দু‘আ

ঈদ অধ্যায়

৫টি দু‘আ
১

নতুন চাঁদ দেখে পড়ার দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ اَهِلَّهٗ عَلَيْنَا بِالْاَمْنِ وَالْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْاِسْلَامِ رَبِّيْ وَرَبُّكَ اللّٰهُ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু ‘আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, রাব্বী ওয়া রব্বুকাল্লাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ, এই চাঁদকে আমাদের উপর বরকত, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সহিত উদিত করুন, হে চাঁদ, আমার ও তোমার রব আল্লাহ তা’আলা।

ফযীলত

মুহাম্মদ ইবনে বাশশার (রহ) হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রাযি) থেকে বর্ণনা করেন, নবী কারীম (ﷺ) যখন নতুন চাঁদ দেখিতেন তখন এই দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৫১; মুসতাদরাকে হাকিম, ৪: ২৮৫

২

নতুন চাঁদ দেখে পড়ার দু‘আ-২

۞ اَللّٰهُ أَكْبَرْ، اَللّٰهُمَّ أَهِلَّهٗ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيْمَانِ، وَالسَّلاَمَةِ وَالْإِسْلاَمِ، وَالتَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ رَبَّنَا وَتَرْضٰى، رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللّٰهُ
উচ্চারণ

আল্লা-হু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু ‘আলাইনা বিলআমনি ওয়ালঈমানি ওয়াস্‌সালা-মাতি ওয়াল-ইসলা-মি, ওয়াত্তাওফীকি লিমা তুহিব্বু রব্বানা ওয়া তারদ্বা, রব্বুনা ওয়া রব্বুকাল্লাহ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি এই নতুন চাঁদকে আমাদের উপর উদিত করুন নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে; আর হে আমাদের রব্ব! যা আপনি পছন্দ করেন এবং যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন তার প্রতি তাওফীক লাভের সাথে। আল্লাহ আমাদের রব্ব এবং তোমার (চাঁদের) রব্ব।

ফযীলত

হযরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রাযি) বর্ণনা করেন, নবী কারীম (ﷺ) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এই দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে দারেমী, হাদীস নং: ১৬২৫; ফিকহুস সুনান, হাদীস নং: ১২৭৫;
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৩৯৭

৩

তাকবীরে তাশরীক

۞ اَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ. لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ . وَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ. وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

অর্থ

আল্লাহ মহান! আল্লাহ মহান! আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এবং আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

সুনানে দারা কুতনী (উর্দু), হাদীস নং: ১৭১৯
ফযীলত

তাকবীরে তাশরীফ পড়ার নিয়ম
যিলহজ্জ মাসের নয় তারিখ অর্থাৎ হজ্জের দিন ফজরের নামাযের পর থেকে
১৩‘ই যিলহজ্জ আসর পর্যন্ত তাকবীরে তাশরীক পাঠ করা ওয়াজিব। ঈদুল আজহার দিবসে জোরে জোরে শব্দ করত তাকবীরে তাশরীক পড়তে পড়তে এক পথ দিয়ে ঈদের ময়দানে যাবে এবং নামায শেষে অন্য পথে আসা সুন্নাত। এবং কুরবানী করত উহার গোশত দ্বারা খানা খাওয়া সুন্নাত। আর ঈদুল ফিতরের দিবসে নামাযের পূর্বে মিষ্টান্ন খাওয়া সুন্নাত।
মোটকথা- যিলহজ্জ মাসের ৯ তারিখকে আরাফার দিন বলে, দশ তারিখকে ইয়াওমুন নাহার বা কুরবানীর দিন বলা হয়।

৪

ঈদের শুভেচ্ছা জ্ঞাপন

۞ تَقَبَّلَ اللّٰهُ مِنَّا وَمِنْكَ
উচ্চারণ

তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ও মিনকা।

অর্থ

আল্লাহ তা‘আলা আমার ও আপনার নেক আমল কবূল করুন।

সুনানুল কুবরা, হাদীস নং: ৬৫১৯; আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং: ১২৩
ফযীলত

সাহাবায়ে কেরাম ঈদের দিন কারো সঙ্গে সাক্ষাত হলে তাকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য এই দু‘আটি বলতেন।

৫

পশু জবাইয়ের দু‘আ সমূহ

কুরবানীর পশু জবাই করার পূর্বে-১

۞ إِنِّيْ وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيْفًا وَّمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ إِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَاىَ وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ لَا شَرِيْكَ لَهٗ وَبِذٰلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِيْنَ اَللّٰهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ

উচ্চারণ: ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানীফাওঁ ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়া-ইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল ‘আলামীন। লা শারীকা লাহু ওয়া বি-যালিকা উমিরতু ওয়া আনা আওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা।
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি দৃঢ়ভাবে সেই মহান সত্তার অভিমুখী হলাম, যিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আমি মুশরিকদের অন্তর্গত নই। নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ—সবই বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহর জন্য নিবেদিত। তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি এ কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছি। আর আমি মুসলিমদের একজন। হে আল্লাহ্! এটি তোমারই পক্ষ থেকে এবং তোমারই জন্য। (সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৭৯৫; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩১২১)

পশু জবাই করার সময় পড়ার দু‘আ-২

۞ بِسْمِ اللهِ اَللهُ أَكْبَرْ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার
অর্থ: শুরু করছি আল্লাহর নামে, (কুরবানী করছি) যিনি সবচেয়ে মহান।

বি:দ্র: পুরো দু‘আ না পারলেও অন্তত বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে কুরবানী করতে হবে। আল্লাহর নাম ছাড়া কোনভাবেই কুরবানী জায়েজ হবে না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, যার উপর আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ)
উচ্চারণ করা হয়েছে তা থেকে তোমরা আহার করো। (সূরা আনআম, আয়াত: ১১৮)
হাদিসে এসেছে- রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দুটি শিংওয়ালা ভেড়া জবাই করলেন, তখন ‘বিসমিল্লাহ’ ও আল্লাহু আকবার’ বললেন। (সুনানে দারিমী, হাদীস নং: ১৯৮৮)

পশু জবাই করার পর -৩

۞ اَللّٰهُمَّ تَقَبَّلْهُ مِنِّىْ كَمَا تَقَبَّلْتَ مِنْ حَبِيْبِكَ سَيِّدِنَا رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخَلِيْلِكَ سَيِّدِنَا إِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلاَمِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বালহু মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা রসূলিল্লাহি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া খলীলিকা সাইয়্যিদিনা ইবরাহীমা আলাইহিস সালাম।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন, যেভাবে কবুল করেছিলেন আপনার প্রিয় হাবীব হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আপনার খলীল হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) এর কাছ থেকে। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩১২১)