, ওয়া ইয়া শাফিয়াস সুদূরি! কামা তুজীরু বাইনাল বুহূরি, আন তুজীরানী মিন ‘আযাবিস সাঈরি, ওয়া মিন দা‘ওয়াতিস সুবূরি, ওয়া মিন ফিতনাতিল কুবূরি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আমার প্রয়োজন আপনার কাছে পেশ করছি, যদিও আমার চিন্তা-ভাবনা সীমিত এবং আমার আমল দুর্বল। আমি আপনার রহমতের মুখাপেক্ষী হয়েছি। অতএব, হে সকল বিষয়ের ফয়সালাকারী! হে অন্তরসমূহের প্রশান্তিদাতা! যেমন আপনি সমুদ্রসমূহের মাঝে বাধা সৃষ্টি করেন, তেমনি আমাকে জাহান্নামের শাস্তি, ধ্বংসের আহ্বান এবং কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা করুন।

-কানযুল উম্মাল
২৬

দু‘আ-১৪২

اَللّٰهُمَّ ذَا الْحَبْلِ الشَّدِيْدِ وَالْأَمْرِالرَّشِيْدِ! أَسْأَلُكَ الْأَمْنَ يَوْمَ الْوَعِيْدِ، وَالْجَنَّةَ يَوْمَ الْخُلُوْدِ مَعَ الْمُقَرَّبِيْنَ الشُّهُوْدِ الرُّكَّعِ السُّجُوْدِ الْمُوْفِيْنَ بِالْعُهُوْدِ، إِنَّكَ رَحِيْمٌ وَّدُوْدٌ، اِنَّكَ أَنْتَ تَفْعَلُ مَا تُرِيْدُ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা যাল-হাবলিশ শাদীদ, ওয়াল-আমরির রাশীদ! আসআলুকাল-আমনা ইয়াওমাল ওয়াঈদ, ওয়াল-জান্নাতা ইয়াওমাল খুলূদ, মাআল-মুকাররাবীনাশ-শুহূদ, আর-রুক্কাআইস-সুজূদিল-মূফীনা বিল-উহূদ। ইন্নাকা রাহীমুন ওয়াদূদ, ইন্নাকা আনতা তাফ‘আলু মা তুরীদ।

অর্থ

হে আল্লাহ! হে সুদৃঢ় বন্ধনের অধিকারী এবং সঠিক নির্দেশ ও সুবিবেচনাপূর্ণ সিদ্ধান্তের অধিকারী! আমি আপনার কাছে প্রতিশ্রুত শাস্তির দিনের নিরাপত্তা এবং চিরস্থায়ী জীবনের দিন জান্নাত প্রার্থনা করছি, নিকটবর্তী ও সম্মানিত বান্দাদের সঙ্গে, যারা ইবাদতে উপস্থিত থাকে, রুকু ও সিজদা করে এবং অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ করে। নিশ্চয়ই আপনি পরম দয়ালু, অত্যন্ত স্নেহশীল। নিশ্চয়ই আপনি যা ইচ্ছা তা-ই করেন।

-কানযুল উম্মাল
২৭

দু‘আ-১৪৩

اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنَا هَادِيْنَ مُهْتَدِيْنَ، غَيْرَ ضَآلِّيْنَ وَلَا مُضِلِّيْنَ، سِلْمًا لِّأَوْلِيَآئِكَ، وَحَرْبًا لِّأَعْدَآئِكَ، نُحِبُّ بِحُبِّكَ مَنْ أَحَبَّكَ، وَنُعَادِيْ بِعَدَاوَتِكَ مَنْ خَالَفَكَ مِنْ خَلْقِكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ‘আলনা হাদীনা মুহতাদীন, গাইরা দ্বাল্লীনা ওয়ালা মুদিল্লীন। সিলমাল-লি-আওলিয়াইকা, ওয়া হারবাল-লি-আ‘দাইকা। নুহিব্বু বিহুব্বিকা মান আহাব্বাকা, ওয়া নু‘আদী বি‘আদাওয়াতিকা মান খালাফাকা মিন খালক্বিকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাদেরকে হিদায়াতদাতা ও হিদায়াতপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন; পথভ্রষ্ট নয় এবং অন্যকে পথভ্রষ্টকারীও নয়। আপনার বন্ধুদের প্রতি শান্তি ও ভালোবাসা পোষণকারী এবং আপনার শত্রুদের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী বানিয়ে দিন। আপনার ভালোবাসার কারণে যারা আপনাকে ভালোবাসে, আমরাও তাদের ভালোবাসি। আর আপনার অবাধ্যতার কারণে আপনার সৃষ্টির মধ্যে যারা আপনার বিরোধিতা করে, আমরাও তাদের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করি।

-কানযুল উম্মাল
২৮

দু‘আ-১৪৪

اَللّٰهُمَّ هٰذَا الدُّعَآءُ وَعَلَيْكَ الْإِجَابَةُ، وَهٰذَا الْجَهْدُ وَعَلَيْكَ التُّكْـلَانُ، اَللّٰهُمَّ لَا تَكِلْنِيْۤ إِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَلَا تَنْزِعْ مِنِّيْ صَالِحَ مَاۤ أَعْطَيْتَنِىْ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা হা-যাদ দু‘আউ, ওয়া ‘আলাইকাল ইজাবাহ। ওয়া হা-যাল জাহদু, ওয়া ‘আলাইকাল তাওয়াক্কুল। আল্লাহুম্মা লা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বরফাতা ‘আইনিন, ওয়া লা তানযি‘ মিন্নী সালিহা মা আ‘তাইতানী।

অর্থ

হে আল্লাহ! এ হলো আমার দু‘আ, আর তা কবুল করার দায়িত্ব আপনারই। এ হলো আমার প্রচেষ্টা, আর আপনার ওপরই আমার ভরসা। হে আল্লাহ! চোখের পলকের সমপরিমাণ সময়ের জন্যও আমাকে আমার নিজের ওপর ছেড়ে দেবেন না। আর আপনি আমাকে যে কল্যাণ দান করেছেন, তা আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেবেন না।

-কানয
২৯

দু‘আ-১৪৫

اَللّٰهُمَّ إِنَّكَ لَسْتَ بِإِلٰهِ ۟اِسْتَحْدَثْنَاهُ، وَلَا بِرَبٍّ يَبِيْدُ ذِكْرُهُ ابْتَدَعْنَاهُ، وَلَاعَلَيْكَ شُرَكَآءُ يَقْضُوْنَ مَعَكَ، وَلَا كَانَ لَنَا قَبْلَكَ مِنْ إِلٰهٍ نَلْجَأُ إِلَيْهِ وَنَذَرُكَ، وَلَاۤ أَعَانَكَ عَلٰى خَلْقِنَا أَحَدٌ فَنُشْرِكَهٗ فِيْكَ، تَـبَارَكْتَ وَتَعَالَيْتَ، فَنَسْئَلُكَ لَاۤ إِلٰهَ إِلَّۤا أَنْتَ اغْفِرْلِيْ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নাকা লাস্তা বি-ইলাহিন ইস্তাহদাছনাহু, ওয়ালা বি-রাব্বিন ইয়াবীদু যিকরুহু ইবতাদা‘নাহু, ওয়ালা ‘আলাইকা শুরাকাউ ইয়াকদূনা মা‘আকা, ওয়ালা কানা লানা ক্বাবলাকা মিন ইলাহিন নালজা’উ ইলাইহি ওয়া নাযারুকা, ওয়ালা আ‘আনাকা ‘আলা খালক্বিনা আহাদুন ফানুশরিকাহু ফীকা। তাবারাকতা ওয়া তা‘আলাইতা, ফানাসআলুকা, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, ইগফিরলী।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি এমন কোনো উপাস্য নন, যাঁকে আমরা নতুন করে কল্পনা করেছি। আপনি এমন কোনো প্রতিপালক নন, যাঁর স্মৃতি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং যাঁকে আমরা মনগড়াভাবে উদ্ভাবন করেছি। আপনার সঙ্গে এমন কোনো অংশীদার নেই, যারা আপনার সঙ্গে মিলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আপনার আগে আমাদের এমন কোনো উপাস্য ছিল না, যার কাছে আমরা আশ্রয় নেব এবং আপনাকে পরিত্যাগ করব। আমাদের সৃষ্টির ব্যাপারে আপনাকে কেউ সাহায্য করেনি যে, আমরা তাকে আপনার অংশীদার বানাব। আপনি বরকতময় ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। অতএব, আমরা আপনার কাছেই প্রার্থনা করছি। আপনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। আমাকে ক্ষমা করুন।

-কানযুল উম্মাল
৩০

দু‘আ-১৪৬

اَللّٰهُمَّ أَنْتَ خَلَقْتَ نَفْسِيْ وَأَنْتَ تَوَفَّاهَا، لَكَ مَمَاتُهَا وَمَحْيَاهَا، إِنْ أَحْيَيْتَهَا فَاحْفَظْهَا بِمَا تَحْفَظُ بِه عِبَادَكَ الصَّالِحِيْنَ، وَإنْ أَمَتَّهَا فَاغْفِرْ لَهَا وَارْحَمْهَا.
উচ্চারণ

nullআল্লাহুম্মা আনতা খালাকতা নাফসী, ওয়া আনতা তাওয়াফ্‌ফাহা। লাকা মামাতুহা ওয়া মাহইয়াহা। ইন আহইয়াইতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহি ‘ইবাদাকাস সালিহীন। ওয়া ইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা ওয়ারহামহা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনিই আমার প্রাণ সৃষ্টি করেছেন এবং আপনিই তা কবয করবেন। এর মৃত্যু ও জীবন আপনারই অধীন। যদি আপনি একে জীবিত রাখেন, তবে আপনার নেককার বান্দাদের যেভাবে হেফাজত করেন, সেভাবে একে হেফাজত করুন। আর যদি আপনি একে মৃত্যুদান করেন, তবে একে ক্ষমা করুন এবং এর প্রতি রহম করুন।

-মুসলিম
৩১

দু‘আ-১৪৭

اَللّٰهُمَّ أَعِنِّيْ بِالْعِلْمِ وَزَيِّنِّيْ بِالْحِلْمِ، وَأَكْرِمْنِيْ بِالتَّقْوٰى وَجَمِّلْنِيْ بِالْعَافِيَةِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আ‘ইন্নী বিল-‘ইলমি, ওয়া যায়্যিন্নী বিল-হিলমি, ওয়া আকরিমনী বিত-তাকওয়া, ওয়া জাম্মিলনী বিল-‘আফিয়াহ।

অর্থ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে ইলম দ্বারা সাহায্য করুন এবং স্থিরতা ও সহনশীলতা দ্বারা সজ্জিত করুন। আর তাকওয়ার দ্বারা মর্যাদা দান করুন এবং সুস্থতা ও নিরাপত্তার দ্বারা শোভন করুন।হে আল্লাহ! জ্ঞানের মাধ্যমে আমাকে সাহায্য করুন, সহনশীলতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে আমাকে সুশোভিত করুন, তাকওয়ার মাধ্যমে আমাকে সম্মানিত করুন এবং সুস্থতা ও নিরাপত্তার মাধ্যমে আমাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করুন।

-কানযুল উম্মাল
৩২

দু‘আ-১৪৮

اَللّٰهُمَّ لَا يُدْرِكُنِيْ زَمَانٌ وَّلَا يُدْرِكُوْا زَمَانًا لَّا يُتَّبَعُ فِيْهِ الْعَلِيْمُ، وَلَا يُسْتَحْيٰى فِيْهِ مِنَ الْحَلِيْمِ، قُلُوْبُهُمْ قُلُوْبُ الْأَعَاجِمِ، وَأَلْسِنَتُهُمْ أَلْسِنَةُ الْعَرَبِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা লা ইউদরিকুনী যামানুন, ওয়া লা ইউদরিকূনা যামানাল্লা ইউত্তাবা‘উ ফীহিল ‘আলীমু, ওয়া লা ইউস্তাহয়া ফীহি মিনাল হালীমি। কুলূবুহুম কুলূবুল আ‘আজিমি, ওয়া আলসিনাতুহুম আলসিনাতুল ‘আরাবি।

অর্থ

হে আল্লাহ! এমন কোনো যুগ যেন আমাকে না পায় এবং তারাও যেন এমন যুগে উপনীত না হয়, যে যুগে জ্ঞানী ব্যক্তির অনুসরণ করা হবে না এবং সহনশীল ও প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিকে সম্মান করতে লজ্জাবোধ করা হবে না। তাদের অন্তর হবে অনারবদের অন্তরের মতো, আর তাদের ভাষা হবে আরবদের ভাষার মতো।

-কানযুল উম্মাল
৩৩

দু‘আ-১৪৯

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَتَّخِذُ عِنْدَكَ عَهْدًا لَّنْ تُخْلِفَنِيْهِ، فَإِنَّمَاۤ أَنَا بَشَرٌ، فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ اٰذَيْتُهٗ أَوْ شَتَمْتُهٗ أَوْ جَلَدْتُّهٗ أَوْ لَعَنْتُهٗ فَاجْعَلْهَا لَهٗ صَلٰوةً وَّزَكوٰةً وَّقُرْبَةً تُقَرِّبُهٗ بِهَاۤ إِلَيْكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আত্তাখিযু ‘ইন্দাকা ‘আহদান লান তুখলিফানীহি। ফা-ইন্নামা আনা বাশারুন। ফা-আইয়ুমা মু’মিনিন আযাইতুহূ, আও শাতামতুহূ, আও জালাদতুহূ, আও লা‘আনতুহূ, ফাজ‘আলহা লাহূ সালাতাওঁ ওয়া যাকাতাওঁ ওয়া কুরবাতান, তুকাররিবুহূ বিহা ইলাইকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে একটি অঙ্গীকার করছি, আপনি কখনোই তা ভঙ্গ করবেন না। নিশ্চয়ই আমি একজন মানুষ। অতএব, কোনো মুমিনকে যদি আমি কষ্ট দিয়ে থাকি, গালি দিয়ে থাকি, প্রহার করে থাকি কিংবা অভিশাপ দিয়ে থাকি, তবে আপনি সেটিকে তার জন্য রহমত, পবিত্রতা ও নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানিয়ে দিন, যার দ্বারা আপনি তাকে আপনার নিকটবর্তী করবেন।

-আল-হিযবুল আ’যম
৩৪

দু‘আ-১৫০

اَللّٰهُمَّ إِنِّيْۤ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَمِنَ الشِّقَاقِ وَالنِّفَاقِ وَسُوْٓءِ الْأَخْلَاقِ وَمِنْ شَرِّ مَا تَعْلَمُ، أَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ حَالِ أَهْلِ النَّارِ وَمِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ، وَمِنْ شَرِّ مَاۤ أَنْتَ اٰخِذٌ بِۢنَاصِيَتِه، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا فِيْ هٰذَا الْيَوْمِ وَشَرِّ مَا بَعْدَهٗ، وَمِنْ شَرِّ نَفْسِيْ وَشَرِّ الشَّيْطَانِ وَشِرْكِه، وَأَنْ نَقْتَرِفَ عَلٰۤى أَنْفُسِنَا سُوْٓءً أَوْ نَجُرَّهٗۤ إِلٰى مُسْلِمٍ أَوْ أَكْتَسِبَ خَطِٓيْئَةً أَوْ ذَنْبًا لَّا تَغْفِرُهٗ، وَمِنْ ضِيْقِ الْمَقَامِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল বারাসি, ওয়া মিনাশ শিকাকি, ওয়ান-নিফাকি, ওয়া সূইল আখলাকি, ওয়া মিন শাররি মা তা‘লামু।

আ‘ঊযু বিল্লাহি মিন হালি আহলিন নারি, ওয়া মিনান নারি, ওয়া মা ক্বাররাবা ইলাইহা মিন কাওলিন আও ‘আমালিন। ওয়া মিন শাররি মা আনতা আখিযুম বিনাসিয়াতিহি।

ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা ফী হাযাল ইয়াওমি, ওয়া শাররি মা বা‘দাহু, ওয়া মিন শাররি নাফসী, ওয়া শাররিশ শাইতানি ওয়া শিরকিহি। ওয়া আন নাকতারিফা ‘আলা আনফুসিনা সূআন, আও নাজুররাহূ ইলা মুসলিমিন, আও আকতাসিবা খাতীআতান আও যানবান লা তাগফিরুহু, ওয়া মিন দ্বীকিল মাক্বামি ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে শ্বেতী রোগ, বিদ্বেষ, মুনাফিকি, মন্দ চরিত্র এবং আপনার জানা যাবতীয় অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।

আমি জাহান্নামবাসীদের অবস্থা, জাহান্নাম এবং এমন কথা ও কাজ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই, যা জাহান্নামের নিকটবর্তী করে। আর যার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে, তার অনিষ্ট থেকেও আশ্রয় চাই।

আমি আপনার কাছে এই দিনের অনিষ্ট, পরবর্তী সময়ের অনিষ্ট, নিজের নফসের অনিষ্ট, শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে আশ্রয় চাই। আরও আশ্রয় চাই যেন আমরা নিজেদের ওপর কোনো মন্দ কাজ না করি, অথবা কোনো মুসলিমের ওপর তা চাপিয়ে না দিই; কিংবা এমন কোনো অপরাধ বা পাপ না করি, যা আপনি ক্ষমা করবেন না। আর কিয়ামতের দিন সংকীর্ণ ও কঠিন অবস্থানে পড়া থেকেও আপনার আশ্রয় চাই।

-নাসায়ী, আবু দাউদ, মুসতাদরাক, কানয ইত্যাদি