দু‘আ

মৃত্যুর পূর্বাপর পড়ার দু‘আ সমূহ অধ্যায়

২৭টি দু‘আ
১

ঈমান আনায়নের দু‘আ, কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করা

۞ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ
উচ্চারণ

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

অর্থ

আল্লাহ্‌ ব্যতীত ইবাদত বন্দেগীর উপযুক্ত আর কেউ নেই। হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্‌র প্রেরিত রাসূল।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ১৭৪
ফযীলত

হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল’ তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১২৮

উল্লেখ্য, দু‘আটি মুমূর্ষু ব্যক্তিকে তালকীন (পড়ে শোনানো) করার জন্যও পড়া হয়।

২

কবরের আজাব, ওয়াসওয়াসা ও কাজের বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্তির দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَوَسْوَسَةِ الصَّدْرِ وَشَتَاتِ الأَمْرِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আযাবিল কবরি ওয়া ওয়াসওয়াসাতিস সাদরি, ওয়া স্বাতাতিল আমরি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে, মনের ওয়াসওয়াসা থেকে, কাজের বিশৃঙ্খলা থেকে।

সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫২০
৩

অপমৃত্যু থেকে বাঁচা ও বিভিন্ন মুসীবত থেকে নিরাপত্তার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِيْ دِيْنِيْ وَدُنْيَايَ وَأَهْلِيْ وَمَالِيْ. اَللّٰهُمَّ اسْتُرْ عَوْرَاتِيْ وَاۤمِنْ رَوْعَاتِيْ. اَللّٰهُمَّ احْفَظْنِيْ مِنْۢ بَيْنِ يَدَيَّ وَمِنْ خَلْفِيْ، وَعَنْ يَّمِيْنِيْ وَعَنْ شِمَالِيْ وَمِنْ فَوْقِيْ، وَأَعُوْذُ بِعَظَمَتِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِيْ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আ’ফওয়া ওয়াল আ’ফিয়াতা ফি দিনি ওয়া দুনইয়ায়া, ওয়া আহলি ওয়া মালি, আল্লাহুম্মাসতুর আ’ওরাতি, ওয়া আমিন রাওআ’তি, আল্লাহুম্মাহ’ফাযনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফি, ওয়া আ’ই ইয়ামিনি ওয়া আ’ন শিমালি, ওয়া মিন ফাওক্বি, ওয়া আউ’যু বিআ’যমাতিকা আন উগতালা মিন তাহ’তি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নিজ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ৪৯৫৭
৪

মৃত্যু নিকটবর্তী অনুভব হলে পড়ার দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاَلْحِقْنِيْ بِالرَّفِيْقِ الْاَعْلٰى
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাগফিরলী ওয়ার হামনী ওয়া আলহিক্বনী বিররফী-ক্বিল আ‘লা

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত ও দয়া বর্ষণ করুন এবং আমাকে রফিকে আ’লা (নবী ও সালেহগণ)-এর সাথে মিলিত করে দিন।

ফযীলত

আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কে আমার পায়ের উপর হেলান দেওয়া অবস্থায় এই দু‘আ বলতে শুনেছি।
বি:দ্র: ইন্তেকালের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উপরোক্ত দু‘আটি বারবার পড়েছেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৬৭৪, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৪৪৪

৫

মৃত্যু নিকটবর্তী অনুভব হলে পড়ার দু‘আ-২

۞ لٓاَ إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ إِنَّ لِلْمَوْتِ سَكَرَاتٌ
উচ্চারণ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ইন্না লিল মাওতি সাকারাত

অর্থ

আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, নিশ্চয় মৃত্যুর রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ভয়াবহ কষ্ট।

ফযীলত

আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত, (নবীজী (ﷺ) এর) সম্মুখে পাত্র অথবা পেয়ালা ছিল (রাবী ‘উমারের সন্দেহ) তাতে পানি ছিল। নবী (ﷺ) স্বীয় হস্তদ্বয় পানির মধ্যে প্রবেশ করিয়ে তার দ্বারা তাঁর চেহারা মুছতে লাগলেন। তিনি বলেছিলেন আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, সত্যিই মৃত্যু-যন্ত্রণা কঠিন। তারপর দু’ হাত উপরের দিকে উঠিয়ে বলছিলেন, আমি উচ্চে সমাসীন, বন্ধুর সঙ্গে (মিলিত হতে চাই)। এ অবস্থায় তাঁর ইন্তিকাল হল আর হাত শিথিল হয়ে গেল।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৪৪৪৯

৬

মৃত্যু নিকটবর্তী অনুভব হলে পড়ার দু‘আ-৩

۞ لٓاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ، لٓاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ، لٓاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لٓاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، لٓاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللّٰهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللّٰهِ
উচ্চারণ

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, আল্লা-হু আকবার, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়ালা হাউলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ

অর্থ

আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহ মহান। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, যাবতীয় রাজত্ব তাঁরই, তার জন্যই সকল প্রশংসা, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া (পাপ কাজ থেকে দূরে থাকার) কোনো উপায় এবং (সৎকাজ করার) কোনো শক্তি নেই।

ফযীলত

আবূ সাঈদ খুদরী ও আবূ হুরাইরাহ (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (ﷺ) বলেছেন, কোন লোক “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার” বললে সে সময় তার প্রভু তার কথাটি সত্য বলে অনুমোদন দেন এবং বলেন, আমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, আমিই মহান।
আর যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু” (আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, তিনি এক), তখন বলেন, আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই এবং আমি এক।
যখন বান্দা বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু” (আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, তিনি এক, তার কোন অংশীদার নেই), তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, আমি এক, আমার কোন অংশীদার নেই।
যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু” (আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোন মা’বূদ নেই, তারই রাজত্ব, সমস্ত প্রশংসাও তার), তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, রাজত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমার জন্যই।
যখন বান্দা বলে, “লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্” (আল্লাহ তা’আলা ছাড়া কোন মা’বূদ নেই। আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত কোন অনিষ্ট বা উপকার করার ক্ষমতা কারো নেই), তক্ষনি আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, আমি ছাড়া (আমার সহযোগিতা ব্যতীত) অকল্যাণ দূর করা ও মঙ্গল লাভ করার সামর্থ্য কারো নেই।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলতেন, যে লোক রোগাক্রান্ত অবস্থায় এই বাক্যগুলো পাঠ করল, তারপর মৃত্যুবরণ করল, জাহান্নামের আগুন তাকে ভক্ষণ করবে না।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৩০

৭

মুমূর্ষু ব্যক্তিকে তালকীন (পড়ে শোনানো) করবে

۞ لٓاَ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ
উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

অর্থ

একমাত্র আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কোনো মা’বূদ নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহ তা’আলার রাসূল।

ফযীলত

আবূ সাঈদ খুদরী (রা:) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের মৃত্যুমুখীদের لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ পড়ে শোনাও।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯১৬; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৯৭৬

৮

রুহ্‌ বের হচ্ছে অনুভব হলে পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ اَعِنِّيْ عَلٰى غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَ سَكَرَاتِ الْمَوْتِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আ‘ইন্নী ‘আলা গমারাতিল মাউতি ওয়া সাকারাতিল মাঊত।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি মৃত্যুর কষ্ট ও মৃত্যুর যন্ত্রণায় আমাকে সাহায্য করুন।

ফযীলত

আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মৃত্যুকাতর অবস্থায় দেখেছি। তাঁর কাছে একটি পানি ভর্তি পেয়ালা ছিল, তিনি সেই পেয়ালাতে তাঁর হাত ঢুকাচ্ছিলেন পরে পানি নিয়ে তাঁর চেহারায় তা মুছছিলেন। অনন্তর বলছিলেন, হে আল্লাহ, মৃত্যু কষ্টে ও মৃত্যু যন্ত্রণা লাঘবে আমাকে সাহায্য করুন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৯৮০; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং ১৬২৩

৯

মৃত ব্যক্তির চোখ বন্ধ করানোর সময় এ দু‘আ পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِفُلاَنٍ (بِاسْمِهٖ) وَارْفَعْ دَرَجَتَهٗ فِي الْمَهْدِيِّيْنَ، وَاخْلُفْهٗ فِي عَقِبِهٖ فِي الْغَابِرِيْنَ، وَاغْفِرْ لَنَا وَلَهٗ يَا رَبَّ الْعَالَمِيْنَ، وَافْسَحْ لَهٗ فِي قَبْرِ هٖ، وَنَوِّرْ لَهٗ فِيْهِ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মাগফির লিফুলা-নিন (মৃতের নাম বলবে) ওয়ারফা‘ দারাজাতাহু ফিল মাহদিয়্যীন, ওয়াখলুফহু ফী ‘আক্বিবিহী ফিল গা-বিরীন, ওয়াগফির লানা ওয়ালাহু ইয়া রব্বাল আ-লামীন। ওয়াফসাহ্‌ লাহু ফী ক্বাবরিহী ওয়া নাউওয়ীর লাহু ফী-হি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি অমুককে (মৃত ব্যক্তির নাম ধরে) ক্ষমা করুন; যারা হেদায়াত লাভ করেছে, তাদের মাঝে তার মর্যাদা উঁচু করে দিন; যারা রয়ে গেছে তাদের মাঝে তার বংশধরদের ক্ষেত্রে আপনি তার প্রতিনিধি হোন। হে সৃষ্টিকুলের রব! আমাদের ও তার গুনাহ মাফ করে দিন। তার জন্য তার কবরকে প্রশস্ত করে দিন এবং তার জন্য তা আলোকময় করে দিন।

ফযীলত

হযরত উম্মু সালামাহ্ (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবূ সালামাহকে দেখতে এলেন, তখন চোখ খোলা ছিল। তিনি তার চোখ বন্ধ করে দিলেন এবং বললেন, যখন রূহ কবয করা হয়, তখন চোখ তার অনুসরণ করে। আবূ সালামাহ এর পরিবারের লোকেরা কান্না শুরু করে দিল। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা তোমাদের নিজেদের ব্যাপারে ভাল কথা ছাড়া কোন খারাপ কিছু বলাবলি করো না। কেননা, তোমরা যা কিছু বল তার স্বপক্ষে মালায়িকাহ আমীন’ বলে থাকে। এরপর তিনি এভাবে দু‘আ করলেন, হে আল্লাহ আবূ সালামাহ কে ক্ষমা কর এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদাকে উচু করে দাও, তুমি তার বংশধরদের অভিভাবক হয়ে যাও। হে রাব্বুল আলামীন তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও। তার কবরকে প্রশস্ত কর এবং তা জ্যোতির্ময় করে দাও।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯২০

১০

কবরে লাশকে ডান কাত করে রাখার সময় এ দু‘আ পড়বে

۞ بِاسْمِ اللهِ وَعَلٰى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি ওয়া ‘আলা মিল্লাতি রসূলিল্লাহ।

অর্থ

আল্লাহ তা‘আলার নামের সাথে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের তরীকার উপর আমরা তাকে দাফন করছি।

ফযীলত

ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, কবরে মূর্দা দাখিল করার সময় নবী (ﷺ) বলেছেন, (এবং রাবী আবূ খালেদ বলেন) মৃত ব্যক্তিকে যখন তার লাহাদ [কবরে] রাখা হয় তখন তিনি উপরোক্ত দু‘আ পড়েছেন।

তথ্যসূত্র: কিতাবুল আছার: পৃ. ৩৭৯; মুসনাদে আহমাদ: ২:২৭; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ১০৪৬; মুসতাদরাকে হাকেম ১: ৩৬৫

১১

কবরে মাটি দেওয়ার সময়ে পড়ার দু‘আ

কোনো মুসলমানের লাশ দাফনের সময় কবরে তিনবার মাটি দেওয়া মুস্তাহাব।
উচ্চারণ ও অর্থ: প্রথমবার মাটি দেওয়ার সময় বলবে- مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ (মিনহা খলাক্বনাকুম) এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। দ্বিতীয়বার বলবে- وَفِيْهَا نُعِيْدُكُمْ (ওয়া ফী হা নু‘ঈ দুকুম) এ মাটির মধ্যেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব। তৃতীয়বার বলবে- وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً اُخْرٰى (ওয়া মিনহা নুখরিজুকুম তা-রতান উখরা) এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে পুনরায় উঠাবো।
ফাতাওয়ায়ে শামী: ৩/১৭৮; আল-আযকার লিন নববী: ১/৪১৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২২১৮৭; মারাসীল আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৪২০; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১১৩; সুনানে কুবরা, হাদীস নং: ৬৭৩০
ফযীলত

দাফনের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য কবরে তিন মুষ্ঠি মাটি দেওয়া মুস্তাহাব। হাদীস শরীফে এসেছে, রাসূল (ﷺ) জনৈক সাহাবীর দাফনের সময় লাশের মাথার দিকে তিন মুষ্ঠি মাটি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তিন মুষ্ঠি মাটি দেওয়ার ক্ষেত্রে মাটির চাক দেওয়া কাম্য নয়, তদ্রুপ এক মুষ্টিতে তিন চাক মাটি দিলে তা এক মুষ্টি বলে গণ্য হবে।

তথ্যসূত্র: সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১১৩

১২

জানাযা নামাযের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا. وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا. وَصَغِيْرِنَا وَكَبِيْرِنَا، وَذَكَرِنَا وَاُنْثَانَا اَللّٰهُمَّ مَنْ اَحْيَيْتَهٗ مِنَّا فَاَحْيِهٖ عَلَی الْاِسْلَامِ. وَمَنْ تَوَفَّيْتَهٗ مِنَّا فَتَوَفَّهٗ عَلَى الْاِيْمَانِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাগফির লিহাইয়্যিনা ওয়া মায়্যিতিনা ওয়া শাহিদিনা ওয়া গা ইবিনা ওয়া সগীরিনা ওয়া কাবীরিনা ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা, আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহূ মিন্না ফা আহইহী ‘আলাল ইসলাম, ওয়া মানতাওয়াফ ফাইতাহূ মিন্না ফাতা ওয়াফফাহূ ‘আলাল ঈমান।

অর্থ

হে আল্লাহ, আমাদের জীবিত ও মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট ও বড় এবং পুরুষ ও নারী – সকলকে ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের মধ্য থেকে যাঁদেরকে জীবিত রেখেছেন ইসলামের উপর জীবিত রাখেন আর যাদেরকে মৃত্যু দান করেছেন তাদেরকে ঈমানের সাথেই মৃত্যু দান করেন।

ফযীলত

আবূ ইবরাহীম আল-আশহালী তার পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতুল জানাযায় এই দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ১০২৪; সুনানে আবূ দাউদ ২: ৪৫৬; সহীহ ইবনে হিব্বান ৭: ৩৪৩

১৩

মাইয়্যেত যদি নাবালক ছেলে হয় এই দু‘আ পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا اَجْرًا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهُ لَنَا شَافِعًا وَّمُشَفَّعًا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ আলহু লানা ফারতাঁও ওয়াজ আলহু লানা আজরাও ওয়া যুখরাঁও ওয়াজ আলহু লানা শাফিয়াও ওয়া মুশাফফাআন।

অর্থ

হে আল্লাহ! তাকে আমাদের জন্য অগ্রগামী কর ও তাকে আমাদের পুরস্কার ও সাহায্যের উপলক্ষ কর এবং তাকে আমাদের সুপারিশকারী ও গ্রহণীয় সুপারিশকারী বানাও।

মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১৬৪৬
১৪

মাইয়্যেত যদি নাবালেগা মেয়ে হয় এই দু‘আ পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهَا لَنَا فَرَطًا وَّاجْعَلْهَا لَنَا اَجْرًا وَّذُخْرًا وَّاجْعَلْهَا لَنَا شَافِعَةً وَّمُشَفَّعَةً
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ আলহা লানা ফারতাঁও ওয়াজ আলহা লানা আজরাঁও ওয়া যুখরাঁও ওয়াজআলহা লানা শা-ফিয়াতাও ওয়া মুশাফফায়াহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! ইহাকে আমাদের জন্য অগ্রগামী কর ও ইহাকে আমাদের পুরস্কার ও সাহায্যের উপলক্ষ কর। এবং ইহাকে আমাদের সুপারিশকারী ও গ্রহনীয় সুপারিশকারী বানাও।

মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং ১৬৪৬
১৫

নাবালক মাইয়্যেতের জন্য দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা আ‘য়িযহু মিন আযা-বিল ক্বাবরি

অর্থ

হে আল্লাহ! এ শিশুকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।

ফযীলত

ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ (রহ) বলেন, আমি সাঈদ ইবনে মুসায়্যাব (রহ)-কে বলতে শুনেছি, আমি আবূ হুরায়রা (রাযি)-এর পিছনে এমন একটি শিশুর জানাযা পড়েছি, যে শিশু কখনও কোন পাপ করে নাই। আমি তাকে এই দু‘আ বলতে শুনেছি।‏

তথ্যসূত্র: মুওয়াত্তা ইমাম মালেক, হাদীস নং: ৫২৩

১৬

মৃত ব্যক্তির (রূহের)জন্য দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهٗ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهٖ، وَاعْفُ عَنْهُ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهٗ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهٗ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ، وَنَقِّهٖ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهٖ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهٖ، وَزَوْجَاً خَيْرًا مِنْ زَوْجِهٖ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ (وَعَذَابِ النَّارِ)
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মাগফির লাহু, ওয়ারহামহু, ওয়া ‘আ-ফিহি, ওয়া‘ফু ‘আনহু, ওয়া আকরিম নুযুলাহু, ওয়াওয়াসসি মুদখালাহু, ওয়াগসিলহু বিলমা-য়ি ওয়াস্‌সালজি ওয়ালবারাদি, ওয়ানাক্বক্বিহি মিনাল খাতা-ইয়া কামা নাক্কাইতাস সাওবাল আবইয়াদা মিনাদদানাসি, ওয়া আবদিলহু দা-রান খাইরাম মিন দা-রিহি, ওয়া আহলান খাইরাম মিন আহলিহি, ওয়া যাওজান খাইরাম মিন যাওজিহি, ওয়া আদখিলহুল জান্নাতা, ওয়া আ‘য়িযহু মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি [ওয়া ‘আযাবিন্না-র]

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন, তাকে পূর্ণ নিরাপত্তায় রাখুন, তাকে মাফ করে দিন, তার মেহমানদারীকে মর্যাদাপূর্ণ করুন, তার প্রবেশস্থান কবরকে প্রশস্ত করে দিন। আর আপনি তাকে ধৌত করুন পানি, বরফ ও শিলা দিয়ে, আপনি তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছেন। আর তাকে তার ঘরের পরিবর্তে উত্তম ঘর, তার পরিবারের বদলে উত্তম পরিবার ও তার জোড়ের (স্ত্রী/স্বামীর) চেয়ে উত্তম জোড় প্রদান করুন। আর আপনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান এবং তাকে কবরের আযাব [ও জাহান্নামের আযাব] থেকে রক্ষা করুন”

ফযীলত

আউফ ইবনে মালিক (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক জানাযার সালাত আদায় করলেন, আমি তার (পঠিত) উপরোক্ত দু‘আ মুখস্ত করেছি। আউফ ইবনে মালিক (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দু‘আ শুনে আমি আকাঙ্খা করলাম সেই মৃত ব্যক্তি যদি আমি হতাম!

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯৬৩, ২১০৩

১৭

পিতা-মাতার জন্য দু‘আ

۞ رَبِّ ارْحَـمْـهُـمَـا كَـمَـا رَبَّيَانِيْ صَـغِـيْـرًا
উচ্চারণ

রব্বির হাম্‌ হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের উভয়ের (পিতা-মাতার) প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।

সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত নং: ২৩-২৪
ফযীলত

আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং তাকে ইবাদত করার পর পিতা মাতার সাথে উত্তম ব্যবহারের আদেশ দিয়েছেন। তাদের সাথে ’উহ’ শব্দটিও উচ্চারন করতে কুরআন মাজীদে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। হাদীসে এসেছে, মৃত্যুর পর মা-বাবার জন্য নেক সন্তান দু‘আ করলে আল্লাহ কবুল করেন।
বি:দ্র: এই দু‘আটি জীবিত মৃত সকলের জন্য পড়া যায়। সকলের উচিত মা-বাবার জন্য প্রতিনিয়ত এ দু‘আ পড়া।

১৮

মৃত ব্যক্তির (রূহের)জন্য দু‘আ-২

۞ اَللّٰهُمَّ إِنَّ فُلاَنَ بْنَ فُلاَنٍ فِي ذِمَّتِكَ، وَحَبْلِ جِوَارِكَ، فَقِهٖ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ، وَعَذَابِ النَّارِ، وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ، فَاغْفِرْ لَهٗ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحيْمُ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা ইন্না ফুলানাবনা ফুলা-নিন ফী যিম্মাতিকা, ওয়া হাবলি জিওয়ারিকা, ফাক্বিহি মিন ফিতনাতিল ক্বাবরি ওয়া আযা-বিন না-রি, ওয়া আনতা আহলুল ওয়াফাই ওয়াল হাক্ক, ফাগফির লাহু ওয়ারহামহু, ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম

অর্থ

হে আল্লাহ, অমুকের পুত্র অমুক আপনার যিম্মাদারীতে, আপনার নৈকট্যের নিরাপত্তায়। সুতরাং আপনি তাকে কবরের পরীক্ষা থেকে এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন। আর আপনি প্রতিশ্রুতি পূর্ণকারী এবং প্রকৃত সত্যের অধিকারী। অতএব, আপনি তাকে ক্ষমা করুন এবং তার উপর দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, দয়ালু।

ফযীলত

ওয়াসিলাহ ইবনুল আসকা (রাযি) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সাথে নিয়ে মুসলিমদের এক লোকের জানাযার সালাত আদায় করলেন। তখন আমি তাকে এ দু‘আ করতে শুনেছি, ‘‘হে আল্লাহ! অমুকের পুত্র অমুক আপনার দায়িত্বে থাকলো, আপনি তাকে কবরের ফিতনা ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’’ ‘আব্দুর রাহমানের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘এ ব্যক্তি আপনার যিম্মায় ও প্রতিবেশী থাকলো। সুতরাং আপনি তাকে কবরের বিপদ ও দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি তো প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও সত্যের অধিকারী হে আল্লাহ! আপনি তাকে ক্ষমা করে দিন এবং তার প্রতি অনুগ্রহ করুন। কেননা আপনিই একমাত্র ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’’

তথ্যসূত্র: সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১৪৯৯; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৩২০২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৫৫৮৮; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং: ১৬৭৭

১৯

মৃত ব্যক্তির (রূহের) জন্য দু‘আ-৩

۞ اَللّٰهُمَّ عَبْدُكَ وَابْنُ أَمَتِكَ اِحْتَاجَ إِلَى رَحْمَتِكَ، وَأَنْتَ غَنِيٌّ عَنْ عَذَابِهٖ، إِنْ كَانَ مُحْسِناً فَزِدْ فِي حَسَنَاتِهٖ، وَإِنْ كَانَ مُسِيئاً فَتَجَاوَزْ عَنْهُ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা ‘আবদুকা, ওয়াবনু আমাতিকা, ইহতাজা ইলা রাহমাতিকা, ওয়া আনতা গানিয়্যুন ‘আন ‘আযা-বিহি, ইন কা-না মুহসিনান ফাযিদ ফী হাসানা-তিহি, ওয়া ইনকা-না মুসীআন ফা তাজা-ওয়ায ‘আনহু

অর্থ

হে আল্লাহ, আপনার এক দাস, আর এক দাসীর পুত্র, আপনার অনুগ্রহের মুখাপেক্ষী, আপনি তাকে শাস্তি দেওয়া থেকে অমুখাপেক্ষী। যদি সে নেককার বান্দা হয়, তবে তার সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন, আর যদি বদকার বান্দা হয়, তবে তার অপরাধকর্ম এড়িয়ে যান।

মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং: ১৩২৮
২০

কবর যিয়ারতের দু‘আ

۞ اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْقُبُورِ، يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَلَكُمْ، أَنْتُمْ سَلَفُنَا، وَنَحْنُ بِالْأَثَرِ
উচ্চারণ

আসসালামু ‘আলাইকুম ইয়া আহলাল ক্বুবূরি, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম, আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসার।

অর্থ

হে কবরবাসীগণ! আপনাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে এবং আপনাদেরকে ক্ষমা করে দিন। আপনারা আমাদের পূর্বে গমনকারী। আমরা আপনাদের অনুগামী।

ফযীলত

হযরত ইবনে আববাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মদীনার কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন এর দিকে ফিরে বললেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ১০৫৩

২১

কারো আপনজনের মৃত্যু হলে এ দু‘আ দ্বারা সান্ত্বনা দিবে

۞ اِنَّ لِلّٰهِ مَا اَخَذَ وَلِلّٰهِ مَا اَعْطٰی وَكُلُّ شَيْءٍ عِنْدَهٗ بِاَجَلٍ مُّسَمًّى فَاصْبِرْ وَاحْتَسِبْ
উচ্চারণ

ইন্না লিল্লাহি মা আখাযা ওয়া লিল্লাহি মা আ‘ত্বা ওয়া কুল্লু শাই ইন ‘ইনদাহূ বিআজালিম মুসাম্মান ফাসবির ওয়াহ তাসিব।

অর্থ

নিশ্চয়ই (সমস্ত কিছু) আল্লাহ পাকেরই যা তিনি নিয়ে নিয়েছেন, আর যা প্রদান করেছেন তাও আল্লাহ পাকেরই এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট প্রত্যেকের মৃত্যুকাল নির্ধারিত রয়েছে। সুতরাং তুমি ধৈর্যধারণ কর এবং সওয়াব-এর আশা কর।

ফযীলত

হযরত উসামা ইবনে যায়িদ (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) এর কন্যা (যায়নাব) তাঁর খিদমতে লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মুমূর্ষ অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের এখানে আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, (তাকে) সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহরই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাঁর কাছে সব কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। কাজেই সে যেন সবর করে এবং সাওয়াবের আশায় থাকে। তখন তিনি তাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আসেন। তখন তিনি দাঁড়ালেন এবং তাঁর সাথে ছিলেন সা’দ ইবনে উবাদা, মু’আয ইবনে জাবাল, উবাই ইবনে কা’ব, যায়দ ইবনে সাবিত (রাযি) এবং আরও কয়েক জন।
তখন শিশুটিকে রাসূল (ﷺ) এর কাছে তুলে দেওয়া হল। তখন তার জান ছঠফট করছিল। রাবী বলেন, আমার ধারনা যে, তিনি এ বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত (আওয়াজ হচ্ছিল)। আর নবী (ﷺ) এর দু’ চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সা’দ (রাযি) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একি? তিনি বললেন, এ হচ্ছে রহমত, যা আল্লাহ পাক তাঁর বান্দার অন্তরে আমানত রেখেছেন। আর আল্লাহ পাক তো তাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতই দয়া করেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১২৮৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৯২৩

২২

শোকার্তদের সান্ত্বনায় বলবে

۞ أَعْظَمَ اللّٰهُ أَجْرَكَ، وَأَحْسَنَ عَزَاءَكَ، وَغَفَرَ لِمَيِّتِكَ
উচ্চারণ

আ‘যামাল্লাহু আজরাকা, ওয়া আহসানা ‘আযা-’আকা, ওয়াগাফারা লিমাইয়্যিতিকা।

অর্থ

আল্লাহ আপনার সওয়াব বর্ধিত করুন, আপনার (শোকার্ত মনে) সুন্দর ধৈর্য ধরার তাওফীক দিন, আর আপনার মৃতকে ক্ষমা করে দিন।

মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং: ৬০৭৪
২৩

কবরের আযাব, দাজ্জাল, মৃত ও জীবিত ব্যক্তির ফিতনা থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ، وَ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নামা, ওয়া আউজুবিকা মিন আজাবিল কবরি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জালি, ওয়া আউজুবিকা মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই জাহান্নামের আযাব থেকে এবং আপনার কাছে পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে এবং আপনার কাছে পানাহ চাই মাসীহ দাজ্জাল থেকে এবং আপনার কাছে পানাহ চাই জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।

২৪

মৃত্যু কামনার বদলে এই দু‘আ পড়বে

اللَّهُمَّ أَحْيِنِي مَا كَانَتِ الحَيَاةُ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الوَفَاةُ خَيْرًا لِي
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আহইয়িনী মা কানাতিল হায়াতু খাইরান লী, ওয়া তাওয়াফ্ফানী ইযা কানাতিল ওয়াফাতু খাইরান লী।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখ, যতদিন পর্যন্ত আমার জন্য জীবিত থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে মৃত্যু দাও, যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫২৬৯
ফযীলত

এ হাদীছে কোনও কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। কোন রকম কষ্ট তা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কষ্ট দুনিয়াবী হতে পারে এবং পরকালীনও হতে পারে। দুনিয়াবী কষ্ট বিভিন্ন রকমের। অসুখ-বিসুখের কষ্ট, খাদ্যকষ্ট, মানসিক কষ্ট ইত্যাদি। পরকালীন কষ্ট বলতে এমন কোনও ফিতনাকে বোঝায়, যে কারণে নিজের দীন ও ঈমান রক্ষা কঠিন হয়ে যায়। এখানে মূলত দুনিয়াবী কষ্টের কথা বোঝানো হয়েছে। দুনিয়াবী কষ্টের কারণে মৃত্যু কামনা করা জায়েয নয়। কেননা আগের হাদীছসমূহ দ্বারা আমরা জানতে পেরেছি দুনিয়াবী কষ্টের ভেতর কল্যাণ নিহিত থাকে। দুনিয়ার জীবনটাই তো পরীক্ষার জীবন। এখানে মানুষকে যেমন সুখ-সাচ্ছন্দ্য দ্বারা পরীক্ষা করা হয়, তেমনি পরীক্ষা করা হয় কষ্ট-ক্লেশ দ্বারাও। দেখা হয় সুখ-সাচ্ছন্দ্যে সে কেমন শোকর আদায় করে আর কষ্ট-ক্লেশে কতটুকু ধৈর্য ধরে। শোকর দ্বারা যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ হয়, তেমনি তা লাভ হয় সবর দ্বারাও। কষ্ট-ক্লেশে সবর করলে গুনাহ মাফ হয় ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। এটা তো আখিরাতের অতিবড় লাভ। মৃত্যুকামনা দ্বারা সেই লাভ পরিত্যাগ করা কোনও বুদ্ধির কথা নয়। মু'মিন ব্যক্তি আল্লাহর পথের যাত্রী। প্রতি কদমে সে আল্লাহর নৈকট্যের দিকে অগ্রসর হয়। প্রতিটি নেককাজ দ্বারা তার নৈকট্য বৃদ্ধি পায়। আল্লাহর নৈকট্য লাভই তার পরম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য মৃত্যু দ্বারা ব্যহত হয়। যা পরম লক্ষ্যকে বাধাগ্রস্ত করে, আল্লাহর পথের পথিক তা কিভাবে চাইতে পারে? কষ্টের কারণে? কোনও কষ্টই স্থায়ী নয়। যেই কষ্টে পড়ে মৃত্যু কামনা করা হয়, আল্লাহ চাহেন তো একদিন তা ঘুচে যাবেই। কুরআন মাজীদে ইরশাদ-

{فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (5) إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (6)} [الشرح: 5، 6]

“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।”
অন্যত্র ইরশাদ-
‘আল্লাহ সংকটের পর স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টি করে দেবেন।”

{سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرٍ يُسْرًا (7)} [الطلاق: 7]

যখন দুঃখ-কষ্ট কেটে যাবে, সেই সুখের দিনে কত ইবাদত-বন্দেগী করা সম্ভব! দুনিয়া আখিরাতের শস্যক্ষেত্র। স্বস্তির সংগে বেঁচে থাকলে এখানে আখিরাতের কত ফসল বোনা যায়। সম্ভব হয় কত পুণ্যসঞ্চয় করা। আর মৃত্যুকামনা দ্বারা আখিরাতের সঞ্চয় লাভের সুযোগ উপেক্ষা করা হয়। এটা কোনও প্রশংসনীয় কাজ নয়; বরং একদিক থেকে এটা আখিরাতের কল্যাণলাভের প্রতি অনাগ্রহেরও ইঙ্গিত বহন করে। তাই হাদীছে মৃত্যুকামনা করতে নিষেধ করা হয়েছে। তাছাড়া এর দ্বারা বিপদ-আপদে অধৈর্য এবং আল্লাহর ফয়সালায় অসন্তুষ্টিরও বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা সম্পূর্ণ নাজায়েয। অধিকন্তু জীবন একটা নি'আমত। নি'আমত বিলুপ্তির আকাঙ্ক্ষা করা নিন্দনীয়। এক হাদীছে ইরশাদ-

«لا يتمنى أحدكم الموت، ولا يدع به من قبل أن يأتيه، إنه إذا مات أحدكم انقطع عمله، وإنه لا يزيد المؤمن عمره إلا خيرا»

‘তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু আসার আগে তার আকাঙ্ক্ষা না করে এবং তার জন্য দু’আ না করে। কেননা মৃত্যু হলে আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মু'মিনের আয়ু তার কেবল কল্যাণই বৃদ্ধি করে।
অপর এক হাদীছে আছে-

لا يتمنى أحدكم الموت إما محسنا فلعله يزداد، و إما مسيئا قلعله يستعيب

‘তোমাদের কেউ মৃত্যু কামনা করবে না। সে যদি সৎকর্মশীল হয়, তবে (বেঁচে থাকলে) আশা করা যায় আরও বেশি সৎকর্ম করতে পারবে। আর যদি অসৎকর্মশীল হয়, তবে তাওবা করবে ও নিজেকে সংশোধন করে ফেলবে।
এসব হাদীছ দ্বারা বোঝা যায়, মু'মিন ব্যক্তির পক্ষে দীর্ঘায়ু সর্বাবস্থায় কল্যাণকর। কেননা আয়ু যত দীর্ঘ হয়, ততই বেশি পুণ্য সংরক্ষিত হয়। সেই হিসেবে দীর্ঘজীবি ব্যক্তি বেশি পুণ্যবান হয়ে থাকে। তাই এক হাদীছে আছে-

خياركم من طال عمرا و خشن عمله

“তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ, যার আয়ু দীর্ঘ হয় এবং আমল হয় উত্তম।"
হাঁ, মৃত্যুকামনা যদি দীন ও ঈমান হেফাজতের লক্ষ্যে হয় বা আল্লাহর সাক্ষাতলাভের অধীর আগ্রহে এবং তাঁর সান্নিধ্যের আস্বাদ উপভোগের উদ্দেশ্যে হয়, তা জায়েয আছে। সাহাবায়ে কিরামের অনেকে এরকম মৃত্যুকামনা করেছেন। তবে সে ক্ষেত্রেও 'হে আল্লাহ! আমাকে মৃত্যু দাও' বা 'হে আল্লাহ! আমাকে আর বাঁচিয়ে রেখ না এরূপ শব্দে সাধারণভাবে মৃত্যুকামনা ঠিক নয়। বরং হাদীছে যেভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই শর্তযুক্তভাবে দু'আ করা উচিত। অর্থাৎ বলবে, হে আল্লাহ! বেঁচে থাকা যতদিন আমার পক্ষে কল্যাণকর হয়, ততদিন আমাকে বাঁচিয়ে রাখ আর যখন মৃত্যুই আমার জন্য কল্যাণকর হবে, তখন আমাকে মৃত্যু দিও।
বেঁচে থাকা কল্যাণকর হওয়ার মানে দীন ও ঈমান রক্ষার সংগে বেঁচে থাকা। এরূপ বেঁচে থাকা অবশ্যই কাম্য। আর মৃত্যু কল্যাণকর হওয়ার মানে বেঁচে থাকলে ঈমান ও আমল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা থাকা। এ অবস্থায় ঈমানের সংগে মৃত্যুই কল্যাণকর। যখন দেশে ঈমান-আমল রক্ষার পরিবেশ না থাকে, চারদিকে বদ্দীনী পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে, বহুমুখী ফিতনা বেঈমানীর দিকে ডাকে, ফলে ঈমান-আমল রক্ষা কঠিন হয়ে যায়, স্বাভাবিকভাবেই তখন বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয় হয়ে যায়।
এক হাদীছে আছে-

وإذا كان أمراء كم شراركم و أغنياءكم بخلاءكم و أموركم إلى نسائكم فيظن الأرض خير لكم من ظهرها

'যখন তোমাদের নেতৃবর্গ হয় নিকৃষ্ট লোক, তোমাদের ধনীরা হয় কৃপণ এবং তোমাদের কর্তৃত্ব থাকে নারীদের হাতে, তখন তোমাদের জন্য ভূপৃষ্ঠ অপেক্ষা ভূগর্ভই শ্রেয়।"

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. দুনিয়ায় যত কষ্ট-ক্লেশই হোক না কেন, কিছুতেই মৃত্যু কামনা করা উচিত নয়। আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকাই মু'মিনের কর্তব্য।

খ. কষ্ট-ক্লেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠলে এ হাদীছে যেভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে সেভাবে দু'আ করবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)

২৫

কবরের আযাব, বার্ধক্য, দাজ্জাল, মৃত ও জীবিত ব্যক্তির ফিতনা থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল-‘আজযি, ওয়াল-কাসালি, ওয়াল-হারামি, ওয়াল-বুখলি, ওয়াল-জুবনি; ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযাবিল-কবরি, ওয়া মিন ফিতনাতিল-মাহইয়া ওয়াল-মামাত।

অর্থ

হে আল্লাহ্! আমি আপনার নিকট অপারগতা, অলসতা, চরম বার্ধক্য, কৃপণতা এবং কাপুরুষতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে কবরের আযাব এবং জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকেও আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ৫৪৫২
২৬

মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু কামনা ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দু‘আ

رَبِّ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّاَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ
উচ্চারণ

রব্বি তাওয়াফফানী মুছলিমাওঁ ওয়া আলহিকনী বিসসা-লিহীন।

অর্থ

ইয়া রব্ব! তুমি দুনিয়া থেকে আমাকে এমন অবস্থায় তুলে নিও, যখন আমি থাকি তোমার অনুগত। আর আমাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করো।

-সূরা ইউসুফ : ১০১
২৭

মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য দু‘আ/রুক্বিয়্যাহ

১. সূরা ফাতেহা ৭বার
بِسۡمِ اللهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِ
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ‏ ﴿۱﴾ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ‏ ﴿۲﴾ مٰلِكِ يَوۡمِ الدِّيۡنِؕ‏ ﴿۳﴾ اِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَاِيَّاكَ نَسۡتَعِيۡنُؕ‏ ﴿۴﴾ اِهۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۙ‏ ﴿۵﴾ صِرَاطَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ ۙ‏ ﴿۶﴾ غَيۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا الضَّآلِّيۡنَ‏ ﴿۷﴾

২. সূরা আলাম নাশরাহ ৭বার
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
اَلَمۡ نَشۡرَحۡ لَكَ صَدۡرَكَ ۙ ﴿۱﴾ وَوَضَعۡنَا عَنكَ وِزۡرَكَ ۙ ﴿۲﴾ الَّذِيۡۤ اَنۡقَضَ ظَهۡرَكَ ۙ ﴿۳﴾ وَرَفَعۡنَا لَكَ ذِكۡرَكَ ؕ ﴿۴﴾ فَاِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ يُسۡرًا ۙ ﴿۵﴾ اِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ يُسۡرًا ؕ ﴿۶﴾ فَاِذَا فَرَغۡتَ فَانۡصَبۡ ۙ ﴿۷﴾ وَاِلٰى رَبِّكَ فَارۡغَبۡ ﴿۸﴾

৩. সূরা কুরাইশ ৩বার
لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ ۙ ﴿۱﴾ إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ ۚ ﴿۲﴾ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ ۙ ﴿۳﴾ الَّذِي أَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَآمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ ﴿۴﴾

৪. সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩বার ৩বার
ফালাক:
۞ قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ الۡفَلَقِۙ‏ ﴿۱﴾ مِنۡ شَرِّ مَا خَلَقَۙ‏ ﴿۲﴾ وَمِنۡ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ‏ ﴿۳﴾ وَمِنۡ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الۡعُقَدِۙ‏ ﴿۴﴾ وَمِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ‏ ﴿۵﴾
নাস:
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ

৫. আয়াতে শেফা, প্রতি আয়াত ৩বার
۞ وَيَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِيْنَ
۞ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ وَهُدًى وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ
۞ وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ
۞ قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا هُدًى وَّشِفَاءٌ

৬. নয় সালাম, প্রতি আয়াত ৩বার
سَلَامٌ قَوْلًا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ ۝٥٨
سَلَامٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِي الْعَالَمِينَ ۝٧٩
سَلَامٌ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ ۝١٠٩
سَلَامٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَارُونَ ۝١٢٠
سَلَامٌ عَلَىٰ إِلْ يَاسِينَ ۝١٣٠
سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ ۝٧٣
سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ۝٥
قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ ۝٦٩
وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ ۝١٨١
উচ্চারণ

১. বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। আররাহমা-নির রাহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

২. আলাম নাশরাহলাকা সাদরাক।
ওয়া ওয়াদা‘না-‘আনকা বিঝরাক।
আল্লাযীআনকাদা জাহরাক।
ওয়া রাফা‘না-লাকা যিকরাক।
ফাইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-।
ইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-।
ফাইযা-ফারাগতা ফানসাব।
ওয়া ইলা- রাব্বিকা ফারগাব।

৩. লিঈলা-ফি কুরাইশ। ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশশিতাই ওয়াসসাঈফ। ফালইয়া‘বুদূ রাব্বা হা-যাল বাঈত। আল্লাযী আৎ‘আমাহুম মিন জূ‘ইওঁ ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।

৪.
ফালাক: (১)কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক (২) মিন শাররি মা-খালাক। (৩) ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব। (৪) ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ। (৫) ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

নাস: কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ, মালিকিন্না-ছ, ইলা-হিন্না-ছ। মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ। আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

৫. ১. ওয়া ইয়াশফি ছুদু-রা ক্বাওমিম মু’মিনি-ন। ২. ওয়া শিফাউ’ল লিমা- ফিচ্ছুদু-রি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনি-ন। ৩. ইয়াখরুঝু মিমবুতু-নিহা- শারা-বুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু- ফি-হি শিফা-উ লিন্না-সি। ৪. ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল ক্বুরআ’নি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনি-ন। ৫. ওয়া ইজা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফি-নি। ৬. কুল হুওয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাওঁ ওয়া শিফাউন।

৬. সালামুন কওলান মির রাব্বির রাহীম। (৫৮)
সালামুন আলা নূহিন ফিল ‘আলামীন। (৭৯)
সালামুন আলা ইবরাহীম। (১০৯)
সালামুন আলা মূসা ওয়া হারূন। (১২০)
সালামুন আলা ইল-ইয়াসীন। (১৩০)
সালামুন আলাইকুম তিবতুম ফাদখুলূহা খালিদীন। (৭৩)
সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলা‘ইল ফাজর। (৫)
কুলনা ইয়া নারু কূনী বারদান ওয়া সালামান আলা ইবরাহীম। (৬৯)
সালামুন আলাল-মুরসালীন। (১৮১)

অর্থ

১. শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (১) সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই, (২) যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু, (৩) কর্মফল দিবসের মালিক। (৪) আমরা শুধু তোমারই ‘ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, (৫) আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, (৬) তাদের পথ, যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, (৭) তাদের পথ নয় যারা ক্রোধ-নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।

২. (হে রাসূল!) আমি কি তোমার কল্যাণে তোমার বক্ষ খুলে দেইনি?
এবং আমি তোমার থেকে অপসারণ করেছি সেই ভার
যা তোমার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল
এবং আমি তোমার কল্যাণে তোমার চর্চাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।
প্রকৃতপক্ষে কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।
সুতরাং তুমি যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত কর।
এবং নিজ প্রতিপালকের প্রতিই মনোযোগী হও।

৩.যেহেতু কুরাইশের লোকেরা অভ্যস্ত। অর্থাৎ তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে (ইয়ামান ও শামে) সফর করতে অভ্যস্ত। তাই তারা যেন এই ঘরের মালিকের ইবাদত করে। যিনি তাদেরকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভয়-ভীতি হতে তাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন।

৪. ফালাক: (১) বল, আমি ভোরের মালিকের আশ্রয় গ্রহণ করছি (২) তিনি যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে (৩) এবং অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা ছেয়ে যায় (৪) এবং সেই সব ব্যক্তির অনিষ্ট হতে, যারা (তাগা বা সুতার) গিরায় ফুঁ দেয় (৫) এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।
নাস: (১) বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি সমস্ত মানুষের প্রতিপালকের (২) সমস্ত মানুষের অধিপতির (৩) সমস্ত মানুষের মাবূদের (৪) সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে পেছনে আত্মগোপন করে (৫) যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, (৬) সে জিনদের মধ্য হতে হোক বা মানুষের মধ্য হতে।

৫. ১. এবং আল্লাহ মু’মিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন। ২. এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। ৩. তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। ৪. আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। ৫. এবং যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন ৬. বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার

৬. পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে—‘সালাম।’ (৫৮)
সকল জগতের মধ্যে নূহের প্রতি সালাম। (৭৯)
ইবরাহীমের প্রতি সালাম। (১০৯)
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম। (১২০)
ইলিয়াসের প্রতি সালাম। (১৩০)
তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা পবিত্র ছিলে। সুতরাং তোমরা তাতে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো। (৭৩)
এটি ফজরের উদয় পর্যন্ত শান্তিময়। (৫)
আমি বললাম, ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও।’ (৬৯)
রাসূলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। (১৮১)

১. সূরা ফাতেহা
২. সূরা আলাম নাশরাহ
৩. সূরা কুরাইশ
৪. সূরা ফালাক ও সূরা নাস
৫. আয়াতে শেফা
* সূরা আত-তাওবা, ৯:১৪
* সূরা ইউনুস, ১০:৫৭
* সূরা আন-নাহল, ১৬:৬৯
* সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮২
* সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬:৮০
* সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৪৪
৬. নয় সালাম
* সূরা ইয়াসীন, ৩৬:৫৮
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:৭৯
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১০৯
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১২০
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১৩০
* সূরা আয-যুমার, ৩৯:৭৩
* সূরা আল-কদর, ৯৭:৫
* সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:৬৯
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১৮১
ফযীলত

এটি আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গদের মুজাররাব আমল। আমলওয়ালা কোন আলেমকে দিয়ে আমল করিয়ে উক্ত পানিতে দম করে পান করানো হলে রূগি ইনশাআল্লাহ আরোগ্য লাভ করবে।

নিজে নিজে করতে চাইলে শুরুতে ইস্তেগফার ও দরূদের মাধ্যমে শুরু করা উচিত।

তথ্যসূত্র: null