দু‘আ

উযূ অধ্যায়

৫টি দু‘আ
অধ্যায় পরিচিতি

উযূ কাকে বলে?

الْوُضُوءُ شَرْعًا: اسْتِعْمَالُ الْمَاءِ فِي أَعْضَاءٍ مَخْصُوصَةٍ بِنِيَّةٍ مَخْصُوصَةٍ لِرَفْعِ الْحَدَثِ الأَصْغَرِ

শরীয়তের পরিভাষায় অজু হলো,
হাদাসে আসগর দূর করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়তে নির্দিষ্ট অঙ্গসমূহে পানি ব্যবহার করা।

আরও পড়ুন

মৌলিকভাবে অজু ভঙ্গের কারণ ৭টি। যথা-

এক. পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হওয়া। যেমন বায়ু, পেশাব-পায়খানা, পোকা ইত্যাদি।
হিদায়াহ-১/৭

ইরশাদ হয়েছে, ‌তোমাদের কেউ প্রসাব-পায়খানা সেরে আসলে (নামাজ পড়তে পবিত্রতা অর্জন করে নাও)
সুরা মায়িদা-৬
হজরত আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শরীর থেকে যা কিছু বের হয়, তার কারণে অজু ভেঙে যায়...।
সুনানে কুবরা লিলবায়হাকি, হাদিস নং-৫৬৮

দুই. রক্ত, পূঁজ, বা পানি বের হয়ে গড়িয়ে পড়া।
হিদায়াহ-১/১০

হজরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.)-এর যখন নাক দিয়ে রক্ত ঝড়তো, তখন তিনি ফিরে গিয়ে অজু করে নিতেন।
মুয়াত্তা মালিক-১১০

তিন. মুখ ভরে বমি করা।

হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তির বমি হয়, অথবা নাক দিয়ে রক্ত ঝরে, বা মজি (সহবারের আগে বের হওয়া সাদা পানি) বের হয়, তাহলে ফিরে গিয়ে অজু করে নিবে।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১২২১

চার. থুথুর সঙ্গে রক্তের ভাগ সমান বা বেশি হওয়া।

হাসান বসরি রহ. বলেন, যে ব্যক্তি তার থুথুতে রক্ত দেখে তাহলে থুথুতে রক্ত প্রবল না হলে তার ওপর অজু করা আবশ্যক হয় না।
মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা, হাদিস নং-১৩৩০

পাঁচ. চিৎ বা কাত হয়ে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া।

হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সিজদা অবস্থায় ঘুমালে অজু ভঙ্গ হয় না, তবে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লে ভেঙ্গে যাবে, কেননা চিৎ বা কাৎ হয়ে শুয়ে পড়লে শরীর ঢিলে হয়ে যায়। [ফলে বাতকর্ম হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে]
মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-২৩১৫,
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-২০২

ছয়. পাগল, মাতাল বা অচেতন হলে।

হজরত হাম্মাদ (রহ.) বলেন, যখন পাগল ব্যক্তি সুস্থ্ হয়, তখন নামাজের জন্য তার অজু করতে হবে।
মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং-৪৯৩

সাত. নামাজে উচ্চস্বরে হাসি দিলে।

হজরত ইমরান বিন হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নামাজে উচ্চস্বরে হাসে, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে। হজরত হাসান বিন কুতাইবা (রহ.) বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি উচ্চস্বরে হাসি দেয়, সে ব্যক্তি অজু ও নামাজ পুনরায় আদায় করবে।
সুনানে দারা কুতনি, হাদিস নং-৬১২

১

উযূর শুরুতে পড়ার দু‘আ-১

۞ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির্‌ রাহ্‌মানির্‌ রাহীম।

অর্থ

আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি অসীম দয়ালু ও অত্যন্ত মেহেরবান।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, ঐ ব্যক্তির নামায আদায় হয় না যে সঠিক ভাবে উযূ করে না এবং ঐ ব্যক্তির উযূ হয় না যে আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করে না (অর্থাৎ বিসমিল্লাহ্‌ বলে না)।

বি:দ্র: হাদীসে উযূ হয়না বলতে উযূ পরিপূর্ণ হওয়া বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ঐ ব্যক্তির উযূ পরিপূর্ণ হয় না যে আল্লাহ্‌র নাম স্মরণ করে না।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১০১; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৫

২

উযূর শুরুতে পড়ার দু‘আ-২

۞ بِسْمِ اللهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ।

অর্থ

আল্লাহ তা‘আলার নামে শুরু করছি এবং প্রশংসা সবই কেবল তারই জন্যে।

ফযীলত

হাদীসে পাকে আছে, বিসমিল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহ পড়ে উযূ করলে যতক্ষণ ঐ উযূ থাকবে, ফেরেশতাগণ তার নামে ততক্ষণ অনবরত সাওয়াব লিখতে থাকবে, যদিও সে কোন মুবাহ কাজে লিপ্ত থাকে।

তথ্যসূত্র: তাবারানী মুজামে সাগীর, হাদীস নং: ১৯৬

৩

উযূর শেষে উপরের দিকে তাকিয়ে পড়ার দু‘আ-১

۞ اَشْهَدُ اَنْ لَّاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَاۤ شَرِيْكَ لَهٗ. وَاَشْهَدُ اَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ. اَللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَوَّابِيْنَ. وَاجْعَلْنِـيْ مِنَ الْمُتَطَهِّرِيْنَ
উচ্চারণ

আশাহাদু আল্ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারি-কালাহু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদান্‌ আ’বদুহু ওয়া রাসূ-লুহ্‌, আল্লাহুম্মা জা’আলনি মিনাত্তাওয়া-বি-না ওয়াজা’আলনি মিনাল মুতাত্বাহ্‌হিরী-ন।

অর্থ

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ ﷺ তাঁর বান্দা ও রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

ফযীলত

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তোমাদের যে কেউ উত্তমরূপে উযূ করার পর উক্ত দু‘আ পাঠ করে তার জন্যে আটটি জান্নাতের সমস্ত দরজা খোলা হবে বা খুলে যাবে। সে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় যে কোন জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৫৫

৪

উযূর পর পড়ার দু‘আ-২

۞ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِي ْ ذَنْبِيْ وَوَسِّعْ لِـيْ فِيْ دَارِيْ وَبَارِكْ لِيْ فِيْ رِزْقِيْ
উচ্চারণ

আল্লহুম্মাগফিরলি- যাম্বি- ওয়া ওয়াসসি’লি ফি দা-রি ওয়া বা-রিকলি ফি রিযকি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমার গুনাহ মাফ করে দিন। আমার ঘর প্রশস্ত করে দিন। আমার রিযিক বৃদ্ধি করে দিন।

ফযীলত

নবীজী (ﷺ) উযূর পরে কখনো বা নামাযের পরে এই দু‘আও পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদীস নং: ৯৯০৮; ৯৮২৮; তাবারানী, হাদীস নং: ১০১৯, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ২৯৩৯১

৫

উযূর পর পড়ার দু‘আ-৩

۞ سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَّاۤ إِلٰهَ إِ لَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
উচ্চারণ

সুবহানা কাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা ওয়াআতূবু ইলাইকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।

ফযীলত

নবীজী (ﷺ) এবং সাহাবাগন (রাযি) উযূর পর এই দু‘আও পড়তেন। যারা এই দু‘আ পাঠ করবে। পাঠকারীর কালিমায় মোহরাঙ্কন করে দেওয়া হবে। অতঃপর উক্ত কালিমাগুলোকে আরশের নিচে সংরক্ষিত করা হবে। যা কেয়ামত পর্যন্ত আর খোলা হবে না।

তথ্যসূত্র: সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদীস নং: ৯৯০৯