দু‘আ

রুক্বিয়্যার দু'আ সমূহের অধ্যায় (কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত

১৮টি দু‘আ
অধ্যায় পরিচিতি

জ্বীনের আসর ও বান কাকে বলে?

مس الجن /صرع الجن

১. জ্বিনের আসর বলতে সাধারণত এমন অবস্থাকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো জ্বিন আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বা তাকে কষ্ট দেয়। ইসলামী পরিভাষায় একে صرع الجن (জ্বিনের কারণে আক্রান্ত হওয়া) বা مس الجن (জ্বিনের স্পর্শ) বলা হয়।

কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত যে, জ্বিন মানুষের ওপর কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
اَلَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا کَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُہُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ
যারা সুদ খায়, (কিয়ামতের দিন) তারা সেই ব্যক্তির মত উঠবে, শয়তান যাকে স্পর্শ দ্বারা পাগল বানিয়ে দিয়েছে।
বাকারা, ২৭৫।

২. বান কী?
'বান' শব্দটি কুরআন-হাদীস বা প্রাচীন ফিকহের পরিভাষা নয়; এটি বাংলা সমাজে প্রচলিত একটি লোকজ শব্দ। সাধারণত কারও ক্ষতি, বিচ্ছেদ, অসুস্থতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জাদু (السحر) করা হলে মানুষ তাকে "বান মারা" বলে থাকে।
অর্থাৎ শরয়ী দৃষ্টিতে 'বান' বলতে স্বতন্ত্র কোনো বিষয় নয়; বরং এটি জাদুরই একটি প্রচলিত নাম বা ধরন।
فَیَتَعَلَّمُوۡنَ مِنۡہُمَا مَا یُفَرِّقُوۡنَ بِہٖ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَزَوۡجِہٖ
তারা তাদের থেকে এমন জিনিস শিক্ষা করত, যা দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত
সুরা বাকারা, আয়াত ১০২।

তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন:
হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের আমলে কিছু শয়তান, যাদের মধ্যে জিন ও মানুষ উভয়ই থাকতে পারে, কতক ইয়াহুদীকে ফুসলানি দিল যে, হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের রাজত্বের (খৃস্টপূর্ব ৯৯০-৯৩০) সকল রহস্য যাদুর মধ্যে নিহিত। তোমরা যদি যাদু শিক্ষা কর, তবে তোমাদেরও বিস্ময়কর ক্ষমতা অর্জিত হবে। সুতরাং তারা যাদুর তালীম নিতে ও তা কাজে লাগাতে শুরু করে দিল। অথচ যাদু শেখা যে কেবল অবৈধ ছিল তাই নয়, বরং তার কোনও কোনও পদ্ধতি ছিল কুফরী পর্যায়ের। ইয়াহুদীরা দ্বিতীয় মহাপাপ করেছিল এই যে, তারা খোদ হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামকেই একজন যাদুকর সাব্যস্ত করেছিল এবং তাঁর সম্পর্কে প্রচার করেছিল, তিনি শেষ জীবনে মূর্তিপূজা শুরু করে দিয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে এসব অপবাদমূলক কাহিনী তারা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহেও জুড়ে দিয়েছিল, যা বাইবেলে আজও পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। বাইবেলে এখনও পর্যন্ত তাঁর মুরতাদ হওয়ার বিবরণ বিদ্যমান (দ্র. ১-বাদশানামা ১১:১-২১)। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। কুরআন মাজীদের এ আয়াতে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি আরোপিত এ ন্যাক্কারজনক অপবাদকে খণ্ডন করা হয়েছে। এর দ্বারা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, কুরআন মাজীদ সম্পর্কে যারা অপবাদ দিত যে, ‘এটা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের কিতাব থেকে আহরিত’, তাদের সে অপবাদ কতটা মিথ্যা! এ স্থলে কুরআন মাজীদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইয়াহুদী ও নাসারাদের কিতাবসমূহকে রদ করছে। সত্য কথা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এমন কোনও মাধ্যম ছিল না, যা দ্বারা তিনি নিজে ইয়াহুদীদের কিতাবে কী লেখা আছে তা জেনে নেবেন। এটা জানার জন্য তাঁর কাছে কেবল ওহীরই সূত্র ছিল। সুতরাং এ আয়াত তাঁর ওহীপ্রাপ্ত নবী হওয়ার সুস্পষ্ট দলীল। এর দ্বারা তিনি ইয়াহুদীদের কিতাবে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি কি ধরনের অপবাদ আরোপ করা হয়েছে সে কথা জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং অতি দৃঢ়তার সাথে তা খণ্ডনও করেছেন।

আরও পড়ুন

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
সব অসুস্থতা, মানসিক সমস্যা বা অস্বাভাবিক আচরণকে জ্বিনের আসর বা জাদু/বান বলে ধরে নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

অনেক রোগের শারীরিক, মানসিক বা স্নায়বিক কারণ থাকে। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা উচিত।

জ্বিন, জাদু বা বদনজরের ব্যাপারে অতিরঞ্জন, কুসংস্কার এবং ভিত্তিহীন দাবি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

১

সূরা আরাফের ৫৪, ৫৫ ও ৫৬ নং আয়াত

۞ اِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ الَّذِىۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضَ فِىۡ سِتَّةِ اَيَّامٍ ثُمَّ اسۡتَوٰى عَلَى الۡعَرۡشِ يُغۡشِى الَّيۡلَ النَّهَارَ يَطۡلُبُهٗ حَثِيۡثًا ۙ وَّالشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ وَالنُّجُوۡمَ مُسَخَّرٰتٍۢ بِاَمۡرِهٖ ؕ اَلَا لَـهُ الۡخَـلۡقُ وَالۡاَمۡرُ‌ ؕ تَبٰرَكَ اللّٰهُ رَبُّ الۡعٰلَمِيۡنَ‏ ﴿۵۴﴾ اُدۡعُوۡا رَبَّكُمۡ تَضَرُّعًا وَّخُفۡيَةً‌ ؕ اِنَّهٗ لَا يُحِبُّ الۡمُعۡتَدِيۡنَ‌ ۚ‏ ﴿۵۵﴾ وَلَا تُفۡسِدُوۡا فِى الۡاَرۡضِ بَعۡدَ اِصۡلَاحِهَا وَادۡعُوۡهُ خَوۡفًا وَّطَمَعًا‌ ؕ اِنَّ رَحۡمَتَ اللّٰهِ قَرِيۡبٌ مِّنَ الۡمُحۡسِنِيۡنَ‏ ﴿۵۶﴾
উচ্চারণ

(৫৪) ইন্না-রাব্বাকুমুল্লা-হুল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ফী ছিত্তাতি আইইয়া-মিন ছু ম্মাছ তাওয়া-‘আলাল ‘আরশি ইউগশিল লাইলান নাহা-রা ইয়াতলুবুহূহাছীছাওঁ ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা ওয়ান নুজূমা মুছাখখারা-তিম বিআমরিহী আলা-লাহুল খালকুওয়াল আমরু তাবা-রাকাল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন। (৫৫) উদ‘ঊ রাব্বাকুম তাদাররু‘আওঁ ওয়া খুফইয়াতান ইন্নাহূ লা-ইউহিব্বুল মু‘তাদীন। (৫৬) ওয়ালা-তুফছিদূ ফিল আরদি বা‘দা ইসলা-হিহা-ওয়াদ‘ঊহু খাওফাওঁ ওয়া ত্বমা‘আন ইন্না রাহমাতাল্লা-হি কারীবুম মিনাল মুহছিনীন।

অর্থ

(৫৪) নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক সেই আল্লাহ, যিনি সমস্ত আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি আরশে ইস্তিওয়া গ্রহণ করেন। তিনি দিনকে রাতের দ্বারা ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে ধাবিত হয়ে তাকে ধরে ফেলে। এবং সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি (সৃষ্টি করেছেন), যা সবই তাঁরই আজ্ঞাধীন। স্মরণ রেখ, সৃষ্টি ও আদেশ দান তাঁরই কাজ। আল্লাহ অতি বরকতময়, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
(৫৫) তোমরা বিনীতভাবে ও চুপিসারে নিজেদের প্রতিপালককে ডাক। নিশ্চয়ই তিনি সীমালংঘন-কারীদেরকে পছন্দ করেন না।
(৫৬) এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তাতে অশান্তি বিস্তার করো না এবং (অন্তরে তাঁর) ভয় ও আশা রেখে তাঁর ইবাদত কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

সূরা আরাফ, আয়াত নং: ৫৪-৫৬
২

সূরা মুমিনূনের শেষ ৪ আয়াত

۞ اَفَحَسِبۡتُمۡ اَنَّمَا خَلَقۡنٰكُمۡ عَبَثًا وَّاَنَّكُمۡ اِلَيۡنَا لَا تُرۡجَعُوۡنَ‏ ﴿۱۱۵﴾ فَتَعٰلَى اللّٰهُ الۡمَلِكُ الۡحَـقُّ‌ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ رَبُّ الۡعَرۡشِ الۡـكَرِيۡمِ‏ ﴿۱۱۶﴾ وَمَنۡ يَّدۡعُ مَعَ اللّٰهِ اِلٰهًا اٰخَرَۙ لَا بُرۡهَانَ لَهٗ بِهٖۙ فَاِنَّمَا حِسَابُهٗ عِنۡدَ رَبِّهٖؕ اِنَّهٗ لَا يُفۡلِحُ الۡـكٰفِرُوۡنَ‏ ﴿۱۱۷﴾ وَقُلْ رَّبِّ اغۡفِرۡ وَارۡحَمۡ وَاَنۡتَ خَيۡرُ الرّٰحِمِيۡنَ‏ ﴿۱۱۸﴾
উচ্চারণ

(১১৫) আফাহাছিবতুম আন্নামা-খালাকনা-কুম আবাছাওঁ ওয়া আন্নাকুম ইলাইনা-লা-তুরজা‘ঊন। (১১৬) ফাতাআ-লাল্লা-হুল মালিকুল হাক্কু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া, রাব্বুল ‘আরশিল কারীম। (১১৭) ওয়া মাইঁ ইয়াদ‘উ মা‘আল্লা-হি ইলা-হান আ-খারা লা-বুরহা-না লাহূবিহী ফাইন্নামাহিছা-বুহূ‘ইনদা রাব্বিহী ইন্নাহূলা-ইউফলিহুল কা-ফিরূন। (১১৮) ওয়া কুর রাব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আনতা খাইরুররা-হিমীন।

অর্থ

(১১৫) তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?
(১১৬) অতি মহিমাময় আল্লাহ, যিনি প্রকৃত বাদশাহ। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।
(১১৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যে সম্পর্কে তার কাছে কোন রকম দলীল-প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে। জেনে রেখ, কাফেরগণ সফলকাম হতে পারে না।
(১১৮) (হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক, আমার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।

সূরা মুমিনূন, আয়াত নং: ১১৫-১১৮
৩

সূরা সাফফাতের প্রথম ১১ আয়াত

۞ وَالصّٰٓفّٰتِ صَفًّا ۙ‏ ﴿۱﴾ فَالزّٰجِرٰتِ زَجۡرًا ۙ‏ ﴿۲﴾ فَالتّٰلِيٰتِ ذِكۡرًا ۙ‏ ﴿۳﴾ اِنَّ اِلٰهَكُمۡ لَوَاحِدٌ ﴿۴﴾ رَبُّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا وَرَبُّ الۡمَشَارِقِ ؕ‏ ﴿۵﴾ اِنَّا زَيَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡيَا بِزِيۡنَةِ اۨلۡكَوَاكِبِۙ‏ ﴿۶﴾ وَحِفۡظًا مِّنۡ كُلِّ شَيۡطٰنٍ مَّارِدٍ‌ۚ‏ ﴿۷﴾ لَّا يَسَّمَّعُوۡنَ اِلَى الۡمَلَاِ الۡاَعۡلٰى وَيُقۡذَفُوۡنَ مِنۡ كُلِّ جَانِبٍۖ ‏ ﴿۸﴾ دُحُوۡرًا وَّلَهُمۡ عَذَابٌ وَّاصِبٌ  ۙ‏ ﴿۹﴾ اِلَّا مَنۡ خَطِفَ الۡخَطۡفَةَ فَاَتۡبَعَهٗ شِهَابٌ ثَاقِبٌ‏ ﴿۱۰﴾ فَاسۡتَفۡتِهِمۡ اَهُمۡ اَشَدُّ خَلۡقًا اَمۡ مَّنۡ خَلَقۡنَاؕ اِنَّا خَلَقۡنٰهُمۡ مِّنۡ طِيۡنٍ لَّازِبٍ‏ ﴿۱۱﴾
উচ্চারণ

(১) ওয়াসসাফফা-তি সাফফা-। (২) ফাঝঝা-জিরা-তি ঝাজরা-। (৩) ফাত্তা-লিয়া-তি যিকরা-। (৪) ইন্না ইলা-হাকুম লাওয়া-হিদ। (৫) রাব্বুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ামা-বাইনাহুমা-ওয়া রাব্বুল মাশা-রিক। (৬) ইন্না-ঝাইয়ান্নাছছামাআদ্দুনইয়া-বিঝীনাতিনিল কাওয়া-কিব। (৭) ওয়া হিফজাম মিন কুল্লি শাইতা-নিম মা-রিদ। (৮) লা ইয়াছছাম্মা‘ঊনা ইলাল মালাইল আ‘লা-ওয়া ইউকযাফূনা মিন কুল্লি জা-নিব। (৯) দুহূ রাও ওয়ালাহুম ‘আযা-বুন ওয়া-সিব। (১০) ইল্লা-মান খাতিফাল খাতফাতা ফাআতবা‘আহূশিহা-বুন ছাকিব। (১১) ফাছতাফতিহিম আহুম আশাদ্দু খাল কান আম্মান খালাকনা- ইন্না-খালাকনা-হুম মিন ত্বীনিল লা-ঝিব।

অর্থ

(১) শপথ তাদের, যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।
(২) তারপর তাদের, যারা কঠোরভাবে বাধা প্রদান করে।
(৩) তারপর তাদের, যারা ‘যিকর’-এর তেলাওয়াত করে।
(৪) নিশ্চয়ই তোমাদের মাবুদ একই।
(৫) যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর মালিক এবং তিনি মালিক নক্ষত্ররাজি উদয়স্থলেরও।
(৬) নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী আকাশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছি (বিভিন্ন) নকশা দ্বারা অর্থাৎ নক্ষত্রমণ্ডলী দ্বারা।
(৭) এবং প্রত্যেক দুষ্ট (শয়তান) থেকে হেফাজতের মাধ্যম বানিয়েছি। (৮) তারা ঊর্ধ্ব জগতের কথাবার্তা শুনতে পারে না এবং সকল দিক থেকে তাদের উপর মার আসে।
(৯) তাদেরকে করা হয় বিতাড়িত এবং (আখেরাতে) তাদের জন্য আছে স্থায়ী শাস্তি।
(১০) তবে কেউ কোন কিছু ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে চাইলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
(১১) সুতরাং তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আমার অন্যান্য মাখলুককে? আমি তো তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠাল কাদা হতে।

সূরা সাফফাত, আয়াত নং: ১-১১
৪

সূরা আর-রহমান এর ৩৩ থেকে ৪০ আয়াত পর্যন্ত

۞ يٰمَعۡشَرَ الۡجِنِّ وَالۡاِنۡسِ اِنِ اسۡتَطَعۡتُمۡ اَنۡ تَنۡفُذُوۡا مِنۡ اَقۡطَارِ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ فَانْفُذُوۡا‌ؕ لَا تَنۡفُذُوۡنَ اِلَّا بِسُلۡطٰنٍ‌ۚ‏ ﴿۳۳﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۳۴﴾ يُرۡسَلُ عَلَيۡكُمَا شُوَاظٌ مِّنۡ نَّارٍ وَّنُحَاسٌ فَلَا تَنۡتَصِرٰنِ‌ۚ‏ ﴿۳۵﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۳۶﴾ فَاِذَا انْشَقَّتِ السَّمَآءُ فَكَانَتۡ وَرۡدَةً كَالدِّهَانِ‌ۚ‏ ﴿۳۷﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۳۸﴾ فَيَوۡمَٮِٕذٍ لَّا يُسۡـٴَـلُ عَنۡ ذَنۡۢبِهٖۤ اِنۡسٌ وَّلَا جَآنٌّ‌ۚ‏ ﴿۳۹﴾ فَبِاَىِّ اٰلَاۤءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبٰنِ‏ ﴿۴۰﴾
উচ্চারণ

(৩৩) ইয়া-মা‘শারাল জিন্নি ওয়াল ইনছি ইনিছতাতা‘তুম আন তানফুযূ মিন আকতা-রিছ ছামাওয়া-তি ওয়াল আরদিফানফুযূ লা-তানফুযূনা ইল্লা-বিছুলতা-ন। (৩৪) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন । (৩৫) ইউরছালু‘আলাইকুমা-শুওয়া-জু ম মিন্না-রিওঁ ওয়া নুহা-ছুন ফালা-তানতাসিরা-ন। (৩৬) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন । (৩৭) ফাইযান শাককাতিছ ছামাউ ফাকা-নাত ওয়ারদাতান কাদ্দিহা-ন। (৩৮) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন । (৩৯) ফাইয়াওমা ইযিল্লা-ইউছআলু‘আন যামবিহী ইনছুওঁ ওয়ালা-জান। (৪০) ফাবিআইয়ি আ-লাই রাব্বিকুমা- তুকাযযিবা-ন ।

অর্থ

(৩৩) হে মানুষ ও জিন্ন সম্প্রদায়! তোমাদের যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করার সামর্থ্য থাকে, তবে তা অতিক্রম কর। তোমরা প্রচণ্ড শক্তি ছাড়া তা অতিক্রম করতে পারবে না।
(৩৪) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
(৩৫) তোমাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হবে আগুনের শিখা এবং তাম্রবর্ণের ধোঁয়া। তখন তোমরা পারবে না আত্মরক্ষা করতে।
(৩৬) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
(৩৭) (সেই সময় অবশ্যম্ভাবী) যখন আকাশ ফেটে যাবে এবং তা লাল চামড়ার মত লাল-গোলাপী হয়ে যাবে।
(৩৮) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
(৩৯) সেই দিন না কোন মানুষকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, না কোন জিন্নকে।
(৪০) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?

সূরা আর-রহমান, আয়াত নং ৩৩-৪০
৫

ব্যথার রুক্বিয়্যাহ

প্রথমে বিসমিল্লাহ ৩বার পড়বে, এরপর সাতবার বলবে,
۞ أَعُوْذُ بِاللّٰهِ وَقُدْرَتِه مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
উচ্চারণ

আউযুবিল্লাহি ওয়া ক্বুদরতিহী মিন শাররি মা-আজিদু ওয়া উহা-যিরু।

অর্থ

আমি আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের কাছে আশ্রয় নিচ্ছি আমি যা অনুভব করছি এবং ভয় করছি তার অকল্যাণ থেকে।

ফযীলত

হযরত ওসমান ইবনে আবুল আস (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট একটি বেদনার অভিযোগ করলেন, যা তিনি তার শরীরে অনুভব করছিলেন। রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি তোমার শরীরের সে জায়গায় হাত রাখ, যে জায়গায় বেদনা হচ্ছে এবং তিনবার বল, 'বিসমিল্লাহ্' আর সাতবার উক্ত দু‘আ পাঠ কর। ওসমান বলেন, আমি তা করলাম; ফলে আল্লাহ্ আমার শরীরে যা ছিল তা দূর করে দিলেন।

তথ্যসূত্র: আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ৫৭৮; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং: ১৫৩৩

৬

বদনজরের লক্ষণ, করণীয় ও রুক্বিয়্যাহ

সূরা তিনবার বা সাতবার অথবা সম্ভব হলে এর থেকে অধিকও পড়া। (উল্লেখ্য, করণীয় একদম নিচে উল্লেখ করা হলো)

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْوَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ ۚ﴿۱﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ۚ﴿۲﴾ لَمْ یَلِدْ ۬ۙ وَ لَمْ یُوْلَدْ ۙ﴿۳﴾ وَ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ۠﴿۴﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۙ﴿۱﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ ۙ﴿۴﴾ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ۠﴿۵﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾ مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾ اِلٰهِ النَّاسِ ۙ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ۠﴿۶﴾

দূ‘আ তিনবার বা সাতবার অথবা সম্ভব হলে এর থেকে অধিকও পড়া।

بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُّؤْذِيْكَ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اَللّٰهُ يَشْفِيْكَ، بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ
অর্থ: আমি আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি, সেই সব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদ নজর থেকে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিক; আমি আল্লাহর নামে রুকইয়াহ করছি।

بِسْمِ اللّٰه ِالَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ
অর্থ: আল্লাহ্‌র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।

بِاسْمِ اللّٰهِ يُبْرِيْكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَّشْفِيْكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِيْ عَيْنٍ
অর্থ: আল্লাহর নামে (রুকইয়াহ করছি), তিনি আপনাকে মুক্ত করবেন এবং তিনিই প্রত্যেক রোগ থেকে আপনাকে আরোগ্য দিবেন। আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে এবং সকল বদনজরদাতার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুক।

بِسْمِ اللّٰهِ ، أَعُوْذُ بِعِزَّةِ اللّٰهِ وَقُدْرَتِهٖ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
অর্থ: আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর সম্মান এবং তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমি অনুভব করি এবং যা আশঙ্কা করি, তার অকল্যাণ থেকে।

اَللّٰهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اِشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِيْ لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَّا يُغَادِرُ سَقَمًا
অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের পালনকর্তা, যন্ত্রণা নিবারণ করুন, সুস্থতা দান করুন, আপনিই সুস্থতা প্রদানকারী, আপনার দেয়া সুস্থতাই প্রকৃত সুস্থতা, এমন সুস্থতা দান করুন যাতে কোন রোগই বাকি না থাকে।

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ
অর্থ: আমরা আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যাবলীর দ্বারা প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশকারী বিষাক্ত জীব এবং অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شرِّ مَا خَلَقَ
অর্থ: আল্লাহ্‌র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।

أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيْمَ، رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، أَنْ يَّشْفِيَكَ
অর্থ: আমি মহান আল্লাহ্‌র কাছে চাচ্ছি, যিনি মহান আরশের রব, তিনি যেন আপনাকে রোগমুক্তি প্রদান করেন।
বদনজর সত্য, এবং বদনজরের ফলে একজন সুস্থ ব্যক্তি মৃত্যু পর্যন্তও চলে যেতে পারেন। বদনজর যে কারো থেকে লাগতে পারে, সন্তানের উপর মা বাবার, স্ত্রীর উপর স্বামীর। বা বন্ধুবান্ধব, অপরিচিত ব্যক্তি থেকেও হতে পারে। অর্থাৎ অমুক আমাকে হিংসে করে না, আমাকে পছন্দ করে তাই আমার ভাল কোনো কিছুতে তার নজর লাগবে না, বদনজরের ক্ষেত্রে এমন কোনো শত নেই। যে কারো থেকে বদনজর লাগতে পারে। বদনজর শুধু মানুষের উপর নয়, বরং ব্যবসাবাণিজ্য, সম্পদ, ফসল বা যে কোনো বস্তুর উপর লাগতে পারে। সাধারণত ব্যক্তি বুঝতে পারে, তার ঠিক কোন বিষয়টার উপর নজর লেগেছে। কারণ নজর লাগার পর সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি আর আগের মত থাকে না। যেমন কারো মজাদার রান্নার উপর নজর লাগলো, দেখা যাচ্ছে তার রান্না আর মজা হচ্ছে না। কিংবা কেউ পড়াশোনায় খুব ভাল ছিল, এখন আর ভাল নেই। কেউ ব্যবসায় লাভবান ছিল অথচ এখন ব্যবসা দিনদিন লসের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়াও আরও অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে।

লক্ষণ:
ব্যক্তির অলসতা কাজ করবে সব কিছুতে, ঘুমঘুম লাগবে, শরীরে জ্বর জ্বর ভাব থাকবে, মন মেজাজ খারাপ থাকবে, নানান অসুখবিসুখ লেগে থাকবে, কোনো কাজে মন বসবে না, নির্দিষ্ট কিছু কাজ বারবার নষ্ট হতে থাকবে ইত্যাদি। এই ক্ষেত্রে রুকইয়াহ দুই রকম হতে পারে।

করণীয়:
১. নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়।
২. নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না।

নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়
যদি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় তবে নজর কাটাতে কষ্ট কম হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির অজু করা পানি জমিয়ে রেখে তা রোগীর গায়ে ঢেলে দিতে হবে। কিংবা ব্যক্তির খেয়ে রাখা প্লেট, গ্লাস, চামচ ধুয়ে সেই পানি রোগীর গায়ে ঢেলে দিবে। এতে করে ইনশাআল্লাহ নজর কেটে যাবে।

নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না:
যদি চিহ্নিত করা না যায় তবে নিচের সূরা ও দু‘আ পড়ে রোগীকে ফুঁ দিতে হবে। এক বোতল পানি রাখবেন, তাতেও ফুঁ দিবেন এবং রোগীকে পান করাবেন ও মাথায় মুখে শরীরে ছিটিয়ে দিবেন। আয়াতগুলোর অডিও রোগী নিয়মিত শুনবেন এবং নিজেও তিলাওয়াত করবেন।

https://muslimbangla.com/masail/146719
ফযীলত

null

৭

জাদু: আলামত ও রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْوَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾ مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾ اِلٰهِ النَّاسِ ۙ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ۠﴿۶﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۙ﴿۱﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ ۙ﴿۴﴾ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ۠﴿۵﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ ۚ﴿۱﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ۚ﴿۲﴾ لَمْ یَلِدْ ۬ۙ وَ لَمْ یُوْلَدْ ۙ﴿۳﴾ وَ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ۠﴿۴﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۬ۚ لَا تَاْخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوْمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَاشَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ ﴿۲۵۵﴾ لَاۤ اِكْرَاهَ فِی الدِّیْنِ ۟ۙ قَدْ تَّبَیَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَیِّ ۚ فَمَنْ یَّكْفُرْ بِالطَّاغُوْتِ وَیُؤْمِنْۢ بِاللهِ فَقَدِ اسْتَمْسَکَ بِالْعُرْوَۃِ الْوُثْقٰی ٭ لَا انْفِصَامَ لَهَا ؕ وَاللهُ سَمِیْعٌ عَلِیْمٌ ﴿۲۵۶﴾ اَللهُ وَلِیُّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ۙ یُخْرِجُهُمْ مِّنَ الظُّلُمٰتِ اِلَی النُّوُرِ۬ؕ وَالَّذِیْنَ کَفَرُوْۤا اَوْلِیٰٓـُٔهُمُ الطَّاغُوْتُ ۙ یُخْرِجُوْنَهُمْ مِّنَ النُّوْرِ اِلَی الظُّلُمٰتِ ؕ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ النَّارِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ﴿۲۵۷﴾۠

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَاتَّبَعُوْا مَا تَتْلُوا الشَّیٰطِیْنُ عَلٰی مُلْکِ سُلَیْمٰنَ ۚ وَمَا کَفَرَ سُلَیْمٰنُ وَلٰکِنَّ الشَّیٰطِیْنَ کَفَرُوْا یُعَلِّمُوْنَ النَّاسَ السِّحْرَ ٭ وَمَاۤ اُنْزِلَ عَلَی الْمَلَکَیْنِ بِبَابِلَ هَارُوْتَ وَمَارُوْتَ ؕ وَمَا یُعَلِّمٰنِ مِنْ اَحَدٍ حَتّٰی یَقُوْلَاۤ اِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَۃٌ فَلَا تَكْفُرْ ؕ فَیَتَعَلَّمُوْنَ مِنْهُمَا مَا یُفَرِّقُوْنَ بِهٖ بَیْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهٖ ؕ وَمَا هُمْ بِضَآرِّیْنَ بِهٖ مِنْ اَحَدٍ اِلَّا بِاِذْنِ اللهِ ؕ وَیَتَعَلَّمُوْنَ مَا یَضُرُّهُمْ وَلَا یَنْفَعُهُمْ ؕ وَلَقَدْ عَلِمُوْا لَمَنِ اشْتَرٰىهُ مَا لَهٗ فِی الْاٰخِرَۃِ مِنْ خَلَاقٍ ۟ؕ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهٖۤ اَنْفُسَهُمْ ؕ لَوْ کَانُوْا یَعْلَمُوْنَ ﴿۱۰۲﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ اِنْ تُبْدُوْا مَا فِیْۤ اَنْفُسِكُمْ اَوْ تُخْفُوْهُ یُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللهُ ؕ فَیَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۲۸۴﴾ اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَمَلٰٓئِکَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ ۟ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭۫ غُفْرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیْکَ الْمَصِیْرُ ﴿۲۸۵﴾ لَا یُکَلِّفُ اللهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتْ وَعَلَیْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا کَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَاعْفُ عَنَّا ٝ وَاغْفِرْ لَنَا ٝ وَارْحَمْنَا ٝ اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ ﴿۲۸۶﴾۠

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

شَهِدَ اللهُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ وَالْمَلٰٓئِکَۃُ وَ اُولُوا الْعِلْمِ قَآئِمًۢا بِالْقِسْطِ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَکِیْمُ ﴿ؕ۱۸﴾ اِنَّ الدِّیْنَ عِنْدَ اللهِ الْاِسْلَامُ ۟ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِیْنَ اُوْتُوا الْکِتٰبَ اِلَّا مِنْۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْیًۢا بَیْنَهُمْ ؕ وَمَنْ یَّكْفُرْ بِاٰیٰتِ اللهِ فَاِنَّ اللهَ سَرِیْعُ الْحِسَابِ ﴿۱۹﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاکَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ﴿۱۱۷﴾ۚ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۱۱۸﴾ۚ فَغُلِبُوْا هُنَالِکَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ﴿۱۱۹﴾ۚ وَ اُلْقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیْنَ ﴿۱۲۰﴾ۚۖ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۲۱﴾ۙ رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ﴿۱۲۲﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِیْ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ﴿۷۹﴾ فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ﴿۸۰﴾ فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰی مَا جِئْتُمْ بِهِ ۙ السِّحْرُ ؕ اِنَّ اللهَ سَیُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللهَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ ﴿۸۱﴾ وَیُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِکَلِمٰتِهٖ وَلَوْ کَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ ﴿۠۸۲﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِکَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا کَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

ثُمَّ اِنَّكُمْ بَعْدَ ذٰلِکَ لَمَیِّتُوْنَ ﴿ؕ۱۵﴾ ثُمَّ اِنَّكُمْ یَوْمَ الْقِیٰمَۃِ تُبْعَثُوْنَ ﴿۱۶﴾ وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَآئِقَ ٭ۖ وَ مَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غٰفِلِیْنَ ﴿۱۷﴾ وَ اَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَآءِ مَآءًۢ بِقَدَرٍ فَاَسْکَنّٰهُ فِی الْاَرْضِ ٭ۖ وَ اِنَّا عَلٰی ذَهَابٍۭ بِهٖ لَقٰدِرُوْنَ ﴿ۚ۱۸﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

لَوْ اَنْزَلْنَا هٰذَا الْقُرْاٰنَ عَلٰی جَبَلٍ لَّرَاَیْتَهٗ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْیَۃِ اللهِ ؕ وَ تِلْکَ الْاَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَتَفَکَّرُوْنَ ﴿۲۱﴾ هُوَ اللهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ عٰلِمُ الْغَیْبِ وَ الشَّهَادَۃِ ۚ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِیْمُ ﴿۲۲﴾ هُوَ اللهُ الَّذِیْ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۚ اَلْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلٰمُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَیْمِنُ الْعَزِیْزُ الْجَبَّارُ الْمُتَکَبِّرُ ؕ سُبْحٰنَ اللهِ عَمَّا یُشْرِكُوْنَ ﴿۲۳﴾ هُوَ اللهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْاَسْمَآءُ الْحُسْنٰی ؕ یُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضِ ۚ وَ هُوَ الْعَزِیْزُ الْحَکِیْمُ ﴿۠۲۴﴾
সম্ভাব্য লক্ষণ:
যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে জাদুর শিকার হয়ে থাকেন, তবে অনেক সময় সেই বিষয়টি ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যেতে পারে। যেমন, বিয়ে বারবার ভেঙে যাওয়া বা না হওয়া, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে অকারণে তীব্র অশান্তি সৃষ্টি হওয়া, ব্যবসায় ধারাবাহিক লোকসান ইত্যাদি। এর পাশাপাশি বদনজরের কিছু লক্ষণও দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে, যেমন,
১. বারবার ভয়ংকর বা অস্বাভাবিক দুঃস্বপ্ন দেখা (যেমন ঘন অন্ধকার বন-জঙ্গলে দৌড়ানো, হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হওয়া ইত্যাদি)।
২. বুক, পেট বা পিঠে অকারণ ব্যথা অনুভব করা।
৩. ঘন ঘন মাথাব্যথা হওয়া।
৪. একাকীত্ব বা অস্বস্তি অনুভব করা।
৫. ঠিকমতো ঘুম না হওয়া বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো।

দ্রষ্টব্য: উপরোক্ত লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক থাকলেই জাদু বা বদনজর হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া সঠিক নয়। এগুলো বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক কারণেও হতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ অব্যাহত রাখা উচিত।

করণীয়:
রুকইয়াহর জন্য নির্ধারিত আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে রোগীর ওপর ফুঁ দিন। একইভাবে পানি, মধু এবং কালোজিরা বা জাইতুনের তেলের ওপরও ফুঁ দিন। এরপর রোগী নিয়মিত,

১. রুকইয়াহর আয়াতগুলোর অডিও শুনবেন।
২. নিজে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন।
৩. ফুঁ দেওয়া পানি পান করবেন এবং তা দিয়ে গোসল করবেন।
৪. ফুঁ দেওয়া তেল শরীরে ব্যবহার করবেন।
৫. ফুঁ দেওয়া মধু সেবন করবেন।

তিলাওয়াতের সংখ্যা:
রুকইয়াহর আয়াতগুলো তিনবার, সাতবার অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী এর চেয়েও বেশি সংখ্যক বার পড়া যেতে পারে।
৮

তাবিজ ও জাদু নষ্ট করার রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۙ﴿۱﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ ۙ﴿۴﴾ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ۠﴿۵﴾
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক
মিন শাররি মা-খালাক।
ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।
ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।
ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾ مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾ اِلٰهِ النَّاسِ ۙ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ۠﴿۶﴾
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,
মালিকিন্না-ছ,
ইলা-হিন্না-ছ।
মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।
আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاکَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ﴿۱۱۷﴾ۚ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۱۱۸﴾ۚ فَغُلِبُوْا هُنَالِکَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ﴿۱۱۹﴾ۚ وَ اُلْقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیْنَ ﴿۱۲۰﴾ۚۖ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۲۱﴾ۙ رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ﴿۱۲۲﴾
ওআউহাইনা ইলা মূসা আন আল্কি ‘আসা-কা, ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়াফিকূন।
ফাওয়াকাআল হাক্কু ওয়া বাতালা মা কানো ইয়ামালূন।
ফাগুলিবূ হুনালিকা ওয়ানকালাবূ সাগিরীন।
ওয়া উলকিয়াস সাহারাতু সা-জিদীন।
কালূ আ-মান্না বিরাব্বিল ‘আলামীন।
রাব্বি মূসা ওয়া হারূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰی مَا جِئْتُمْ بِهِ ۙ السِّحْرُ ؕ اِنَّ اللهَ سَیُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللهَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ ﴿۸۱﴾ وَیُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِکَلِمٰتِهٖ وَلَوْ کَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ ﴿۠۸۲﴾
ফালাম্মা আলকাও, ক্বালা মূসা মা জি’তুম বিহিস্‌সিহরু, ইন্‌নাল্লাহা সায়ুবতিলুহু, ইন্‌নাল্লাহা লা ইউসলিহু ‘আমালাল মুফসিদীন।
ওয়া ইউহিক্কুল্লাহুল হাক্কা বিকালিমাতিহী, ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِکَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا کَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾
ওয়া আল্কি মা ফি ইয়ামীনিকা, তালকাফ মা সানা‘উ, ইন্‌না মা সানা‘উ কাইদু সাহিরিন, ওয়া ইউফলিহুস সাহিরু হাইসু আতাঃ।
তাবিজ বা জাদুর বস্তু নষ্ট করার পদ্ধতি:
উপরোক্ত আয়াত ও সূরাগুলো তিলাওয়াত করে একটি পাত্রের পানিতে ফুঁ দিন। এরপর যে তাবিজ বা জাদুর বস্তু পাওয়া গেছে, তা খুলে বা ভেঙে ওই পানিতে কিছুক্ষণ চুবিয়ে রাখুন। তারপর পানি থেকে তুলে সম্পূর্ণরূপে পুড়িয়ে ফেলুন। এভাবে আল্লাহর ইচ্ছায় জাদুর প্রভাব নষ্ট হওয়ার আশা করা যায়।
৯

সন্তান লাভের জন্য রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْ وَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾
আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।
আররাহমা-নির রাহীম।
মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন।
ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম ।
গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۬ۚ لَا تَاْخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوْمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَاشَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ ﴿۲۵۵﴾
আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আল হাইয়ুল কাইয়ূমু লা-তা’খুযুহূ ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূইল্লা-বিইযনিহী ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহীইল্লা-বিমা-শাআ ওয়াছি‘আ কুরছিইয়ুহুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালা-ইয়াঊদুহু হিফজু হুমা-ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ূল ‘আজীম।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ اِنْ تُبْدُوْا مَا فِیْۤ اَنْفُسِكُمْ اَوْ تُخْفُوْهُ یُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللهُ ؕ فَیَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۲۸۴﴾ اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَمَلٰٓئِکَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ ۟ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭۫ غُفْرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیْکَ الْمَصِیْرُ ﴿۲۸۵﴾ لَا یُکَلِّفُ اللهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتْ وَعَلَیْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا کَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَاعْفُ عَنَّا ٝ وَاغْفِرْ لَنَا ٝ وَارْحَمْنَا ٝ اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ ﴿۲۸۶﴾۠
লিল্লা-হি মা ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়া ইন তুবদূমা-ফীআনফুছিকুম আও তুখফূহু ইউহা-ছিবকুম বিহিল্লা-হু ফাইয়াগফিরু লি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইউ‘আযযিবু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
আ-মানাররাছূলু বিমাউনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূনা কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুছুলিহী লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মির রুছুলিহী ওয়া কা-লূ ছামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর।
লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-উছ‘আহা-লাহা-মা কাছাবাত ওয়া ‘আলাইহা-মাকতাছাবাত রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা ইন নাছীনা-আও আখতা’না-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা-রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা লানা-বিহী ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاکَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ﴿۱۱۷﴾ۚ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۱۱۸﴾ۚ فَغُلِبُوْا هُنَالِکَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ﴿۱۱۹﴾ۚ وَ اُلْقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیْنَ ﴿۱۲۰﴾ۚۖ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۲۱﴾ۙ رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ﴿۱۲۲﴾
ওআউহাইনা ইলা মূসা আন আল্কি ‘আসা-কা, ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়াফিকূন।
ফাওয়াকাআল হাক্কু ওয়া বাতালা মা কানো ইয়ামালূন।
ফাগুলিবূ হুনালিকা ওয়ানকালাবূ সাগিরীন।
ওয়া উলকিয়াস সাহারাতু সা-জিদীন।
কালূ আ-মান্না বিরাব্বিল ‘আলামীন।
রাব্বি মূসা ওয়া হারূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِیْ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ﴿۷۹﴾ فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ﴿۸۰﴾ فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰی مَا جِئْتُمْ بِهِ ۙ السِّحْرُ ؕ اِنَّ اللهَ سَیُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللهَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ ﴿۸۱﴾ وَیُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِکَلِمٰتِهٖ وَلَوْ کَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ ﴿۠۸۲﴾
ওয়া ক্বালা ফিরআউনু ই’তুনী বিকুল্লি সাহিরিন আলীম।
ফালাম্মা জা’আস-সাহারাতু ক্বালা লাহুম মূসা আলকূ মা আন্তুম মুলকূন।
ফালাম্মা আলকাও, ক্বালা মূসা মা জি’তুম বিহিস্‌সিহরু, ইন্‌নাল্লাহা সায়ুবতিলুহু, ইন্‌নাল্লাহা লা ইউসলিহু ‘আমালাল মুফসিদীন।
ওয়া ইউহিক্কুল্লাহুল হাক্কা বিকালিমাতিহী, ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِکَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا کَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾
ওয়া আল্কি মা ফি ইয়ামীনিকা, তালকাফ মা সানা‘উ, ইন্‌না মা সানা‘উ কাইদু সাহিরিন, ওয়া ইউফলিহুস সাহিরু হাইসু আতা।

সূরা সফফাত সম্পূর্ণটা পড়বে বা শুনবে
সূরা মারইয়াম সম্পূর্ণটা পড়বে বা শুনবে

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾ مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾ اِلٰهِ النَّاسِ ۙ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ۠﴿۶﴾
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক
মিন শাররি মা-খালাক।
ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।
ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।
ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۙ﴿۱﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ ۙ﴿۴﴾ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ۠﴿۵﴾
কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,
মালিকিন্না-ছ,
ইলা-হিন্না-ছ।
মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।
আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

সহবাসের সময় এই দু‘আ পড়বে
بِسْمِ اللهِ ، اللهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
‘হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি। তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখো। আমাদের যে সন্তান দান করবে (এ মিলনের ফলে) তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখো।’
সমস্যা
স্বামী-স্ত্রী উভয়েই শারীরিকভাবে সুস্থ, সন্তান ধারণে সক্ষম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা না পড়লেও দীর্ঘদিন সন্তান না হলে শরয়ী রুকইয়াহ করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সব ক্ষেত্রে জাদু, জ্বিন বা বদনজরই কারণ নয়। অনেক সময় সবকিছু স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাঁর হিকমত অনুযায়ী সন্তান দান বিলম্বিত করেন।

সম্ভাব্য লক্ষণ:
* দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও সন্তান না হওয়া।
* গর্ভধারণ হলেও বারবার অল্প সময়ের মধ্যে গর্ভপাত হয়ে যাওয়া।
* অকারণ মানসিক অশান্তি বা অস্থিরতা অনুভব করা।
* অহেতুক কান্না পাওয়া।
* তলপেট বা কোমরে ব্যথা অনুভব করা।
* বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা।

দ্রষ্টব্য: এসব লক্ষণ থাকলেই জাদু বা জ্বিনের প্রভাব রয়েছে,এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা উচিত।

রুকইয়াহ:
প্রথমে জাদুর রুকইয়াহ নিয়মিত করুন। যদি দীর্ঘদিন রুকইয়াহ করার পরও কোনো উপকার না হয় এবং জ্বিনের প্রভাবের শক্তিশালী আলামত বিদ্যমান থাকে, তাহলে অভিজ্ঞ ও শরয়ী নীতিমালা অনুসরণকারী কোনো রাকির মাধ্যমে রুকইয়াহ করানো যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা চাইলে এর মাধ্যমে জাদু বা জ্বিনজনিত সমস্যা দূর হতে পারে। ইনশাআল্লাহ।
১০

পড়াশোনায় মনোযোগের জন্য রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْوَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾
আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।
আররাহমা-নির রাহীম।
মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন।
ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম ।
গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۬ۚ لَا تَاْخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوْمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَاشَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ ﴿۲۵۵﴾
আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আল হাইয়ুল কাইয়ূমু লা-তা’খুযুহূ ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূইল্লা-বিইযনিহী ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহীইল্লা-বিমা-শাআ ওয়াছি‘আ কুরছিইয়ুহুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালা-ইয়াঊদুহু হিফজু হুমা-ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ূল ‘আজীম।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ وَ اِنْ تُبْدُوْا مَا فِیْۤ اَنْفُسِكُمْ اَوْ تُخْفُوْهُ یُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللهُ ؕ فَیَغْفِرُ لِمَنْ یَّشَآءُ وَیُعَذِّبُ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَاللهُ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۲۸۴﴾ اٰمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَاۤ اُنْزِلَ اِلَیْهِ مِنْ رَّبِّهٖ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللهِ وَمَلٰٓئِکَتِهٖ وَكُتُبِهٖ وَرُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیْنَ اَحَدٍ مِّنْ رُّسُلِهٖ ۟ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَ اَطَعْنَا ٭۫ غُفْرَانَکَ رَبَّنَا وَ اِلَیْکَ الْمَصِیْرُ ﴿۲۸۵﴾ لَا یُکَلِّفُ اللهُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَا ؕ لَهَا مَا کَسَبَتْ وَعَلَیْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ؕ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَاۤ اِنْ نَّسِیْنَاۤ اَوْ اَخْطَاْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَیْنَاۤ اِصْرًا کَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَی الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَۃَ لَنَا بِهٖ ۚ وَاعْفُ عَنَّا ٝ وَاغْفِرْ لَنَا ٝ وَارْحَمْنَا ٝ اَنْتَ مَوْلٰىنَا فَانْصُرْنَا عَلَی الْقَوْمِ الْکٰفِرِیْنَ ﴿۲۸۶﴾۠
লিল্লা-হি মা ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদিওয়া ইন তুবদূমা-ফীআনফুছিকুম আও তুখফূহু ইউহা-ছিবকুম বিহিল্লা-হু ফাইয়াগফিরু লি মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইউ‘আযযিবু মাইঁ ইয়াশাউ ওয়াল্লা-হু আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।
আ-মানাররাছূলু বিমাউনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূনা কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুছুলিহী লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মির রুছুলিহী ওয়া কা-লূ ছামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর।
লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-উছ‘আহা-লাহা-মা কাছাবাত ওয়া ‘আলাইহা-মাকতাছাবাত রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা ইন নাছীনা-আও আখতা’না-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা-রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা লানা-বিহী ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاکَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ﴿۱۱۷﴾ۚ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۱۱۸﴾ۚ فَغُلِبُوْا هُنَالِکَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ﴿۱۱۹﴾ۚ وَ اُلْقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیْنَ ﴿۱۲۰﴾ۚۖ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۲۱﴾ۙ رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ﴿۱۲۲﴾
ওআউহাইনা ইলা মূসা আন আল্কি ‘আসা-কা, ফাইযা হিয়া তালকাফু মা ইয়াফিকূন।
ফাওয়াকাআল হাক্কু ওয়া বাতালা মা কানো ইয়ামালূন।
ফাগুলিবূ হুনালিকা ওয়ানকালাবূ সাগিরীন।
ওয়া উলকিয়াস সাহারাতু সা-জিদীন।
কালূ আ-মান্না বিরাব্বিল ‘আলামীন।
রাব্বি মূসা ওয়া হারূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِیْ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ﴿۷۹﴾ فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ﴿۸۰﴾ فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰی مَا جِئْتُمْ بِهِ ۙ السِّحْرُ ؕ اِنَّ اللهَ سَیُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللهَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ ﴿۸۱﴾ وَیُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِکَلِمٰتِهٖ وَلَوْ کَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ ﴿۠۸۲﴾
ওয়া কা-লা ফির‘আওনু’তূনী বিকুল্লি ছা-হিরিন ‘আলীম।
ফালাম্মা-জাআ ছছাহারাতুকা-লা লাহুম মূছাআলকূমাআনতুম মুলকূন।
ফালাম্মাআলকাও কা-লা মূছা- মা-জি’তুম বিহিছছিহরু ইন্নাল্লা-হা ছাইউবতিলুহূ ইন্নাল্লা-হা লা-ইউসলিহু‘আমালাল মুফছিদীন।
ওয়া ইউহিক্কুল্লা-হুল হাক্কা বিকালিমা-তিহী ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِکَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا کَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾
ওয়া আল্কি মা ফি ইয়ামীনিকা, তালকাফ মা সানা‘উ, ইন্‌না মা সানা‘উ কাইদু সাহিরিন, ওয়া ইউফলিহুস সাহিরু হাইসু আতাঃ।
পড়াশোনায় অমনোযোগিতার ক্ষেত্রে শরয়ী রুকইয়াহ

সমস্যা:
কোনো শিক্ষার্থী পূর্বে মনোযোগী ও মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ করে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। পড়ায় মন বসে না, পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায় বা পড়তে একেবারেই ভালো লাগে না।

সম্ভাব্য লক্ষণ
১. পরীক্ষার আগে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া।
২. আগের মতো পড়া সহজে মুখস্থ না হওয়া।
৩. পড়া দ্রুত ভুলে যাওয়া।
৪. আনমনা ও অমনোযোগী থাকা।
৫.অস্থির বা অধৈর্য হয়ে পড়া।
৬. নিজের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রতি উদাসীন হয়ে যাওয়া।
৭.ঘুমের অনিয়ম বা পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।

দ্রষ্টব্য: এসব লক্ষণ থাকলেই বদনজর বা জাদুর প্রভাব রয়েছে, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অনেক সময় শারীরিক, মানসিক বা শিক্ষাবিষয়ক অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করাও জরুরি।

রুকইয়াহর করণীয়:
১. সর্বপ্রথম বদনজরের রুকইয়াহ করা হবে।
২. নিয়মিত রুকইয়াহ করার পরও যদি উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হয় এবং জাদুর যথেষ্ট আলামত বিদ্যমান থাকে, তাহলে জাদুর রুকইয়াহ করা হবে।
ফযীলত

১নং পরামর্শ:
পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করে না কেন? নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। অন্যান্য ব্যস্ততা কিংবা দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা। যদি প্রথম কারণ হয় তাহলে সেসব অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। পড়ালেখার জন্য একনিষ্ঠতা অপরিহার্য। অন্য সকল ব্যস্ততা পরিহার করলে ইনশাআল্লাহ মন বসতে থাকবে। আর যদি দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনার কারণে পড়ালেখার প্রতি মনোনিবেশ করতে না পারো তাহলে তার চিকিৎসা এই যে, আল্লাহর কাছে দোয়া কর।। নিজেকে ও নিজের সকল বিষয়কে আল্লাহ তাআলার কাছে সোপর্দ করে ভারমুক্ত হও এবং পড়াশোনায় মগ্ন হয়ে যাও। নিম্নের দোয়াটি মুখস্থ করে মাঝে মাঝে পড়বে–

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে।”

হযরত আনাস রাযি. হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ চিন্তাযুক্ত অবস্থায় উক্ত দোয়া পড়তেন। (বুখারী ২৮৯৩)

মনে রাখবে, মন বসে না বলে বসে থাকা রোগবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। মন বসে না-এই ওয়াসওয়াসাই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। মন বসালেই বসবে, জোর করে কাজে লেগে গেলেই মন বসবে। এজন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজে লেগে যাও।

দুই- আর মুখস্থশক্তি বৃদ্ধির জন্য তোমার প্রতি পরামর্শ হল-

১। গুনাহ থেকে দূরে থাকবে। কারণ গুনাহর কারণে মুখস্থশক্তিতে দুর্বলতা আসে।

খতীব আল-জামে নামক গ্রন্থে (২/৩৮৭) ইয়াইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, এক লোক মালেক বিন আনাসকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! মুখস্তশক্তি বাড়ানোর কোন কিছু আছে কি? তিনি বলেন: যদি কোন কিছু থাকে তাহলে সেটা হল: গুনাহ পরিত্যাগ করা। যখন কোন মানুষ গুনাহ করে তখন এ গুনাহটি তাকে ঘিরে রাখে এবং গুনাহর ফলে তাকে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা পেয়ে বসে। সে গুনাহর কারণে তার চিন্তাধারা মশগুল হয়ে থাকে। এভাবে এ দুশ্চিন্তা তার অনুভূতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে এবং তাকে অনেক কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে রাখে। এর মধ্যে মুখস্থশক্তি অন্যতম।

গুনাহ ত্যাগ করার কৌশল জানতে হলে পড়ে নাও–জিজ্ঞাসা নং–১২৪

২। অধিক হারে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি পড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: واذكر ربك إذا نسيت“যখন ভুলে যান তখন আল্লাহর যিকির করুন”। (সূরা কাহাফ: ২৪)

৩। কোন কোন আলেম এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলো মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি করে। যেমন- মধু ও কিসমিস খাওয়া।

ইমাম যুহরী বলেন: তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভাল।

তিনি আরও বলেন: যে হাদিস মুখস্ত করতে চায় সে যেন কিসমিস খায়। (খতীব আল-বাগদাদীর ‘আল-জামে’ ২/৩৯৪)

আলেমগণ আরও বলেন: অম্লজাতীয় খাবার স্মৃতিশক্তির জড়তা ও মুখস্থশক্তির দুর্বলতা বাড়ায়।

৫। মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে আরও যে জিনিসটি সাহায্য করে সেটি হচ্ছে- মাথায় শিংগা লাগানো। এটি পরীক্ষিত। (আরও বিস্তারিত জানতে ইবনুল কাইয়্যেম এর ‘আততিব্ব আন-নাবাবি’ পড়)।

২নং পরামর্শ:
পড়াশোনায় ও ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগ নিবদ্ধ করার জন্য সর্বপ্রথম পরামর্শ হলো, যে বিষয়টি অর্জন করতে চাচ্ছেন তার প্রতি একনিষ্ঠ হোন। বিভিন্নমুখী চিন্তা, কার্যক্রম, পদক্ষেপ, মন-মানসিকতা ও জেহেনকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। তাই পড়াশুনায় মনোযোগ আনতে চাইলে পড়াশোনার প্রতি আত্মনিয়োগ করুন।

যাবতীয় গুনাহ পরিত্যাগ করুন। বিশেষ করে চোখের গুনাহ থেকে অবশ্যই নিজেকে পরিপূর্ণ হেফাজত করুন। প্রতিদিন কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করুন। বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়ুন। আরো পড়ুন-

ربي يسر ولا تعسر وتمم علينا بالخير وبك نستعين يا مستعان.

উচ্চারণঃ রব্বি ইয়াসসির ওয়া লা তুআসসির ওয়া তাম্মিম আলাইনা বিল খাইর, ওয়া বিকা নাস্তাঈনু য়া মুস্তাআন।

১১

অনিয়মিত ঋতুস্রাবের শরয়ী রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْوَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۬ۚ لَا تَاْخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوْمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَاشَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ ﴿۲۵۵﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاکَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ﴿۱۱۷﴾ۚ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۱۱۸﴾ۚ فَغُلِبُوْا هُنَالِکَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ﴿۱۱۹﴾ۚ وَ اُلْقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیْنَ ﴿۱۲۰﴾ۚۖ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۲۱﴾ۙ رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ﴿۱۲۲﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِکَ فَلْیَفْرَحُوْا ؕ هُوَ خَیْرٌ مِّمَّا یَجْمَعُوْنَ ﴿۵۸﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِیْ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ﴿۷۹﴾ فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ﴿۸۰﴾ فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰی مَا جِئْتُمْ بِهِ ۙ السِّحْرُ ؕ اِنَّ اللهَ سَیُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللهَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ ﴿۸۱﴾ وَیُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِکَلِمٰتِهٖ وَلَوْ کَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ ﴿۠۸۲﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

ثُمَّ كُلِیْ مِنْ كُلِّ الثَّمَرٰتِ فَاسْلُکِیْ سُبُلَ رَبِّکِ ذُلُلًا ؕ یَخْرُجُ مِنْۢ بُطُوْنِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ اَلْوَانُهٗ فِیْهِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوْمٍ یَّتَفَکَّرُوْنَ ﴿۶۹﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّ رَحْمَۃٌ لِّلْمُؤْمِنِیْنَ ۙ وَ لَا یُزِیْدُ الظّٰلِمِیْنَ اِلَّا خَسَارًا ﴿۸۲﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَ لَوْ جَعَلْنٰهُ قُرْاٰنًا اَعْجَمِیًّا لَّقَالُوْا لَوْ لَا فُصِّلَتْ اٰیٰتُهٗ ؕ ءَؔؔ اَعْجَمِیٌّ وَّ عَرَبِیٌّ ؕ قُلْ هُوَ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا هُدًی وَّ شِفَآءٌ ؕ وَ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ فِیْۤ اٰذَانِهِمْ وَقْرٌ وَّ هُوَ عَلَیْهِمْ عَمًی ؕ اُولٰٓئِکَ یُنَادَوْنَ مِنْ مَّکَانٍۭ بَعِیْدٍ ﴿۠۴۴﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِکَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا کَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

قَاتِلُوْهُمْ یُعَذِّبْهُمُ اللهُ بِاَیْدِیْكُمْ وَیُخْزِهِمْ وَیَنْصُرْكُمْ عَلَیْهِمْ وَیَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِیْنَ ﴿ۙ۱۴﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾ مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾ اِلٰهِ النَّاسِ ۙ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ۠﴿۶﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۙ﴿۱﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ ۙ﴿۴﴾ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ۠﴿۵﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ ۚ﴿۱﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ۚ﴿۲﴾ لَمْ یَلِدْ ۬ۙ وَ لَمْ یُوْلَدْ ۙ﴿۳﴾ وَ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ۠﴿۴﴾
সমস্যা
ঋতুস্রাব তিন দিনের কম বা দশ দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া, এক মাসে একাধিকবার ঋতুস্রাব হওয়া অথবা কয়েক মাস পর পর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা।

সম্ভাব্য লক্ষণ
১. মাসের পর মাস অস্বাভাবিকভাবে স্রাব চলতে থাকা।
২. বয়স উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৩. ঋতুস্রাব চলাকালে তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করা।
৪. ঋতুস্রাব বন্ধ থাকাকালে অতিরিক্ত সাদা স্রাব হওয়া।
৫. অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন দেখা বা ঘুমের মধ্যে বোবা ধরা।

দ্রষ্টব্য: এসব লক্ষণ থাকলেই জ্বিন, জাদু বা অন্য কোনো অদৃশ্য কারণ রয়েছে, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বিভিন্ন শারীরিক বা হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা যেতে পারে।

রুকইয়াহর করণীয়
প্রথমে জ্বিনের প্রভাব আছে কি না তা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে জ্বিনের রুকইয়াহ করা হবে। যদি রুকইয়াহ চলাকালে জ্বিন প্রকাশ পায়, তাহলে পূর্বে বর্ণিত শরয়ী পদ্ধতিতে তাকে বিদায় করার চেষ্টা করা হবে।

আর যদি জ্বিনের কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পায়, তাহলে দুটি বোতল পানির ওপর নির্ধারিত সূরা ও আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে ফুঁ দিতে হবে। একটি বোতলের পানিতে মধু মিশিয়ে রোগী পান করবেন এবং অন্য বোতলের পানি দিয়ে গোসল করবেন।
ফযীলত

অনিয়মিত ঋতুস্রাব (মাসিক) ও বেদনার চিকিৎসা:
যদি কোন স্ত্রীলোকের মাসিক রীতিমতো না হয়, যার কারণে ব্যথায় কষ্ট পায়, তাকে নিম্নবর্ণিত কুরআনুল কারীমের আয়াত তিনটি কোন আল্লাহ ওয়ালা মুত্তাকী আলিম এর মাধ্যমে লিখে কোমরে বেঁধে দিবে। এমন ভাবে বাঁধতে হবে, যেন তাবিজ জরায়ুর উপরে থাকে। ইনশাআল্লাহ আরোগ্য লাভ করবে।

আয়াত তিনটি এই :
وَجَعَلۡنَا فِیۡہَا جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ وَّفَجَّرۡنَا فِیۡہَا مِنَ الۡعُیُوۡنِ ۙ
এতে আমি সৃষ্টি করি খর্জুর ও আঙুরের উদ্যান এবং এতে উৎসারিত করি প্রস্রবণ,
—ইয়াসীন - ৩৪

لِیَاۡکُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِہٖ ۙ وَمَا عَمِلَتۡہُ اَیۡدِیۡہِمۡ ؕ اَفَلَا یَشۡکُرُوۡنَ
যাতে এরা আহার করতে পারে এর ফলমূল হতে, অথচ এদের হস্ত তা সৃষ্টি করে নাই। তবুও কি এরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না ?
—ইয়াসীন - ৩৫

اَوَلَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ
যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, এরপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম ; এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে; তবু কি এরা ঈমান আনবে না ?
—আল আম্বিয়া - ৩০

১২

সহবাসে অক্ষমতার রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْوَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾
আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।
আররাহমা-নির রাহীম।
মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন।
ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম ।
গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

اَللهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَۚ اَلْحَیُّ الْقَیُّوْمُ ۬ۚ لَا تَاْخُذُهٗ سِنَۃٌ وَّلَا نَوْمٌ ؕ لَهٗ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الْاَرْضِ ؕ مَنْ ذَا الَّذِیْ یَشْفَعُ عِنْدَهٗۤ اِلَّا بِاِذْنِهٖ ؕ یَعْلَمُ مَا بَیْنَ اَیْدِیْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ ۚ وَلَا یُحِیْطُوْنَ بِشَیْءٍ مِّنْ عِلْمِهٖۤ اِلَّا بِمَاشَآءَ ۚ وَسِعَ كُرْسِیُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضَ ۚ وَلَا یَـُٔوْدُهٗ حِفْظُهُمَا ۚ وَهُوَ الْعَلِیُّ الْعَظِیْمُ ﴿۲۵۵﴾
আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আল হাইয়ুল কাইয়ূমু লা-তা’খুযুহূ ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূইল্লা-বিইযনিহী ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহীইল্লা-বিমা-শাআ ওয়াছি‘আ কুরছিইয়ুহুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালা-ইয়াঊদুহু হিফজু হুমা-ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ূল ‘আজীম।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَ اَوْحَیْنَاۤ اِلٰی مُوْسٰۤی اَنْ اَلْقِ عَصَاکَ ۚ فَاِذَا هِیَ تَلْقَفُ مَا یَاْفِكُوْنَ ﴿۱۱۷﴾ۚ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا کَانُوْا یَعْمَلُوْنَ ﴿۱۱۸﴾ۚ فَغُلِبُوْا هُنَالِکَ وَانْقَلَبُوْا صٰغِرِیْنَ ﴿۱۱۹﴾ۚ وَ اُلْقِیَ السَّحَرَۃُ سٰجِدِیْنَ ﴿۱۲۰﴾ۚۖ قَالُوْۤا اٰمَنَّا بِرَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۱۲۱﴾ۙ رَبِّ مُوْسٰی وَهٰرُوْنَ ﴿۱۲۲﴾
ওয়া আওহাইনাইলা-মূছাআন আলকি‘আসা-কা ফাইযা-হিয়া তালকাফুমাইয়া’ফিকূন। ফাওয়াকা‘আল হাক্কুওয়া বাতালা মা-কা-নূইয়া‘মালূন। ফাগুলিবূহুনা-লিকা ওয়ান কালাবূসা-গিরীন। ওয়া উলকিয়াছছাহারাতুছা-জিদীন। কা-লূআ-মান্না-বিরাব্বিল ‘আ-লামীন। রাব্বি মূছা-ওয়া হা-রূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَقَالَ فِرْعَوْنُ ائْتُوْنِیْ بِكُلِّ سٰحِرٍ عَلِیْمٍ ﴿۷۹﴾ فَلَمَّا جَآءَ السَّحَرَۃُ قَالَ لَهُمْ مُّوْسٰۤی اَلْقُوْا مَاۤ اَنْتُمْ مُّلْقُوْنَ ﴿۸۰﴾ فَلَمَّاۤ اَلْقَوْا قَالَ مُوْسٰی مَا جِئْتُمْ بِهِ ۙ السِّحْرُ ؕ اِنَّ اللهَ سَیُبْطِلُهٗ ؕ اِنَّ اللهَ لَا یُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِیْنَ ﴿۸۱﴾ وَیُحِقُّ اللهُ الْحَقَّ بِکَلِمٰتِهٖ وَلَوْ کَرِهَ الْمُجْرِمُوْنَ ﴿۠۸۲﴾
ওয়া ক্বালা ফিরআউনু ই’তুনী বিকুল্লি সাহিরিন আলীম।
ফালাম্মা জা’আস-সাহারাতু ক্বালা লাহুম মূসা আলকূ মা আন্তুম মুলকূন।
ফালাম্মা আলকাও, ক্বালা মূসা মা জি’তুম বিহিস্‌সিহরু, ইন্‌নাল্লাহা সায়ুবতিলুহু, ইন্‌নাল্লাহা লা ইউসলিহু ‘আমালাল মুফসিদীন।
ওয়া ইউহিক্কুল্লাহুল হাক্কা বিকালিমাতিহী, ওয়ালাও কারিহাল মুজরিমূন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَ اَلْقِ مَا فِیْ یَمِیْنِکَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوْا ؕ اِنَّمَا صَنَعُوْا کَیْدُ سٰحِرٍ ؕ وَ لَا یُفْلِحُ السَّاحِرُ حَیْثُ اَتٰی ﴿۶۹﴾
ওয়া আল্কি মা ফি ইয়ামীনিকা, তালকাফ মা সানা‘উ, ইন্‌না মা সানা‘উ কাইদু সাহিরিন, ওয়া ইউফলিহুস সাহিরু হাইসু আতা।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

وَ قَدِمْنَاۤ اِلٰی مَا عَمِلُوْا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنٰهُ هَبَاۤءً مَّنْثُوْرًا ﴿۲۳﴾
ওয়া কাদিমনাইলা-মা-‘আমিলূমিন ‘আমালিন ফাজা‘আলনা-হু হাবাআম মানছূরা-।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

قُلْ هُوَ اللهُ اَحَدٌ ۚ﴿۱﴾ اَللهُ الصَّمَدُ ۚ﴿۲﴾ لَمْ یَلِدْ ۬ۙ وَ لَمْ یُوْلَدْ ۙ﴿۳﴾ وَ لَمْ یَكُنْ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ۠﴿۴﴾
কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ। আল্লা-হুসসামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۙ﴿۱﴾ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾ وَ مِنْ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾ وَ مِنْ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الْعُقَدِ ۙ﴿۴﴾ وَ مِنْ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ ۠﴿۵﴾

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক
মিন শাররি মা-খালাক।
ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।
ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।
ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

قُلْ اَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾ مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾ اِلٰهِ النَّاسِ ۙ﴿۳﴾ مِنْ شَرِّ الْوَسْوَاسِ ۬ۙ الْخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾ الَّذِیْ یُوَسْوِسُ فِیْ صُدُوْرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾ مِنَ الْجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ۠﴿۶﴾

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,
মালিকিন্না-ছ,
ইলা-হিন্না-ছ।
মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।
আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।
সমস্যা:
এই সমস্যা দুই কারণে হতে পারে। এক: জাদুর জন্য। দুই: বিশেষ কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা। যদি জাদুর কারণে হয়ে থাকে তবে সহবাসের সময় মেয়েরা অনুভূতিহীন জড়বস্তুর মত হয়ে যায়, এবং ছেলেদের যৌনাঙ্গ সব সময় ঠিক থাকলেও সহবাসের সময় অক্ষম হয়ে পড়ে।

লক্ষণ:
বিয়ের আগে সুস্থ থাকলেও বিয়ের পর যৌনমিলনে অক্ষম হয়ে যাওয়া, সহবাসে অনীহা কাজ করা, অনুভূতি হারিয়ে ফেলা। সহবাসের সময় একে অপরকে বাধা দেয়া বা সহবাস করতে বিরক্ত লাগা, জরায়ু থেকে রক্ত বের হওয়া ইত্যাদি।

রুকইয়াহ:
জ্বিনের আসর বা তাবিজ করা হয়েছে কিনা তা বুঝতে জ্বিনের রুকইয়াহ করবে। জিনের আসর না থাকলে যদি
জাদুর লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমনঃ পেট ব্যথা, ঘাড়-পিঠ ব্যথা, কান্না পাওয়া ইত্যাদি তবে বুঝবে জ্বিন দ্বারা জাদু করা হয়নি। তখন নিম্নোক্ত সুরা পড়ে রুকইয়াহ করবে ও পানিতে ফুঁ দিয়ে তা রোগী পান করবে এবং গোসল করবে।

আমলের মাধ্যমে রুকইয়া করতে চাইলে 👇
https://muslimbangla.com/masail/6657
১৩

চোখের সমস্যার রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْوَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾
আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। আররাহমা-নির রাহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

لَقَدْ كُنْتَ فِیْ غَفْلَۃٍ مِّنْ هٰذَا فَکَشَفْنَا عَنْکَ غِطَآءَکَ فَبَصَرُکَ الْیَوْمَ حَدِیْدٌ﴿۲۲﴾

লাকাদ কুনতা ফী গাফলাতিম মিন হা-যা- ফাকাশাফনা- ‘আনকা গিতাআকা ফাবাসারুকাল ইয়াওমা হাদীদ।
সূরা ক্ব-ফ, আয়াত নং ২২
ফযীলত

যে সমস্যার জন্য রুকইয়া করবেন:
চুলকানো,পানি পড়া, চোখ ওঠা ইত্যাদি।
আক্রান্ত চোখ ভাল করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এরপর উপরের আয়াতগুলো পড়ে হাত মুখের সামনে নিয়ে এমনভাবে ফুঁ দিবেন যেন চোখে বাতাস লাগে।

১৪

বাক্‌জড়তার বা তোতলামির রুক্বিয়্যাহ

قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِیْ صَدْرِیْ ﴿ۙ۲۵﴾ وَ یَسِّرْ لِیْۤ اَمْرِیْ ﴿ۙ۲۶﴾ وَ احْلُلْ عُقْدَۃً مِّنْ لِّسَانِیْ ﴿ۙ۲۷﴾ یَفْقَهُوْا قَوْلِیْ ﴿۪۲۸﴾

যদি উপরোক্ত কোন সমস্যা না থাকে অর্থাৎ জন্মগত নয় বরং সবসময় সুন্দর করে কথা বলতো এবং হঠাৎ করে তোতলামো শুরু করলো বা কথা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে তাহলে বদনজরের রুকইয়াহ করবে।
সমস্যা:
মুখের জড়তা বা তোতলামি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে জন্মগত শারীরিক ত্রুটি, স্নায়বিক বা ভাষাগত সমস্যা অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে বদনজরের প্রভাবের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

জন্মগতভাবে কিছু শিশুর জিহ্বার নিচের অংশ অতিরিক্ত সংযুক্ত (Tongue-tie) থাকায় জিহ্বা স্বাভাবিকভাবে নাড়াতে বা বের করতে পারে না। এর ফলে কথা বলতে অসুবিধা বা তোতলামি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যার চিকিৎসা রয়েছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা সংশোধন করা যায়। চিকিৎসার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহও করা যেতে পারে।

রুকইয়াহ:
প্রতিটি ফরজ নামাজের পর নির্ধারিত আয়াত ও সূরাগুলো নিয়মিত তিলাওয়াত করুন। আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে শিফা কামনা করুন এবং নিয়মিত এ আমল অব্যাহত রাখুন।
১৫

শ্বাসকষ্ট-অ্যালার্জির রুক্বিয়্যাহ

সূরা ফাতিহা
بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّالْعٰلَمِیْنَ ۙ﴿۱﴾ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ ۙ﴿۲﴾ مٰلِکِ یَوْمِ الدِّیْنِ ؕ﴿۳﴾اِیَّاکَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاکَ نَسْتَعِیْنُ ؕ﴿۴﴾اِهْدِنَاالصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ ۙ﴿۵﴾صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۬ۙ۬غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْوَلَا الضَّآ لِّیْنَ۠﴿۷﴾
সমস্যা:
কখনো কখনো হঠাৎ হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায়, কাশতে কাশতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি হয়, অনবরত হাঁচি হতে থাকে বা চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এমন সময় ওষুধ হাতের কাছে নাও থাকতে পারে, অথবা রোজা অবস্থায় থাকায় ইনহেলার বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করতে অসুবিধা হতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহও করা যেতে পারে।

রুকইয়াহ:
দুই হাত মুনাজাতের ভঙ্গিতে তুলে নাক ও মুখের সামনে রাখুন। এরপর তিন থেকে সাতবার সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করে হাতে ফুঁ দিন। তারপর হাত নাক ও মুখের ওপর রেখে অক্সিজেন মাস্কের মতো ধীরে ধীরে গভীরভাবে কয়েকবার শ্বাস গ্রহণ করুন।

দ্রষ্টব্য: শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির তীব্র আক্রমণ হলে রুকইয়াহর পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং আল্লাহর কাছে শিফার দোয়া ও শরয়ী চিকিৎসার একটি মাধ্যম।
১৬

হাড়ক্ষয় রোগের রুক্বিয়্যাহ

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
اَوْکَالَّذِیْ مَرَّ عَلٰی قَرْیَۃٍ وَّهِیَ خَاوِیَۃٌ عَلٰی عُرُوْشِهَا ۚ قَالَ اَنّٰی یُحْیٖ هٰذِهِ اللهُ بَعْدَ مَوْتِهَا ۚ فَاَمَاتَهُ اللهُ مِائَۃَ عَامٍ ثُمَّ بَعَثَهٗ ؕ قَالَ کَمْ لَبِثْتَ ؕ قَالَ لَبِثْتُ یَوْمًا اَوْ بَعْضَ یَوْمٍ ؕ قَالَ بَلْ لَّبِثْتَ مِائَۃَ عَامٍ فَانْظُرْ اِلٰی طَعَامِکَ وَشَرَابِکَ لَمْ یَتَسَنَّهْ ۚ وَانْظُرْ اِلٰی حِمَارِکَ وَلِنَجْعَلَکَ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَانْظُرْ اِلَی الْعِظَامِ کَیْفَ نُنْشِزُهَا ثُمَّ نَكْسُوْهَا لَحْمًا ؕ فَلَمَّا تَبَیَّنَ لَهٗ ۙ قَالَ اَعْلَمُ اَنَّ اللهَ عَلٰی كُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۲۵۹﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
وَ قَالُوْۤاءَ اِذَا كُنَّا عِظَامًا وَّ رُفَاتًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ خَلْقًا جَدِیْدًا ﴿۴۹﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
ذٰلِکَ جَزَآؤُهُمْ بِاَنَّهُمْ کَفَرُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ قَالُوْۤا ءَاِذَا كُنَّا عِظَامًا وَّ رُفَاتًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ خَلْقًا جَدِیْدًا ﴿۹۸﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَۃَ عَلَقَۃً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَۃَ مُضْغَۃً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَۃَ عِظٰمًا فَکَسَوْنَا الْعِظٰمَ لَحْمًا ٭ ثُمَّ اَنْشَاْنٰهُ خَلْقًا اٰخَرَ ؕ فَتَبٰرَکَ اللهُ اَحْسَنُ الْخٰلِقِیْنَ ﴿ؕ۱۴﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
قَالُوْۤا ءَاِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًاءَ اِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ ﴿۸۲﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
وَ ضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَّنَسِیَ خَلْقَهٗ ؕ قَالَ مَنْ یُّحْیِ الْعِظَامَ وَ هِیَ رَمِیْمٌ ﴿۷۸﴾ قُلْ یُحْیِیْهَا الَّذِیْۤ اَنْشَاَهَاۤ اَوَّلَ مَرَّۃٍ ؕ وَ هُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِیْمُۨ ﴿ۙ۷۹﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
ءَاِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَدِیْنُوْنَ ﴿۵۳﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
وَکَانُوْا یَقُوْلُوْنَ ۬ۙ اَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَّ عِظَامًا ءَاِنَّا لَمَبْعُوْثُوْنَ ﴿ۙ۴۷﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
اَیَحْسَبُ الْاِنْسَانُ اَلَّنْ نَّجْمَعَ عِظَامَهٗ ؕ﴿۳﴾ بَلٰی قٰدِرِیْنَ عَلٰۤی اَنْ نُّسَوِّیَ بَنَانَهٗ ﴿۴﴾

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ
ءَاِذَا كُنَّا عِظَامًا نَّخِرَۃً ﴿ؕ۱۱﴾
সমস্যা
শরীরের যেকোনো স্থানে ব্যথা অনুভূত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা যেতে পারে।

রুকইয়াহ
নিম্নোক্ত আয়াত ও সূরাগুলো তিলাওয়াত করে ব্যথার স্থানে ফুঁ দিন। একইভাবে জাইতুনের তেলের ওপর ফুঁ দিয়ে নিয়মিত ব্যথার স্থানে মালিশ করুন।
১৭

দুশমনের ক্ষতি থেকে রক্ষার রুক্বিয়্যাহ (দুআয়ে আনাস রাযি.)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيم
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

بِسْمِ اللَّهِ وَ بِاللَّهِ ، بِسْمِ اللَّهِ خَيْرِ الْأَسْمَاءِ، بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ بِسْمِ اللَّهِ افْتَتَحْتُ وَ بِاللَّهِ خَتَمْتُ وَ بِهِ أَمَنْتُ، بِسْمِ اللَّهِ أَصْبَحْتُ وَ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْتُ، بِسْمِ اللَّهِ عَلَى قَلْبِي وَ نَفْسِي، بِسْمِ اللَّهِ عَلَى عَقْلِي وَ ذِهْنِي، بِسْمِ اللَّهِ عَلَى أَهْلِي وَمَالِي، بِسْمِ اللَّهِ عَلَى مَا أَعْطَانِي رَبِّي، بِسْمِ اللَّهِ الشَّافِي بِسْمِ اللَّهِ الْمُعَافِي، بِسْمِ اللهِ الْوَافِي، بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، هُوَ اللَّهُ اللَّهُ رَبِّي لَا أُشْرِكْ بِهِ شَيْئًا، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَأَعَزُّ وَأَجَلُّ مِمَّا أَخَافُ وَأَحْذَرُ . أَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ بِخَيْرِكَ مِنْ خَيْرِكَ الَّذِي لَا يُعْطِيهِ غَيْرُكَ ، عَزَّ جَارُكَ وَ جَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ. اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ سُلْطَانٍ وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ شَيْطَانٍ مَرِيدٍ، وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيْدٍ، وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ قَضَاءِ سُوءٍ ، وَ مِنْ شَرِّ كُلِّ دَابَّةٍ أَنْتَ أَخِذُ بِنَاصِيَتِهَا ، إِنَّ رَبِّي عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ

বিসমিল্লাহি ওয়া বিল্লাহ, বিসমিল্লাহি খাইরিল আসমা, বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা। বিসমিল্লাহি ইফতাতাহ্তু ওয়া বিল্লাহি খাতাম্তু ওয়া বিহি আমান্তু। বিসমিল্লাহি আসবাহ্তু ওয়া আলাল্লাহি তাওয়াক্কালতু। বিসমিল্লাহি ‘আলা কলবি ওয়া নাফসি। বিসমিল্লাহি ‘আলা ‘আকলি ওয়া যিহনি। বিসমিল্লাহি ‘আলা আহলি ওয়া মালি। বিসমিল্লাহি ‘আলা মা আ‘তানি রব্বি। বিসমিল্লাহিশ শাফি, বিসমিল্লাহিল মু‘আফি, বিসমিল্লাহিল ওয়াফি। বিসমিল্লাহিল্লাযী লা ইয়াদুররু মা‘আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা, ওয়া হুয়াস সামীউল আলীম। হুয়াল্লাহু আল্লাহু রব্বি লা উশরিকু বিহি শাইআ। আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। ওয়া আ‘আজ্জু ওয়া আজাল্লু মিম্মা আখাফু ওয়া আহযার। আসআলুকাল্লাহুম্মা বিখাইরিকা মিন খাইরিকাল্লাযী লা ইউ‘তিহি গাইরুক। আয্যা জারুকা ওয়া জাল্লা সানাউকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুক। আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উযু বিকা মিন শাররি নাফসি, ওয়া মিন শাররি কুল্লি সুলতান, ওয়া মিন শাররি কুল্লি শাইতানিম মারিদ, ওয়া মিন শাররি কুল্লি জাব্বারিন ‘আনিদ, ওয়া মিন শাররি কুল্লি কদা-ই সুউ, ওয়া মিন শাররি কুল্লি দাব্বাতিন আনতা আখিযুন বিনাসিয়াতিহা। ইন্না রব্বি ‘আলা সিরাতিম মুস্তাকীম, ওয়া আনতা ‘আলা কুল্লি শাইইন হাফিয।

إِنَّ وَلِيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِيْنَ

ইন্না ওয়ালিয়্যিয়াল্লাহুল্লাযী নায্জালাল কিতাবা ওয়া হুয়া ইয়াতাওয়াল্লাস
সালিহীন

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَجِيرُ بِكَ، وَ أَحْتَجِبُ بِكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ خَلَقْتَهُ، وَ أَحْتَرِسُ بِكَ مِنْ جَمِيعِ خَلْقِكَ، وَ كُلِّ مَا ذَرَاتَ وَبَرَأتَ وَاحْتَرِسُ بِكَ مِنْهُمْ، وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَيْكَ، وَأُقَدِّمُ بَيْنَ يَدَيَّ فِي يَوْمِي هُذَا، وَلَيْلَتِي هَذِهِ، وَ سَاعَتِي هُذِهِ ، وَ شَهْرِي هَذَا .

আল্লাহুম্মা ইন্নি আস্তাজীরু বিকা, ওয়া আহতাজিবু বিকা মিন কুল্লি শাইইন খালাকতাহু, ওয়া আহতারিসু বিকা মিন জামি‘ই খালকিক, ওয়া কুল্লি মা যারাতা ওয়া বারাতা, ওয়া আহতারিসু বিকা মিনহুম, ওয়া উফাওয়্বিদু আমরি ইলাইকা, ওয়া উকাদ্দিমু বাইনা ইয়াদাইয়া ফি ইয়াওমি হাজা, ওয়া লাইলা তি হাজিহি, ওয়া সা‘আতি হাজিহি, ওয়া শাহরি হাজা।-

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ، اللَّهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدُ، وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ، عَنْ أَمَامِي.*
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ — ‘আন আমামি।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ، اللهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدُ، وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ، مِنْ خَلْفِي
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ — মিন খালফি।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ، عَنْ يَمِينِي
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ — ‘আন ইয়ামিনি।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ، اللَّهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ، عَنْ شِمَالِي
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ — ‘আন শিমালি।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ، اللَّهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لهُ كُفُوًا أَحَدٌ، مِنْ فَوْقِي
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ — মিন ফাওকি।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ، اللَّهُ الصَّمَدُ، لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ، وَلَمْ يَكُنْ لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ، مِنْ تَحْتِى.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। কুল হুয়াল্লাহু আহাদ, আল্লাহুস সামাদ, লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ — মিন তাহতি।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ ، لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ ، لَهُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ، وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا، وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ.

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম, লা তা’খুযুহু সিনাতুওঁ ওয়া লা নাওম, লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়া মা ফিল আরদ, মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইন্দাহু ইল্লা বিইযনিহি, ইয়ালামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়া মা খালফাহুম, ওয়া লা ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহি ইল্লা বিমা শা, ওয়াসি‘আ কুরসিয়্যুহুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া লা ইয়াউদুহু হিফযুহুমা, ওয়া হুয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আযীম।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ ، لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.(সাতবার)

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। শাহিদাল্লাহু আন্নাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, ওয়াল মালায়িকাতু ওয়া উলুল ‘ইলমি কায়িমান বিল কিস্ত, লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল ‘আজীযুল হাকীম। (৭ বার)

وَنَحْنُ عَلَى مَا قَالَ رَبُّنَا مِنَ الشَّاهِدِينَ.
ওয়া নাহনু ‘আলা মা ক্বালা রব্বুনা মিনাশ শাহিদিন।

فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ (সাতবার)

ফা ইন তাওয়াল্লাও ফাকুল হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম। (৭ বার)
জামেউল আহাদীস (সুয়ুতী) পৃ. ৩৫৯৫৩
ফযীলত

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যখন সাহাবীদেরকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে একজনের পর একজনকে শহীদ করে দিচ্ছিল। তখন আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে খতম করার নিমিত্বে পেয়াদা পাঠিয়েছিল। তিনি এই দু‘আ পড়ে দুশমনের ক্ষতি থেকে বড়ই আশ্চর্যকর ভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন।

১৮

মুমূর্ষু ব্যক্তির জন্য দু‘আ/রুক্বিয়্যাহ

১. সূরা ফাতেহা ৭বার
بِسۡمِ اللهِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِ
اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ‏ ﴿۱﴾ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ‏ ﴿۲﴾ مٰلِكِ يَوۡمِ الدِّيۡنِؕ‏ ﴿۳﴾ اِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَاِيَّاكَ نَسۡتَعِيۡنُؕ‏ ﴿۴﴾ اِهۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۙ‏ ﴿۵﴾ صِرَاطَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ ۙ‏ ﴿۶﴾ غَيۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا الضَّآلِّيۡنَ‏ ﴿۷﴾

২. সূরা আলাম নাশরাহ ৭বার
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ
اَلَمۡ نَشۡرَحۡ لَكَ صَدۡرَكَ ۙ ﴿۱﴾ وَوَضَعۡنَا عَنكَ وِزۡرَكَ ۙ ﴿۲﴾ الَّذِيۡۤ اَنۡقَضَ ظَهۡرَكَ ۙ ﴿۳﴾ وَرَفَعۡنَا لَكَ ذِكۡرَكَ ؕ ﴿۴﴾ فَاِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ يُسۡرًا ۙ ﴿۵﴾ اِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ يُسۡرًا ؕ ﴿۶﴾ فَاِذَا فَرَغۡتَ فَانۡصَبۡ ۙ ﴿۷﴾ وَاِلٰى رَبِّكَ فَارۡغَبۡ ﴿۸﴾

৩. সূরা কুরাইশ ৩বার
لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ ۙ ﴿۱﴾ إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ ۚ ﴿۲﴾ فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ ۙ ﴿۳﴾ الَّذِي أَطْعَمَهُمْ مِنْ جُوعٍ وَآمَنَهُمْ مِنْ خَوْفٍ ﴿۴﴾

৪. সূরা ফালাক ও সূরা নাস ৩বার ৩বার
ফালাক:
۞ قُلۡ اَعُوۡذُ بِرَبِّ الۡفَلَقِۙ‏ ﴿۱﴾ مِنۡ شَرِّ مَا خَلَقَۙ‏ ﴿۲﴾ وَمِنۡ شَرِّ غَاسِقٍ اِذَا وَقَبَۙ‏ ﴿۳﴾ وَمِنۡ شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِى الۡعُقَدِۙ‏ ﴿۴﴾ وَمِنۡ شَرِّ حَاسِدٍ اِذَا حَسَدَ‏ ﴿۵﴾
নাস:
قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ مَلِكِ النَّاسِ إِلَٰهِ النَّاسِ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ

৫. আয়াতে শেফা, প্রতি আয়াত ৩বার
۞ وَيَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِيْنَ
۞ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ وَهُدًى وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ
۞ وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ
۞ قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا هُدًى وَّشِفَاءٌ

৬. নয় সালাম, প্রতি আয়াত ৩বার
سَلَامٌ قَوْلًا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ ۝٥٨
سَلَامٌ عَلَىٰ نُوحٍ فِي الْعَالَمِينَ ۝٧٩
سَلَامٌ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ ۝١٠٩
سَلَامٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَارُونَ ۝١٢٠
سَلَامٌ عَلَىٰ إِلْ يَاسِينَ ۝١٣٠
سَلَامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ ۝٧٣
سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ۝٥
قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ ۝٦٩
وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسَلِينَ ۝١٨١
উচ্চারণ

১. বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন। আররাহমা-নির রাহীম। মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন। ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন। ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম। সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম । গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

২. আলাম নাশরাহলাকা সাদরাক।
ওয়া ওয়াদা‘না-‘আনকা বিঝরাক।
আল্লাযীআনকাদা জাহরাক।
ওয়া রাফা‘না-লাকা যিকরাক।
ফাইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-।
ইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-।
ফাইযা-ফারাগতা ফানসাব।
ওয়া ইলা- রাব্বিকা ফারগাব।

৩. লিঈলা-ফি কুরাইশ। ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশশিতাই ওয়াসসাঈফ। ফালইয়া‘বুদূ রাব্বা হা-যাল বাঈত। আল্লাযী আৎ‘আমাহুম মিন জূ‘ইওঁ ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।

৪.
ফালাক: (১)কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক (২) মিন শাররি মা-খালাক। (৩) ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব। (৪) ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ। (৫) ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

নাস: কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ, মালিকিন্না-ছ, ইলা-হিন্না-ছ। মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ। আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

৫. ১. ওয়া ইয়াশফি ছুদু-রা ক্বাওমিম মু’মিনি-ন। ২. ওয়া শিফাউ’ল লিমা- ফিচ্ছুদু-রি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনি-ন। ৩. ইয়াখরুঝু মিমবুতু-নিহা- শারা-বুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু- ফি-হি শিফা-উ লিন্না-সি। ৪. ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল ক্বুরআ’নি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনি-ন। ৫. ওয়া ইজা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফি-নি। ৬. কুল হুওয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাওঁ ওয়া শিফাউন।

৬. সালামুন কওলান মির রাব্বির রাহীম। (৫৮)
সালামুন আলা নূহিন ফিল ‘আলামীন। (৭৯)
সালামুন আলা ইবরাহীম। (১০৯)
সালামুন আলা মূসা ওয়া হারূন। (১২০)
সালামুন আলা ইল-ইয়াসীন। (১৩০)
সালামুন আলাইকুম তিবতুম ফাদখুলূহা খালিদীন। (৭৩)
সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলা‘ইল ফাজর। (৫)
কুলনা ইয়া নারু কূনী বারদান ওয়া সালামান আলা ইবরাহীম। (৬৯)
সালামুন আলাল-মুরসালীন। (১৮১)

অর্থ

১. শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (১) সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই, (২) যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু, (৩) কর্মফল দিবসের মালিক। (৪) আমরা শুধু তোমারই ‘ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, (৫) আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, (৬) তাদের পথ, যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, (৭) তাদের পথ নয় যারা ক্রোধ-নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।

২. (হে রাসূল!) আমি কি তোমার কল্যাণে তোমার বক্ষ খুলে দেইনি?
এবং আমি তোমার থেকে অপসারণ করেছি সেই ভার
যা তোমার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল
এবং আমি তোমার কল্যাণে তোমার চর্চাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।
প্রকৃতপক্ষে কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।
সুতরাং তুমি যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত কর।
এবং নিজ প্রতিপালকের প্রতিই মনোযোগী হও।

৩.যেহেতু কুরাইশের লোকেরা অভ্যস্ত। অর্থাৎ তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে (ইয়ামান ও শামে) সফর করতে অভ্যস্ত। তাই তারা যেন এই ঘরের মালিকের ইবাদত করে। যিনি তাদেরকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভয়-ভীতি হতে তাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন।

৪. ফালাক: (১) বল, আমি ভোরের মালিকের আশ্রয় গ্রহণ করছি (২) তিনি যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে (৩) এবং অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা ছেয়ে যায় (৪) এবং সেই সব ব্যক্তির অনিষ্ট হতে, যারা (তাগা বা সুতার) গিরায় ফুঁ দেয় (৫) এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।
নাস: (১) বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি সমস্ত মানুষের প্রতিপালকের (২) সমস্ত মানুষের অধিপতির (৩) সমস্ত মানুষের মাবূদের (৪) সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে পেছনে আত্মগোপন করে (৫) যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, (৬) সে জিনদের মধ্য হতে হোক বা মানুষের মধ্য হতে।

৫. ১. এবং আল্লাহ মু’মিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন। ২. এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। ৩. তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। ৪. আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। ৫. এবং যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন ৬. বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার

৬. পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে—‘সালাম।’ (৫৮)
সকল জগতের মধ্যে নূহের প্রতি সালাম। (৭৯)
ইবরাহীমের প্রতি সালাম। (১০৯)
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম। (১২০)
ইলিয়াসের প্রতি সালাম। (১৩০)
তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা পবিত্র ছিলে। সুতরাং তোমরা তাতে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো। (৭৩)
এটি ফজরের উদয় পর্যন্ত শান্তিময়। (৫)
আমি বললাম, ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও।’ (৬৯)
রাসূলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। (১৮১)

১. সূরা ফাতেহা
২. সূরা আলাম নাশরাহ
৩. সূরা কুরাইশ
৪. সূরা ফালাক ও সূরা নাস
৫. আয়াতে শেফা
* সূরা আত-তাওবা, ৯:১৪
* সূরা ইউনুস, ১০:৫৭
* সূরা আন-নাহল, ১৬:৬৯
* সূরা আল-ইসরা, ১৭:৮২
* সূরা আশ-শু‘আরা, ২৬:৮০
* সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৪৪
৬. নয় সালাম
* সূরা ইয়াসীন, ৩৬:৫৮
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:৭৯
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১০৯
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১২০
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১৩০
* সূরা আয-যুমার, ৩৯:৭৩
* সূরা আল-কদর, ৯৭:৫
* সূরা আল-আম্বিয়া, ২১:৬৯
* সূরা আস-সাফফাত, ৩৭:১৮১
ফযীলত

এটি আল্লাহ ওয়ালা বুজুর্গদের মুজাররাব আমল। আমলওয়ালা কোন আলেমকে দিয়ে আমল করিয়ে উক্ত পানিতে দম করে পান করানো হলে রূগি ইনশাআল্লাহ আরোগ্য লাভ করবে।

নিজে নিজে করতে চাইলে শুরুতে ইস্তেগফার ও দরূদের মাধ্যমে শুরু করা উচিত।

তথ্যসূত্র: null