উপকারী ইলমের জন্য দু‘আ-২
আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ’ইলমান না-ফি’আন ওয়া ’আমালান মুতাকাব্বালান ওয়া রিযকন ত্বইয়্যিবা।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী 'ইলম, উত্তম রিযিক এবং মকবূল আমল চাই।
আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ’ইলমান না-ফি’আন ওয়া ’আমালান মুতাকাব্বালান ওয়া রিযকন ত্বইয়্যিবা।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী 'ইলম, উত্তম রিযিক এবং মকবূল আমল চাই।
রাব্বানা আ-তিনা-ফিদ্দুনইয়া-হাসানাতাও ওয়া ফিল আ-খিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা-‘আযা-বান্না-র।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন, এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
রাব্বানা আফরিগ আলাইনা সাবরাও ওয়া সাব্বিত আকদা-মানা ওয়ানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান করুন। আমাদের কদম অবিচলিত রাখুন, আর কাফির সম্প্রদায়ের উপর আমাদেরকে সাহায্য ও বিজয় দান করুন।
রাব্বানা লা-তুআ খিযনা ইন নাছীনা আও আখতা-না, রাব্বানা ওয়ালা তাহমিল ‘আলাইনা ইসরান কামা হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা, রাব্বানা ওয়ালা তুহাম্মিলনা মা-লা-তা-কাতা লানা বিহী, ওয়া‘ফু‘আন্না ওয়াগফিরলানা ওয়ারহামনা আনতা মাওলা-না ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করো না, যেমন তা অর্পণ করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর এমন ভার চাপিয়ো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের (ত্রুটিসমূহ) মার্জনা কর, আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।
রাব্বানা লা-তুঝিগ কুলূবানা বা‘দা ইয হাদাইতানা ওয়াহাবলানা মিল্লা দুনকা রাহমাতান, ইন্নাকা আনতাল ওয়াহহা-ব।
হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে যখন হিদায়াত দান করেছ তারপর আর আমাদের অন্তরে বক্রতা সৃষ্টি করো না এবং একান্তভাবে নিজের পক্ষ হতে আমাদেরকে রহমত দান কর। নিশ্চয়ই তুমিই মহাদাতা।
রাব্বানা ইন্নানা আ-মান্না ফাগফিরলানা যুনূবানা ওয়াকিনা‘আযা-বান্না-র
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা (তোমার প্রতি) ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদের পাপরাশি ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।
রাব্বানা মা-খালাকতা হাযা-বা-তিলান ছুবহা-নাকা ফাকিনা-‘আযা-বান্না-র
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। আপনি (এমন ফজুল কাজ থেকে) পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
রাব্বানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্না-রা ফাকাদ আখঝাইতাহূ ওয়ামা-লিজ্জা-লিমীনা মিন আনসা-র।
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যাকেই জাহান্নামে দাখিল করবেন, তাকে নিশ্চিতভাবেই লাঞ্ছিত করলেন। আর জালিমগণ তো কোনও সাহায্যকারী পাবে না।
রাব্বানা ইন্নানা-ছামি‘না মুনা-দিআই ইউনাদী লিল ঈমা-নি আন আ-মিনূ বিরাব্বিকুম ফা‘আমান্না, রাব্বানা ফাগফিরলানা যুনূবানা ওয়াকাফফির‘আন্না ছাইয়িআতিনা ওয়াতাওয়াফফানা মা‘আল আব রা-র।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক ঘোষককে ঈমানের দিকে ডাক দিতে শুনেছি যে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। কাজেই হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মন্দসমূহ আমাদের থেকে মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন।
রাব্বানা ওয়া আ-তিনা মা ওয়া-‘আত্তানা ‘আলা-রুসুলিকা ওয়ালা তুখঝিনা ইয়াওমাল কিয়ামাতি ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আ-দ।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না।
রাব্বানা জালামনা আনফুছানা ওয়া ইল্লাম তাগফির লানা ওয়া তারহামনা লানাকূনান্না মিনাল খা-ছিরীন।
তারা বলল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজ সত্তার উপর জুলুম করে ফেলেছি। আপনি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না করেন ও আমাদের প্রতি রহম না করেন, তবে আমরা অবশ্যই অকৃতকার্যদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
রাব্বানা আফরিগ ‘আলাইনা সাবরাও ওয়াতাওয়াফফানা মুসলিমীন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর সবর ঢেলে দাও এবং (তোমার) তাবেদাররূপে আমাদের মৃত্যু দান কর।
আনতা ওয়ালিইউনা ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আনতা খাইরুল গা-ফিরীন।
আপনিই আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন ও আমাদের প্রতি রহম করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ক্ষমাশীল।
রাব্বানা লা তাজ‘আলনা ফিতনাতাল লিলকাওমিজ্জা-লিমীন।
ওয়া নাজজিনা বিরাহমাতিকা মিনাল কাওমিল কা-ফিরীন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ওই জালেম সম্প্রদায়ের পরীক্ষার পাত্র বানিও না। এবং নিজ রহমতে আমাদেরকে কাফের সম্প্রদায় হতে নাজাত দাও।
ফা-তিরাছছামা ওয়া-তি ওয়াল আরদি আনতা ওয়ালিইইয়ী ফিদদুনইয়া ওয়াল আখিরাতি তাওয়াফফানী মুছলিমাও ওয়া আলহিকনী বিসসা-লিহীন।
হে আকাশমণ্ডল ও পৃথিবীর স্রষ্টা! দুনিয়া ও আখেরাতে তুমিই আমার অভিভাবক। তুমি দুনিয়া থেকে আমাকে এমন অবস্থায় তুলে নিও, যখন আমি থাকি তোমার অনুগত। আর আমাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করো।
রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাসসালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার আওলাদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার প্রতিপালক! এবং আমার দু‘আ কবুল করে নিন।
রাব্বানাগফিরলী ওয়া লিওয়ালিদাইয়া ওয়ালিলমু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকূমুল হিছা-ব।
হে আমার প্রতিপালক! যে দিন হিসাব প্রতিষ্ঠিত হবে, সে দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতা ও সকল ঈমানদারকে ক্ষমা করুন।
রাব্বির হামহুমা কামারাব্বাইয়া-নী সাগীরা
হে আমার প্রতিপালক! তারা যেভাবে আমার শৈশবে আমাকে লালন-পালন করেছে, তেমনি আপনিও তাদের প্রতি রহমতের আচরণ করুন।
রাব্বি আদখিলনী মুদ খালা সিদকিও ওয়া আখরিজনী মুখরাজা সিদকিও ওয়াজ‘আলনী মিল্লাদুনকা ছুলতা-নান নাসীরা
হে প্রতিপালক! আমাকে যেখানে প্রবেশ করাবে, কল্যাণের সাথে প্রবেশ করিও এবং যেখান থেকে বের করবে কল্যাণের সাথে বের করো এবং আমাকে তোমার নিকট থেকে বিশেষভাবে এমন ক্ষমতা দান করো, যার সাথে (তোমার) সাহায্য থাকবে।
রাব্বানা আ-তিনা মিল্লাদুনকা রাহমাতাও ওয়া হাইয়ি’ লানা-মিন আমরিনা রাশাদা।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি আপনার নিকট থেকে বিশেষ রহমত নাযিল করুন এবং আমাদের এ পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য কল্যাণকর পথের ব্যবস্থা করে দিন।
রব্বিশরহ লী সদরী, ওয়া ইয়াসসির লী আমরী, ওয়াহলুল 'উক্বদাতাম মিল লিসানী, ইয়াফক্বহূ ক্বওলী।
হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ খুলে দিন। এবং আমার কাজ সহজ করে দিন। এবং আমার জিহ্বা থেকে জড়তা দূর করে দিন। যাতে মানুষ আমার কথা বুঝতে পারে।
রাব্বি ঝিদনী ইলমা।
হে আমার প্রতিপালক! জ্ঞানে আমাকে আরও উন্নতি দান কর।
আন্নী মাছছানিয়াদ দুররু ওয়া আনতা আরহামুররা হিমীন।
হে আমার প্রতিপালক! আমার এই কষ্ট দেখা দিয়েছে এবং তুমি তো দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
রাব্বি লা তাযারনী ফারদাও ওয়া আনতা খাইরুল ওয়ারিছীন।
হে আমার রব্ব! আমাকে একা রেখে দিও না, আর তুমিই শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী।
রাব্বি আনঝিলনী মুনঝালাম মুবারাকাও ওয়া আনতা খাইরুল মুনঝিলীন
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে অবতরণ করাও বরকতময় অবতারণে। আর তুমিই শ্রেষ্ঠ অবতারণকারী।
রাব্বি আ‘ঊযুবিকা মিন হামাঝাতিশশাইয়া-তীন। ওয়া আ‘ঊযুবিকা রাব্বি আই ইয়াহদু রূন।
হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের প্ররোচনা হতে আপনার আশ্রয় চাই। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই যাতে তারা আমার কাছেও আসতে না পারে।
রাব্বানা আ-মান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়াআনতা খাইরুর রা-হিমীন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাদের প্রতি দয়া করুন। আপনি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
রাব্বানাসরিফ ‘আন্না-‘আযা-বা জাহান্নামা ইন্না ‘আযা-বাহা কানা গারা-মা।
হে আমাদের প্রতিপালক! জাহান্নামের আযাব আমাদের থেকে দূরে রাখুন। নিশ্চয়ই তার আযাব সদা সংলগ্ন হয়ে থাকে।
রাব্বানা হাবলানা মিন আঝওয়া জিনা ওয়া যুররিইইয়া তিনা কুররাতা আ‘ইউনিও ওয়াজ‘আলনা লিলমুত্তাকীনা ইমা-মা।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদের পক্ষ হতে দান কর নয়নপ্রীতি এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের নেতা বানাও।
রাব্বি আওঝি‘নী আন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতী আন‘আমতা ‘আলাইইয়া ওয়া ‘আলা ওয়া-লিদাইইয়া ওয়া‘আন আ‘মালা সালিহান তারদা-হু ওয়া আদখিলনী বিরাহমাতিকা ফী ‘ইবাদিকাসসা-লিহীন।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাওফীক দাও, যেন শুকর আদায় করতে পারি সেই সকল নি‘আমতের, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং করতে পারি এমন সৎকাজ, যা তুমি পছন্দ কর আর নিজ রহমতে তুমি আমাকে নেক বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত কর।
রাব্বি ইন্নী লিমা আনঝালতা ইলাইইয়া মিন খাইরিন ফাকীর।
হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমার প্রতি যে কল্যাণ বর্ষণ করবে আমি তার ভিখারী।
রাব্বিনসুরনী ‘আলাল কাওমিল মুফছিদীন।
হে আমার প্রতিপালক! ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।
রাব্বানা ওয়াছি‘তা কুল্লা শাইয়িররাহমাতাও ওয়া ‘ইলমান ফাগফির লিল্লাযীনা তাবূ ওয়াত্তাবা‘ঊ ছাবীলাকা ওয়াকিহিম ‘আযা-বাল জাহীম।
হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রহমত ও জ্ঞান সমস্ত কিছু জুড়ে ব্যাপ্ত। সুতরাং যারা তাওবা করেছে ও তোমার পথের অনুসারী হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।
রাব্বানা ওয়া আদখিলহুম জান্না-তি ‘আদনি নিল্লাতী ওয়া ‘আত্তাহুম ওয়া মান সালাহা মিন আবাইহিম ওয়া আঝওয়া-জিহিম ওয়া যুররিইয়া-তিহিম ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম।
ওয়া কিহিমুছ ছাইয়িআ-তি ওয়া মান তাকিছ ছাইয়িআ-তি ইয়াওমায়িযিন ফাকাদ রাহিমতাহূ ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।
হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের সাথে করেছ এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেক লোক তাদেরকেও। নিশ্চয়ই তুমিই পরাক্রশালী, প্রজ্ঞাময়।
এবং তাদেরকে সকল মন্দ বিষয় থেকে রক্ষা কর। সে দিন তুমি যাকে সব মন্দ থেকে রক্ষা করবে, তার প্রতি তুমি অবশ্যই দয়া করলে। আর এটাই মহাসাফল্য।
ওয়া আসলিহলী ফী যুররিইইয়াতী ইন্নী তুবতুইলাইকা ওয়া ইন্নী মিনাল মুছলিমীন।
এবং আমার জন্য আমার সন্তানদেরকেও (সেই) যোগ্যতা দান করুন। আমি আপনার কাছে তাওবা করছি এবং আমি আনুগত্য প্রকাশকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
আন্নী মাগলূবুন ফানতাসির।
(হে প্রতিপালক) আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। এবার আপনিই ব্যবস্থা নিন।
রাব্বানাগফিরলানা ওয়া লিইখওয়া-নিনাল্লাযীনা ছাবকূনা বিল ঈমা-নি ওয়ালা তাজ‘আল ফী কুলূবিনা গিল্লাল লিল্লাযীনা আ-মানূ রাব্বানা ইন্নাকা রাঊফুর রাহীম।
হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা কর আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।
রাব্বানা ‘আলাইকা তাওয়াক্কালনা ওয়া ইলাইকা আনাবনা ওয়া ইলাইকাল মাসীর।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনারই উপর নির্ভর করেছি, আপনারই দিকে আমরা রুজূ হয়েছি এবং আপনারই কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।
রাব্বানা লা তাজ‘আলনা ফিতনাতালিলল্লাযীনা কাফারূ ওয়াগফিরলানা রাব্বানা, ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম।
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে কাফেরদের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না এবং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই কেবল আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
রাব্বানা আতমিম লানা নূরানা ওয়াগফিরলানা, ইন্নাকা ‘আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এ আলোকে পরিপূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে শক্তিমান।
রাব্বিগফিরলী ওয়ালি ওয়া-লিদাইইয়া ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মু’মিনাও ওয়া লিলমু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনা-তি
হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার পিতা-মাতাকেও এবং প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকেও, যে ঈমানের অবস্থায় আমার ঘরে প্রবেশ করেছে আর সমস্ত মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকেও।
আল্লাহুম্মাগ্সিল খাত্বা-ইয়ায়া বিমা-য়িস্ সালজি ওয়াল বারাদি, ওয়া নাক্কি কালবী মিনাল খাত্বা-ইয়া, কামা ইউনাক্কাস্ সাওবুল আবইয়াদু মিনাদ দানাসি, ওয়া বা-ইদ বাইনী ওয়া বাইনা খাত্বা-ইয়ায়া, কামা বা-আদতা বাইনাল মাশরিকি ওয়াল মাগরিবি।
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার সমুদয় গুনাহ বরফ ও শীতল পানি দিয়ে ধুয়ে দিন। আমার অন্তর যাবতীয় পাপ থেকে পরিচ্ছন্ন করুন, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়। আমার ও আমার গুনাহসমূহের মধ্যে এতটা ব্যবধান করে দিন, যতটা ব্যবধান আপনি দুনিয়ার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মধ্যে করেছেন।
আল্লাহুম্মা আতি নাফসি তাকওয়াহা, ওয়া জাক্কিহা, আনতা খাইরু মান জাক্কাহা, আনতা ওয়ালিয়্যুহা ওয়া মাওলাহা।
ইয়া আল্লাহ! আমার নফসে (অন্তর) তাকওয়া দান করুন এবং একে পরিশুদ্ধ করে দিন। আপনি একে সর্বোত্তম পরিশোধনকারী, আপনিই এর মালিক ও এর অভিবাবক।
আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি মা সাআলাকা মিনহু নাবিয়্যুকা মুহাম্মাদুন ﷺ।
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সেই সব কল্যাণ প্রার্থনা করি, যে সব কল্যাণের প্রার্থনা তোমার কাছে তোমার নবী মুহাম্মাদ ﷺ করেছেন।
আল্লহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ‘আযা-ইমা মাগফিরাতিকা, ওয়া মুঞ্জিয়া-তি আমরিক, ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইছম, ওয়াল গানীমাতা মিন কুল্লি বিরর, ওয়াল ফাওযা বিল জান্নাহ, ওয়ান্নাজাতা মিনান না-র।
হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট আপনার ক্ষমা লাভকে নিশ্চিতকারী আমলসমূহের তাওফীক চাই, আপনার নাজাতদানকারী নির্দেশাবলীর অনুসরণ চাই, সকল গুনাহ থেকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা চাই, প্রতিটি নেক কাজ অর্জনের সৌভাগ্য চাই, জান্নাত লাভ করার সফলতা চাই এবং জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চাই।
আল্লাহুম্মাগফির লী যুনূবী, খাতাঈ ওয়া ‘আমদী
হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ, আমার ভুলত্রুটি এবং ইচ্ছাকৃত অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দিন।
আল্লাহুম্মাগফির লী খাতীআতী, ওয়া জাহলী, ওয়া ইসরাফী ফী আমরী, ওয়া মা আনতা আ‘লামু বিহী মিন্নী।
হে আল্লাহ! আপনি আমার গুনাহ, আমার মূর্খতা ও আমার কাজের সীমালংঘন এবং যে বিষয়ে আপনি আমার চাইতে অধিক জানেন তা ক্ষমা করে দিন।
আল্লাহুম্মাগফির লী জিদ্দী ওয়া হাযলী।
হে আল্লাহ! আমার গুরুতর ও অনিচ্ছাকৃত বিষয়গুলো ক্ষমা করে দিন।
আল্লাহুম্মা মুসাররিফাল কুলূবি! সাররিফ কুলূবানা ‘আলা ত্বা‘আতিক।
হে অন্তরসমূহের পরিচালক আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহকে আপনার আনুগত্যের দিকে পরিচালিত করুন।
আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী।
হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াত দান করুন এবং আমাকে সঠিক পথে অবিচল রাখুন।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা, ওয়াত তুকা, ওয়াল ‘আফাফা, ওয়াল গিনা।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, পবিত্রতা এবং অমুখাপেক্ষিতা প্রার্থনা করছি।
আল্লাহুম্মা আসলিহ লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ‘ইসমাতু আমরী, ওয়া আসলিহ লী দুনইয়ায়াল্লাতী ফীহা মা‘আশী, ওয়া আসলিহ লী আখিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মা‘আদী, ওয়াজ‘আলিল হায়াতা যিয়াদাতাল লী ফী কুল্লি খাইরিন, ওয়াজ‘আলিল মাওতা রাহাতাল লী মিন কুল্লি শাররিন।
হে আল্লাহ! আমার দীনকে সংশোধন করে দিন, যা আমার সকল কাজের সুরক্ষাকবচ। আমার দুনিয়াকে সংশোধন করে দিন, যেখানে আমার জীবিকা রয়েছে। আমার আখিরাতকে সংশোধন করে দিন, যেখানে আমাকে ফিরে যেতে হবে। আমার জীবনকে প্রতিটি কল্যাণ বৃদ্ধির মাধ্যম বানিয়ে দিন এবং মৃত্যুকে আমার জন্য সকল অনিষ্ট থেকে মুক্তির আরামের মাধ্যম বানিয়ে দিন।
আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়ারযুকনী।
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহম করুন, আমাকে হিদায়াত দিন এবং আমাকে রিজিক দান করুন।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল ‘আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি ওয়াল হারামি, ওয়াল মাগরামি ওয়াল মা’ছামি, ওয়া মিন ‘আযাবিন নারি ওয়া ফিতনাতিন নারি, ওয়া ফিতনাতিল কাবরি ওয়া ‘আযাবিল কাবরি, ওয়া শাররি ফিতনাতিল গিনা ওয়া শাররি ফিতনাতিল ফাকরি, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জালি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিনাল কাসওয়াতি ওয়াল গাফলাতি, ওয়াল ‘আইলাতি ওয়ায যিল্লাতি, ওয়াল মাসকানাতি ওয়াল ফাকরি, ওয়াল কুফরি ওয়াল ফুসূকি ওয়াশ শিকাকি, ওয়াস সুম‘আতি ওয়াল রিয়া-ই, ওয়া মিনাস সামামি ওয়াল বাকামি, ওয়াল জুনূনি ওয়াল জুযামি ওয়া সাইয়্যি-ইল আসকামি, ওয়া দালা‘ইদ দাইনি, ওয়া মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি, ওয়াল বুখলি ওয়া গালাবাতির রিজালি, ওয়া মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল ‘উমুরি, ওয়া ফিতনাতিদ দুনইয়া, ওয়া মিন ‘ইলমিল লা ইয়ানফা‘উ, ওয়া মিন নাফসিল লা তাশবা‘উ, ওয়া মিন কালবিল লা ইয়াখশা‘উ, ওয়া মিন দা‘ওয়াতিল লা ইউস্তাজাবু লাহা।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরুষতা, বার্ধক্যজনিত দুর্বলতা, ঋণের বোঝা ও পাপ থেকে আশ্রয় চাই। জাহান্নামের শাস্তি ও তার ফিতনা, কবরের ফিতনা ও শাস্তি, প্রাচুর্যের ফিতনা এবং অভাবের ফিতনার অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। দাজ্জালের ফিতনা, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা, অন্তরের কঠোরতা, উদাসীনতা, অভাব, লাঞ্ছনা, দারিদ্র্য, কুফর, পাপাচার, বিভেদ, লোক-শোনানো আমল ও রিয়া থেকে আশ্রয় চাই। বধিরতা, বোবা হওয়া, উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ ও যাবতীয় মন্দ রোগ থেকে আশ্রয় চাই। ঋণের বোঝা, দুশ্চিন্তা, দুঃখ, কৃপণতা ও মানুষের প্রাধান্য থেকে আশ্রয় চাই। আমাকে যেন জীবনের নিকৃষ্ট বার্ধক্যে ফিরিয়ে দেওয়া না হয়। দুনিয়ার ফিতনা, অনুপকারী জ্ঞান, অতৃপ্ত আত্মা, আল্লাহর ভয়ে অবনত হয় না এমন অন্তর এবং কবুল হয় না এমন দুআ থেকেও আপনার আশ্রয় চাই।
সম্পূর্ণ দুআটি একটিমাত্র হাদীসের হুবহু পাঠ নয়; এর বিভিন্ন অংশ একাধিক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।