রুক্বিয়্যার দু'আ সমূহের অধ্যায় (কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত
১৮টি দু‘আ
অধ্যায় পরিচিতি
জ্বীনের আসর ও বান কাকে বলে?
مس الجن /صرع الجن
১. জ্বিনের আসর বলতে সাধারণত এমন অবস্থাকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো জ্বিন আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বা তাকে কষ্ট দেয়। ইসলামী পরিভাষায় একে صرع الجن (জ্বিনের কারণে আক্রান্ত হওয়া) বা مس الجن (জ্বিনের স্পর্শ) বলা হয়।
কুরআন ও সুন্নাহ থেকে প্রমাণিত যে, জ্বিন মানুষের ওপর কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
اَلَّذِیۡنَ یَاۡکُلُوۡنَ الرِّبٰوا لَا یَقُوۡمُوۡنَ اِلَّا کَمَا یَقُوۡمُ الَّذِیۡ یَتَخَبَّطُہُ الشَّیۡطٰنُ مِنَ الۡمَسِّ
যারা সুদ খায়, (কিয়ামতের দিন) তারা সেই ব্যক্তির মত উঠবে, শয়তান যাকে স্পর্শ দ্বারা পাগল বানিয়ে দিয়েছে।
বাকারা, ২৭৫।
২. বান কী?
'বান' শব্দটি কুরআন-হাদীস বা প্রাচীন ফিকহের পরিভাষা নয়; এটি বাংলা সমাজে প্রচলিত একটি লোকজ শব্দ। সাধারণত কারও ক্ষতি, বিচ্ছেদ, অসুস্থতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে জাদু (السحر) করা হলে মানুষ তাকে "বান মারা" বলে থাকে।
অর্থাৎ শরয়ী দৃষ্টিতে 'বান' বলতে স্বতন্ত্র কোনো বিষয় নয়; বরং এটি জাদুরই একটি প্রচলিত নাম বা ধরন।
فَیَتَعَلَّمُوۡنَ مِنۡہُمَا مَا یُفَرِّقُوۡنَ بِہٖ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَزَوۡجِہٖ
তারা তাদের থেকে এমন জিনিস শিক্ষা করত, যা দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত
সুরা বাকারা, আয়াত ১০২।
তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন:
হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের আমলে কিছু শয়তান, যাদের মধ্যে জিন ও মানুষ উভয়ই থাকতে পারে, কতক ইয়াহুদীকে ফুসলানি দিল যে, হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের রাজত্বের (খৃস্টপূর্ব ৯৯০-৯৩০) সকল রহস্য যাদুর মধ্যে নিহিত। তোমরা যদি যাদু শিক্ষা কর, তবে তোমাদেরও বিস্ময়কর ক্ষমতা অর্জিত হবে। সুতরাং তারা যাদুর তালীম নিতে ও তা কাজে লাগাতে শুরু করে দিল। অথচ যাদু শেখা যে কেবল অবৈধ ছিল তাই নয়, বরং তার কোনও কোনও পদ্ধতি ছিল কুফরী পর্যায়ের। ইয়াহুদীরা দ্বিতীয় মহাপাপ করেছিল এই যে, তারা খোদ হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামকেই একজন যাদুকর সাব্যস্ত করেছিল এবং তাঁর সম্পর্কে প্রচার করেছিল, তিনি শেষ জীবনে মূর্তিপূজা শুরু করে দিয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে এসব অপবাদমূলক কাহিনী তারা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহেও জুড়ে দিয়েছিল, যা বাইবেলে আজও পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। বাইবেলে এখনও পর্যন্ত তাঁর মুরতাদ হওয়ার বিবরণ বিদ্যমান (দ্র. ১-বাদশানামা ১১:১-২১)। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক। কুরআন মাজীদের এ আয়াতে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি আরোপিত এ ন্যাক্কারজনক অপবাদকে খণ্ডন করা হয়েছে। এর দ্বারা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, কুরআন মাজীদ সম্পর্কে যারা অপবাদ দিত যে, ‘এটা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের কিতাব থেকে আহরিত’, তাদের সে অপবাদ কতটা মিথ্যা! এ স্থলে কুরআন মাজীদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইয়াহুদী ও নাসারাদের কিতাবসমূহকে রদ করছে। সত্য কথা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এমন কোনও মাধ্যম ছিল না, যা দ্বারা তিনি নিজে ইয়াহুদীদের কিতাবে কী লেখা আছে তা জেনে নেবেন। এটা জানার জন্য তাঁর কাছে কেবল ওহীরই সূত্র ছিল। সুতরাং এ আয়াত তাঁর ওহীপ্রাপ্ত নবী হওয়ার সুস্পষ্ট দলীল। এর দ্বারা তিনি ইয়াহুদীদের কিতাবে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি কি ধরনের অপবাদ আরোপ করা হয়েছে সে কথা জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং অতি দৃঢ়তার সাথে তা খণ্ডনও করেছেন।
আরও পড়ুন
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
সব অসুস্থতা, মানসিক সমস্যা বা অস্বাভাবিক আচরণকে জ্বিনের আসর বা জাদু/বান বলে ধরে নেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
অনেক রোগের শারীরিক, মানসিক বা স্নায়বিক কারণ থাকে। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা উচিত।
জ্বিন, জাদু বা বদনজরের ব্যাপারে অতিরঞ্জন, কুসংস্কার এবং ভিত্তিহীন দাবি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
(৫৪) নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক সেই আল্লাহ, যিনি সমস্ত আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনি আরশে ইস্তিওয়া গ্রহণ করেন। তিনি দিনকে রাতের দ্বারা ঢেকে দেন, যা দ্রুতগতিতে ধাবিত হয়ে তাকে ধরে ফেলে। এবং সূর্য, চন্দ্র ও তারকারাজি (সৃষ্টি করেছেন), যা সবই তাঁরই আজ্ঞাধীন। স্মরণ রেখ, সৃষ্টি ও আদেশ দান তাঁরই কাজ। আল্লাহ অতি বরকতময়, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
(৫৫) তোমরা বিনীতভাবে ও চুপিসারে নিজেদের প্রতিপালককে ডাক। নিশ্চয়ই তিনি সীমালংঘন-কারীদেরকে পছন্দ করেন না।
(৫৬) এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার পর তাতে অশান্তি বিস্তার করো না এবং (অন্তরে তাঁর) ভয় ও আশা রেখে তাঁর ইবাদত কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।
(১১৫) তবে কি তোমরা মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অহেতুক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?
(১১৬) অতি মহিমাময় আল্লাহ, যিনি প্রকৃত বাদশাহ। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। তিনি সম্মানিত আরশের মালিক।
(১১৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদকে ডাকে, যে সম্পর্কে তার কাছে কোন রকম দলীল-প্রমাণ নেই, তার হিসাব তার প্রতিপালকের নিকট আছে। জেনে রেখ, কাফেরগণ সফলকাম হতে পারে না।
(১১৮) (হে রাসূল!) বল, হে আমার প্রতিপালক, আমার ত্রুটিসমূহ ক্ষমা কর ও দয়া কর। তুমি দয়ালুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়ালু।
(১) শপথ তাদের, যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ায়।
(২) তারপর তাদের, যারা কঠোরভাবে বাধা প্রদান করে।
(৩) তারপর তাদের, যারা ‘যিকর’-এর তেলাওয়াত করে।
(৪) নিশ্চয়ই তোমাদের মাবুদ একই।
(৫) যিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এর মধ্যবর্তী সমস্ত কিছুর মালিক এবং তিনি মালিক নক্ষত্ররাজি উদয়স্থলেরও।
(৬) নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী আকাশকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করেছি (বিভিন্ন) নকশা দ্বারা অর্থাৎ নক্ষত্রমণ্ডলী দ্বারা।
(৭) এবং প্রত্যেক দুষ্ট (শয়তান) থেকে হেফাজতের মাধ্যম বানিয়েছি। (৮) তারা ঊর্ধ্ব জগতের কথাবার্তা শুনতে পারে না এবং সকল দিক থেকে তাদের উপর মার আসে।
(৯) তাদেরকে করা হয় বিতাড়িত এবং (আখেরাতে) তাদের জন্য আছে স্থায়ী শাস্তি।
(১০) তবে কেউ কোন কিছু ছোঁ মেরে নিয়ে যেতে চাইলে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
(১১) সুতরাং তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) জিজ্ঞেস কর, তাদেরকে সৃষ্টি করা বেশি কঠিন, না আমার অন্যান্য মাখলুককে? আমি তো তাদেরকে সৃষ্টি করেছি আঠাল কাদা হতে।
(৩৩) হে মানুষ ও জিন্ন সম্প্রদায়! তোমাদের যদি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা অতিক্রম করার সামর্থ্য থাকে, তবে তা অতিক্রম কর। তোমরা প্রচণ্ড শক্তি ছাড়া তা অতিক্রম করতে পারবে না।
(৩৪) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
(৩৫) তোমাদের উপর ছেড়ে দেওয়া হবে আগুনের শিখা এবং তাম্রবর্ণের ধোঁয়া। তখন তোমরা পারবে না আত্মরক্ষা করতে।
(৩৬) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
(৩৭) (সেই সময় অবশ্যম্ভাবী) যখন আকাশ ফেটে যাবে এবং তা লাল চামড়ার মত লাল-গোলাপী হয়ে যাবে।
(৩৮) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
(৩৯) সেই দিন না কোন মানুষকে তার অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে, না কোন জিন্নকে।
(৪০) সুতরাং তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নি‘আমতকে অস্বীকার করবে?
আমি আল্লাহ ও তাঁর কুদরতের কাছে আশ্রয় নিচ্ছি আমি যা অনুভব করছি এবং ভয় করছি তার অকল্যাণ থেকে।
ফযীলত
হযরত ওসমান ইবনে আবুল আস (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, একবার তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট একটি বেদনার অভিযোগ করলেন, যা তিনি তার শরীরে অনুভব করছিলেন। রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি তোমার শরীরের সে জায়গায় হাত রাখ, যে জায়গায় বেদনা হচ্ছে এবং তিনবার বল, 'বিসমিল্লাহ্' আর সাতবার উক্ত দু‘আ পাঠ কর। ওসমান বলেন, আমি তা করলাম; ফলে আল্লাহ্ আমার শরীরে যা ছিল তা দূর করে দিলেন।
দূ‘আ তিনবার বা সাতবার অথবা সম্ভব হলে এর থেকে অধিকও পড়া।
بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُّؤْذِيْكَ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اَللّٰهُ يَشْفِيْكَ، بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ
অর্থ: আমি আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি, সেই সব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদ নজর থেকে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিক; আমি আল্লাহর নামে রুকইয়াহ করছি।
بِسْمِ اللّٰه ِالَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهٖ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ العَلِيْمُ
অর্থ: আল্লাহ্র নামে; যাঁর নামের সাথে আসমান ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। আর তিনি সর্বশ্রোতা, মহাজ্ঞানী।
بِاسْمِ اللّٰهِ يُبْرِيْكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَّشْفِيْكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِيْ عَيْنٍ
অর্থ: আল্লাহর নামে (রুকইয়াহ করছি), তিনি আপনাকে মুক্ত করবেন এবং তিনিই প্রত্যেক রোগ থেকে আপনাকে আরোগ্য দিবেন। আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে এবং সকল বদনজরদাতার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুক।
بِسْمِ اللّٰهِ ، أَعُوْذُ بِعِزَّةِ اللّٰهِ وَقُدْرَتِهٖ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ
অর্থ: আল্লাহর নামে আমি আল্লাহর সম্মান এবং তাঁর ক্ষমতার আশ্রয় নিচ্ছি, যা আমি অনুভব করি এবং যা আশঙ্কা করি, তার অকল্যাণ থেকে।
اَللّٰهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَاسَ اِشْفِ وَأَنْتَ الشَّافِيْ لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَّا يُغَادِرُ سَقَمًا
অর্থ: হে আল্লাহ! মানুষের পালনকর্তা, যন্ত্রণা নিবারণ করুন, সুস্থতা দান করুন, আপনিই সুস্থতা প্রদানকারী, আপনার দেয়া সুস্থতাই প্রকৃত সুস্থতা, এমন সুস্থতা দান করুন যাতে কোন রোগই বাকি না থাকে।
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّةِ ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَّامَّةٍ
অর্থ: আমরা আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যাবলীর দ্বারা প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশকারী বিষাক্ত জীব এবং অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
أَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللّٰهِ التَّامَّاتِ مِنْ شرِّ مَا خَلَقَ
অর্থ: আল্লাহ্র পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আমি তাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই।
أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيْمَ، رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، أَنْ يَّشْفِيَكَ
অর্থ: আমি মহান আল্লাহ্র কাছে চাচ্ছি, যিনি মহান আরশের রব, তিনি যেন আপনাকে রোগমুক্তি প্রদান করেন।
বদনজর সত্য, এবং বদনজরের ফলে একজন সুস্থ ব্যক্তি মৃত্যু পর্যন্তও চলে যেতে পারেন। বদনজর যে কারো থেকে লাগতে পারে, সন্তানের উপর মা বাবার, স্ত্রীর উপর স্বামীর। বা বন্ধুবান্ধব, অপরিচিত ব্যক্তি থেকেও হতে পারে। অর্থাৎ অমুক আমাকে হিংসে করে না, আমাকে পছন্দ করে তাই আমার ভাল কোনো কিছুতে তার নজর লাগবে না, বদনজরের ক্ষেত্রে এমন কোনো শত নেই। যে কারো থেকে বদনজর লাগতে পারে। বদনজর শুধু মানুষের উপর নয়, বরং ব্যবসাবাণিজ্য, সম্পদ, ফসল বা যে কোনো বস্তুর উপর লাগতে পারে। সাধারণত ব্যক্তি বুঝতে পারে, তার ঠিক কোন বিষয়টার উপর নজর লেগেছে। কারণ নজর লাগার পর সেই নির্দিষ্ট বিষয়টি আর আগের মত থাকে না। যেমন কারো মজাদার রান্নার উপর নজর লাগলো, দেখা যাচ্ছে তার রান্না আর মজা হচ্ছে না। কিংবা কেউ পড়াশোনায় খুব ভাল ছিল, এখন আর ভাল নেই। কেউ ব্যবসায় লাভবান ছিল অথচ এখন ব্যবসা দিনদিন লসের দিকে যাচ্ছে। এ ছাড়াও আরও অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে।
লক্ষণ:
ব্যক্তির অলসতা কাজ করবে সব কিছুতে, ঘুমঘুম লাগবে, শরীরে জ্বর জ্বর ভাব থাকবে, মন মেজাজ খারাপ থাকবে, নানান অসুখবিসুখ লেগে থাকবে, কোনো কাজে মন বসবে না, নির্দিষ্ট কিছু কাজ বারবার নষ্ট হতে থাকবে ইত্যাদি। এই ক্ষেত্রে রুকইয়াহ দুই রকম হতে পারে।
করণীয়:
১. নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়।
২. নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না।
নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায়
যদি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় তবে নজর কাটাতে কষ্ট কম হয়। এক্ষেত্রে ব্যক্তির অজু করা পানি জমিয়ে রেখে তা রোগীর গায়ে ঢেলে দিতে হবে। কিংবা ব্যক্তির খেয়ে রাখা প্লেট, গ্লাস, চামচ ধুয়ে সেই পানি রোগীর গায়ে ঢেলে দিবে। এতে করে ইনশাআল্লাহ নজর কেটে যাবে।
নজরকারী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যায় না:
যদি চিহ্নিত করা না যায় তবে নিচের সূরা ও দু‘আ পড়ে রোগীকে ফুঁ দিতে হবে। এক বোতল পানি রাখবেন, তাতেও ফুঁ দিবেন এবং রোগীকে পান করাবেন ও মাথায় মুখে শরীরে ছিটিয়ে দিবেন। আয়াতগুলোর অডিও রোগী নিয়মিত শুনবেন এবং নিজেও তিলাওয়াত করবেন।
সম্ভাব্য লক্ষণ:
যদি কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে জাদুর শিকার হয়ে থাকেন, তবে অনেক সময় সেই বিষয়টি ধীরে ধীরে অবনতির দিকে যেতে পারে। যেমন, বিয়ে বারবার ভেঙে যাওয়া বা না হওয়া, স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে অকারণে তীব্র অশান্তি সৃষ্টি হওয়া, ব্যবসায় ধারাবাহিক লোকসান ইত্যাদি। এর পাশাপাশি বদনজরের কিছু লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
এছাড়াও কিছু সাধারণ লক্ষণ হতে পারে, যেমন,
১. বারবার ভয়ংকর বা অস্বাভাবিক দুঃস্বপ্ন দেখা (যেমন ঘন অন্ধকার বন-জঙ্গলে দৌড়ানো, হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের শিকার হওয়া ইত্যাদি)।
২. বুক, পেট বা পিঠে অকারণ ব্যথা অনুভব করা।
৩. ঘন ঘন মাথাব্যথা হওয়া।
৪. একাকীত্ব বা অস্বস্তি অনুভব করা।
৫. ঠিকমতো ঘুম না হওয়া বা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো।
দ্রষ্টব্য: উপরোক্ত লক্ষণগুলোর এক বা একাধিক থাকলেই জাদু বা বদনজর হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া সঠিক নয়। এগুলো বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক কারণেও হতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ অব্যাহত রাখা উচিত।
করণীয়:
রুকইয়াহর জন্য নির্ধারিত আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে রোগীর ওপর ফুঁ দিন। একইভাবে পানি, মধু এবং কালোজিরা বা জাইতুনের তেলের ওপরও ফুঁ দিন। এরপর রোগী নিয়মিত,
১. রুকইয়াহর আয়াতগুলোর অডিও শুনবেন।
২. নিজে তিলাওয়াত করার চেষ্টা করবেন।
৩. ফুঁ দেওয়া পানি পান করবেন এবং তা দিয়ে গোসল করবেন।
৪. ফুঁ দেওয়া তেল শরীরে ব্যবহার করবেন।
৫. ফুঁ দেওয়া মধু সেবন করবেন।
তিলাওয়াতের সংখ্যা:
রুকইয়াহর আয়াতগুলো তিনবার, সাতবার অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী এর চেয়েও বেশি সংখ্যক বার পড়া যেতে পারে।
তাবিজ বা জাদুর বস্তু নষ্ট করার পদ্ধতি:
উপরোক্ত আয়াত ও সূরাগুলো তিলাওয়াত করে একটি পাত্রের পানিতে ফুঁ দিন। এরপর যে তাবিজ বা জাদুর বস্তু পাওয়া গেছে, তা খুলে বা ভেঙে ওই পানিতে কিছুক্ষণ চুবিয়ে রাখুন। তারপর পানি থেকে তুলে সম্পূর্ণরূপে পুড়িয়ে ফেলুন। এভাবে আল্লাহর ইচ্ছায় জাদুর প্রভাব নষ্ট হওয়ার আশা করা যায়।
সহবাসের সময় এই দু‘আ পড়বে
بِسْمِ اللهِ ، اللهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
‘হে আল্লাহ! তোমার নামে আরম্ভ করছি। তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখো। আমাদের যে সন্তান দান করবে (এ মিলনের ফলে) তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখো।’
সমস্যা
স্বামী-স্ত্রী উভয়েই শারীরিকভাবে সুস্থ, সন্তান ধারণে সক্ষম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষায় কোনো সমস্যা ধরা না পড়লেও দীর্ঘদিন সন্তান না হলে শরয়ী রুকইয়াহ করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সব ক্ষেত্রে জাদু, জ্বিন বা বদনজরই কারণ নয়। অনেক সময় সবকিছু স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও আল্লাহ তাআলা তাঁর হিকমত অনুযায়ী সন্তান দান বিলম্বিত করেন।
সম্ভাব্য লক্ষণ:
* দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পরও সন্তান না হওয়া।
* গর্ভধারণ হলেও বারবার অল্প সময়ের মধ্যে গর্ভপাত হয়ে যাওয়া।
* অকারণ মানসিক অশান্তি বা অস্থিরতা অনুভব করা।
* অহেতুক কান্না পাওয়া।
* তলপেট বা কোমরে ব্যথা অনুভব করা।
* বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা।
দ্রষ্টব্য: এসব লক্ষণ থাকলেই জাদু বা জ্বিনের প্রভাব রয়েছে,এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা উচিত।
রুকইয়াহ:
প্রথমে জাদুর রুকইয়াহ নিয়মিত করুন। যদি দীর্ঘদিন রুকইয়াহ করার পরও কোনো উপকার না হয় এবং জ্বিনের প্রভাবের শক্তিশালী আলামত বিদ্যমান থাকে, তাহলে অভিজ্ঞ ও শরয়ী নীতিমালা অনুসরণকারী কোনো রাকির মাধ্যমে রুকইয়াহ করানো যেতে পারে। আল্লাহ তাআলা চাইলে এর মাধ্যমে জাদু বা জ্বিনজনিত সমস্যা দূর হতে পারে। ইনশাআল্লাহ।
সমস্যা:
কোনো শিক্ষার্থী পূর্বে মনোযোগী ও মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও হঠাৎ করে পড়াশোনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। পড়ায় মন বসে না, পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যায় বা পড়তে একেবারেই ভালো লাগে না।
সম্ভাব্য লক্ষণ
১. পরীক্ষার আগে বারবার অসুস্থ হয়ে পড়া।
২. আগের মতো পড়া সহজে মুখস্থ না হওয়া।
৩. পড়া দ্রুত ভুলে যাওয়া।
৪. আনমনা ও অমনোযোগী থাকা।
৫.অস্থির বা অধৈর্য হয়ে পড়া।
৬. নিজের পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত বিষয়ের প্রতি উদাসীন হয়ে যাওয়া।
৭.ঘুমের অনিয়ম বা পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া।
দ্রষ্টব্য: এসব লক্ষণ থাকলেই বদনজর বা জাদুর প্রভাব রয়েছে, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অনেক সময় শারীরিক, মানসিক বা শিক্ষাবিষয়ক অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে। তাই প্রয়োজনে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করাও জরুরি।
রুকইয়াহর করণীয়:
১. সর্বপ্রথম বদনজরের রুকইয়াহ করা হবে।
২. নিয়মিত রুকইয়াহ করার পরও যদি উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হয় এবং জাদুর যথেষ্ট আলামত বিদ্যমান থাকে, তাহলে জাদুর রুকইয়াহ করা হবে।
ফযীলত
১নং পরামর্শ:
পড়ালেখা করতে ইচ্ছা করে না কেন? নিশ্চয়ই কোনো কারণ আছে। অন্যান্য ব্যস্ততা কিংবা দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনা। যদি প্রথম কারণ হয় তাহলে সেসব অবশ্যই পরিত্যাগ করতে হবে। পড়ালেখার জন্য একনিষ্ঠতা অপরিহার্য। অন্য সকল ব্যস্ততা পরিহার করলে ইনশাআল্লাহ মন বসতে থাকবে। আর যদি দুশ্চিন্তা-দুর্ভাবনার কারণে পড়ালেখার প্রতি মনোনিবেশ করতে না পারো তাহলে তার চিকিৎসা এই যে, আল্লাহর কাছে দোয়া কর।। নিজেকে ও নিজের সকল বিষয়কে আল্লাহ তাআলার কাছে সোপর্দ করে ভারমুক্ত হও এবং পড়াশোনায় মগ্ন হয়ে যাও। নিম্নের দোয়াটি মুখস্থ করে মাঝে মাঝে পড়বে–
মনে রাখবে, মন বসে না বলে বসে থাকা রোগবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা ছাড়া আর কিছুই নয়। মন বসে না-এই ওয়াসওয়াসাই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলো। মন বসালেই বসবে, জোর করে কাজে লেগে গেলেই মন বসবে। এজন্য ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজে লেগে যাও।
দুই- আর মুখস্থশক্তি বৃদ্ধির জন্য তোমার প্রতি পরামর্শ হল-
১। গুনাহ থেকে দূরে থাকবে। কারণ গুনাহর কারণে মুখস্থশক্তিতে দুর্বলতা আসে।
খতীব আল-জামে নামক গ্রন্থে (২/৩৮৭) ইয়াইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেন যে, এক লোক মালেক বিন আনাসকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! মুখস্তশক্তি বাড়ানোর কোন কিছু আছে কি? তিনি বলেন: যদি কোন কিছু থাকে তাহলে সেটা হল: গুনাহ পরিত্যাগ করা। যখন কোন মানুষ গুনাহ করে তখন এ গুনাহটি তাকে ঘিরে রাখে এবং গুনাহর ফলে তাকে দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা পেয়ে বসে। সে গুনাহর কারণে তার চিন্তাধারা মশগুল হয়ে থাকে। এভাবে এ দুশ্চিন্তা তার অনুভূতির উপর আধিপত্য বিস্তার করে থাকে এবং তাকে অনেক কল্যাণকর কাজ থেকে দূরে রাখে। এর মধ্যে মুখস্থশক্তি অন্যতম।
গুনাহ ত্যাগ করার কৌশল জানতে হলে পড়ে নাও–জিজ্ঞাসা নং–১২৪
২। অধিক হারে আল্লাহর যিকির করবে। যেমন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ইত্যাদি পড়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: واذكر ربك إذا نسيت“যখন ভুলে যান তখন আল্লাহর যিকির করুন”। (সূরা কাহাফ: ২৪)
৩। কোন কোন আলেম এমন কিছু খাবারের কথা উল্লেখ করেছেন যেগুলো মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি করে। যেমন- মধু ও কিসমিস খাওয়া।
ইমাম যুহরী বলেন: তুমি মধু খাবে; কারণ এটি স্মৃতিশক্তির জন্য ভাল।
তিনি আরও বলেন: যে হাদিস মুখস্ত করতে চায় সে যেন কিসমিস খায়। (খতীব আল-বাগদাদীর ‘আল-জামে’ ২/৩৯৪)
আলেমগণ আরও বলেন: অম্লজাতীয় খাবার স্মৃতিশক্তির জড়তা ও মুখস্থশক্তির দুর্বলতা বাড়ায়।
৫। মুখস্থশক্তি বৃদ্ধি ও ভুলে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে আরও যে জিনিসটি সাহায্য করে সেটি হচ্ছে- মাথায় শিংগা লাগানো। এটি পরীক্ষিত। (আরও বিস্তারিত জানতে ইবনুল কাইয়্যেম এর ‘আততিব্ব আন-নাবাবি’ পড়)।
২নং পরামর্শ:
পড়াশোনায় ও ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগ নিবদ্ধ করার জন্য সর্বপ্রথম পরামর্শ হলো, যে বিষয়টি অর্জন করতে চাচ্ছেন তার প্রতি একনিষ্ঠ হোন। বিভিন্নমুখী চিন্তা, কার্যক্রম, পদক্ষেপ, মন-মানসিকতা ও জেহেনকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়। তাই পড়াশুনায় মনোযোগ আনতে চাইলে পড়াশোনার প্রতি আত্মনিয়োগ করুন।
যাবতীয় গুনাহ পরিত্যাগ করুন। বিশেষ করে চোখের গুনাহ থেকে অবশ্যই নিজেকে পরিপূর্ণ হেফাজত করুন। প্রতিদিন কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করুন। বেশি বেশি দুরুদ শরীফ পড়ুন। আরো পড়ুন-
ربي يسر ولا تعسر وتمم علينا بالخير وبك نستعين يا مستعان.
সমস্যা
ঋতুস্রাব তিন দিনের কম বা দশ দিনের বেশি স্থায়ী হওয়া, এক মাসে একাধিকবার ঋতুস্রাব হওয়া অথবা কয়েক মাস পর পর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকা।
সম্ভাব্য লক্ষণ
১. মাসের পর মাস অস্বাভাবিকভাবে স্রাব চলতে থাকা।
২. বয়স উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।
৩. ঋতুস্রাব চলাকালে তলপেটে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভব করা।
৪. ঋতুস্রাব বন্ধ থাকাকালে অতিরিক্ত সাদা স্রাব হওয়া।
৫. অনিদ্রা, দুঃস্বপ্ন দেখা বা ঘুমের মধ্যে বোবা ধরা।
দ্রষ্টব্য: এসব লক্ষণ থাকলেই জ্বিন, জাদু বা অন্য কোনো অদৃশ্য কারণ রয়েছে, এমনটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বিভিন্ন শারীরিক বা হরমোনজনিত সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহ করা যেতে পারে।
রুকইয়াহর করণীয়
প্রথমে জ্বিনের প্রভাব আছে কি না তা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে জ্বিনের রুকইয়াহ করা হবে। যদি রুকইয়াহ চলাকালে জ্বিন প্রকাশ পায়, তাহলে পূর্বে বর্ণিত শরয়ী পদ্ধতিতে তাকে বিদায় করার চেষ্টা করা হবে।
আর যদি জ্বিনের কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পায়, তাহলে দুটি বোতল পানির ওপর নির্ধারিত সূরা ও আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে ফুঁ দিতে হবে। একটি বোতলের পানিতে মধু মিশিয়ে রোগী পান করবেন এবং অন্য বোতলের পানি দিয়ে গোসল করবেন।
ফযীলত
অনিয়মিত ঋতুস্রাব (মাসিক) ও বেদনার চিকিৎসা:
যদি কোন স্ত্রীলোকের মাসিক রীতিমতো না হয়, যার কারণে ব্যথায় কষ্ট পায়, তাকে নিম্নবর্ণিত কুরআনুল কারীমের আয়াত তিনটি কোন আল্লাহ ওয়ালা মুত্তাকী আলিম এর মাধ্যমে লিখে কোমরে বেঁধে দিবে। এমন ভাবে বাঁধতে হবে, যেন তাবিজ জরায়ুর উপরে থাকে। ইনশাআল্লাহ আরোগ্য লাভ করবে।
আয়াত তিনটি এই :
وَجَعَلۡنَا فِیۡہَا جَنّٰتٍ مِّنۡ نَّخِیۡلٍ وَّاَعۡنَابٍ وَّفَجَّرۡنَا فِیۡہَا مِنَ الۡعُیُوۡنِ ۙ
এতে আমি সৃষ্টি করি খর্জুর ও আঙুরের উদ্যান এবং এতে উৎসারিত করি প্রস্রবণ,
—ইয়াসীন - ৩৪
لِیَاۡکُلُوۡا مِنۡ ثَمَرِہٖ ۙ وَمَا عَمِلَتۡہُ اَیۡدِیۡہِمۡ ؕ اَفَلَا یَشۡکُرُوۡنَ
যাতে এরা আহার করতে পারে এর ফলমূল হতে, অথচ এদের হস্ত তা সৃষ্টি করে নাই। তবুও কি এরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না ?
—ইয়াসীন - ৩৫
اَوَلَمۡ یَرَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ کَانَتَا رَتۡقًا فَفَتَقۡنٰہُمَا ؕ وَجَعَلۡنَا مِنَ الۡمَآءِ کُلَّ شَیۡءٍ حَیٍّ ؕ اَفَلَا یُؤۡمِنُوۡنَ
যারা কুফরী করে তারা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী মিশে ছিল ওতপ্রোতভাবে, এরপর আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম ; এবং প্রাণবান সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলাম পানি হতে; তবু কি এরা ঈমান আনবে না ?
—আল আম্বিয়া - ৩০
সমস্যা:
এই সমস্যা দুই কারণে হতে পারে। এক: জাদুর জন্য। দুই: বিশেষ কোনো রোগ বা শারীরিক সমস্যা। যদি জাদুর কারণে হয়ে থাকে তবে সহবাসের সময় মেয়েরা অনুভূতিহীন জড়বস্তুর মত হয়ে যায়, এবং ছেলেদের যৌনাঙ্গ সব সময় ঠিক থাকলেও সহবাসের সময় অক্ষম হয়ে পড়ে।
লক্ষণ:
বিয়ের আগে সুস্থ থাকলেও বিয়ের পর যৌনমিলনে অক্ষম হয়ে যাওয়া, সহবাসে অনীহা কাজ করা, অনুভূতি হারিয়ে ফেলা। সহবাসের সময় একে অপরকে বাধা দেয়া বা সহবাস করতে বিরক্ত লাগা, জরায়ু থেকে রক্ত বের হওয়া ইত্যাদি।
রুকইয়াহ:
জ্বিনের আসর বা তাবিজ করা হয়েছে কিনা তা বুঝতে জ্বিনের রুকইয়াহ করবে। জিনের আসর না থাকলে যদি
জাদুর লক্ষণ প্রকাশ পায় যেমনঃ পেট ব্যথা, ঘাড়-পিঠ ব্যথা, কান্না পাওয়া ইত্যাদি তবে বুঝবে জ্বিন দ্বারা জাদু করা হয়নি। তখন নিম্নোক্ত সুরা পড়ে রুকইয়াহ করবে ও পানিতে ফুঁ দিয়ে তা রোগী পান করবে এবং গোসল করবে।
আমলের মাধ্যমে রুকইয়া করতে চাইলে 👇
https://muslimbangla.com/masail/6657
যে সমস্যার জন্য রুকইয়া করবেন:
চুলকানো,পানি পড়া, চোখ ওঠা ইত্যাদি।
আক্রান্ত চোখ ভাল করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিবেন। এরপর উপরের আয়াতগুলো পড়ে হাত মুখের সামনে নিয়ে এমনভাবে ফুঁ দিবেন যেন চোখে বাতাস লাগে।
যদি উপরোক্ত কোন সমস্যা না থাকে অর্থাৎ জন্মগত নয় বরং সবসময় সুন্দর করে কথা বলতো এবং হঠাৎ করে তোতলামো শুরু করলো বা কথা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে তাহলে বদনজরের রুকইয়াহ করবে।
সমস্যা:
মুখের জড়তা বা তোতলামি বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এর মধ্যে জন্মগত শারীরিক ত্রুটি, স্নায়বিক বা ভাষাগত সমস্যা অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে বদনজরের প্রভাবের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
জন্মগতভাবে কিছু শিশুর জিহ্বার নিচের অংশ অতিরিক্ত সংযুক্ত (Tongue-tie) থাকায় জিহ্বা স্বাভাবিকভাবে নাড়াতে বা বের করতে পারে না। এর ফলে কথা বলতে অসুবিধা বা তোতলামি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যার চিকিৎসা রয়েছে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তা সংশোধন করা যায়। চিকিৎসার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহও করা যেতে পারে।
রুকইয়াহ:
প্রতিটি ফরজ নামাজের পর নির্ধারিত আয়াত ও সূরাগুলো নিয়মিত তিলাওয়াত করুন। আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে শিফা কামনা করুন এবং নিয়মিত এ আমল অব্যাহত রাখুন।
সমস্যা:
কখনো কখনো হঠাৎ হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায়, কাশতে কাশতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি হয়, অনবরত হাঁচি হতে থাকে বা চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এমন সময় ওষুধ হাতের কাছে নাও থাকতে পারে, অথবা রোজা অবস্থায় থাকায় ইনহেলার বা অন্য ওষুধ ব্যবহার করতে অসুবিধা হতে পারে। এ অবস্থায় চিকিৎসার পাশাপাশি শরয়ী রুকইয়াহও করা যেতে পারে।
রুকইয়াহ:
দুই হাত মুনাজাতের ভঙ্গিতে তুলে নাক ও মুখের সামনে রাখুন। এরপর তিন থেকে সাতবার সূরা আল-ফাতিহা তিলাওয়াত করে হাতে ফুঁ দিন। তারপর হাত নাক ও মুখের ওপর রেখে অক্সিজেন মাস্কের মতো ধীরে ধীরে গভীরভাবে কয়েকবার শ্বাস গ্রহণ করুন।
দ্রষ্টব্য: শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির তীব্র আক্রমণ হলে রুকইয়াহর পাশাপাশি দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। রুকইয়াহ চিকিৎসার বিকল্প নয়; বরং আল্লাহর কাছে শিফার দোয়া ও শরয়ী চিকিৎসার একটি মাধ্যম।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যখন সাহাবীদেরকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে একজনের পর একজনকে শহীদ করে দিচ্ছিল। তখন আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহুকে খতম করার নিমিত্বে পেয়াদা পাঠিয়েছিল। তিনি এই দু‘আ পড়ে দুশমনের ক্ষতি থেকে বড়ই আশ্চর্যকর ভাবে রক্ষা পেয়েছিলেন।
১. শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। (১) সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহরই, (২) যিনি দয়াময়, পরম দয়ালু, (৩) কর্মফল দিবসের মালিক। (৪) আমরা শুধু তোমারই ‘ইবাদত করি, শুধু তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি, (৫) আমাদেরকে সরল পথ প্রদর্শন কর, (৬) তাদের পথ, যাদেরকে তুমি অনুগ্রহ দান করেছ, (৭) তাদের পথ নয় যারা ক্রোধ-নিপতিত ও পথভ্রষ্ট।
২. (হে রাসূল!) আমি কি তোমার কল্যাণে তোমার বক্ষ খুলে দেইনি?
এবং আমি তোমার থেকে অপসারণ করেছি সেই ভার
যা তোমার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল
এবং আমি তোমার কল্যাণে তোমার চর্চাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেছি।
প্রকৃতপক্ষে কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।
নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তিও থাকে।
সুতরাং তুমি যখন অবসর পাও, তখন (ইবাদতে) নিজেকে পরিশ্রান্ত কর।
এবং নিজ প্রতিপালকের প্রতিই মনোযোগী হও।
৩.যেহেতু কুরাইশের লোকেরা অভ্যস্ত। অর্থাৎ তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে (ইয়ামান ও শামে) সফর করতে অভ্যস্ত। তাই তারা যেন এই ঘরের মালিকের ইবাদত করে। যিনি তাদেরকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভয়-ভীতি হতে তাদেরকে নিরাপদ রেখেছেন।
৪. ফালাক: (১) বল, আমি ভোরের মালিকের আশ্রয় গ্রহণ করছি (২) তিনি যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে (৩) এবং অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা ছেয়ে যায় (৪) এবং সেই সব ব্যক্তির অনিষ্ট হতে, যারা (তাগা বা সুতার) গিরায় ফুঁ দেয় (৫) এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।
নাস: (১) বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি সমস্ত মানুষের প্রতিপালকের (২) সমস্ত মানুষের অধিপতির (৩) সমস্ত মানুষের মাবূদের (৪) সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে পেছনে আত্মগোপন করে (৫) যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়, (৬) সে জিনদের মধ্য হতে হোক বা মানুষের মধ্য হতে।
৫. ১. এবং আল্লাহ মু’মিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন। ২. এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য। ৩. তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। ৪. আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত। ৫. এবং যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন ৬. বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার
৬. পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তাদেরকে বলা হবে—‘সালাম।’ (৫৮)
সকল জগতের মধ্যে নূহের প্রতি সালাম। (৭৯)
ইবরাহীমের প্রতি সালাম। (১০৯)
মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম। (১২০)
ইলিয়াসের প্রতি সালাম। (১৩০)
তোমাদের প্রতি সালাম। তোমরা পবিত্র ছিলে। সুতরাং তোমরা তাতে চিরস্থায়ীভাবে প্রবেশ করো। (৭৩)
এটি ফজরের উদয় পর্যন্ত শান্তিময়। (৫)
আমি বললাম, ‘হে আগুন! তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে যাও।’ (৬৯)
রাসূলগণের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। (১৮১)