দু‘আ

রাব্বানা দু‘আ অধ্যায় (কুরআনে বর্ণিত)

৩০টি দু‘আ
অধ্যায় পরিচিতি

কুরআনে বর্ণিত ‘রাব্বানা’/‘রাব্বি’ দুআ কাকে বলে?

رَبِّ / رَبَّنَا

( رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ) البقرة/127

( وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ) البقرة/128

( رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ) البقرة/201

( رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْراً وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ) البقرة/250

( رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْراً كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلا تُحَمِّلْنَا مَا لا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ) البقرة/ 286

( رَبَّنَا لا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا وَهَبْ لَنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً إِنَّكَ أَنْتَ الْوَهَّابُ) آل عمران/8

( رَبِّ هَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً إِنَّكَ سَمِيعُ الدُّعَاءِ ) آل عمران/38

( رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِي أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ) آل عمران/147

( قَالا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ ) الأعراف/23

( رَبَّنَا لا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ) الأعراف/47

( رَبَّنَا لا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ) يونس/85

( وَنَجِّنَا بِرَحْمَتِكَ مِنَ الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ) يونس/86

( رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَداً) الكهف/10

( رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ) إبراهيم/40

( قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي * وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي* وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي ) طـه/25-27

( رَبِّ زِدْنِي عِلْماً ) طـه/114

( لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ) الأنبياء/87

( وَقُلْ رَبِّ أَنْزِلْنِي مُنْزَلاً مُبَارَكاً وَأَنْتَ خَيْرُ الْمُنْزِلِينَ ) المؤمنون/29

( وَقُلْ رَبِّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ ) المؤمنون/97

( وَأَعُوذُ بِكَ رَبِّ أَنْ يَحْضُرُونِ ) المؤمنون/98

( رَبِّ هَبْ لِي حُكْماً وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ ) الشعراء/83

( رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ ) القصص/21

( رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً ) الفرقان/74

( رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحاً تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ ) النمل/19

( رَبَّنَا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَاماً ) الفرقان/65

কুরআনে বর্ণিত ‘রাব্বানা’ ও ‘রাব্বি’ দুআ বলতে কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক বিভিন্ন নবী-রাসূল, নেককার মুমিন ও ফেরেশতাদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শিক্ষা দেওয়া বা তাদের মুখে বর্ণিত দুআসমূহকে বোঝায়। এসব দুআর অধিকাংশই ‘রাব্বানা’ (হে আমাদের রব!) বা ‘রাব্বি’ (হে আমার রব!) শব্দ দিয়ে শুরু হয়েছে। তাই এগুলো ‘রাব্বানা/রাব্বি দুআ’ নামে পরিচিত।

১

ঈমান রক্ষার দু‘আ-২

۞ رَبَّنَا لَاۤ تُزِغۡ قُلُوۡبَنَا بَعۡدَ اِذۡ هَدَيۡتَنَا وَهَبۡ لَنَا مِنۡ لَّدُنۡكَ رَحۡمَةً اِنَّكَ اَنۡتَ الۡوَهَّابُ
উচ্চারণ

রাব্বানা লা তুযিগ্ ক্বুলুবানা বা’দা ইয্ হাদাইতানা ওয়া হাব্‌লানা মিল্লা দুনকা রাহমাহ্ ইন্নাকা আনতাল ওয়াহ্‌হাব।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! সরল পথ-প্রদর্শনের পর তুমি আমাদের অন্তরকে বক্র করো না এবং তোমার নিকট থেকে আমাদেরকে করুণা দান কর। নিশ্চয়ই তুমি মহান দাতা।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫২২
ফযীলত

শাহর ইবনে হাওশাব (রহ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, উম্মু সালামাহ (রাযি) কে আমি বললাম, হে উম্মুল মু’মিনীন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আপনার কাছে অবস্থানকালে অধিকাংশ সময় কোন দু‘আটি পাঠ করতেন? তিনি বললেন, তিনি অধিকাংশ সময় এ দু‘আ পাঠ করতেন।
হযরত উম্মু সালামাহ (রাযি) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অধিকাংশ সময় দু‘আটি কেন পাঠ করেন? তিনি বললেনঃ হে উম্মু সালামাহ! এরূপ কোন মানুষ নেই যার মন আল্লাহ তা‘আলার দুই আঙ্গুলের মধ্যবর্তীতে অবস্থিত নয়। যাকে ইচ্ছা তিনি (দ্বীনের উপর) স্থির রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা (দ্বীন হতে) বিপথগামী করে দেন। তারপর কুরআনের উক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হদীস নং: ৩৫২২

২

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১

۞ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
وَتُبۡ عَلَیۡنَا ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ
উচ্চারণ

রাব্বানা তাক্বাব্বাল মিন্না ইন্নাকা আংতাস্ সামী‘ঊল ‘আলীম। ওয়াতুব্ ‘আলাইনা, ইন্নাকা আন্তাত্ তাওয়্যা-বুর রাহিম।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ হতে কবূল করুন। নিশ্চয় আপনি এবং কেবল আপনিই সব কিছু শুনেন ও সবকিছু জানেন।

সূরা বাকারাহ, আয়াত নং: ১২৭
৩

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-২

۞ رَبَّنَا وَاجۡعَلۡنَا مُسۡلِمَیۡنِ لَکَ وَمِنۡ ذُرِّیَّتِنَاۤ اُمَّۃً مُّسۡلِمَۃً لَّکَ ۪ وَاَرِنَا مَنَاسِکَنَا وَتُبۡ عَلَیۡنَا ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ التَّوَّابُ الرَّحِیۡمُ
উচ্চারণ

রাব্বানা-ওয়াজা‘আলনা-মুছলিমাইনি লাকা ওয়ামিন যুররিইইয়াতিনা-উম্মাতাম মুছলিমাতাল্লাকা ওয়া আরিনা-মানা-ছিকানা-ওয়াতুব ‘আলাইনা-ইন্নাকা আনতাত্তাওওয়া-বুর রাহীম।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে আপনার একান্ত অনুগত বানিয়ে নিন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্যেও এমন উম্মত সৃষ্টি করুন, যারা আপনার একান্ত অনুগত হবে এবং আমাদেরকে আমাদের ইবাদতের পদ্ধতি শিক্ষা দিন এবং আমাদের তওবা কবুল করে নিন। নিশ্চয়ই আপনি এবং কেবল আপনিই ক্ষমাপ্রবণ (এবং) অতিশয় দয়ার মালিক।

সূরা বাকারাহ, আয়াত নং: ১২৮
৪

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-৩

۞ رَبَّنَا اٰ تِنَا مِن لَّدُنْكَ رَحْمَةً وَّهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا
উচ্চারণ

রাব্বানাআ-তিনা-মিল্লাদুনকা রাহমাতাওঁ ওয়া হাইয়ি’ লানা-মিন আমরিনা-রাশাদা-।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি আপনার নিকট থেকে বিশেষ রহমত নাযিল করুন এবং আমাদের এ পরিস্থিতিতে আমাদের জন্য কল্যাণকর পথের ব্যবস্থা করে দিন।

সূরা কাহফ, আয়াত নং: ০৯
৫

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-৫,৬,ও ৭

۞ رَبَّنَا لَاۤ تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَّسِيْنَا أَوْ أَخْطَأْنَا، رَبَّنَا وَ لَاۤ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهٗ عَلَى الَّذِيْنَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَ لَاۤ تُحَمِّلْنَا مَا لَاۤ طَاقَةَ لَنَا بِه ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
উচ্চারণ

রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা ইন নাছীনা-আও আখতা’না-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা-রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা লানা-বিহী ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করো না, যেমন তা অর্পণ করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর এমন ভার চাপিয়ো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের (ত্রুটিসমূহ) মার্জনা কর, আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।

সূরা বাকারাহ, আয়াত নং: ২৮৬
৬

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-৮

۞ رَبَّنَا إِنَّكَ جَامِعُ النَّاسِ لِيَوْمٍ لَّا رَيْبَ فِيْهِ ۚ إِنَّ اللهَ لَا يُخْلِفُ الْمِيْعَادَ
উচ্চারণ

রাব্বানা ইন্নাকা জা-মি‘উন্না-ছি লিইয়াওমিল্লা-রাইবা ফীহি ইন্নাল্লা-হা লা-ইউখলিফুল মী‘আদ।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি সমস্ত মানুষকে এমন একদিন একত্র করবে, যে দিনের আগমনে কোন সন্দেহ নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহ ওয়াদার বিপরীত করেন না।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ৯
৭

ঈমান ও রাসূলের আনুগত্যের দু‘আ

۞ رَبَّنَا اٰ مَنَّا بِمَا أَنزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُوْلَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِيْنَ
উচ্চারণ

রাব্বানা আ-মান্না বিমা আনযালতা ওয়াত্তবা‘নার রসূলা ফাকতুবনা মা‘আশ-শাহিদীন।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যা-কিছু নাযিল করেছেন আমরা তাতে ঈমান এনেছি এবং আমরা রাসূলের অনুসরণ করেছি। সুতরাং আমাদেরকে সেই সকল লোকের মধ্যে লিখে নিন, যারা (সত্যের) সাক্ষ্যদাতা।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং : ৫৩
ফযীলত

নবী করীম ﷺ ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাযে এই আয়াত তিলাওয়াত করেছেন।

৮

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১০

۞ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَإِسْرَافَنَا فِيْ أَمْرِنَا وَثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
উচ্চারণ

রাব্বানাগ ফিরলানা-যুনূবানা-ওয়া ইছরা-ফানা ফী আমরিনা-ওয়াছাব্বিত আকদা-মানা-ওয়ানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ এবং আমাদের দ্বারা আমাদের কার্যাবলীতে যে সীমালংঘন ঘটে গেছে তা ক্ষমা করে দিন। আমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখুন এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে বিজয় দান করুন।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং : ১৪৭
৯

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১১-১৫

۞ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ۝ رَبَّنَا اِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ اَخْزَيْتَهٗ ۭ وَمَا لِلظّٰلِمِيْنَ مِنْ اَنْصَارٍ ۝ رَبَّنَا اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُّنَادِيْ لِلْاِيْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَاٰ مَنَّا------‐ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّاٰتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ ۝ رَبَّنَا وَاٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰي رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيٰمَةِ ۭاِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ
উচ্চারণ

রববানা মা খালাকতা হাযা বা-তিলান, সুবহানাকা ফাকিনা ‘আযা-বান্ নার। রববানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্ না-রা ফাকাদ আখযাইতাহু, ওয়ামা লিয্যালিমীনা মিন আনসা-র। রববানা ইন্নানা সামি‘না মুনাদিইয়াইয়্যুনা-দী লিলঈমানি আন্ আ-মিনু বিরব্বিকুম ফাআ--মান্না। রব্বানা ফাগফির লানা যুনূবানা ওয়াকাফফির ‘আন্না সায়্যিআ-তিনা ওয়া তাওয়াফ্‌ফানা মা‘আল আবরা-র। রববানা ওয়া আতিনা মা ওয়া‘আদতানা ‘আলা রুসুলিকা ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব উদ্দেশ্যহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। আপনি (এমন ফজুল কাজ থেকে) পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি যাকেই জাহান্নামে দাখিল করবেন, তাকে নিশ্চিতভাবেই লাঞ্ছিত করলেন। আর জালিমগণ তো কোনও সাহায্যকারী পাবে না।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা এক ঘোষককে ঈমানের দিকে ডাক দিতে শুনেছি যে, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আন।’ সুতরাং আমরা ঈমান এনেছি। কাজেই হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন, আমাদের মন্দসমূহ আমাদের থেকে মিটিয়ে দিন এবং আমাদেরকে পুণ্যবানদের মধ্যে শামিল করে নিজের কাছে তুলে নিন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে সেই সবকিছু দান করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি নিজ রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে দিয়েছেন। আমাদেরকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি কখনও প্রতিশ্রুতির বিপরীত করেন না।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৯১-১৯৪
১০

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১৬

۞ رَبَّنَا اٰمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِيْنَ
উচ্চারণ

রাব্বানা আ-মান্না-ফাকতুবনা-মা‘আশ শা-হিদীন।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি। সুতরাং সাক্ষ্যদাতাদের সাথে আমাদের নামও লিখে নিন।

সূরা মায়িদাহ, আয়াত নং: ৮৩
১১

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১৭

۞ رَبَّنَا أَنزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِّنَ السَّمَآءِ تَكُوْنُ لَنَا عِيْدًا لِّأَوَّلِنَا وَ اٰخِرِنَا وَ اٰيَةً مِّنْكَ ۖ وَارْزُقْنَا وَأَنتَ خَيْرُ الرَّازِقِيْنَ
উচ্চারণ

রাব্বানা আনঝিল ‘আলাইনা-মাইদাতাম মিনাছছামাই তাকূনুলানা-‘ঈদাল লিআওওয়ালিনা-ওয়া আ-খিরিনা-ওয়া আ-ইয়াতাম মিনকা ওয়ারঝুকনা-ওয়া আনতা খাইরুর রা-ঝিকীন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমাদের পালনকর্তা আমাদের প্রতি আকাশ থেকে খাদ্যভর্তি খাঞ্চা অবতরণ করুন। তা আমাদের জন্যে অর্থাৎ, আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার জন্যে আনন্দোৎসব হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে। আপনি আমাদের রুযী দিন। আপনিই শ্রেষ্ট রুযীদাতা।

সূরা মায়িদাহ, আয়াত নং: ১১৪
১২

কুরআনে বর্ণিত রব্বানা দু‘আ-১৮

۞ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِيْنَ
উচ্চারণ

রাব্বানা-লাতাজ‘আলনা-মা‘আল কাওমিজ্জা-লিমীন।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে জালিমদের সঙ্গী করো না।

সূরা আ’রাফ, আয়াত নং: ৪৭
১৩

কুরআনে বর্ণিত শান্তি ও সাফল্যের দু‘আ-১৯

۞ رَبِّ ہَبۡ لِیۡ حُکۡمًا وَّاَلۡحِقۡنِیۡ بِالصّٰلِحِیۡنَ ۙ ٨٣
وَاجۡعَلۡ لِّیۡ لِسَانَ صِدۡقٍ فِی الۡاٰخِرِیۡنَ ۙ ٨٤
وَاجۡعَلۡنِیۡ مِنۡ وَّرَثَۃِ جَنَّۃِ النَّعِیۡمِ ۙ ٨٥
উচ্চারণ

রাব্বি হাবলী হুকমাওঁ ওয়া আল হিকনী বিসসা-লিহীন।
ওয়াজ‘আললী লিছা-না সিদকিন ফিল আ-খিরীন।
ওয়াজ‘আলনী মিওঁ ওয়ারাছাতি জান্নাতিন না‘ঈম।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞান দান করুন। এবং সৎকর্মপরায়ণদের মধ্যে শামিল কর। এবং পরবর্তীকালীন লোকদের মধ্যে আমার পক্ষে এমন রসনা সৃষ্টি করুন, যা আমার সততার সাক্ষ্য দেবে। এবং আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

সূরা শু‘আরা, আয়াত নং: ৮৩-৮৫
১৫

ক্ষমার জন্য দু‘আ-১

۞  رَبَّـنَـا  فَـاغْـفِـرْلَـنَـا  ذُنُـوْبَـنَـا  وَكَـفِّـرْ  عَـنَّـا  سَـيِّـاٰ تِـنَـا  وَتَـوَفَّـنَـا  مَـعَ  الاَبْـرَارِ
উচ্চারণ

রাব্বানা ফাগ্‌ফিরলানা যুনূবানা ওয়া কাফ্‌ফির ’আন্না সাইয়্যি আ’তিনা ওয়া তাওয়াফ্‌ফানা মা’আল আব্‌রার।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের পাপ ক্ষমা কর, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত কর এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিও।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৯৩
১৬

মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা

۞  رَبَّـنَـا  اغْـفِـرْلِـىْ  وَلِـوَالِـدَىَّ  وَلِـلْـمُـؤْمِـنِـيْـنَ  يَـوْمَ  يَـقُـوْمُ  الْـحِـسَـابُ
উচ্চারণ

রাব্বানাগ্ ফিরলী ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়ালিল্ মু’মিনীনা ইয়াওমা ইয়াকুমুল্ হিসাব্।

অর্থ

হে আমার প্রতিপালক! যে দিন হিসাব অনুষ্ঠিত হবে সেই দিন আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং মু’মিনগণকে ক্ষমা করো।

সূরা ইবরাহীম, আয়াত নং: ৪১
১৭

পরকালের আযাব থেকে মুক্তির দু‘আ

۞  رَبَّـنَـا  اِنَّـنَـا  اٰمَـنَّـا  فَـاغْـفِـرْلَـنَـا  ذُنُـوْبَـنَـا  وَقِـنَـا  عَـذَابَ  الـنَّـارِ
উচ্চারণ

রাব্বানা ইন্নানা আ-মান্না ফাগ্‌ফিরলানা যুনূবানা ওয়া ক্বিনা আযা-বান্ন না-র।

অর্থ

হে আমাদের রব, আমরা ঈমান এনেছি। তুমি আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের আগুনের আযাব হতে রক্ষা কর।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ১৬
১৮

জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের দু‘আ

۞  رَبَّـنَـا اصْرِفْ عَنَّا عَذَابَ جَهَنَّمَ إِنَّ عَذَابَهَا كَانَ غَرَامًا إنَّهَا سَآءَتْ مُسْتَقَرًّ وَّمُقَاماً
উচ্চারণ

রাব্বানাসরিফ ‘আন্না আযাবা জাহান্নামা, ইন্না আযাবাহা কানা গারামা, ইন্নাহা সাআত মুস্তাক্বার্‌রাও ওয়া মুকামা।

অর্থ

হে আমাদের রব! আমাদের থেকে জাহান্নামের শাস্তি হটিয়ে দাও। নিশ্চয় এর শাস্তি নিশ্চিত বিনাশ। বসবাস ও আবাসস্থল হিসেবে তা কত নিকৃষ্ট জায়গা

সূরা ফুরক্বান, আয়াত নং: ৬৫
১৯

অনুগত নেক সন্তান প্রার্থনা-১

۞ رَبِّ ہَبۡ لِیۡ مِنۡ لَّدُنۡکَ ذُرِّیَّۃً طَیِّبَۃً ۚ اِنَّکَ سَمِیۡعُ الدُّعَآءِ
উচ্চারণ

রব্বি হাবলী মিন লাদুনকা যুররিয়্যাতান তইয়্যিবাতান ইন্নাকা সামীউদ দু‘আ

অর্থ

হে রব! আমাকে তুমি তোমার নিকট হতে নেক বংশধর দান কর। নিশ্চয়ই তুমি প্রার্থনা শ্রবণকারী।

সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং: ৩৮
২০

অনুগত নেক সন্তান প্রার্থনা-২

۞ رَبِّ هَبْ لِيْ مِنَ الصَّالِحِيْنَ
উচ্চারণ

রব্বি হাবলী মিনাছ ছ-লিহিন।

অর্থ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে এক নেক সন্তান দান কর।

সূরা আছ ছফফাত, আয়াত নং: ১০০
২১

নিঃসন্তান হওয়া থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ رَبِّ لَا تَذَرْنِيْ فَرْدًا وَأَنتَ خَيْرُ الْوَارِثِيْنَ
উচ্চারণ

রব্বি লা-তাজারনি- ফারদাও ওয়া অাংতা খইরুল ওয়া-রিছি-ন।

অর্থ

হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখো না/নিঃসন্তান করো না। তুমি তো উত্তম অভিভাবক।

সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং: ৮৯
২২

স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের জন্য দু‘আ

۞ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّا تِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ إِمَاماً
উচ্চারণ

রাব্বানা হাব্ লানা মিন্ আয্ওয়াজ্বিনা ওয়া যুররিইয়্যাতিনা ক্বুররাতা আ’ইউনিওঁ ওয়াজ্ব’আলঅনা লিল্ মুত্তাক্বিনা ইমামা।

অর্থ

হে আমাদের রব! তুমি আমাদেরকে এমন স্ত্রী-সন্তান দান কর যাদের দর্শনে আমাদের চক্ষুশীতল হয়ে যাবে। তুমি আমাদেরকে পরহেযগার লোকদের ইমাম (অভিভাবক) বানিয়ে দাও।

সূরা আল-ফুরকান আয়াত নং: ৭৪
ফযীলত

যারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যে, তিনি যেন তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্য থেকে এমন লোক সৃষ্টি করেন, যারা তাঁর আনুগত্য করবে এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে—তাঁর কোনো শরিক নেই।

ইবনু আব্বাস রাযি. বলেন: এর দ্বারা তারা এমন সন্তান কামনা করে, যারা নেক আমল করবে। ফলে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের দেখে তাদের চোখ জুড়িয়ে যাবে।

ইকরিমা রহ. বলেন: তারা এর দ্বারা সন্তানদের সৌন্দর্য বা রূপ-লাবণ্য কামনা করেননি; বরং তারা চেয়েছেন, তাদের সন্তানরা যেন আল্লাহর অনুগত হয়।

হাসান বসরী রহ.-কে যখন এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: এর অর্থ হলো—আল্লাহ যেন কোনো মুসলিম বান্দাকে তার স্ত্রী, ভাই এবং নিকটজনদের মধ্যে আল্লাহর আনুগত্য দেখতে দেন। আল্লাহর কসম! কোনো মুসলিমের চোখের জন্য এর চেয়ে অধিক প্রশান্তিদায়ক আর কিছু নেই যে, সে তার সন্তান, নাতি-নাতনি, ভাই অথবা কোনো প্রিয়জনকে আল্লাহর অনুগত অবস্থায় দেখতে পায়।”

তথ্যসূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর

২৩

উভয় জগতের কল্যাণ চেয়ে দু‘আ অথবা রোকনে ইয়ামানী এবং হজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানের দু‘আ

۞ رَبَّـنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্কিনা আযাবান্নার।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান কর দুনিয়ার কল্যাণ এবং আখিরাতেরও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।

২৪

যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে আল্লাহর পক্ষ থেকে ধৈর্য, অবিচলতা ও বিজয় লাভ করার দু‘আ

۞ رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَّثَبِّتْ أَقْدَامَنَا وَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
উচ্চারণ

রব্বানা আফরিগ ‘আলাইনা সবরাও ওয়া ছাব্বিত আকদামানা ওয়ানছুরনা ‘আলাল কাওমিল কাফিরীন।

অর্থ

হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ওপর সবরের গুণ ঢেলে দাও, আমাদেরকে দৃঢ় ও অবিচল রাখো এবং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য ও বিজয় দান কর।

সূরা বাকারাহ, আয়াত নং: ২৫০
ফযীলত

হযরত মূসা (আ)-এর ইন্তেকালের পর অত্যাচারী কাফির শাসক জালুত বনী ইসরাঈলদের ওপর আক্রমণ করে তাদের জনপদ দখল করে নেয় এবং সন্তানদের বন্দী করে। পরবর্তীতে বনী ইসরাঈলদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা তালুতকে তাদের রাজা বা সেনাপতি মনোনীত করেন।

তালুত যখন জালুতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সৈন্য নিয়ে রওনা হন, তখন প্রচণ্ড গরমে পথিমধ্যে একটি নদীর পানি দিয়ে আল্লাহ তাআলা তাদের ঈমান ও ধৈর্যের পরীক্ষা নেন। তৃষ্ণার্ত সৈন্যদের নদী থেকে সামান্য পানি ছাড়া অতিরিক্ত পানি পান করতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু অল্প কয়েকজন ব্যতীত প্রায় সব সৈন্যই অতিরিক্ত পানি পান করে পরীক্ষায় ব্যর্থ হয় এবং শারীরিকভাবে দুর্বল ও অলস হয়ে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত মাত্র কয়েকজন খাঁটি মুমিন সৈন্য নদী পার হয়ে জালুতের বিশাল ও শক্তিশালী বাহিনীর মুখোমুখি হন। শত্রুর বিশালতার সামনে ভয় না পেয়ে তারা বিশ্বাস করেছিলেন যে আসল শক্তি সৈন্যসংখ্যায় নয়, বরং আল্লাহর সাহায্যে নিহিত। সেই চরম প্রতিকূল মুহূর্তে তারা আল্লাহর দরবারে ধৈর্য ও বিজয়ের প্রার্থনা (দুআ) করেন। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে এই প্রার্থনাটি করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে ধৈর্য ও অবিচলতা লাভ করা যায় এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

২৫

চিন্তামুক্ত সফরের দু‘আ

۞ رَبِّ اَدْخِـلْـنِـىْ مُـدْخَـلَ صِـدْقٍ وَّاَخْـرِجْـنِـىْ مُـخْـرَجَ صِـدْقٍ وَّاجْـعَـلْ لِّـىْ مِـنْ لَّدُنْـكَ سُلْطَانًا نَصِيْرًا
উচ্চারণ

রাব্বি আদ্‌খিল্‌নি মুদ্‌খালা সিদক্বিও ওয়া আখ্‌রিযনি মুখ্‌রাজা সিদ্‌কিও ওয়াজা’আল্লি মিল্লাদুন্‌কা সুল্‌তা-নান্ন নাসি-রা।

অর্থ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্ত বাহির করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান করো সাহায্যকারী শক্তি।

সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত নং: ৮০
ফযীলত

এ দু‘আ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেখানো হয়েছে, যেন তিনি আরজ করছেন, হিজরত করে আমার মদীনায় গমন যেন হয় বরকতের কারণ। হিজরত করে মক্কা ত্যাগও হয় সৌভাগ্যের সূচনা। ‘সিদক’ তথা ইখলাস ও কামিয়াবি যেন হয় আমার সঙ্গী। আর আপন খাস রহমত ও নুসরত দ্বারা সর্বাবস্থায় আমাকে অবিচল রাখুন।

২৬

পিতা-মাতার জন্য দু‘আ

۞ رَبِّ ارْحَـمْـهُـمَـا كَـمَـا رَبَّيَانِيْ صَـغِـيْـرًا
উচ্চারণ

রব্বির হাম্‌ হুমা কামা রব্বা ইয়ানি সগিরা

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের উভয়ের (পিতা-মাতার) প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন।

সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত নং: ২৩-২৪
ফযীলত

আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং তাকে ইবাদত করার পর পিতা মাতার সাথে উত্তম ব্যবহারের আদেশ দিয়েছেন। তাদের সাথে ’উহ’ শব্দটিও উচ্চারন করতে কুরআন মাজীদে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন। হাদীসে এসেছে, মৃত্যুর পর মা-বাবার জন্য নেক সন্তান দু‘আ করলে আল্লাহ কবুল করেন।
বি:দ্র: এই দু‘আটি জীবিত মৃত সকলের জন্য পড়া যায়। সকলের উচিত মা-বাবার জন্য প্রতিনিয়ত এ দু‘আ পড়া।

২৭

সন্তানের সংশোধনের জন্য দু’আ

رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَىٰ وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحًا تَرْضَاهُ وَ اَصْـلِـحْ لِـىْ فِـي ذُرِّيَّـتِـىْ ج اِنِّـىْ تُـبْـتُ اِلَـيْـكَ وَاِنِّـىْ مِـنَ الْـمُـسْـلِـمِـيْـنَ
উচ্চারণ

রাব্বি আওঝি‘নীআন আশকুরা নি‘মাতাকাল্লাতীআন‘আমতা ‘আলাইইয়া ওয়া ‘আলা-ওয়া-লিদাইইয়া ওয়া আন আ‘মালা সা-লিহান তারদা-হু ওয়া আছলিহ্ লী ফী যুররিয়্যাতি; ইন্নী তুব্‌তু ইলাইকা ওয়া ইন্নী মিনাল্ মুসলিমীন।

অর্থ

হে আমার পালনকর্তা, আমাকে এরূপ ভাগ্য দান কর, যাতে আমি তোমার নেয়ামতের শোকর করি, যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আমার জন্য আমার সন্তানদের সৎকর্মপরায়ণ করে দিন; আমি অবশ্যই আপনার নিকট তওবা করছি এবং নিশ্চয়ই আমি অনুগত বান্দাদের একজন।

(সূরা আহ্‌কাফ : ১৫)
২৮

শত্রু বা কাফেরদের কবল থেকে মুক্তির দু‘আ

۞ رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا فِتْنَةً لِّلَّذِينَ كَفَرُواْ وَٱغْفِرْ لَنَا رَبَّنَآ ۖ إِنَّكَ أَنتَ ٱلْعَزِيزُ ٱلْحَكِيمُ.
উচ্চারণ

রব্বানা লা তাজ‘আলনা ফিতনাতাল্লিল্লাযীনা কাফারূ, ওগফির লানা রব্বানা, ইন্নাকা আনতা-ল্-আযীযুল হাকীম।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে কাফেরদের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না এবং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই কেবল আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

সূরা আল মুম্‌তাহিনাহ্‌, আয়াত নং: ৫
২৯

সাহাবা-বিদ্বেষ থেকে মুক্তির দোয়া

رَبَّنَا لَا تَجْعَلْ فِى قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ۚ رَبَّنَآ إِنَّكَ رَءُوفٌۢ رَّحِيمٌ
উচ্চারণ

রব্বানা লা তাজ’আল ফী কুলুবিনা গিল্লান লিল্লাজিনা আমানূ। রব্বানা ইন্নাকা র’উফুর রাহীম।

অর্থ

“হে আমাদের প্রতিপালক! যারা ঈমান এনেছে, তাদের জন্য আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রেখো না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয়ই তুমি দয়ালু, পরম করুণাময়।”

সূরা হাশর, আয়াত নং: ১০
৩০

ঈমানের সততা, হিংসা দূরীকরণ ও সাহাবীদের প্রতি শ্রদ্ধার শ্রেষ্ঠ দু‘আ

رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَلِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ وَلَا تَجۡعَلۡ فِیۡ قُلُوۡبِنَا غِلًّا لِّلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا رَبَّنَاۤ اِنَّکَ رَءُوۡفٌ رَّحِیۡمٌ
উচ্চারণ

রব্বানাগফির লানা ওয়া লি-ইখওয়ানিনাল্লাযীনা সাবাকূনা বিল-ঈমানি, ওয়া লা তাজ‘আল ফী কুলূবিনা গিল্লাল্লিল্লাযীনা আমানূ, রব্বানা ইন্নাকা রাঊফুর রাহীম।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! ক্ষমা কর আমাদেরকে এবং আমাদের সেই ভাইদেরকেও, যারা আমাদের আগে ঈমান এনেছে এবং আমাদের অন্তরে ঈমানদারদের প্রতি কোন হিংসা-বিদ্বেষ রেখ না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি অতি মমতাবান, পরম দয়ালু।

সূরা হাশর, আয়াত: ১০
ফযীলত

ঈমানের মাপকাঠি: সাহাবীদের প্রতি অন্তরে ভালোবাসা রাখা এবং তাঁদের জন্য এই মাগফিরাতের দু‘আ করা পরবর্তী মুসলমানদের ঈমান ও সত্যপন্থী হওয়ার প্রধান শর্ত।

রাষ্ট্রীয় সম্পদে (ফায়) অংশীদারিত্ব: যারা সাহাবীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই দু‘আ করবে, ফায়-এর মালে (রাষ্ট্রীয় সম্পদ) কেবল তাদেরই অধিকার থাকবে।

জান্নাতী আলামত: এই দু‘আর মাধ্যমে অন্তরকে মুসলমানদের প্রতি পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষ ও কুধারণা থেকে মুক্ত রাখা যায়, যা মানুষকে জান্নাতী হওয়ার উচ্চ মর্যাদায় আসীন করে।