দু‘আ

খাবার ও পানাহার অধ্যায়

১৩টি দু‘আ
১

খাবার সামনে এলে পড়বে

۞  اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْمَا رَزَقْتَنَا وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী মা রযাক্বতানা ওয়াক্বিনা আযাবান্নার।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে যে রিয্‌ক দান করেছেন তাতে বরকত দান করুন, এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

ফযীলত

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর হতে বর্ণিত। নবীজী (ﷺ) খাবারের সম্মুখিন হলে উক্ত দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: মুওয়াত্তা মালিক, হাদীস নং: ১৩৩৯; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ; ইবনুস্‌ সুন্নী, হাদীস নং: ৪৫৭

২

খাওয়ার শুরুতে পড়বে

۞  بِسْمِ اللهِ وَبَرَكَةِ اللهِ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি ওয়াবারাকাতিল্লাহ্‌।

অর্থ

আল্লাহ তা’আলার নামে (খাবার) শুরু করছি, এবং আল্লাহ তা‘আলার বরকতের সাথে এ খাবার গ্রহণ করছি।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৪৯৮৪; মুস্তাদরাক, হাদীস নং: ৭০৮৪
৩

খানা খাওয়ার সময় পড়বে

۞  اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِّنْهُ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফীহি ওয়া আত‘ইমনা খাইরাম-মিনহু।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এই খাদ্যে বরকত দিন এবং এর চেয়েও উত্তম খাদ্য আহার করান।

ফযীলত

হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বললেন, কাউকে আল্লাহ তা‘আলা কোন খাদ্য আহার করালে সে যেন দু‘আটি বলে।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫৫

৪

খানার শুরুতে বিসমিল্লাহ্‌ ভুলে গেলে বলবে

۞  بِسْمِ اللهِ أَوَّلَهٗ وَآخِرَهٗ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি আউওয়ালাহু ওয়াআখিরাহু।

অর্থ

আল্লাহর নামে খাবার শুরু করছি। খাবারের প্রারম্বে ও সমাপ্তিতে।

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩৭৬৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২৩৯৯৮
৫

পানি পান করার পর পড়বে

۞  اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ سَقَانَا مَاءً عَذْبًا فُرَاتًا بِرَحْمَتِه، وَلَمْ يَجْعَلْهُ مِلْحًا أُجَاجًا بِذُنُوْبِنَا
উচ্চারণ

আলহাম্‌দু লিল্লাহিল্লাজি ছাকানা আজবান ফুরতান বিরহমাতিহ্‌ ওয়ালাম ইয়াজ্‌ আ’লহু মিলহান উজাজান বিযুনুবিনা।

অর্থ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্যে, যিনি আমাদেরকে স্বীয় রহমতে সুস্বাদু, সুমিষ্ট পানি পান করিয়েছেন এবং আমাদের গুনাহের কারণে তা তিক্ত ও লবণাক্ত করেননি।

সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩৪৫৫; তাবারানী, হাদীস নং: ৮৯৯, হিল্য়াতুল আউলিয়া: ৮/১৩৭
৬

খাওয়ার শেষে পড়ার দু‘আ-১

۞ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنَا وَسَقَانَا وَجَعَلَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ
উচ্চারণ

আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আত্ব ‘আমানা ওয়াসাক্বানা ওয়াজা ‘আলানা মিনাল মুসলিমীন।

অর্থ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্যে যিনি আমাদের পানাহার করিয়েছেন এবং আমাদেরকে মুসলমান বানিয়েছেন।

ফযীলত

হযরত আবু সাঈদ (রাযি) থেকে বর্ণিত যে নবী (ﷺ) যখন কিছু আহার করতেন বা পান করতেন তখন এই দু‘আ বলতেন।

তথ্যসূত্র: কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ১৮১৭৯

৭

খাওয়ার শেষে পড়ার দু‘আ-২

۞ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ اَطْعَمَنِيْ هٰذَا الطَّعَامَ وَرَزَقَنِيْهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِّنِّيْ وَلَا قُوَّةٍ
উচ্চারণ

আলহামদু লিল্লা হিল্লাযী আত্ব ‘আমানী হাযাত ত্ব‘আামা ওয়া রযাক্বনীহি মিন গইরি হাওলিম মিন্নী ওয়ালা কুউওয়াহ।

অর্থ

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য, যিনি আমাকে এই খানা খাওয়ালেন এবং আমার শক্তি ও সামর্থ ব্যতীতই এটা আমাকে দান করলেন।

ফযীলত

সাহল ইবনে মু‘আয ইবনে আনাস (রহ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি খাওয়ার পরে উক্ত দু‘আ পাঠ করবে তার আগের-পরের সকল গুনাহ ক্ষমা করা হবে।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৪০২৩

৮

মৌসুমের নতুন ফল খাওয়ার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فيْ ثَمَرِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مَدِيْنَتِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ صَاعِنَا. وَبَارِكْ لَنَا فِيْ مُدِّنَا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী সামারিনা ওয়া বারিক লানা ফী মাদীনাতিনা ওয়া বারিক লানা ফী সা ‘ইনা ওয়া বারিক লানা ফী মুদ্দি না।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ফল-ফলাদিতে বরকত দিন, আমাদের শহরে বরকত দিন, আমাদের সা’ তথা বড় পরিমাপক যন্ত্রে বরকত দিন, আমাদের মুদ্দ তথা ছোট পরিমাপক যন্ত্রে বরকত দিন।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা যখন প্রথম (পাকা) ফল দেখতে পেত, তা নিয়ে নবী (ﷺ) এর নিকট আসত এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তা গ্রহণ করতেন তখন উপরোক্ত দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৭৩; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫৪; মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং: ১৬৩৪

৯

দাওয়াত খেলে এই দু‘আ পড়বে-১

۞ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيْمَا رَزَقْتَهُمْ، وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা বা-রিক লাহুম ফীমা রাযাক্তাহুম ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছেন তাতে তাদের জন্য বরকত দিন এবং তাদের গুনাহ মাফ করুন, আর তাদের প্রতি দয়া করুন।

ফযীলত

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পিতার নিকট আগমণ করলেন। আমরা তাঁর সামনে কিছু খাবার ও ওতবা (খেজুর চুর্ণ, পনির ও ঘি মিশিয়ে তৈরি এক প্রকার হালুয়া) উপস্থিত করলাম। তিনি কিছু খেলেন। .......আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাযি) বলেন, এরপর আমার পিতা তাঁর সাওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু‘আ করুন। তখন তিনি এই দু‘আ করলেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২০৪২

১০

দাওয়াত খাওয়ার দু‘আ-২

۞ اَللّٰهُمَّ أَطْعِمْ مَنْ أَطْعَمَنِيْ ، وَاسْقِ مَنْ سَقَانِيْ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা আত্ব‘ইম মান আত্ব‘আমানী ওয়াসক্বি মান সাক্বা-নী

অর্থ

হে আল্লাহ! যে আমাকে আহার করাবে আপনি তাকে আহার করান এবং যে আমাকে পান করাবে আপনি তাকে পান করান।

মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২২৭৩৯
১১

কারো মেহমানদারী গ্রহণ করলে মেজবানকে শুনিয়ে এই দু‘আ পড়বে-৩

۞ أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ، وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُوْنَ
উচ্চারণ

আকালা ত্বয়ামাকুমুল আবরর, ওয়াছল্লাত আলাইকুমুল মালায়িকাহ্, ওয়া আফ্ত্বরা ইন্দাকুমুছ ছ’য়িমুন।

অর্থ

যেন নেককার লোকেরা তোমাদের খানা খায় এবং
ফেরেশ্তাগণ যেন তোমাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনার দু‘আ করে এবং রোযাদারগণ যেন তোমাদের বাড়িতে ইফতার করে।

ফযীলত

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) সা‘দ ইবনে উবাদাহ (রাযি)-এর বাড়িতে গেলেন। সা‘দ (রাযি) রুটি ও যাইতুন তৈল আনলেন। তা খাওয়ার পর নবী (ﷺ) এই দু‘আটি পড়লেন।

তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১১৯৫৭; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং: ৪২৪৯

১২

দস্তরখানা উঠানোর সময় এই দু‘আ পড়বে

۞ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ غَيْرَ مَكْفِىٍّ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْهُ رَبَّنَا
উচ্চারণ

আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাছিরান ত্বাইয়্যিবান মুবা-রাকান ফিহি গায়রা মাকফিয়্যিন ওয়ালা মুওয়াদ্দাইন ওয়ালা মুস্তাগনান আনহু রাব্বানা।

অর্থ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্যে। অনেক অনেক প্রশংসা এবং পবিত্র ও বরকতপূর্ণ প্রশংসা। হে প্রভু! এ খানাকে না যথেষ্ট মনে করা যেতে পারে (যে আর প্রয়োজন হবে না), আর না একে সম্পূর্ণ বিদায় দেয়া যেতে পারে (যে আর তার সাক্ষাতের প্রয়োজন হবে না), না এ হতে অমুখাপেক্ষী হওয়া যায়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৪৫৮; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫৬
১৩

দুধ পান করার সময় পড়বে

۞ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهِ وَزِدْنَا مِنْهُ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা বারিক-লানা ফীহি ওয়াযিদনা মিনহ্‌।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি এই দুধের মধ্যে বরকত দান করুন এবং অধিক পরিমাণে দান করুন।

ফযীলত

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যাকে আল্লাহ তা‘আলা দুধ পান করান সে যেন দু‘আটি পড়ে।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫৫