দ্বীনের উপর অবিচল থাকার দু‘আ
ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলূ-ব, ছাব্বিত ক্বলবী আ’লা দ্বী-নিকা
হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।
ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলূ-ব, ছাব্বিত ক্বলবী আ’লা দ্বী-নিকা
হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আক্বালানা ইয়াওমানা হাযা ওয়ালাম ইউহলিকনা বিযুনূবিনা।
সকল প্রশংসা ঐ আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আজকের দিনে আমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন এবং আমাদের গুনাহের কারণে আমাদেরকে ধ্বংস করেননি।
আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক ওয়া আগনিনি বি ফাদলিকা আম্মান সিওয়াক
হে আল্লাহ! তুমি তোমার হারাম থেকে বাঁচিয়ে তোমার হালাল রিযিক দ্বারা আমাকে পরিতুষ্ট করে দাও। (হালাল রুজিই যেন আমার জন্য যথেষ্ট হয়) এবং তোমার অনুগ্রহে ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।
হযরত আবূ ওয়ায়েল (রহ) বলেন, একজন মুকাতাব (মুক্তিপণ আদায়ের শর্তে আযাদকৃত গোলাম) হযরত আলী (রাযি) এর খেদমতে হাজির হয়ে আরয করল, আমি (মুক্তিপণের নির্ধারিত) মাল আদায় করতে পারছি না। হযরত আলি (রাযি) বললেন, আমি কি তোমাকে সেই কালিমাগুলো শিখিয়ে দিব না যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে শিখিয়েছেন? যদি তোমার উপর (ইয়ামানের) শীর পাহাড় সমতূল্য ঋণও হয় তবে আল্লাহ তা‘আলা সেই ঋণকে আদায় করে দিবেন। তুমি এই দু‘আ পড়। ফায়দা
মুকাতাব সেই গোলামকে বলা হয় যাকে তার মনিব বলেছে যে, যদি তুমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই পরিমাণ মাল আদায় করে দিতে পার তবে তুমি আযাদ হয়ে যাবে। যে মাল নির্ধারিত হয় তাকে ‘বদলে কিতাবাত’ বা মুক্তিপণ বলা হয়।
তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৬৩; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং: ২৪৪৯,
আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২৮১১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১২৫০
ইন্না নাসআলুকা বি‘আহদি নূহিন ওয়া বি‘আহদি সুলাই মানাবনি দাউদা আন লা তু’যীনা।
ওহে সাপ! আমরা নূহ্ আলাইহিস সালাম এবং সুলাইমান আলাইহিস সালামের অঙ্গীকারের কথা তোদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। তোরা আমাদের কষ্ট দিস না।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুলহামদু ওয়া হুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই। প্রশংসা কেবল তাঁর জন্যই। তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান।
হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি একশ বার এ দু‘আটি পড়বে, দশটি গোলাম আযাদ করার সমপরিমাণ সাওয়াব তার হবে। তার জন্য একশটি সাওয়াব লেখা হবে এবং একশটি গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে। ঐদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে হেফাজতে থাকবে। কোন লোক তার চেয়ে উত্তম সাওয়াবের কাজ করতে সক্ষম হবে না। তবে হ্যাঁ ঐ ব্যক্তি সক্ষম হবে, যে এর চেয়ে ঐ দু‘আটির আমল অধিক পরিমাণ করবে। বি:দ্র: ইবনে হিব্বানে ১০ বার পাঠ করার কথাও পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩২৯৩
আল্লাহুম্মা ইন কুনতু আমানতু বিকা, ওয়া বিরাসূলিকা, ফালা তুসাল্লিত্ব আলাইয়্যাল কাফির।
হে আল্লাহ, আমি যদি আপনার উপর ও আপনার রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে থাকি, তাহলে এই কাফিরকে আমার উপর চাপিয়ে দিবেন না।
নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর পত্নী সারাহ, আলাইহাস সালাম, বিপদাপন্ন অবস্থায় উযূ করে সালাত আদায় করে এই দু‘আ পড়লে আল্লাহ তা’আলা তাঁর দু‘আ কবূল করেন।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৯৫০
লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু
আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই।
হযরত উম্মে হাবীবা বিনতে আবূ সুফিয়ান (রাযি) সূত্রে নবী (ﷺ) এর স্ত্রী যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় বের হলেন। তখন তাঁর চেহারা মুবারক লাল বর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলছিলেনঃ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ নিকট ভবিষ্যতে সংঘটিত দুর্যোগে আরবরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আজ ইয়া’জূজ-মা’জূজের প্রাচীর এতটুকু পরিমাণ খুলে গেছে। এ সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও শাহাদাত আঙ্গুলির দ্বারা চক্র বানালেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে নেক লোক থাকা অবস্থায়ও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ, যখন পাপাচার বেশী হবে।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৮৮০
হাসবিয়াল্লাহু লা-ইলাহা ইল্লা হুওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুওয়া রাব্বুল আরশিল আযীম।
আল্লাহ্ই আমার জন্য যথেষ্ট। তিনি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই। তাঁর প্রতি ভরসা করেছি, তিনি মহান আরশের অধিপতি।
হযরত আবূ দারদা (রাযি) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল বিকাল সাতবার এই দু‘আ পড়বে, আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে (দুনিয়া ও আখিরাতের) সমস্ত চিন্তা থেকে হিফাযত করবেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৮০-৫০৮১
সূরা ইখলাস:
১. قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
২. اللَّهُ الصَّمَدُ
৩. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
৪. وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
সূরা ফালাক্ব:
১. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
২. مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
৩. وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
৪. وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
৫. وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
সূরা নাস:
১. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
২. مَلِكِ النَّاسِ
৩. إِلَـٰهِ النَّاسِ
৪. مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
৫. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
৬. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
সূরা ইখলাস:
১. কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।
২. আল্লা-হুসসামাদ।
৩. লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।
৪. ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।
সূরা ফালাক্ব:
১. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক
২. মিন শাররি মা-খালাক।
৩. ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।
৪. ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।
৫. ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।
সূরা নাস:
১. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,
২.মালিকিন্না-ছ,
৩. ইলা-হিন্না-ছ।
৪. মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।
৫. আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।
৬. মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রাযি) থেকে বর্ণিত, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বল! আমি চুপ রইলাম। পুনরায় বললেন, বল! আমি চুপ রইলাম। আবার বললেন, বল! আমি আরয করলাম, কি বলব! ইরশাদ করলেন, সকাল বিকাল তিনবার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস পড়ে নিবে। এই সূরাগুলি প্রত্যেক কষ্টদায়ক জিনিস থেকে তোমার হিফাযত করবে। ফায়দা
কোনো কোনো ওলামায়ে কেরামের মতে হাদীস শরীফের উদ্দেশ্য এই যে, যারা বেশি পড়তে না পারে তারা যদি কমপক্ষে সকাল বিকাল এই তিনটি সূরা পড়ে নেয় তবে ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট হবে। (শরহুত তীবী)
তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৮২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৭৫
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।
নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চিতভাবে আমরা তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তনকারী।
হযরত আবূ মুসা আশআরী (রাযি) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যখন কারো শিশু সন্তান মারা যায় তখন আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা আমার বান্দার সন্তানকে নিয়ে এসেছো? তারা আরয করেন, জি হ্যাঁ। আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দা তখন কি বলেছে? তারা আরয করেন, আপনার প্রশংসা করেছে এবং إِنَّا لِلّٰهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ পড়েছে। আল্লাহ তা’আলা ফেরেশতাদের হুকুম করেন, আমার বান্দার জন্য জান্নাতে একটা ঘর তৈরী কর এবং উহার নাম ‘বাইতুল হামদ’ )অর্থাৎ প্রশংসার ঘর( রাখ। আমল
হযরত আবূ সালামাহ্ (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কারো উপর কোন বিপদ এলে অবশ্যই সে যেন উক্ত দু‘আ পাঠ করে। (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৫৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯১৮)
তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ১০২১
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুয়া হাইয়্যুন লা ইয়ামূতু বিয়াদিহিল খইর, ওয়া
হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর।
এক আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত অন্য কোনো মা’বূদ নেই। তিনি এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। সকল রাজত্ব তাঁরই জন্যে। সকল প্রশংসা তাঁরই। তিনিই জীবিত করেন, তিনিই মৃত্যু দেন। এবং তিনিই চিরঞ্জীব। তিনি কখনো মৃত্যু বরণ করেন না। তাঁর হাতেই সকল কল্যাণের চাবিকাঠি। তিনিই সর্বশক্তিমান।
হযরত উমর (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে প্রবেশ করে এই দু‘আ পড়ে আল্লাহ তা’আলা তাঁর জন্য দশ লক্ষ নেকী লিখে দেন, দশ লক্ষ গুনাহ মিটিয়ে দেন এবং তার দশ লক্ষ মর্তবা উন্নত করে দেন। এক বর্ণনায় দশ লক্ষ মর্তবা উন্নত করার পরিবর্তে জান্নাতে একটি মহল তৈরি করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪২৮; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস: ১৮২
হে আমাদের প্রতিপালক! এমন ভার আমাদের উপর অর্পণ করো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের প্রতি রহমত নাযিল কর। তুমি আমাদের অভিভাবক। কাফিরদের বিপরীতে তুমি আমাদের সাহায্য কর।
ইয়া হাইয়ু ইয়া কাইয়ুম বিরাহ্মাতিকা আসতাগিস।
হে চিরঞ্জীব! হে সকল বস্তুর ধারক! আমি আপনারই রহমতের প্রার্থনা করছি।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী ‘আাফানী মিম্মাবতালাকা বিহি ওয়া ফাযযালানী ‘আলা কাসীরিম মিম্মান খলাক্বা তাফযীলা।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি আমাকে সেই অবস্থা থেকে রক্ষা করেছেন যাতে তোমাকে আক্রান্ত করেছেন এবং তিনি আমাকে তার অনেক মাখলূকের উপর সম্মান দান করেছেন।
হযরত উমর (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোন বিপদগ্রস্থকে দেখে এই দু‘আ পড়ে নেয়, উক্ত দু‘আ পাঠকারী সারাজীবন সেই বিপদ থেকে নিরাপদ থাকবে, চাই সে বিপদ যেমন-ই হোক না কেন।
ফায়দা
হযরত জাফর (রাযি) বলেন, এই দু‘আ মনে মনে পড়বে বিপদগ্রস্থ ব্যক্তিকে শুনিয়ে পড়বে না। ( সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৩১)
তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৩১,৩৪৩২; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩৮৯২
আল্লাহুম্মা ইন্না নাজ‘আলুকা ফী নুহূরিহিম, ওয়া না‘ঊযুবিকা মিন শুরূরিহিম।
হে আল্লাহ! আমি আপনাকে এদের মুকাবেলায় (নিজের) ঢাল বানিয়েছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি।
আল্লাহুম্মা হাযা ইক্ববালু লাইলিকা, ওয়া ইদবারু নাহারিকা, ওয়া আসওয়াতু দু‘আতিকা ফাগফিরলী।
হে আল্লাহ! এখন আপনার রাত্রির আগমন ও দিনের গমন এবং আপনার প্রতি আহ্বানকারী মুআযযিনের ধ্বনির (আযানের) সময়। সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন।
আ’ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শায়ত্বা-নির রজীম।
আমি অভিশপ্ত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমরা মোরগের ডাক শুনতে পাবে তখন আল্লাহর কাছে অনুগ্রহ চাইবে। কেননা সে ফিরিশতা দেখেছে। আর যখন তোমরা গাধার বিকট আওয়াজ শুনতে পাবে তখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাইবে। কেননা সে শয়তান দেখেছে।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭২৯; সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩৩০৩
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি, ওয়া আউযুবিকা মিনাল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়া আউযুবিকা মিন গালাবাতিত দাইনি ওয়া কাহরির রিজালি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই চিন্তা ও পেরেশানী থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অপারগতা ও অলসতা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের ক্ষোভ থেকে।
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাযি) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে আনসারী একজন লোককে দেখতে পেলেন, যার নাম আবূ উমামা। রাসূল তাকে বললেন, আবূ উমামা! ব্যাপার কী, নামাযের সময় ছাড়াও তোমাকে মসজিদে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে? আবূ উমামা বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! অনেক ঋণ এবং দুনিয়ার চিন্তা আমাকে গ্রাস করে রেখেছে। তখন রাসূল (ﷺ) তাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কিছু কালেমা শিখিয়ে দেব, যেগুলো বললে আল্লাহ তোমার চিন্তাকে দূর করে দেবেন এবং তোমার ঋণগুলো পরিশোধ করে দেবেন। তিনি বলেন, জি হ্যাঁ ইয়া রাসুলাল্লাহ! অবশ্যই বলুন, তখন রাসূল (ﷺ) তাকে উপরোক্ত দু‘আটি শিখিয়ে দেন এবং তা সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে বলেন। আবূ উমামা বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) এর এ দু‘আটি পড়তে লাগলাম। ফলে আল্লাহ আমার চিন্তা দূর করে দিলেন এবং আমার ঋণগুলোও আদায় করে দিলেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং: ১৫৫৫
আলহামদুলিল্লা হিল্লাযী বিনিইমাতিহী তাতিম্মুস সালিহাত।
সকল প্রশংসা আল্লাহ পাকের জন্য, যার নেয়ামতের বদৌলতে সর্বপ্রকার পূণ্যময় কাজ সমাধা ও সম্পন্ন হয়।
হযরত আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পছন্দনীয় কিছু দেখলে উপরোক্ত দু‘আ পড়তেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩৮০৩; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং: ১৮৪০
আলহামদুলিল্লাহি ‘আলা কুল্লি হাল।
সর্বাবস্থায়ই আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও শোকর আদায় করছি।
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আযাবিল কবরি ওয়া ওয়াসওয়াসাতিস সাদরি, ওয়া স্বাতাতিল আমরি।
হে আল্লাহ! আমি পানাহ চাই কবরের আযাব থেকে, মনের ওয়াসওয়াসা থেকে, কাজের বিশৃঙ্খলা থেকে।
আল্লাহুম্মা ইন্নী ‘আবদুকা ইবনু ‘আবদিকা ইবনু আমাতিকা, না-সিয়াতী বিয়াদিকা, মা-দ্বিন ফিয়্যা হুকমুকা, ‘আদলুন ফিয়্যা কাদ্বা-য়ুকা, আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন্ হুয়া লাকা সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আও আনযালতাহু ফী কিতা-বিকা আও ‘আল্লামতাহু আহাদাম্-মিন খালক্বিকা আও ইসতা’সারতা বিহী ফী ‘ইলমিল গাইবি ‘ইনদাকা, আন্ তাজ‘আলাল কুরআ-না রবী‘আ ক্বালবী, ওয়া নূরা সাদ্রী, ওয়া জালা’আ হুযনী ওয়া যাহা-বা হাম্মী
হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা, আপনারই এক বান্দার পুত্র এবং আপনার এক বাঁদীর পুত্র। আমার কপাল (এর নিয়ন্ত্রণ) আপনার হাতে। আমার উপর আপনার নির্দেশ কার্যকর; আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ন্যায়পূর্ণ। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার প্রতিটি নামের উসীলায়; যে নাম আপনি নিজের জন্য নিজে রেখেছেন অথবা আপনি আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন অথবা আপনার সৃষ্টজীবের কাউকেও শিখিয়েছেন অথবা নিজ গায়েবী জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন—আপনি কুরআনকে বানিয়ে দিন আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার দুঃখ অপসারণকারী এবং দুশ্চিন্তা দূরকারী।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুল আরশিল আযীম, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রাব্বুল আরদি ওয়া রাব্বুল আরশিল কারীম
আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বূদ নাই। যিনি মহান, মহা ধৈর্যময় মহা বিচক্ষণ, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বূদ নাই। যিনি মহান আরশের প্রভু, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বূদ নাই। যিনি আসমানসমূহের, জমিনের ও সম্মানিত আরশের অধিপতি।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বিপদের সময় এ দু‘আ পড়তেন।
তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২৪০০; সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩৪৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭৩০
আল্লাহু, আল্লাহু রাব্বী, লা-উশরিকু বিহী শাইআন।
আল্লাহ, আল্লাহ, আমার রব, তার সাথে কাউকে শরীক করি না।
হযরত আসমা বিনতে উমায়েস (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা (ﷺ) আমাকে বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিব না, যা তুমি বিপদাপদের সময় পাঠ করতে পার? অতঃপর তিনি উপরোক্ত দু‘আ বললেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১৫২৫
আল্লাহুম্মা রহ্মাতাকা আরজু ফালা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা ‘আইন, ওয়া আসলিহ্ লী শা’নি কুল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা আনতা
হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমতেরই আশা করি। তাই আপনি এক নিমেষের জন্যও আমাকে আমার নিজের কাছে সোপর্দ করবেন না। আপনি আমার সার্বিক বিষয়াদি সংশোধন করে দিন। আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নাই।
আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বকর বলেন, আমি আমার পিতাকে বললাম, হে আব্বাজান! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দু‘আ বলতে শুনি। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ বাক্যগুলো দ্বারা দু‘আ করতে শুনেছি। সেজন্য আমিও তার নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি।
হযরত আব্বাস (রাযি)-এর বর্ণনায় রয়েছে তিনি বললেন, ‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট কুফরী ও দরিদ্রতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমি কবরের আযাব থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি, আপনি ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ নাই।’’
তিনি এ দু‘আ সকালে তিনবার ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতেন। তাই আমিও তাঁর নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, এটি বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দু‘আ।
তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৯০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৯৫৩৯
লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নী কুনতু মিনায যালিমীন
আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নাই। আপনি পবিত্র-মহান, নিশ্চয় আমি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত।
হযরত সা’দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলার নবী যুননূন ইউনুস (আ:) মাছের পেটে থাকাকালে যে দু‘আ করেছিলেন তা হল, “তুমি ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, তুমি অতি পবিত্র। আমি নিশ্চয় যালিমদের দলভুক্ত। যে কোনো মুসলিম লোক কোনো বিষয়ে কখনো এ দু‘আ করলে অবশ্যই আল্লাহ তা’আলা তাঁর দু‘আ কবূল করেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫০৫
আল্লা-হুম্মা, লা-সাহলা ইল্লা-মা জা‘আলতাহূ সাহলান। ওয়া আনতা তাজ্‘আলুল হাযনা সাহ্লান ইযা শি’তা।
হে আল্লাহ আপনি যা সহজ করেন তা ছাড়া কিছুই সহজ নয়। আর আপনি ইচ্ছা করলে কঠিনকে সহজ করেন।
আল্লাহুম্মা ইন্নি দ্ব’য়িফুন ফা ক্বওওয়িনি, ওয়া ইন্নি শাদি-দুন ফা লায়্যিনি- ওয়া ইন্নি বাখি-লুন ফা সাখখিনি
হে আল্লাহ আমি দুর্বল, অতএব আমাকে শক্তিশালী করুন। আমি রূঢ়, আমাকে নম্রতা দান করুন। আমি কৃপণ, অতএব আমাকে বদাণ্যতা দান করুন।
আল্লাহুম্মারযুকনি শাহাদাতান ফি সাবিলিক, ওয়ায’আল মাওতি ফি বালাদি রাসুলিকা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
হে আল্লাহ, আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দিন এবং মৃত্যু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর শহরে দিন।
আল্লাহুম্মাজ’আল আওসা’আ রিজক্বিকা ’আলাইয়া ইনদা কিবারি সিন্নি, ওয়ানক্বিত্ব-ই ’উমুরি
হে আল্লাহ ! আপনার দেওয়া রিজককে আমার বৃদ্ধ বয়সে এবং জীবনের সমাপ্তি পর্যন্ত প্রশস্ত করে দিন।
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন যাওয়ালি নি’মাতিকা, ওয়া তাহাওউলি আফিয়াতিকা, ওয়া ফুজাআতি নিক্বমাতিকা, ওয়া জামিয়ি সাখাত্বিকা।
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই নেয়ামত দূর হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার দেয়া সুস্থতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে। আশ্রয় চাই তোমার কাছ থেকে হঠাৎ আসা শাস্তি থেকে। তোমার সব ধরণের অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই।
আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামা-ওয়া-তিস সাব‘ই ওয়া রাব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম, কুন লী জা-রান মিন ফুলা-ন ইবনু ফুলা- ন ওয়া আ‘হযা-বিহী মিন খালা-ইক্বিকা আইঁ ইয়াফরুত্বা ‘আলাইয়্যা আ‘হাদুম মিনহুম আও ইয়াত্বগা-, ‘আযযা জা- রুকা ওয়া জাল্লা সানা-উকা, ওয়া লা- ইলা-হা ইল্লা- আনতা
হে আল্লাহ, সাত আসমানের প্রভু ও মহান আরশের প্রভু, আপনি আমাকে আশ্রয় প্রদান করেন অমুকের পুত্র অমুক (সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম মনে স্মরণ করবে) থেকে এবং আপনার সৃষ্টির মধ্য থেকে যারা তার দলবলে রয়েছে তাদের থেকে, তাদের কেউ যেন আমার বিষয়ে সীমালঙ্ঘন করতে না পারে বা আমার উপর অত্যাচার বা বিদ্রোহ করতে না পারে। আপনার প্রশংসা মহিমান্বিত। আপনি ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) বলেন, তোমাদের কেউ নিজের উপর তাদের শাসকের স্বৈরাচারিতা বা অত্যাচারের আশঙ্কা করলে সে যেন এই দু‘আ পাঠ করে।
তথ্যসূত্র: আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭১২; তাবারানী, হাদীস নং: ৯৭৯৫
আল্লহুম্মা আনতা ‘আদ্বুদী, ওয়া আনতা নাসীরী, বিকা আহূলু, ওয়া বিকা আসূলু, ওয়া বিকা উক্বা-তিলু
হে আল্লাহ! আপনি আমার শক্তি এবং আপনি আমার সাহায্যকারী; আপনারই সাহায্যে আমি বিচরণ করি, আপনারই সাহায্যে আমি আক্রমণ করি এবং আপনারই সাহায্যে আমি যুদ্ধ করি।
হযরত আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জিহাদ করার সময় নবী (ﷺ) এই দু‘আ বলতেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৬৩২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৮৪
হাসবুনাল্লা-হু ওয়া নি‘মাল ওয়াকীল
আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, আর তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইবনে ‘আব্বাস (রাযি) বলেন, ‘‘হাসবুনাল্লাহু ওয়ানি‘মাল ওয়াকিল’’ এ কথাটি হযরত ইবরাহীম (আ) বলেছিলেন, যখন তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এবং এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামও বলেছিলেন, যখন লোকে বলেছিল, (মক্কার কাফির) লোকেরা তোমাদের (সাথে যুদ্ধ করার) জন্য (পুনরায়) সেনা সংগ্রহ করেছে, সুতরাং তাদেরকে ভয় কর। তখন এটা (এই সংবাদ) তাদের ঈমানের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তারা বলে ওঠে, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক।
বুখারী শরীফের অপর এক বর্ণনায় আছে, ইবরাহীম (আ)–কে যখন আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তাঁর সর্বশেষ কথা ছিল এটি।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৪৫৬৩
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বু’সি ওয়াত তাবা- উস
হে আল্লাহ! আমি দারিদ্র্য ও অপরের কাছে হাত-পাতা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
ইয়া হাদিয়াদ দ্বালা-লি, ওয়া রা-দ্দাদ দ্বাল্লাতি; উরদুদ আলাইয়া দ্বা-ল্লাতি, বিইজ্জাতিকা ওয়া সুলতা-নিকা; ফাইন্নাহা মিন আত্বা-য়িকা ওয়া ফাদ্বলিকা।
হে হারানো জিনিসের সন্ধানদাতা, হারানো বস্তু প্রত্যাবর্তনকারী; আপনার সম্মান ও ক্ষমতার উসিলা দিয়ে প্রার্থনা করছি, আপনি আমাকে আমার হারানো জিনিসটি ফিরিয়ে দিন। এটি আপনার দান এবং অনুগ্রহ।
আল্লহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুযামি ওয়া মিন ছাইয়্যি ইল আসক্বম।
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেতকুষ্ঠ উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং সমস্ত খারাপ রোগ থেকে।
হযরত আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) এই দু‘আ পড়তেন।
তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১৫৫৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ৫৪৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১২৫৯২
আউযুবি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি-মা-খলাক।
আমি আল্লাহ্ তা‘আলার সমস্ত (উপকারী ও শেফাদানকারী) কালিমা দ্বারা তার সমস্ত মাখলূকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।
(১) হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারীম (ﷺ) এর খেদমতে হাজির হল এবং আরয করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ, রাত্রে বিচ্ছুর কামড়ে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করলেন, যদি তুমি সন্ধ্যায় এই কালিমাগুলি পড়ে নিতে তবে বিচ্ছু কখনও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারত না।
(২) হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বর্ণনা করেন, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধার সময় তিনবার এই কালিমাগুলি বলবে-- সেই রাত্রে কোন প্রকার বিষ তার ক্ষতি করতে পারবে না। হযরত সুহাইল (রাযি) বলেন, আমাদের পরিবারের লোকেরা এই দু‘আ মুখস্ত করে রেখেছিল। তারা প্রতি রাত্রে তা পড়ে নিতো। এক রাত্রে এক মেয়েকে কোন বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে সে কোন প্রকার কষ্ট অনুভব করে নাই।
ফায়দা
কোন কোন ওলামায়ে কেরাম বলেন, ’আল্লাহ্ তা‘আলার সমস্ত কালিমা’ দ্বারা কুরআনে কারীম উদ্দেশ্য।
বি:দ্র: সফর চলাকালে কোথাও যাত্রাবিরতির সময় এই দু‘আ পড়া যায়।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭০৮,২৭০৯; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৬০৪; মেরকাত ৪: ১৬৮২
লা হাওলা ওয়ালা-ক্বুওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহি ওয়ালা মানজা মিনাল্লহি ইল্লা ইলাইহি।
আল্লাহর তাওফীক ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা কোনো নেক কাজ করা সম্ভব নয়। এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া মুক্তি পাওয়ার কোন পথ নেই।
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আটি আমাকে বেশি বেশি পড়তে বলেছেন। কেননা এটা জান্নাতের রত্নভান্ডার। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত মাকহূল রহ. বলেছেন, যে ব্যক্তি উক্ত দু‘আ পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর থেকে সত্তর প্রকারের কষ্ট দূর করবেন। যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট হল দারিদ্রতা।
তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৬০১
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘ঊন, আল্লাহুম্মা’ জুরনী ফী মুসী বাতী ওয়া আখলিফলী খইরম মিনহা।
নিঃসন্দেহে আমরা আল্লাহ তা‘আলারই জন্য এবং আল্লাহ তা‘আলারই দিকে ফিরে যাব। হে আল্লাহ ! আমাকে আমার মুসিবতের উপর সওয়াব দান করুন, আর যে জিনিস আপনি আমার নিকট থেকে নিয়ে গিয়াছেন তা থেকে উত্তম জিনিস আমাকে দান করুন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী হযরত উম্মে সালামাহ (রাযি) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ইরশাদ করতে শুনেছি, যে বান্দার উপর কোন মুসীবত আসে এবং সে এই দু‘আ পড়ে নেয়, আল্লাহ তা‘আলা তাকে উক্ত মুসিবতে সওয়াব দান করেন এবং হারানো জিনিসের বিনিময়ে তা অপেক্ষা উত্তম জিনিস দান করেন।
হযরত উম্মে সালামাহ (রাযি) বলেন, যখন হযরত আবূ সালামাহ (রাযি) এর ইন্তেকাল হয়ে গেল তখন আমি এইভাবে দু‘আ করলাম যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এই দু‘আর হুকুম দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আবূ সালামাহ থেকে উত্তম বদল দান করলেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার স্বামী বানিয়ে দিলেন।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯১৮
আ‘ঊযু বিকালিমা তিল্লা হিত তা ম্মাতি মিন কুল্লি শাইত্বা নিউ ওয়া হা ম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনীন লাম্মাতিন।
সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদ নযর থেকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাচ্ছি।
হযরত ইবনে ‘আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হাসান এবং হুসাইন (রাযি)-এর জন্য নিম্নোক্ত দু‘আ পড়ে পানাহ চাইতেন আর বলতেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ) ইসমাঈল ও ইসহাক (আ)-এর জন্য দু‘আ পড়ে পানাহ চাইতেন। আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩৩৭১
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই ওয়া দারকিশ শাক্বা-ই ওয়া সূ-ইল ক্বদা-ই ওয়া শামাতাতিল আ’দা।
হে আল্লাহ, অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরাবস্থা, দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দভাগ্য এবং দুশমনের হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি।
আল্লাহুম্মা ইন্না না‘ঊযুবিকা মিন শাররি মা উরসিলা বিহি।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট ঐ সকল অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি, যাকে এ মেঘ বহন করে এনেছে।
আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা-‘আলাইনা। আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়ায্যিরাবি ওয়া বুতূনিল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাজারি।
হে আল্লাহ! এ বৃষ্টি আমাদের আশপাশে (যেখানে প্রয়োজন) বর্ষণ করুন এবং আমাদের উপর (যেখানে প্রয়োজন নেই) বর্ষণ করবেন না। হে আল্লাহ! উঁচু ভূমিতে, পাহাড়ে, উপত্যকায় কোলে ও বনাঞ্চলে (বর্ষণ করুন)
হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি জুমুআর দিন মসজিদে নববীতে দারুল কাযার দিকে স্থাপিত দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (অনাবৃষ্টির ফলে) মাল সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবিকার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন যেন তিনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু হাত উঠিয়ে দু‘আ করলেন, “আল্লাহুম্মা আগিসনা, আল্লহুম্মা আগিসনা, আল্লহুম্মা আগিসনা” (অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন।)। [৩ বার]
আনাস (রাযি) বলেন, আল্লাহর শপথ! এ সময় আসমানে কোন মেঘ বা মেঘের চিহ্নও ছিল না। আর আমাদের ও সালই পাহাড়ের মাঝে কোন ঘর-বাড়ী কিছুই ছিল না। (ক্ষণিকের মধ্যে) তার পেছন থেকে ঢালের ন্যায় অখণ্ড মেঘ উদিত হ’ল। একটু পর তা মাঝ আকাশে এলে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং বৃষ্টি শুরু হ’ল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহর শপথ আমরা সপ্তাহকাল যাবৎ আর সূর্যের মুখ দেখিনি।
অতঃপর পরবর্তী জুমু’আয় আবার এক ব্যক্তি ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মাল সম্পদ সব বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব, আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন যেন বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার হাত উঠিয়ে দু‘আ করলেন,
اَللّٰهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اَللّٰهُمَّ عَلَى الْاۤكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُوْنِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ
এরপর বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেল। আমরা বের হয়ে সূর্য তাপের মধ্যে চলাচল করতে লাগলাম।
শারীক বলেন, আমি হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) কে জিজ্ঞেস করলাম, এ ব্যক্তি কি প্রথম ব্যক্তি? আনাস বললেন, আমার জানা নেই।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮৯৭
মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রহমাতিহী
আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।
হযরত যায়দ ইবনে খালিদ জুহানী (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে বৃষ্টি হওয়ার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফজরের নামায আদায় করলেন। নামায শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেন, তোমরা কি জানো, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কী বলেছেন? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল-ই উত্তম জানেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমার বান্দাদের মধ্যে কেউ আমার প্রতি মু’মিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহর করুণা ও রহমতে আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়েছে।
তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮০৬-৮৪৬
(প্রথম ১০ আয়াত)
১
আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আনযালা ‘আলা ‘আবদিহিল্ কিতা-বা অ লাম্ ইয়াজ্ব‘আল্ লাহূ ‘ইওয়াজ্বা-।
২
ক্বাইয়্যিমাল্ লিয়ুনযিরা বা'সান্ শাদীদাম্ মিল্লাদুনহু অ-য়ুবাশ্ শিরাল্ মুমিনীনাল্লাযীনা ইয়া’মালূনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম্ আজ্বরান্ হাসানা-।
৩
মা-কিছীনা ফীহি আবাদা-।
৪
অ-য়ুনযিরাল্লাযিনা ক্ব-লুত্তাখাযাল্লা-হু অলাদা-।
৫
মা-লাহুম্ বিহী মিন্ ‘ইল্মিঁও অলা- লিআ-বা-য়িহিম্; কাবুরত্ কালিমাতান্ তাখরুজু মিন্ আফ্ওয়া-হিহিম্; ইঁইয়াকু লূনা ইল্লা-কাযিবা-।
৬
ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফ্সাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম্ ইল্ লাম্ ইয়ুমিনূ বিহা-যাল্ হাদীছি আসাফা-।
৭
ইন্না- জ্বা‘আলনা-মা- ‘আলাল্ র্আদ্বি যীনাতাল্লাহা-লিনাব্লুওয়াহুম্ আইয়্যুহুম্ আহ্সানু ‘আমালা-।
৮
অইন্না-লাজ্বা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-ছোয়া‘ঈদান্ জুরুযা-।
৯
আম্ হাসিবতা আন্না আছ্হা-বাল্ ক্বহ্ফি অর্রাক্বীমি কা-নূ মিন্ আ-ইয়া-তিনা- ‘আজ্বাবা।
১০
ইয্ আওয়াল্ ফিত্ইয়াতু ইলাল্ কাহ্ফি ফাক্ব-লূ রব্বানা আ-তিনা-মিল্লাদুন্কা রাহমাতাওঁ অহাইয়ি লানা- মিন্ আম্রিনা- রশাদা-।
(শেষ ১০ আয়াত)
১
আল্লাযীনা কা-নাত্ ‘আইয়ুনুহুম্ ফী গিত্বোয়া-য়িন্ ‘আন্ যিক্রী অকা-নূ লা- ইয়াস্তাত্বী ‘ঊনা সাম্‘আ-।
২
আফাহাসিবাল্ লাযীনা কাফারূ আইঁ ইয়াত্তাখিযূ ‘ইবা-দী মিন্ দূনী আওলিয়া-য়্; ইন্না ‘আ'তাদ্না-জ্বাহান্নামা লিল্ কা-ফিরীনা নুযুলা-।
৩
কুল্ হাল্ নুনাব্বিয়ুকুম্ বিল্আখ্সারীনা ‘আমা-লা-।
৪
আল্লাযীনা দ্বোয়াল্লা সা’ইয়ুহুম্ ফীল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অ হুম্ ইয়াহ্সাবূনা আন্নাহুম্ ইয়ুহ্সিনূনা ছুন্‘আ-।
৫
উলা-য়িকাল লাযীনা কাফারূ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ অলিক্বা-য়িহী ফাহাবিত্বোত আ’মা-লূহুম্ ফালা-নুক্বীমু লাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অয্না-।
৬
যা-লিকা জ্বাযা-য়ুহুম্ জ্বাহান্নামু বিমা-কাফারূ অত্তাখাযূ আ-ইয়া-তী অরুসুলী হুযুওয়া-।
৭
ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি কা-নাত্ লাহুম্ জ্বান্নাতুল্ ফিরদাউসি নুযুলা-।
৮
খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইয়াবগূনা ‘আন্হা-হিওয়ালা-।
৯
কুল্ লাও কা-নাল্ বাহরু মিদা-দাল্ লিকালিমাতি রব্বী লানাফিদাল্ বাহরু ক্বাব্লা আন্ তান্ফাদা কালিমা-তু রব্বী অলাও জ্বিনা-বিমিছ্লিহী মাদাদা-।
১০
কুল্ ইন্নামা আনা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ূহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলা-হুকুম্ ইলাহুঁও ওয়া- হিদুন্ ফামান্ কা-না ইয়ারজু লিক্বা রব্বিহী ফাল্ইয়া’মাল্ ‘আমালান্ ছোয়া-লিহাঁও অলা-ইয়ুশরিকু বি ই’বা-দাতি রব্বিহী আহাদা-।
(প্রথম ১০ আয়াত)
১
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে রাখেননি কোন বক্রতা ।
২
সরলরূপে, যাতে সে তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়, সেসব মুমিনকে, যারা সৎকর্ম করে, নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।
৩
তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে।
৪
আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে, যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’।
৫
এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়। মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না!
৬
হয়তো তুমি তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজকে শেষ করে দেবে, যদি তারা এই কথার প্রতি ঈমান না আনে।
৭
নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম।
৮
আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব।
৯
তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়?
১০
যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল অতঃপর বলল, ‘হে আমদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন’।
(শেষ ১০ আয়াত)
১
আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম।
২
যারা কুফরী করছে, তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করছি।
৩
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত’?
৪
দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’!
৫
‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না’।
৬
‘এ জন্যই তাদের প্রতিফল জাহান্নাম। কারণ তারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও আমার রাসূলগণকে বিদ্রুপের বিষয় বানিয়েছে’।
৭
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।
৮
সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।
৯
বল, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’।
১০
বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’।
১. হযরত সওবান (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের শেষ দশ আয়াত পড়ে, এই পড়া তার জন্য দাজ্জালের ফিতনা থেকে পরিত্রান হবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২৬২৮৮)
২. হযরত আলী (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন সূরা কাহফ পড়বে, সে আট দিন পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী জুমুআ পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। আর যদি এই সময়ের মধ্যে দাজ্জাল বাহির হয়ে আসে তবে সে তার ফেতনা থেকেও নিরাপদ থাকবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর; আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ১১০২)
৩. হযরত আবূ দারদা (রাযি) বর্ণনা করেন, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম তিন আয়াত পড়ে নিয়েছে তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্ত হয়েছে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৮৬)
৪. হযরত আবূ দারদা (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করে নিয়েছে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে। এক বর্ণনায় সূরা কাহফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮০৯-১)
৫. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাযি) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফ অক্ষর সমূহের সঠিক উচ্চারণের সহিত এমনভাবে পাঠ করেছে যেমনভাবে তা নাযিল করা হয়েছে, তবে এই সূরা তার পাঠকারীর জন্য কেয়ামতের দিন তার বসবাসের স্থান থেকে মক্কা মুকাররমা পর্যন্ত নূর হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি এই সূরার শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করল, তারপর দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটল, তার উপর দাজ্জালের কোন শক্তি কার্যকর হবে না। (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৭০)
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল আ’ফওয়া ওয়াল আ’ফিয়াতা ফি দিনি ওয়া দুনইয়ায়া, ওয়া আহলি ওয়া মালি, আল্লাহুম্মাসতুর আ’ওরাতি, ওয়া আমিন রাওআ’তি, আল্লাহুম্মাহ’ফাযনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফি, ওয়া আ’ই ইয়ামিনি ওয়া আ’ন শিমালি, ওয়া মিন ফাওক্বি, ওয়া আউ’যু বিআ’যমাতিকা আন উগতালা মিন তাহ’তি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ক্ষমা এবং নিরাপত্তা চাচ্ছি আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও অর্থ-সম্পদের। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন ত্রুটিসমূহ ঢেকে রাখুন, আমার উদ্বিগ্নতাকে রূপান্তরিত করুন নিরাপত্তায়। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে হেফাযত করুন আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছনের দিক থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে এবং আমার উপরের দিক থেকে। আর আপনার মহত্ত্বের অসিলায় আশ্রয় চাই আমার নিজ থেকে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া থেকে।
আামানতু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহি।
আমি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর ঈমান আনছি।
কাদ্দারাল্লাহু ওয়া মা-শা’আ ফাআলা
আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন।
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, শক্তিশালী মুমিন দুর্বলের তুলনায় আল্লাহর কাছে উত্তম ও অধিক প্রিয়। প্রত্যেকের মধ্যেই কল্যাণ রয়েছে, যাতে তোমার উপকার হবে তার প্রতি তুমি লালায়িত হয়ো এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা কর এবং অক্ষম হয়ে থেকো না। যদি কোন কিছু (বিপদ) তোমার উপর আপতিত হয় তবে এরূপ বলবে না যে, যদি আমি এরূপ করতাম তবে এরূপ এরূপ হত। বরং এই বল যে, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন। কেননা, তোমার لَوْ (যদি) শব্দটি শয়তানের আমলের দুয়ার খুলে দেয়।
হাদীসের শিক্ষা
মুমিন কখনো দুর্বল, আশাহত ও হতাশ হবে না। ব্যর্থতার জন্য হাহুতাশ না করে আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ সমর্পণ ও আস্থা নিয়ে পূর্ণোদ্যমে সামনে এগিয়ে চলেন। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে দেহ, মন, ঈমান ও কর্ম সকল বিষয়ে শক্তিশালী মুমিন হওয়ার তাওফীক দান করেন। আমীন।
তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৬৬৪
রাব্বিজ ‘আলনী মুকীমাসসালা-তি ওয়া মিন যুররিইইয়াতী, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দু‘আই।
হে আমার প্রতিপালক! আমাকেও নামায কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার আওলাদের মধ্য হতেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামায কায়েম করবে)। হে আমার প্রতিপালক! এবং আমার দু‘আ কবুল করে নিন।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ফি‘লাল খাইরাতি ওয়া তারকাল মুনকারাতি, ওয়া হুব্বাল মাসাকীনি, ওয়া আন তাগফিরা লী ওয়া তারহামানী, ওয়া ইযা আরাদতা বি-কাওমিন ফিতনাতান ফাতাওয়াফফানী গাইরা মাফতুনিন। আসআলুকা হুব্বাকা ওয়া হুব্বা মান ইউহিব্বুকা, ওয়া হুব্বা ‘আমালিন ইউকাররিবু ইলা হুব্বিকা।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নেক কাজ করা, মন্দ কাজ পরিত্যাগ করা এবং মিসকিনদের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি। আর প্রার্থনা করছি, আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন ও আমার প্রতি দয়া করেন। যখন আপনি কোনো সম্প্রদায়ের জন্য ফিতনার ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফিতনায় পতিত না করে মৃত্যু দান করুন। আমি আপনার ভালোবাসা, যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা এবং যে আমল আমাকে আপনার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে, সেই আমলের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি।
আল্লাহুম্মাজ‘আলনী সবূরাঁও ওয়াজ‘আলনী শাকূরাঁও, ওয়াজ‘আলনী ফী ‘আইনী সগীরাঁও ওয়া ফী আ‘য়ুনিন্না-সি কাবীরা।
হে আল্লাহ! আমাকে অধিক ধৈর্যশীল ও অধিক কৃতজ্ঞ বানিয়ে দিন। আমাকে আমার নিজের চোখে ছোট এবং মানুষের চোখে বড় করে দিন।
আল্লা-হু আকবার, আল্লা-হু আ‘আয্যু মিন খালক্বিহী জামী‘আন। আল্লাহু আ‘আয্যু মিম্মা আখা-ফু ওয়া আহযারু। আউযু বিল্লা-হিল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল মুমসিকুস্ সামা-ওয়া-তিস সাব‘ঈ, আন ইয়াকা‘না আলাল্ আরদ্বি ইল্লা বিইযনিহী, মিন শাররি ‘আবদিকা ফুলা-নিন, ওয়া জুনূদিহী ওয়া আতবা‘ইহী ওয়া আশইয়া‘ইহী মিনাল জিন্নি ওয়াল ইনসি। আল্লা-হুম্মা কুন লী জা-রান মিন শাররিহিম, জাল্লা সানা-উকা ওয়া ‘আয্যা জা-রুকা ওয়াতাবা-রকাসমুকা ওয়া লা ইলা-হা গাইরুকা
“আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টি থেকে মহামর্যাদাবান। আমি যা থেকে ভীত ও শঙ্কিত তার চেয়ে আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী। আমি আল্লাহ্র কাছে আশ্রয় চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানের ধারণকারী, তার অনুমতি ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে— (আশ্রয় চাই) তাঁর অমুক বান্দা, তার সৈন্য-সামন্ত, তার অনুসারী ও তার অনুগামী জিন ও ইনসানের অনিষ্ট থেকে। হে আল্লাহ! তাদের ক্ষতি থেকে আপনি আমার জন্য আশ্রয়দানকারী হোন। আপনার গুণগান অতি মহান, আপনার আশ্রিত প্রবল শক্তিশালী, আপনার নাম অতি বরকতময়। আর আপনি ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই।”
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ ، عَنْ المِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ : حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " إِذَا أَتَيْتَ سُلْطَانًا مَهِيبًا ، تَخَافُ أَنْ يَسْطُوَ بِكَ ، فَقُلِ : اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَعَزُّ مِنْ خَلْقِهِ جَمِيعًا ، اللَّهُ أَعَزُّ مِمَّا أَخَافُ وَأَحْذَرُ ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ ، الْمُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ أَنْ يَقَعْنَ عَلَى الأَرْضِ إِلا بِإِذْنِهِ ، مِنْ شَرِّ عَبْدِكَ فُلانٍ ، وَجُنُودِهِ وَأَتْبَاعِهِ وَأَشْيَاعِهِ مِنَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ ، اللَّهُمَّ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّهِمْ ، جَلَّ ثَنَاؤُكَ ، وَعَزَّ جَارُكَ ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ ، وَلا إِلَهَ غَيْرُكَ " ثَلاثَ مَرَّاتٍ
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, তুমি যদি স্বৈরাচারী শাসকের নিকট আসো যার কঠোরতায় তুমি শংকিত, তবে তুমি তিনবার বলবেঃ “আল্লাহ মহান, আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকুলের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। আমি যার ভয়ে ভীত ও শংকিত আল্লাহ তার চেয়েও অধিক সম্মানিত। আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানকে তার নির্দেশ ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে সুস্থির রেখেছেন, তাঁর অমুক বান্দার, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে তার বাহিনী, তার অনুসারী দলবল থেকে। হে আল্লাহ! তাদের অনিষ্টের মোকাবিলায় তুমি আমার প্রতিবেশী হও। তোমার প্রশংসা মহিমান্বিত, তোমার প্রতিবেশী মহিমান্বিত, তোমার নাম বরকতপূর্ণ এবং তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”।
তথ্যসূত্র: আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭১৩
আল্লাহুম্মা আদখিলহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমানি ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, ওয়ারিদ ওয়ানিম মিনার রাহমানি ওয়া জিওয়ারিম মিনাশ শাইত্বনি।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ বছরের আগমন ঘটান- শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ঈমান ও ইসলামের (উপর অবিচলতার) সাথে; শয়তান থেকে সুরক্ষা ও দয়াময় আল্লাহ্র সন্তুষ্টির সাথে।
ইমাম আবুল কাছেম বাগাভী রাহ. (৩১৭ হি.) ‘মুজামুস সাহাবা’ কিতাবে সহীহ সনদে নতুন মাস ও নতুন বছরের শুরুতে পড়ার একটি দুআ উল্লেখ করেছেন। সাহাবী আবদুল্লাহ বিন হিশাম রা. বলেন-
كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعلمون هذا الدعاء كما يتعلمون القرآن إذا دخل الشهر أو السنة
অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম নতুন মাস বা নতুন বছর শুরুর এ দুআটি তেমন গুরুত্ব দিয়ে শিখতেন, যেভাবে কুরআনুল কারীম শিখতেন। দুআটি হল-
اللّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالِإيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالإِسْلَامِ وَجِوَارٍ مِنَ الشَّيطَانِ وَرِضوَانٍ مِنَ الرَّحْمنِ.
(قال الحافظ ابن حجر في الإصابة : وهذا موقوف على شرط الصحيح.)
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ মাস/বছরের আগমন ঘটান- শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ঈমান ও ইসলামের (উপর অবিচলতার) সাথে; শয়তান থেকে সুরক্ষা ও দয়াময় আল্লাহ্র সন্তুষ্টির সাথে।
তথ্যসূত্র: -মুজামুস সাহাবাহ খ. ৩, পৃ. ৫৪৩, বর্ণনা ১৫৩৯, মাকতাবা দারুল বায়ান কুয়েত; আলইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ, ইবনে হাজার আসকালানী, খ. ৪, পৃ. ২৫৬, দারুল জীল, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ ১৪১২ হি.
আল্লা-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়াবা-রিক লী ফীমা আ‘ত্বাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা ফাইন্নাকা তাক্ব্দ্বী ওয়ালা ইউক্ব্দ্বা ‘আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মাও ওয়া-লাইতা, ওয়ালা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আ-দাইতা। তাবা-রক্তা রব্বানা ওয়া তা‘আ-লাইতা)
“হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে সুখদায়ক সৎ পথ প্রকৃত ইসলামের অনুগামী করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সুখশান্তিপূর্ণ মঙ্গলময় জীবন প্রদান করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সর্ব প্রকার কল্যাণ প্রদানের সহিত সাহায্য করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে যে সমস্ত মঙ্গলদায়ক জিনিস প্রদান করেছেন, সেগুলিকে আমার জন্য অধিকতর মঙ্গলদায়ক করুন। আপনি যে ফয়সালা করেছেন, তার অমঙ্গল হতে আমাকে রক্ষা করুন। কেননা সব জগতের সঠিক পরিচালনার জন্য যে ফয়সালা আপনি করেছেন, সেটাই সঠিক ফয়সালা। তাই আপনার ফয়সালার উপরে আর কোনো প্রকারের সঠিক ফয়সালা নেই। আপনি যাকে ভালো বাসবেন, সে কোনো দিন অপমানিত হতে পারে না। আর আপনি যার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করবেন, সে কোনো দিন শক্তিশালী হতে পারবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি মহাকল্যাণময় এবং মহামহিমান্বিত”।
আবুল হাওরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন কতগুলো বাক্য শিখিয়েছেন, যা আমি বিতর সালাতে পাঠ করে থাকি। তা হলোঃ
"اَللَّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّمَا قْضَيْتَ؛ إِنَّكَ تَقْضِىْ وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ".
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে সুখদায়ক সৎ পথ প্রকৃত ইসলামের অনুগামী করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সুখশান্তিপূর্ণ মঙ্গলময় জীবন প্রদান করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সর্ব প্রকার কল্যাণ প্রদানের সহিত সাহায্য করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে যে সমস্ত মঙ্গলদায়ক জিনিস প্রদান করেছেন, সেগুলিকে আমার জন্য অধিকতর মঙ্গলদায়ক করুন। আপনি যে ফয়সালা করেছেন, তার অমঙ্গল হতে আমাকে রক্ষা করুন। কেননা সব জগতের সঠিক পরিচালনার জন্য যে ফয়সালা আপনি করেছেন, সেটাই সঠিক ফয়সালা। তাই আপনার ফয়সালার উপরে আর কোনো প্রকারের সঠিক ফয়সালা নেই। আপনি যাকে ভালো বাসবেন, সে কোনো দিন অপমানিত হতে পারে না। আর আপনি যার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করবেন, সে কোনো দিন শক্তিশালী হতে পারবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি মহাকল্যাণময় এবং মহামহিমান্বিত”।
‘‘আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আ‘তাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউকদা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্যু মান ‘আ-দাইতা তাবা-রাকতা রববানা ওয়া তা‘আলাইতা।’’
আল্লাাহুম্মা ওয়াা ক্বিয়াতান কা ওয়াা ক্বিয়াতিল ওয়ালীদ
হে আল্লাহ! নবজাতককে হেফাজত করার মত (আমাদেরকে) হেফাজত করো।
আল্লা-হুম্মাকফিনীহিম বিমা শি’তা
হে আল্লাহ! আপনি যা ইচ্ছে তা দ্বারাই এদের মোকাবিলায় আমার জন্য যথেষ্ট হোন।
عَنْ صُهَيْبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " كَانَ مَلِكٌ فِيمَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ وَكَانَ لَهُ سَاحِرٌ فَلَمَّا كَبِرَ قَالَ لِلْمَلِكِ إِنِّي قَدْ كَبِرْتُ فَابْعَثْ إِلَىَّ غُلاَمًا أُعَلِّمْهُ السِّحْرَ . فَبَعَثَ إِلَيْهِ غُلاَمًا يُعَلِّمُهُ فَكَانَ فِي طَرِيقِهِ إِذَا سَلَكَ رَاهِبٌ فَقَعَدَ إِلَيْهِ وَسَمِعَ كَلاَمَهُ فَأَعْجَبَهُ فَكَانَ إِذَا أَتَى السَّاحِرَ مَرَّ بِالرَّاهِبِ وَقَعَدَ إِلَيْهِ فَإِذَا أَتَى السَّاحِرَ ضَرَبَهُ فَشَكَا ذَلِكَ إِلَى الرَّاهِبِ فَقَالَ إِذَا خَشِيتَ السَّاحِرَ فَقُلْ حَبَسَنِي أَهْلِي . وَإِذَا خَشِيتَ أَهْلَكَ فَقُلْ حَبَسَنِي السَّاحِرُ . فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَتَى عَلَى دَابَّةٍ عَظِيمَةٍ قَدْ حَبَسَتِ النَّاسَ فَقَالَ الْيَوْمَ أَعْلَمُ آلسَّاحِرُ أَفْضَلُ أَمِ الرَّاهِبُ أَفْضَلُ فَأَخَذَ حَجَرًا فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنْ كَانَ أَمْرُ الرَّاهِبِ أَحَبَّ إِلَيْكَ مِنْ أَمْرِ السَّاحِرِ فَاقْتُلْ هَذِهِ الدَّابَّةَ حَتَّى يَمْضِيَ النَّاسُ . فَرَمَاهَا فَقَتَلَهَا وَمَضَى النَّاسُ فَأَتَى الرَّاهِبَ فَأَخْبَرَهُ فَقَالَ لَهُ الرَّاهِبُ أَىْ بُنَىَّ أَنْتَ الْيَوْمَ أَفْضَلُ مِنِّي . قَدْ بَلَغَ مِنْ أَمْرِكَ مَا أَرَى وَإِنَّكَ سَتُبْتَلَى فَإِنِ ابْتُلِيتَ فَلاَ تَدُلَّ عَلَىَّ . وَكَانَ الْغُلاَمُ يُبْرِئُ الأَكْمَهَ وَالأَبْرَصَ وَيُدَاوِي النَّاسَ مِنْ سَائِرِ الأَدْوَاءِ فَسَمِعَ جَلِيسٌ لِلْمَلِكِ كَانَ قَدْ عَمِيَ فَأَتَاهُ بِهَدَايَا كَثِيرَةٍ فَقَالَ مَا هَا هُنَا لَكَ أَجْمَعُ إِنْ أَنْتَ شَفَيْتَنِي فَقَالَ إِنِّي لاَ أَشْفِي أَحَدًا إِنَّمَا يَشْفِي اللَّهُ فَإِنْ أَنْتَ آمَنْتَ بِاللَّهِ دَعَوْتُ اللَّهَ فَشَفَاكَ . فَآمَنَ بِاللَّهِ فَشَفَاهُ اللَّهُ فَأَتَى الْمَلِكَ فَجَلَسَ إِلَيْهِ كَمَا كَانَ يَجْلِسُ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَنْ رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ قَالَ رَبِّي . قَالَ وَلَكَ رَبٌّ غَيْرِي قَالَ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ . فَأَخَذَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُعَذِّبُهُ حَتَّى دَلَّ عَلَى الْغُلاَمِ فَجِيءَ بِالْغُلاَمِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ أَىْ بُنَىَّ قَدْ بَلَغَ مِنْ سِحْرِكَ مَا تُبْرِئُ الأَكْمَهَ وَالأَبْرَصَ وَتَفْعَلُ وَتَفْعَلُ . فَقَالَ إِنِّي لاَ أَشْفِي أَحَدًا إِنَّمَا يَشْفِي اللَّهُ . فَأَخَذَهُ فَلَمْ يَزَلْ يُعَذِّبُهُ حَتَّى دَلَّ عَلَى الرَّاهِبِ فَجِيءَ بِالرَّاهِبِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعْ عَنْ دِينِكَ . فَأَبَى فَدَعَا بِالْمِئْشَارِ فَوَضَعَ الْمِئْشَارَ فِي مَفْرِقِ رَأْسِهِ فَشَقَّهُ حَتَّى وَقَعَ شِقَّاهُ ثُمَّ جِيءَ بِجَلِيسِ الْمَلِكِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعْ عَنْ دِينِكَ . فَأَبَى فَوَضَعَ الْمِئْشَارَ فِي مَفْرِقِ رَأْسِهِ فَشَقَّهُ بِهِ حَتَّى وَقَعَ شِقَّاهُ ثُمَّ جِيءَ بِالْغُلاَمِ فَقِيلَ لَهُ ارْجِعْ عَنْ دِينِكَ . فَأَبَى فَدَفَعَهُ إِلَى نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ إِلَى جَبَلِ كَذَا وَكَذَا فَاصْعَدُوا بِهِ الْجَبَلَ فَإِذَا بَلَغْتُمْ ذُرْوَتَهُ فَإِنْ رَجَعَ عَنْ دِينِهِ وَإِلاَّ فَاطْرَحُوهُ فَذَهَبُوا بِهِ فَصَعِدُوا بِهِ الْجَبَلَ فَقَالَ اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ . فَرَجَفَ بِهِمُ الْجَبَلُ فَسَقَطُوا وَجَاءَ يَمْشِي إِلَى الْمَلِكِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَا فَعَلَ أَصْحَابُكَ قَالَ كَفَانِيهِمُ اللَّهُ . فَدَفَعَهُ إِلَى نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَقَالَ اذْهَبُوا بِهِ فَاحْمِلُوهُ فِي قُرْقُورٍ فَتَوَسَّطُوا بِهِ الْبَحْرَ فَإِنْ رَجَعَ عَنْ دِينِهِ وَإِلاَّ فَاقْذِفُوهُ . فَذَهَبُوا بِهِ فَقَالَ اللَّهُمَّ اكْفِنِيهِمْ بِمَا شِئْتَ . فَانْكَفَأَتْ بِهِمُ السَّفِينَةُ فَغَرِقُوا وَجَاءَ يَمْشِي إِلَى الْمَلِكِ فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ مَا فَعَلَ أَصْحَابُكَ قَالَ كَفَانِيهِمُ اللَّهُ . فَقَالَ لِلْمَلِكِ إِنَّكَ لَسْتَ بِقَاتِلِي حَتَّى تَفْعَلَ مَا آمُرُكَ بِهِ . قَالَ وَمَا هُوَ قَالَ تَجْمَعُ النَّاسَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ وَتَصْلُبُنِي عَلَى جِذْعٍ ثُمَّ خُذْ سَهْمًا مِنْ كِنَانَتِي ثُمَّ ضَعِ السَّهْمَ فِي كَبِدِ الْقَوْسِ ثُمَّ قُلْ بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ . ثُمَّ ارْمِنِي فَإِنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ قَتَلْتَنِي . فَجَمَعَ النَّاسَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ وَصَلَبَهُ عَلَى جِذْعٍ ثُمَّ أَخَذَ سَهْمًا مِنْ كِنَانَتِهِ ثُمَّ وَضَعَ السَّهْمَ فِي كَبِدِ الْقَوْسِ ثُمَّ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ . ثُمَّ رَمَاهُ فَوَقَعَ السَّهْمُ فِي صُدْغِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ فِي صُدْغِهِ فِي مَوْضِعِ السَّهْمِ فَمَاتَ فَقَالَ النَّاسُ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ . فَأُتِيَ الْمَلِكُ فَقِيلَ لَهُ أَرَأَيْتَ مَا كُنْتَ تَحْذَرُ قَدْ وَاللَّهِ نَزَلَ بِكَ حَذَرُكَ قَدْ آمَنَ النَّاسُ . فَأَمَرَ بِالأُخْدُودِ فِي أَفْوَاهِ السِّكَكِ فَخُدَّتْ وَأَضْرَمَ النِّيرَانَ وَقَالَ مَنْ لَمْ يَرْجِعْ عَنْ دِينِهِ فَأَحْمُوهُ فِيهَا . أَوْ قِيلَ لَهُ اقْتَحِمْ . فَفَعَلُوا حَتَّى جَاءَتِ امْرَأَةٌ وَمَعَهَا صَبِيٌّ لَهَا فَتَقَاعَسَتْ أَنْ تَقَعَ فِيهَا فَقَالَ لَهَا الْغُلاَمُ يَا أُمَّهِ اصْبِرِي فَإِنَّكِ عَلَى الْحَقِّ " .
হাদ্দাব ইবনু খালিদ (রহঃ) ... সুহায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে এক বাদশাহ ছিল। তাঁর ছিল এক যাদুকর। বার্ধক্যে উপনীত হয়ে সে বাদশাকে বলল, আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, সুতরাং একজন কিশোরকে আপনি আমার নিকট পাঠিয়ে দিন, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব। তখন যাদুবিদ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্য বাদশাহ তাঁর নিকট এক কিশোর (বালক) কে পাঠাল। বালকের যাত্রাপথে ছিল এক পাদ্রী। বালক তাঁর নিকট বসল এবং তাঁর কথা শুনল। তাঁর কথা বালকের পছন্দ হল। অতঃপর বালক যাদুকরের নিকট যাত্রাকালে সর্বদাই পাদ্রির নিকট যেত এবং তাঁর নিকট বসত।
এরপর সে যখন যাদুকরের নিকট যেত তখন সে তাকে প্রহার করত। অবশেষে যাদুকরের ব্যাপারে সে পাদ্রির নিকট অভিযোগ করল। তখন পাদ্রি বলল, তোমার যদি যাদুকরের ব্যাপারে আশংকা হয় তবে বলবে, আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে আসতে বাঁধা দিয়েছে, আর যদি তুমি তোমার পরিবারের লোকদের ব্যাপারে আশংকাবোধ কর তবে বলবে, যাদুকর আমাকে আসতে বাঁধা দিয়েছে।
এমনি একদিন হঠাৎ সে একটি ভয়ানক হিংস্র প্রাণীর সম্মুখীন হল, যা লোকদের পথ আটকিয়ে রেখেছিল। এ অবস্থা দেখে সে বলল, আজই জানতে পারব, যাদুকর উত্তম না পাদ্রী উত্তম। অতঃপর একটি পাথর হাতে নিয়ে সে বলল, হে আল্লাহ্! যদি যাদুকরের তরীকার তুলনায় পাদ্রীর তরীকা আপনার নিকট প্রিয় হয়, পছন্দনীয় হয়, তবে এই প্রস্তারাঘাতে এই হিংস্র প্রাণীটি নিহত করে দিন, যেন লোকজন চলাচল করতে পারে। অতঃপর সে তাঁর প্রতি পাথরটি নিক্ষেপ করল এবং উহাকে মেরে ফেলল। ফলে লোকজন আবার যাতায়াত আরম্ভ করল।
এরপর সে পাদ্রীর নিকট এসে সে সম্পর্কে পাদ্রীকে সংবাদ দিল। পাদ্রী বলল, বৎস আজ তুমি তো আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ হয়ে গিয়েছ। তোমার মর্যাদা এ পর্যন্ত পৌঁছেছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি। তবে অচিরেই তুমি পরীক্ষার সুম্মুখীন হবে। যদি পরীক্ষার মুখোমুখি হও তবে আমার কথা বলবে না। এ দিকে বালক জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য এবং লোকদের সমুদয় রোগ ব্যাধির চিকিৎসা করতে লাগল। বাদশাহের পরিষদবর্গের এক ব্যাক্তি অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর সংবাদ সে শুনতে পেয়ে বহু উপহার ও উপঢৌকন নিয়ে তাঁরা তাঁর কাছে আসল এবং তাকে বলল, তুমি যদি আমাকে আরোগ্য দান করতে পার তবে এ সব মাল আমি তোমাকে দিয়ে দিব। এ কথা শুনে বালক বলল, আমি তো কাউকে আরোগ্য দান করতে পারি না। আরোগ্য তো দেন আল্লাহ্ তা’আলা। আপনি যদি আল্লাহর উপন ঈমান আনয়ন করেন তবে আমি আল্লাহর নিকট দু’আ করব, আল্লাহ্ আপনাকে আরোগ্য দান করবেন। অতঃপর তিনি আল্লাহর উপর ঈমান আনয়ন করলেন, আল্লাহ্ তা’আলা তাকে রোগমুক্ত করে দিলেন।
অতঃপর সে বাদশাহের নিকট এসে অন্যান্য সময়ের ন্যায় এবারও বসল। বাদশাহ তাকে বললেন, তোমার দৃষ্টিশক্তি কে ফিরিয়ে দিয়েছেন? সে বলল, আমার প্রতিপালক। এ কথা শুনে বাদশাহ বলল, আমি ব্যাতিত তোমার অন্য কোন প্রতিপালকও আছে কি? সে বলল, আমার ও আপনার সকলের প্রতিপালকই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন। অতঃপর বাদশাহ তাকে পাকড়াও করে অব্যাহতভাবে শাস্তি দিতে লাগল। অবশেষে সে বালকের কথা বলে দিন। তখন বালককে আনা হল। বাদশাহ তাকে বললেন, হে বৎস! তুমি তো যাদুতে এত দক্ষ হয়েছ যে, তুমি জন্মান্ধকে ও কুষ্ঠ রোগীকে নিরাময় করে দাও এবং এই কর সেই কর ...। সে বলল, আমি কাউকে নিরাময় করি না। আল্লাহই শিফা দান করেন।
তখন বাদশাহ তাকেও পাকড়াও করে শাস্তি দিতে থাকল। অবশেষে সে পাদ্রীর কথা বলে দিল। এবার পাদ্রীকে ধরে আনা হল এবং তাকে বলা হল তুমি তোমার দ্বীন পরিত্যাগ কর। সে অস্বীকার করল, ফলে তাঁর মাথার তালুতে করাত রেখে তাকে বিদীর্ণ করে ফেল হল। এতে তাঁর দেহ দুই খণ্ড হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। অতঃপর বাদশাহর পরিষদকে আনা হল এবং তাকে বলা হল তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আস। সে তা অস্বীকার করলে তার মাথার মাঝখানে করার রাখল এবং তাকেও দুই টুকরা করল। পরিশেষে ঐ বালকটিকে আনা হল এবং তাকেও একই কথা বলা হল যে তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আসো। সেও অস্বীকার করল। অতঃপর বাদশাহ তাকে তাঁর করিপয় সহযোগী (কর্মচারী)’র হাওলা করে দিয়ে বলল, তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে সহ পাহাড়ে আরোহণ কর। পর্বত শৃঙ্গে পৌছার পর সে যদি তাঁর দ্বীন থেকে ফিরে আসে (তবে ভাল)। অন্যথা তাকে সেখান থেকে ছুঁড়ে মারবে।
তারপর তাঁরা তাকে নিয়ে গেল এবং তাকে সহ পাহাড়ে আরোহণ করল। তখন সে দু’আ করে বলল, হে আল্লাহ্! আপনার যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান (আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন) তৎক্ষণাৎ তাদেরকে সহ পর্বত প্রকম্পিত হতে লাগল। ফলে তাঁরা পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়ল। আর সে হেঁটে হেঁটে বাদশাহের নিকট চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ তাকে বলল তোমরা সঙ্গীরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ্ আমার জন্য তাদের ব্যাপারে যথেষ্ট হয়েছে (আমাকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করেছেন)।
আবার বাদশাহ তাকে তাঁর কতিপয় সহচরের হাওলা করে বলল, তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং ক্ষুদ্র নৌকায় উঠিয়ে তাকে মাঝ সমুদ্রে নিয়ে যাও। অতঃপর সে যদি তাঁর দ্বীন থেকে ফিরে আসে তবে ভাল, অন্যথা তোমরা তাকে সমুদ্রে ফেলে দাও। তাঁরা তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেল। এবারও সে দু’আ করে বলল, হে আল্লাহ্! আপনার যেভাবে ইচ্ছা তাদের ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান (আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন)। তৎক্ষণাৎ নৌকাটি তাদেরকে সহ উল্টে গেল। ফলে তাঁরা সকেলেই পানিতে ডুবে গেল আর ছেলেটি হেঁটে হেঁটে বাদশাহের নিকট চলে এলো।
বাদশাহ তাকে বলল, তোমার সাথিরা কোথায়? সে বলল, আল্লাহ্ তাদের ব্যাপারে আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে (আমাকে তাদের কবল থেকে রক্ষা করেছেন)। অতঃপর সে বাদশাহকে বলল, তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না যে পর্যন্ত না তুমি আমার নির্দেশিত পদ্ধতি মুতাবিক কাজ করবে। বাদশাহ বলল, সে আবার কি? বালক বলল, একটি ময়দানে তুমি লোকদেরকে সমবেত কর, তারপর একটি কাঠের শূলীতে আমাকে উঠিয়ে আমার তীরদানি হতে একটি তীর নিয়ে তা ধনুকের মাঝে রাখ, এরপর بِاسْمِ اللَّهِ رَبِّ الْغُلاَمِ (বালকের পালনকর্তা আল্লাহর নামে) বলে আমার দিকে তীর ছুঁড়ে মার। এ যদি কর তবে তুমি আমাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে।
তাঁর কথা মোতাবেক বাদশাহ লোকদেরকে এক ময়দানে সমবেত করল এবং তাকে একটি কাঠের শূলীতে চড়াল, অতঃপর তাঁর তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে তা ধনুকের মাঝে রেখে বিসমিল্লাহি রাব্বুল আলামিন বলে তাঁর দিকে ছুঁড়ে মারল। তীর তাঁর কানপট্টিতে গিয়ে বিধল। অতঃপর সে (বালক) কানপট্টিতে তীরের স্থানে নিজের হাত রাখল এবং মারা গেল। এ দেখে সমবেত লোকজন বলে উঠলآمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ آمَنَّا بِرَبِّ الْغُلاَمِ “আমরা এই বালকের রবের প্রতি ঈমান আনলাম”।
এই সংবাদ বাদশাহকে জানানো হল এবং তাকে বলা হল লক্ষ্য করেছেন কি? আপনি যে পরিস্থিতি হতে আশংকা করছিলেন, আল্লাহর কসম! সে আশংকাজনক পরিস্থিতই আপনার মাথার উপর চেপে বসেছে। সমস্ত মানুষই বালকের রবের উপর ঈমান আনয়ন করেছে। তখন বাদশাহ রাস্তার মাথায় গর্ত খননের নির্দেশ দিল। গর্ত খনন করা হল এবং তাদের অগ্নি প্রজ্বলিত করা হল। অতঃপর বাদশাহ হুকুম করল যে, যে ব্যাক্তি তাঁর ধর্মমত বর্জন না করবে তাকে তাতে নিক্ষেপ করব, অথবা সে বলল, তাকে বলবে সে যেন অগ্নিতে প্রবেশ করে। লোকেরা তাই করল।
অবশেষে এক মহিলা আসল, তাঁর সঙ্গে ছিল এক শিশু। সে অগ্নিতে পতিত হবার ব্যাপারে ইতস্তত করছিল, এ দেখে শিশু তাকে বলল, হে আম্মাজান, ধৈর্যধারণ করুন, আপনি তো সত্য দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত।
তথ্যসূত্র: মুসলিম নং ৩০০৫/৭২৩৯
বা-রাকাল্লা-হু লাকা ফী আহলিকা ওয়া মা-লিকা, ইন্নামা জাযা-উস সালাফে আল-হামদু ওয়াল আদা-উ
আল্লাহ আপনার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের প্রতিদান তো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সঠিকভাবে তা আদায় করণ।
নাসায়ী থেকেঃ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ اسْتَقْرَضَ مِنِّي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ أَلْفًا فَجَاءَهُ مَالٌ فَدَفَعَهُ إِلَيَّ وَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالْأَدَاءُ
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবু রাবীআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হতে চল্লিশ হাজার দিরহাম কর্জ নিয়েছিলেন। এরপর তাঁর নিকট মাল আসলে তিনি তা আদায় করে বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমার ঘরে এবং মালে বরকত দান করুন। কর্জের বিনিময় তো এই যে, লোক কর্জদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং তা আদায় করবে।
তথ্যসূত্র: সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ৪৬৮৩; আন্তর্জাতিক নং: ৪৬৮৩
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাত্তারাদ্দী, ওয়াল হাদমি, ওয়াল গারাক্বি, ওয়াল হারীক্ব।
হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি উপর থেকে পড়ে যাওয়া, ঘরচাপা পড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া এবং আগুনে দগ্ধীভূত হওয়া থেকে।
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلَانَ قَالَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ صَيْفِيٍّ مَوْلَى أَبِي أَيُّوبَ عَنْ أَبِي الْيَسَرِ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ التَّرَدِّي وَالْهَدْمِ وَالْغَرَقِ وَالْحَرِيقِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا
আবুল ইয়াসার (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি উপর থেকে পড়ে যাওয়া, ঘরচাপা পড়া, পানিতে ডুবে যাওয়া এবং আগুনে দগ্ধীভূত হওয়া থেকে। আর আমি মৃত্যুকালে শয়তানের ছোঁ মারা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি আর আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আপনার পথে পৃষ্ঠ প্রদর্শন অবস্থায় মারা যাওয়া হতে এবং আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি সাপ বিচ্ছুর দংশনে মৃত্যুবরণ করা থেকে।
কিতাবুস সুনান (আলমুজতাবা) - ইমাম নাসায়ী রহঃ, হাদীস নংঃ ৫৫৩১, আন্তর্জাতিক নং: ৫৫৩১
আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিনাল-ফাকরি ওয়াল-কিল্লাতি ওয়াজ-জিল্লাতি,
ওয়া আঊযু বিকা আন আয্লিমা আও উয্লামা।
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দারিদ্র্য, অল্পতা ও হীনতা থেকে,
আর আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এই যে, আমি যেন কারও উপর জুলুম না করি বা কেউ যেন আমার উপর জুলুম না করে।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করার আদেশ দিতেন।
আল্লা-হুম্মাগফীর লি ক্বওমী ফাইন্নাহুম লা-য়ালামুন
হে আল্লাহ! আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও, যেহেতু তাঁরা অজ্ঞ।
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম ও হযরত ঈসা আলাইহিস সালামসহ সকল নবী-রাসূল। আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামকেও স্বজাতির পক্ষ থেকে সবরকম নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে। তিনি যেহেতু সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল, তাই দা'ওয়াতী কার্যক্রমে তাঁকে কষ্ট-ক্লেশও সহ্য করতে হয়েছে সর্বাপেক্ষা বেশি। কাফির-মুশরিকগণ তাঁকে কষ্টদানের কোনও পন্থাই বাকি রাখেনি। তায়েফের লোকজন তাঁর উপর চালিয়েছিল অবর্ণনীয় অত্যাচার। তা সত্ত্বেও তিনি বদ্দু'আ না দিয়ে আল্লাহর কাছে তাদের মাগফিরাত কামনা করেন। বলেন-
اللهم اغفر لقومي فإنهم لا يعلمون
'হে আল্লাহ! আমার কওমকে ক্ষমা করুন। তারা তো জানে না।'
সকল নিগ্রহের মুখেও যখন তিনি আপন কাজে অবিচল থাকেন, তখন তাঁর কওম তাঁকে হত্যার চক্রান্ত করেছিল। অগত্যা তিনি দেশ থেকে মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করতে বাধ্য হন। মদীনা মুনাওয়ারায়ও শত্রুপক্ষ তাঁকে শান্তিতে থাকতে দেয়নি। একের পর এক যুদ্ধে লিপ্ত থাকতে হয়েছে। তাতে মারাত্মকভাবে আহত হতে হয়েছে। রক্ত ঝরাতে হয়েছে। হত্যার ষড়যন্ত্র রুখতে হয়েছে। তাঁর সাহাবীগণকে জান-মাল কুরবানী করতে হয়েছে। রক্ত দিতে হয়েছে। করতে হয়েছে শাহাদাতবরণ। দীনের পথে দাওয়াতের এটাই সার্বজনীন চিত্র।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল মা'ছামি ওয়াল মাগরাম।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ এবং ঋণের বোঝা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী।
ইয়া আল্লাহ! আমাকে হেদায়েত দান করুন এবং সঠিক পথে রাখুন।
আল্লাহুম্মা লা তুসাল্লিত ‘আলাইনা মান লা ইয়ারহামুনা
হে আল্লাহ! আমাদের উপর এমন কাউকে ক্ষমতাশালী করো না, যে আমাদের প্রতি দয়া করে না।
আল্লাহুম্মা ইজআল্না হাদ্বীনা মুহ্তাদ্বীনা, গাইরা দ্বাল্লীনা ওয়ালা মুদিল্লীনা, সিল্মান লি-আউলিয়াইকা, ওয়া আদুয়্য্যাঁ লি-আ‘দাইকা, নুহিব্বু বিহুব্বিকা মান্ আহাব্বাকা, ওয়া নু‘আদী বিআ‘দাওাতিকা মান খালাফাকা।
ইয়া আল্লাহ! আপনি আমাদের পথপ্রাপ্ত ও পথপ্রদর্শক করুন। বিপথগামী ও বিভ্রান্তকারী নয়। আপনার বন্ধুদের মিত্র ও আপনার দুশমনদের শত্রু বানিয়ে দিন। আমরা আপনার মাখলুকের মাঝে তাকেই ভালোবাসি, যে আপনাকে ভালোবাসে। আর তার সাথেই শত্রুতা পোষণ করি, যে আপনার বিরোধিতা করে।
আল্লাহুম্মা যাহ্হিদনা ফিদ্দুনইয়া, ওয়া ওয়াস্সি‘ আলাইনা মিনহা, ওয়া লা তাযউই বিহা ‘আন্না, ওয়া তুরাগ্গিবনা ফীহা।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ার প্রতি অনাসক্ত করে দিন, সেই সাথে আমাদেরকে রিযিকের প্রশস্ততাও দান করুন। এমন যেন না হয়, আমাদের কাছ থেকে দুনিয়া গুটিয়ে নিয়ে আমাদেরকে দুনিয়ার প্রতি লালায়িত বানিয়ে রাখলেন।
সাহল ইবন সা'দ সাঈদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) -এর নিকট হাযির হলো, এবং বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন একটি আমল বাতলে দিন, যখন আমি তা আমল করব, আল্লাহ তা'আলা আমাকে ভালবাসবেন এবং লোকেরাও আমাকে ভালবাসবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি দুনিয়ার প্রতি যুহদ ইখতিয়ার করো, আল্লাহ তোমাকে ভালবাসবেন এবং মানুষের হাতে যা আছে, তার প্রতি অনাসক্ত হয়ে যাও, তাহলে তারা তোমাকে ভালাবাসবে।
সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৪১০২
রব্বানা লা তাজ‘আলনা ফিতনাতাল্লিল্লাযীনা কাফারূ, ওগফির লানা রব্বানা, ইন্নাকা আনতা-ল্-আযীযুল হাকীম।
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে কাফেরদের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না এবং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই কেবল আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
রব্বানাগফির লানা ওয়া লি-ইখওয়ানিনাল্লাযীনা সাবাকূনা বিল-ঈমানি, ওয়া লা তাজ‘আল ফী কুলূবিনা গিল্লাল্লিল্লাযীনা আমানূ, রব্বানা ইন্নাকা রাঊফুর রাহীম।
হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা কর আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।
ঈমানের মাপকাঠি: সাহাবীদের প্রতি অন্তরে ভালোবাসা রাখা এবং তাঁদের জন্য এই মাগফিরাতের দু‘আ করা পরবর্তী মুসলমানদের ঈমান ও সত্যপন্থী হওয়ার প্রধান শর্ত।
রাষ্ট্রীয় সম্পদে (ফায়) অংশীদারিত্ব: যারা সাহাবীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই দু‘আ করবে, ফায়-এর মালে (রাষ্ট্রীয় সম্পদ) কেবল তাদেরই অধিকার থাকবে।
জান্নাতী আলামত: এই দু‘আর মাধ্যমে অন্তরকে মুসলমানদের প্রতি পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষ ও কুধারণা থেকে মুক্ত রাখা যায়, যা মানুষকে জান্নাতী হওয়ার উচ্চ মর্যাদায় আসীন করে।
আল্লাহুম্মা আল্লিফ বাইনা কুলুবিনা, ওয়া আসলিহ যা-তা বাইনিনা।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিন, আর আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দিন।
এই দু‘আর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্কের সংশোধন এবং অন্তরসমূহের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সম্প্রীতি অর্জন করা যায়। অন্তরের অমিল, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে মানুষের দীন-দুনিয়া, বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিক যাবতীয় নিয়ামত থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়। পাশাপাশি, সমাজকে হিংসা-বিদ্বেষের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতেও এটি সহায়ক।
আল্লাহুম্মাহদিনাস সিরাতাল মুস্তাক্বীম।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল পথ দেখান।
আল্লাহুম্মা ইজআল ‘আমালী সালিহান, ওয়াজআলহু লাকা খালিসান, ওয়ালা তাজআল লি-আহাদিন ফিহি শাই’আ
হে আল্লাহ! আমার আমলকে সৎ করে দিন, এবং একে আপনার জন্য খাঁটি করে দিন, আর কারো অংশ এতে রাখবেন না।
এটি হযরত উমর রাদিআল্লাহু আনহুর দু‘আ। এই দু‘আটি ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ খুব পছন্দ করতেন। তাই তিনিও বেশি বেশি এই দু‘আ করতেন। এভাবে দু‘আ করলে আশা করা যায় সাহাবায়ে কেরামের মতো রিয়া মুক্ত আমলের তাওফীক অর্জিত হবে।
আল্লাহুম্মা আসলিহ্ লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ‘ইসমাতু আমরী, ওয়া আসলিহ্ লী দুনইয়ায়াল্লাতী ফীহা মা‘আশী, ওয়া আসলিহ্ লী আখিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মা‘আদী, ওয়াজ‘আলিল হায়াতা যিয়াদাতাল্লী ফী কুল্লি খাইর, ওয়াজ‘আলিল মাওতা রাহাতাল্লী মিন কুল্লি শারর।
হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীন ইসলাহ (পরিশুদ্ধ) করে দিন, যে দ্বীনে আমার রক্ষাকবচ। আপনি সংশোধন করে দিন আমার দুনিয়াকে, যেথায় আমার জীবিকা (রয়েছে), আপনি ইসলাহ (কল্যাণকর) করে দিন আমার আখিরাতকে, যেখানে আমাকে প্রত্যাবর্তন (করতে হবে)। আপনি আমার জীবনকে দীর্ঘায়িত করে দিন প্রত্যেকটি কল্যাণময় কাজের জন্য এবং আপনি আমার মৃত্যু কে আরামদায়ক বানিয়ে দিন সব মন্দ থেকে।
এটি দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণসম্বলিত একটি جامع দুআ এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জাওয়ামিউল কালিম-এর অন্তর্ভুক্ত। এতে প্রথমে দীন সংশোধনের দুআ করা হয়েছে; কারণ দীনই মানুষের সব কল্যাণের রক্ষাকবচ। এরপর হালাল ও পবিত্র জীবিকার মাধ্যমে দুনিয়ার জীবন সুন্দর করা এবং সৎ আমলের মাধ্যমে আখিরাত সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি জীবনকে নেক আমল বৃদ্ধির মাধ্যম এবং মৃত্যুকে দুনিয়া, কবর ও জাহান্নামের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে মুক্তির কারণ বানানোর প্রার্থনা করা হয়েছে। হাদীসটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিয়মিত যিকর ও দুআ এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনার গুরুত্বও তুলে ধরে।
আল্লাহুম্মা জ‘আলিল কুরআ-না রবী‘আ ক্বালবী, ওয়া নূরা সাদ্রী, ওয়া জালা’আ হুযনী ওয়া যাহা-বা হাম্মী
হে আল্লাহ! আপনি কুরআনকে বানিয়ে দিন আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের জ্যোতি, আমার দুঃখ অপসারণকারী এবং দুশ্চিন্তা দূরকারী।
হযরত ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কেউ যদি দুশ্চিন্তা ও বিপদে আক্রান্ত হয় এবং এ দু'আটি পাঠ করে, তবে মহান আল্লাহ্ তাকে বিপদমুক্ত করে দেবেন এবং দুঃখের স্থলে তাকে আনন্দ দান করবেন। দু'আটি এইঃ
اللَّهُمَّ إِنِّي عَبْدُكَ ، وَابْنُ عَبْدِكَ ، ابْنُ أَمَتِكَ ، نَاصِيَتِي بِيَدِكَ ، مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ ، عَدْلٌ فِيَّ قَضَاؤُكَ ، أَسْأَلُكَ بِكُلِّ اسْمٍ هُوَ لَكَ ، سَمَّيْتَ بِهِ نَفْسَكَ ، أَوْ أَنْزَلْتَهُ فِي كِتَابِكَ ، أَوْ عَلَّمْتَهُ أَحَدًا مِنْ خَلْقِكَ ، أَوِ اسْتَأْثَرْتَ بِهِ فِي عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ ، أَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ رَبِيعَ قَلْبِي ، وَنُورَ صَدْرِي ، وَجِلاَءَ حُزْنِي ، وَذَهَابَ هَمِّي ، إِلاَّ أَذْهَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَمَّهُ ، وَأَبْدَلَهُ مَكَانَ حُزْنِهِ فَرَحًا
"হে আল্লাহ্। আমি তোমার বান্দা তোমার দাসের ছেলে এবং তোমার দাসীরও ছেলে। আমার কপালও তোমার হাতে। তোমার নির্দেশই আমার উপর কার্যকরী হয়। তোমার সিদ্ধান্ত ন্যায় বিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত। আমি তোমার ঐ সকল নাম নিয়ে তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, যে নামে তুমি নিজেকে অভিহিত করেছ অথবা যে নাম তুমি তোমার কিতাবে নাযিল করেছ অথবা তোমার কোন সৃষ্টিকে তা শিখিয়েছ অথবা ইলমে গায়বের মধ্যে তা সংরক্ষণ করে রেখেছ। আমি প্রার্থনা করছি যে, কুরআনকে আমার হৃদয়ের বসন্তকাল বানিয়ে দাও, আমার অন্তরে আলো বানিয়ে দাও। আমার দুশ্চিন্তা বিদূরিতকারী বানিয়ে দাও এবং আমার সকল দুঃখের অবসানকারী বানিয়ে দাও।"
লোকেরা বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ্। আমাদের সবার জন্যই কি এই দু'আটি শিখে নেয়া উচিত? তিনি বললেনঃ আলবৎ, যারা ঐ দু'আটির কথা শুনবে, তাদের সবারই এটি শিখে নেয়া উচিত।
https://muslimbangla.com/hadith/1618676
আল্লাহুম্মা ফাক্কিহহু ফিদ্দীন।
হে আল্লাহ! তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান ও বুঝ দান করুন।
ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, একবার নবী (ﷺ) শৌচাগারে গেলেন, তখন আমি তাঁর জন্য অজুর পানি রাখলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেনঃ এটা কে রেখেছে? তাঁকে জানানো হলে তিনি তার জন্য উপরোক্ত দু'আ করলেন।
আল্লাহুম্মা আঈন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ‘ইবাদাতিক।
হে আল্লাহ্! আমাকে আপনার যিকির, শোকর এবং উত্তম রূপে ইবাদত করতে সাহায্য করুন।
আমল
হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত। একদা নবী ﷺ তার হাত ধরে বললেন, হে মু‘আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি বললেন, হে মু‘আয! আমি তোমাকে অসিয়ত করছি, তুমি প্রত্যেক সালাতের পর উক্ত দু‘আটি কখনো পরিহার করবে না।
আল্লাহুম্মা মুনযিলাল কিতাবি, সারী‘আল হিসাবি, ইহযিমিল আহযাবা, ইহযিমহুম ওয়া যালযিলহুম।
ইয়া আল্লাহ! হে কিতাব অবতীর্ণকারী! হে তড়িৎ হিসাব গ্রহণকারী! আপনি শত্রু বাহিনীকে পরাজিত করুন। তাদের পরাস্ত করুন এবং তাদের প্রকম্পিত করুন।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল মু‘আফাতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল-আখিরাহ।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে নিরাপত্তা ও কল্যাণ প্রার্থনা করছি।
আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যত রকম দু'আ করে, اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْمُعَافَاةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ (ইয়া আল্লাহ আপনার কাছে আমি দুনিয়া ও আখিরাতের নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি) এর চেয়ে উত্তম নয়।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল-‘আফওয়া ওয়াল-‘আফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল-আখিরাহ।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও আফিয়াত প্রার্থনা করছি।
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) বলেছেন: রুকনে ইয়ামানীর উপর সত্তরজন ফেরেশতা নিয়োজিত রাখা হয়েছে। কোন ব্যক্তি যখন এ দু‘আ করে اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ তখন তারা আমীন বলে।
আল্লাহুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘তাইতা, ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যাল-জাদ্দি মিনকাল-জাদ্দু
হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন, তা রোধ করার কেউ নেই; আর আপনি যা রোধ করেন, তা দান করারও কেউ নেই। আর আপনার কাছে (সৎকাজ ভিন্ন) কোন সম্পদশালীর সম্পদ উপকারে আসে না।
হযরত মুআবিয়া (রাযি.) মুগীরা ইবনে শুবা (রাযি.) এর নিকট এ মর্মে লিখে পাঠালেন যে, তুমি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে যা কিছু শুনেছ তা আমাকে লিখে পাঠাও। তিনি বলেন, তিনি তাকে লিখলেন যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ প্রতি নামাযের পর বলতেন- আল্লাহুম্মা লা মানি‘আ লিমা আ‘তাইতা, ওয়ালা মু‘তিয়া লিমা মানা‘তা, ওয়ালা ইয়ানফা‘উ যাল-জাদ্দি মিনকাল-জাদ্দু
আল্লাহুম্মা ঈমানাম বিকা, ওয়া তাসদীকাম বিকিতাবিকা, ওয়া ওয়াফা-আম বিআহদিকা, ওয়াত্তিবা‘আল লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা।
হে আল্লাহ! আপনার প্রতি ঈমান রেখে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আপনার অঙ্গীকার পূরণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নত অনুসরণ করে (আমি এ কাজ করছি)।
আল্ল-হুম্মান্ ফা’নী বিমা- ’আল্লামতানী ওয়া ’আল্লিমনী মা- ইয়ানফা’উনী ওয়া যিদ্নী ’ইলমা-, আলহামদু লিল্লা-হি ’আলা- কুল্লি হা-লিন্ ওয়া আ’ঊযুবিল্লা-হি মিন হা-লি আহলিন্না-র।
হে আল্লাহ! তুমি আমাকে উপকৃত কর যে জ্ঞান আমাকে দিয়েছ তা দ্বারা, আমাকে তুমি জ্ঞান দাও সেই বিষয়ের, যাতে আমার উপকার নিহিত, তুমি বৃদ্ধি করে দাও আমার জ্ঞান; সর্বাবস্থাই সব তারীফ আল্লাহর। জাহান্নামীদের অবস্থা থেকে আমি আল্লাহর পানাহ চাই।
আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ উক্ত দু‘আ পরতেন।