দু‘আ

তাহারাত (পাক-পবিত্রতা) অধ্যায়

২টি দু‘আ
অধ্যায় পরিচিতি

পাক-পবিত্রতা কি? নাপাকী কি?

الطَّاهِرُ: مَا كَانَ خَالِيًا عَنِ النَّجَاسَةِ شَرْعًا

النَّجَاسَةُ شَرْعًا: عَيْنٌ مُسْتَقْذَرَةٌ مَنَعَتْ صِحَّةَ الصَّلَاةِ

শরীয়তের দৃষ্টিতে পবিত্রতা হলো, হাদাস (অযু/গোসল ছাড়া যে অপবিত্রতা থাকে) দূর করা এবং নাজাসাত (দৃষ্ট নাপাকি) অপসারণ করা।

নাপাক বলা হয় তাকে, যা শরীয়ত মতে অপবিত্র সাব্যস্ত, এবং যার উপস্থিতিতে নামাজ সহিহ হয় না, যতক্ষণ না তা শরঈ পদ্ধতিতে দূর করা হয়।

আরও পড়ুন

নাপাকী প্রধানত দুই প্রকার। ১. নাজাসাতে গলীযা। যে নাপাকীর হুকুম শক্ত। ২. নাজাসাতে খফীফা। যে নাপাকীর হুকুম কিছু্টা হালকা। নাজাসাতে গলীযা আবার দুই প্রকার। ১. তরল নাপাকী যেমন মানুষের পেশাব, রক্ত, বীর্য ইত্যাদি। ২. গাঢ় বা শক্ত নাপাকী যেমন মানুষের মল, পশুর পায়খানা ইত্যাদি।

নাজাসাতে গলীযার মধ্যে যেগুলো তরল তা এক দেরহাম (তথা গোলাকৃতভাবে কাঁচা টাকা পরিমাণ, যা হাতের তালুর নীচু স্থান পরিমাণ হয়) পরিমাণ বা তার কম শরীর বা কাপড়ে লেগে গেলে কাপড় বা শরীর নাপাক হবে না। তদ্রূপ নাজাসাতে গলীজার মধ্যে শক্ত নাপাকী এক সিকি পর্যন্ত অর্থাৎ ৪.৩৭ গ্রাম পরিমাণ বা এর কম কাপড় বা শরীরে লাগলে তা নাপাক হবে না। অবশ্য নাপাকী দূর করা সম্ভব হলে এ পরিমাণ নাজাসাতে গলীযা নিয়ে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী হবে।

আর নাজাসাতে খফীফা শরীর বা কাপড়ের যে অঙ্গে লেগেছে তার চার ভাগের এক ভাগের কম হলে কাপড় নাপাক হবে না। অবশ্য এ নাপাকী ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলে তা নিয়ে নামায আদায় করা মাকরুহ তাহরীমী হবে।

নাপাক থেকে পবিত্র করার পদ্ধতিসমূহ :

গাঢ় নাপাকী : যেমন রক্ত, পায়খানা শরীর বা কাপড়ে লাগলে তা এমনভাবে ধৌত করতে হবে যেন নাপাকী পরিপূর্ণ দূর হয়ে যায় । এক্ষেত্রে তিন বার ধোয়া জরুরি নয়। তিন বারের কমে যদি নাপাকী চলে যায় তবেও পাক হয়ে যাবে। অবশ্য এক্ষেত্রেও তিন বার ধোয়া ভাল।

তরল নাপাকী লাগলে তা বালতি বা ছোট বদ্ধ জায়গার পানি দ্বারা পবিত্র করতে চাইলে তিন বার ধৌত করা এবং প্রত্যেক বার নিংড়ানো জরুরি।

হ্যাঁ, যদি এমন কাপড় বড় পুকুরে ভালোভাবে ধৌত করা হয় কিংবা ছোট বদ্ধ জায়গায় না ধুয়ে নাপাকীর উপর অধিক পরিমাণ পানি ঢালা হয় কিংবা এ কাপড়ের উপর দিয়ে প্রচুর পরিমাণ পানি প্রবাহিত হয়ে যায় যার দ্বারা নাপাকী দূর হয়ে যাওয়ার প্রবল ধারণা হয় তবে তিন বার ধোয়া ও নিংড়ানো ছাড়াই পাক হয়ে যায়।

১

টয়লেটে প্রবেশের পূর্বে পড়বে

۞ بِسْمِ اللهِ اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُبِكَ مِنَ الْخُبُثِ وَالْخَبَائِثِ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস।

অর্থ

আল্লাহ তা‘আলার নামে (প্রবেশ করছি), হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষতিকারক নর ও নারী জিন শয়তান হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩২২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৬০৬; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবাহ, ৬/১১৪, হাদীস নং: ২৯৯০২; রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়ায়ে শামী), ১/৫৫৯
ফযীলত

হযরত আনাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইস্তিঞ্জাখানায় (বাথরুমে) প্রবেশ করতেন, তখন বলতেন: বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবাইস। সুতরাং বিসমিল্লাহসহ দুআটি পড়া উত্তম। আর এটাই হানাফী মাযহাবের মত।

২

টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর পড়বে

۞ غُفْرَانَكَ اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَذْهَبَ عَنِّي الْاَذٰى وَعَافَانِيْ
উচ্চারণ

গুফরানাকা আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আযহাবা ‘আন্নীল আযা ওয়া ‘আ ফা-নী।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর জন্যে, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করে দিয়েছেন এবং আমাকে সুস্থ রেখেছেন।

সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩০১; সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং: ৩০; সুনানে
তিরমিযী হাদীস নং: ০৭