দু‘আ

ঈমান অধ্যায়

১৭টি দু‘আ
অধ্যায় পরিচিতি

ঈমান কি?

الإِيمَانُ

ঈমান একটি আরবী শব্দ। এর সাধারণ অর্থ হলো— বিশ্বাস করা। এছাড়াও আনুগত্য করা, অবনত হওয়া, নির্ভর করা ইত্যাদি অর্থেও ঈমান শব্দটি ব্যবহৃত হয়।

আরও পড়ুন

ঈমান মূলত ছয়টি বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর সেগুলো হলো-
১. আল্লাহ।
২. ফেরেশতা।
৩. আসমানী কিতাব।
৪. নবী-রাসুল।
৫. শেষ দিবস ও পুনরুত্থান এবং
৬. ভাগ্যের ভাল-মন্দের প্রতি বিশ্বাস স্থাপণ করা।
ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় ঈমানের অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমামগণের বিভিন্নধর্মী সংজ্ঞা পরিলক্ষিত হয়। সেগুলো হলো—
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন, ‘আন্তরিক বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতিই হলো ঈমান’।
ইমাম গাজালী (রহ.) বলেছেন, ‘রাসুল (সা.) -এর আনীত সকল বিধি-বিধানসহ আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাই হচ্ছে ঈমান’।
ইমাম শাফেয়ী, মালেক ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) -এর-মতে, অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক স্বীকৃতি এবং আরকানসমূহ (ইসলামের বিধি-বিধান) কাজে পরিণত করার নাম ঈমান।
কালেমার প্রথম অংশ হলো— ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’। এ কথা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক, অদ্বিতীয়। তিনি সব পারেন, সব করেন। সব ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব একমাত্র তারই অধীন। তিনি সব ধরণের দুর্বলতা, ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। সামান্য থেকে সামান্যতম বিষয়েও সবাই তার মুখাপেক্ষী, কিন্তু তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন- এমন বিশ্বাস লালন করা।
কালেমার দ্বিতীয় অংশ হলো— ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’। হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তিনি সর্বশেষ নবী। মানুষের হেদায়েতের জন্য মহান আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ পয়গম্বর। তার পরে আর কোনো নবী অথবা রাসুল আসবেন না- এ কথাও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা এবং মেনে নেয়া।
সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। ঈমানের বিপরীত কুফর। ঈমান সত্য, কুফর মিথ্যা। ঈমান আলো, কুফর অন্ধকার।
এই ঈমান রক্ষার জন্য সর্বাগ্রে জানতে হবে ঈমান কাকে বলে। এবং আরো জানতে হবে কোন বিষয়গুলো ঈমানবিধ্বংসী। কী কী কাজ করলে ঈমান চলে যায়। আর কোন কাজের মাধ্যমে ঈমান থাকে এবং আরও মজবুত হয়। রাসুল (সা.) সতর্ক করে গেছেন এমন একটি যুগ সম্পর্কে, যে যুগে বিভক্তি দেখা দেবে। ফেতনা-ফ্যাসাদ প্রবল হবে। দাঙ্গাহাঙ্গামা বেড়ে যাবে। অশ্লীলতা, নির্লজ্জ বেহায়াপনা ব্যাপক আকার ধারণ করবে। আর তখন ঈমানের ওপর টিকে থাকা একজন মুমিনের জন্য বেশ কঠিন। প্রত্যেক মুমিনের সর্তক থাকা জরুরি- সমাজের বিভিন্ন ফেতনা-ফ্যাসাদ ও বিভ্রান্তি কবলে পড়ে ঈমান হারানো কিংবা ঈমানের দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
আল্লাহ যেন আমাদের ঈমানের সৌভাগ্য থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বঞ্চিত না করেন। আমীন।

১

ঈমান আনায়নের দু‘আ, কালিমায়ে তাইয়্যিবাহ পাঠ করা

۞ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ
উচ্চারণ

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

অর্থ

আল্লাহ্‌ ব্যতীত ইবাদত বন্দেগীর উপযুক্ত আর কেউ নেই। হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্‌র প্রেরিত রাসূল।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ১৭৪
ফযীলত

হযরত মুআয ইবনে জাবাল (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল’ তার জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১২৮

উল্লেখ্য, দু‘আটি মুমূর্ষু ব্যক্তিকে তালকীন (পড়ে শোনানো) করার জন্যও পড়া হয়।

২

ঈমান রক্ষার দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لَاۤ أَعْلَمُ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়াআনা আ’লামু ওয়া আস্তাগফিরুকা লিমা লা আ’লামু। (৩বার)

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি জ্ঞাতসারে আপনার সাথে কাউকে শরিক করা থেকে। আর আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ সকল বিষয়ে, যা আমি জানি না।

আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ; ইবনুস্‌ সুন্নী, হাদীস নং: ২৮৬; আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭২১

#শিরক থেকে বাঁচার জন্যে প্রতিদিন এই দু‘আ তিনবার পড়বে
ফযীলত

حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ النَّرْسِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا لَيْثٌ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ ، قَالَ : سَمِعْتُ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ ، يَقُولُ : " انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا أَبَا بَكْرٍ ، لَلشِّرْكُ فِيكُمْ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ : وَهَلِ الشِّرْكُ إِلا مَنْ جَعَلَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَلشِّرْكُ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ ، أَلا أَدُلُّكَ عَلَى شَيْءٍ إِذَا قُلْتَهُ ذَهَبَ عَنْكَ قَلِيلُهُ وَكَثِيرُهُ ؟ قَالَ : قُلِ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لا أَعْلَمُ
হযরত মাকিল ইবনে ইয়াসার (রাযি) বলেন, আমি আবূ বকর সিদ্দীক (রাযি) এর সাথে নবী (ﷺ) এর নিকট গেলাম। তিনি বলেন, হে আবূ বকর! আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিবো না, তুমি যা বললে শিরকের অল্প ও বেশী সবই দূর হয়ে যাবে? তিনি বলেন, তুমি উপরোক্ত দু‘আটি পাঠ কর।

তথ্যসূত্র: আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং ৭২১

৩

ঈমান রক্ষার দু‘আ-২

۞ رَبَّنَا لَاۤ تُزِغۡ قُلُوۡبَنَا بَعۡدَ اِذۡ هَدَيۡتَنَا وَهَبۡ لَنَا مِنۡ لَّدُنۡكَ رَحۡمَةً اِنَّكَ اَنۡتَ الۡوَهَّابُ
উচ্চারণ

রাব্বানা লা তুযিগ্ ক্বুলুবানা বা’দা ইয্ হাদাইতানা ওয়া হাব্‌লানা মিল্লা দুনকা রাহমাহ্ ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্‌হাব।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ-প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করো না এবং তোমার নিকট থেকে আমাদেরকে করুণা দান কর। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫২২
ফযীলত

শাহর ইবনে হাওশাব (রহ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাযি) কে আমি বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনার কাছে অবস্থানকালে অধিকাংশ সময় কোন দু‘আটি পাঠ করতেন? তিনি বললেন, তিনি অধিকাংশ সময় এ দু‘আ পাঠ করতেন।
হযরত উম্মু সালামাহ (রাযি) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অধিকাংশ সময় দু‘আটি কেন পাঠ করেন? তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামাহ! এরূপ কোন মানুষ নেই যার মন আল্লাহ তা‘আলার দুই আঙ্গুলের মধ্যবর্তীতে অবস্থিত নয়। যাকে ইচ্ছা তিনি (দ্বীনের উপর) স্থির রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা (দ্বীন হতে) বিপথগামী করে দেন। তারপর কুরআনের উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হদীস নং: ৩৫২২

৪

ঈমান নবায়নের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ جَدِّدِ الْإِيْمَانَ فِيْ قُلُوْبِنَا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা জাদ্দিদিল ঈমানা ফি কুলুবিনা।

অর্থ

হে আল্লাহ, তুমি আমাদের হৃদয়ে ইমানকে নবায়ন করে দাও।

তাবারানী, হাদীস নং: ১৪৬৬৮; হাকেম: ০৫
ফযীলত

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাযি) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, কাপড় যেভাবে পুরানো হয়ে যায়। অন্তরের ঈমানও একইভাবে পুরানো হয়ে যায়। কাজেই তোমরা আল্লাহ্‌র কাছে তোমাদের অন্তরের ঈমান নবায়ন করে দেয়ার জন্য দু‘আ কর।

তথ্যসূত্র: হাকেম: ০৫

৫

দ্বীনের উপর অবিচল থাকার দু‘আ

۞ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِيْ عَلٰى دِيْنِكَ
উচ্চারণ

ইয়া মুকাল্লিবাল ক্বুলূ-ব, ছাব্বিত ক্বলবী আ’লা দ্বী-নিকা

অর্থ

হে অন্তরের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে তুমি তোমার দ্বীনের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখ।

সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫২২; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২১৪০
৬

হকের উপর অবিচল থাকার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اَرِنَا الْحَقَّ حَقًّا وَّارْزُقْنَا اتِّبَاعَهٗ، وَاَرِنَا الْبَاطِلَ بَاطِلًا وَّارْزُقْنَا اجْتِنَابَهٗ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আরিনাল হাক্কা হাক্কান ওয়ারজুকনাত্তিবায়াহ, ওয়া আরিনাল বাতিলা বাতিলান ওয়ারজুকনাজতিনাবাহু।

অর্থ

হে আল্লাহ, আপনি হককে হক হিসেবে আমাদের দেখান এবং এর অনুসরণের তাওফীক দিন, আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে দেখান এবং এটাকে পরিত্যাগ করার তাওফীক দিন।

তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৫৯০; সূরা বাকারার ২১৩ নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য
ফযীলত

হযরত উমর (রাযি) বলেন, এই দু‘আটি জামে এবং উপকারী। এর অর্থ হল, বান্দাহ তার রবের নিকট সরল ও সঠিক পথে পরিচালনা ও তার উপর অবিচল থাকার জন্য আবেদন করা এবং এর মাঝে সকল প্রকারের সংশয় থেকে মুক্তি লাভ করা।

তথ্যসূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীরে ১/৪৪৪; সূরা বাকারাহ ২১৩ নং আয়াতের তাফসীর দ্রষ্টব্য;
শরহু মুনতাহাল ইরাদাত ৩/৪৯৭

৭

ঈমান সম্বলিত দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ زَيِّنَّا بِزِيْنَةِ الْإِيْمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُّهْتَدِيْنَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা যাইয়িন্না বিযীনাতিল ঈমান, ওয়াজ‘আলনা হুদাতান মুহতাদীনা।

অর্থ

হে আল্লাহ, তুমি আমাদেরকে ঈমানের অলংকার দ্বারা বিভূষিত কর আর আমাদেরকে বানাও পথ প্রদর্শক ও হেদায়েতের পথিক।

সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩০৫, ১৩০৬
৮

ঈমান সম্বলিত দু‘আ-২

۞ اَللّٰهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ أَحْيِنِيْ مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِّيْ وَتَوَفَّنِيْ إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِّيْ. اَللّٰهُمَّ وَأَسْأَلُكَ خَشْيَتَكَ فِي الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَأَسْأَلُكَ كَلِمَةَ الْحَقِّ فِي الرِّضَا وَالْغَضَبِ وَأَسْأَلُكَ الْقَصْدَ فِي الْفَقْرِ وَالْغِنٰى وَأَسْأَلُكَ نَعِيْمًا لَاۤ يَنْفَدُ وَأَسْأَلُكَ قُرَّةَ عَيْنٍ لَاۤ تَنْقَطِعُ وَأَسْأَلُكَ الرِّضَا بَعْدَ الْقَضَاءِ وَأَسْأَلُكَ بَرْدَ الْعَيْشِ بَعْدَ الْمَوْتِ وَأَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلٰى وَجْهِكَ وَالشَّوْقَ إِلٰى لِقَائِكَ فِيْ غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ وَ لَاۤ فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ اَللّٰهُمَّ زَيِّنَّا بِزِيْنَةِ الْإِيْمَانِ وَاجْعَلْنَا هُدَاةً مُّهْتَدِيْنَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা বি ইলমিকাল গাইবা ও কুদরতিকা আলাল খলকি, আহয়িনী মা আলিমতাল হায়াতা,খাইরান লি, ওয়া তাওয়াফ-ফানি ইজা আলিমতাল ওয়াফাতা খয়রান লি, আল্লাহুম্মা ওয়া আস আলুকা খসইয়াতাকা ফিল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি, ওয়া আস আলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফির রেজা ওয়াল গাজাবি।
ওয়া আস আলুকাল কাসদা ফিল ফাকরি ওয়াল গিনা। ওয়া আস আলুকা নাঈমান লা-য়ানফাদু। ওয়া আস আলুকা কুররতা আইনিন লা-তানক্বতিউ।
ওয়া আসআলুকার রিজা বা’দাল কাজা। ওয়া আসআলুকা বারদাল আইশি বা’দাল মাউতি। ওয়া আসআলুকা লাযযাতান নাজরি ইলা ওয়াজহিকা, ওয়াশ শাওকা ইলা লিক্বাইকা ফী গাইরি দাররা-আ মুদিররাতিন ওয়ালা ফিতনাতিন মুজিল্লাতিন।
আল্লাহুম্মা যায়্যিননা বিযীনাতিল ঈমানি ওয়াজ আলনা হুদাতাম মুহতাদীনা।

অর্থ

হে আল্লাহ, দৃষ্টির অন্তরালবর্তী ও দৃষ্টিগ্রাহ্য সকল বিষয়ে যেন তোমাকে ভয় করতে পারি। হে আল্লাহ, যদি জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয়, তাহলে আমাকে জীবিত রাখ, আর যদি মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয় তাহলে আমাকে মৃত্যু দান কর। সেই তাওফিক প্রার্থনা করি। আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি সত্য কথা বলার তাওফিক, খুশি ও ক্রোধ উভয় অবস্থাতেই। আমি তোমার নিকট সচ্ছল-অসচ্ছল উভয়াবস্থায় মিতব্যয়িতা প্রার্থনা করি। প্রার্থনা করি এমন নেয়ামত যা শেষ হবার নয়। প্রার্থনা করি যা চক্ষু জুড়াবে অনিঃশেষভাবে। আমি তোমার নিকট চাই তকদিরের প্রতি সন্তুষ্টি। আমি তোমার নিকট চাই মৃত্যুর পর সুখময় জীবন। আমি তোমার নিকট কামনা করি তোমাকে দেখার তৃপ্তি, আমি কামনা করি তোমার সহিত সাক্ষাৎ লাভের আগ্রহ-ব্যাকুলতা, যা লাভ করলে আমাকে স্পর্শ করবে না কোন অনিষ্ট, আর আমাকে সম্মুখীন হতে হবে না এমন কোন ফেৎনার, যা আমাকে পথভ্রষ্ট করতে পারে। হে আল্লাহ, তুমি আমাদেরকে ঈমানের অলংকার দ্বারা বিভূষিত কর আর আমাদেরকে বানাও পথ প্রদর্শক ও হেদায়েতের পথিক।

সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩০৫, ১৩০৬
৯

ঈমানের প্রতি ভালোবাসা ও এর প্রতিকার থেকে মুক্তি চাওয়া

اَللّٰهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الْإِيمَانَ وَزَيِّنْهُ فِي قُلُوبِنَا، وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِيْنَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা হাব্বিব ইলাইনাল ঈমান, ওয়া ঝাইয়িনহূ ফী কুলূবিনা, ওয়া কাররিহ ইলাইনাল কুফরা ওয়ালফুছূকা ওয়াল ‘ইসইয়া-ন, ওয়াজ‘আলনা মিনার রাশিদীন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরে ঈমানের ভালোবাসা সঞ্চার করুন এবং আমাদের অন্তরে তা (ঈমান) আকর্ষণীয় করুন। আর কুফর, গুনাহ ও অবাধ্যতাকে আমাদের অন্তরে ঘৃণ্য বানিয়ে দিন এবং আমাদেরকে সঠিক পথপ্রাপ্তদের অন্তরভুক্ত করুন।

সূরা হুজুরাত, আয়াত নং ৭।
আল কালিমুত তাইয়্যিব।
১০

হিদায়াত ও সঠিক পথে অবিচল থাকার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اهْدِنِيْ وَسَدِّدْنِىْ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী।

অর্থ

ইয়া আল্লাহ! আমাকে হেদায়েত দান করুন এবং সঠিক পথে রাখুন।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭২৫
১১

মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু কামনা ও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দু‘আ

رَبِّ تَوَفَّنِیۡ مُسۡلِمًا وَّاَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ
উচ্চারণ

রব্বি তাওয়াফফানী মুছলিমাওঁ ওয়া আলহিকনী বিসসা-লিহীন।

অর্থ

ইয়া রব্ব! তুমি দুনিয়া থেকে আমাকে এমন অবস্থায় তুলে নিও, যখন আমি থাকি তোমার অনুগত। আর আমাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করো।

-সূরা ইউসুফ : ১০১
১২

আল্লাহর দিদার ও সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষার দু‘আ

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَىٰ وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَىٰ لِقَائِكَ، فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ.
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্‌আলুকা লায্‌যাতান্ নায্‌যরি ইলা ওয়াজ্‌হিকা, ওয়াশ্‌শাওকা ইলা লিক্বা-ইকা, ফী গাইরি দার্‌রাআ-মু-দির্‌রাতিন, ওয়ালা ফিতনাতিন মুদিল্লাতিন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে (বেহেশতে) আপনার পবিত্র চেহারা দর্শনের স্বাদ এবং আপনার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রার্থনা করছি—কোনো ক্ষতিকর কষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী ফিতনায় পতিত হওয়া ছাড়া।

সুনানে নাসায়ী , হাদীস নং: ১৩০৫
ফযীলত

নবী ﷺ তাঁর উম্মতকে দুআর আদবসমূহ শিক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর কাছে ওসীলা গ্রহণ করা। কারণ, এটি দুআ কবুল হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। উল্লেখিত দু‘আতে বিষয়গুলো বিদ্যমান রয়েছে।
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ।

১৩

ঈমানের সততা, হিংসা দূরীকরণ ও সাহাবীদের প্রতি শ্রদ্ধার শ্রেষ্ঠ দু‘আ

رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَلِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَلَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ
উচ্চারণ

রব্বানাগফির লানা ওয়া লি-ইখওয়ানিনাল্লাযীনা সাবাকূনা বিল-ঈমানি, ওয়া লা তাজ‘আল ফী কুলূবিনা গিল্লাল্লিল্লাযীনা আমানূ, রব্বানা ইন্নাকা রাঊফুর রাহীম।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা কর আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।

সূরা হাশর, আয়াত: ১০
ফযীলত

ঈমানের মাপকাঠি: সাহাবীদের প্রতি অন্তরে ভালোবাসা রাখা এবং তাঁদের জন্য এই মাগফিরাতের দু‘আ করা পরবর্তী মুসলমানদের ঈমান ও সত্যপন্থী হওয়ার প্রধান শর্ত।

রাষ্ট্রীয় সম্পদে (ফায়) অংশীদারিত্ব: যারা সাহাবীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই দু‘আ করবে, ফায়-এর মালে (রাষ্ট্রীয় সম্পদ) কেবল তাদেরই অধিকার থাকবে।

জান্নাতী আলামত: এই দু‘আর মাধ্যমে অন্তরকে মুসলমানদের প্রতি পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষ ও কুধারণা থেকে মুক্ত রাখা যায়, যা মানুষকে জান্নাতী হওয়ার উচ্চ মর্যাদায় আসীন করে।

১৪

অন্তরে প্রীতি ও সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আল্লিফ বাইনা কুলুবিনা, ওয়া আসলিহ যা-তা বাইনিনা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহের মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিন, আর আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দিন।

সুনানে আবু দাউদহাদীস নং: ৯৬৯; মা'আরিফুল হাদীস, হাদীস নং: ২৩৯
ফযীলত

এই দু‘আর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্কের সংশোধন এবং অন্তরসমূহের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সম্প্রীতি অর্জন করা যায়। অন্তরের অমিল, হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে মানুষের দীন-দুনিয়া, বৈষয়িক ও আধ্যাত্মিক যাবতীয় নিয়ামত থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হওয়ার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়। পাশাপাশি, সমাজকে হিংসা-বিদ্বেষের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতেও এটি সহায়ক।

১৫

সরল পথে চলার তাওফিক প্রার্থনা

۞ اَللّٰهُمَّ اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাহদিনাস সিরাতাল মুস্তাক্বীম।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল পথ দেখান।

সূরা ফাতিহা, আয়াত নং ৫
১৬

দ্বীনের হেফাজত ও সংশোধনের দু‘আ

اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِيَ الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي، وَأَصْلِحْ لِي آخِرَتِيَ الَّتِي فِيهَا مَعَادِي، وَاجْعَلِ الْحَيَاةَ زِيَادَةً لِي فِي كُلِّ خَيْرٍ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَاحَةً لِي مِنْ كُلِّ شَرٍّ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আসলিহ্ লী দীনিয়াল্লাযী হুয়া ‘ইসমাতু আমরী, ওয়া আসলিহ্ লী দুনইয়ায়াল্লাতী ফীহা মা‘আশী, ওয়া আসলিহ্ লী আখিরাতিয়াল্লাতী ফীহা মা‘আদী, ওয়াজ‘আলিল হায়াতা যিয়াদাতাল্লী ফী কুল্লি খাইর, ওয়াজ‘আলিল মাওতা রাহাতাল্লী মিন কুল্লি শারর।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমার দ্বীন ইসলাহ (পরিশুদ্ধ) করে দিন, যে দ্বীনে আমার রক্ষাকবচ। আপনি সংশোধন করে দিন আমার দুনিয়াকে, যেথায় আমার জীবিকা (রয়েছে), আপনি ইসলাহ (কল্যাণকর) করে দিন আমার আখিরাতকে, যেখানে আমাকে প্রত্যাবর্তন (করতে হবে)। আপনি আমার জীবনকে দীর্ঘায়িত করে দিন প্রত্যেকটি কল্যাণময় কাজের জন্য এবং আপনি আমার মৃত্যু কে আরামদায়ক বানিয়ে দিন সব মন্দ থেকে।

সহীহ মুসলিম হাদীস নং: ৬৬৫৫ আন্তর্জাতিক নং: ২৭২০
ফযীলত

এটি দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণসম্বলিত একটি جامع দুআ এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জাওয়ামিউল কালিম-এর অন্তর্ভুক্ত। এতে প্রথমে দীন সংশোধনের দুআ করা হয়েছে; কারণ দীনই মানুষের সব কল্যাণের রক্ষাকবচ। এরপর হালাল ও পবিত্র জীবিকার মাধ্যমে দুনিয়ার জীবন সুন্দর করা এবং সৎ আমলের মাধ্যমে আখিরাত সংশোধনের আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি জীবনকে নেক আমল বৃদ্ধির মাধ্যম এবং মৃত্যুকে দুনিয়া, কবর ও জাহান্নামের যাবতীয় অনিষ্ট থেকে মুক্তির কারণ বানানোর প্রার্থনা করা হয়েছে। হাদীসটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিয়মিত যিকর ও দুআ এবং দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ প্রার্থনার গুরুত্বও তুলে ধরে।

১৭

নবী ﷺ-এর সুন্নত অনুসরণ ও আল্লাহর প্রতি ঈমানের দু‘আ

اللّٰهُمَّ إِيمَانًا بِكَ، وَتَصْدِيقًا بِكِتَابِكَ، وَوَفَاءً بِعَهْدِكَ، وَاتِّبَاعًا لِسُنَّةِ نَبِيِّكَ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ঈমানাম বিকা, ওয়া তাসদীকাম বিকিতাবিকা, ওয়া ওয়াফা-আম বিআহদিকা, ওয়াত্তিবা‘আল লিসুন্নাতি নাবিয়্যিকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনার প্রতি ঈমান রেখে, আপনার কিতাবকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, আপনার অঙ্গীকার পূরণ করে এবং আপনার নবীর সুন্নত অনুসরণ করে (আমি এ কাজ করছি)।

আত-তালখীসুল হাবীর, ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.), খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৮৭৩।