দু‘আ

দুরুদ পাঠ অধ্যায়

১০টি দু‘আ
১

দরূদ ও সালাম: উপকারিতা ও ফযীলত

উচ্চারণ

হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলার আখেরী রাসূল। তাই তাঁর প্রতি বিশ্বাস ও আনুগত্য ছাড়া আল্লাহকে বিশ্বাস ও আল্লাহর আনুগত্যের দাবি অর্থহীন। কুরআন কারীমের বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়টি ঘোষিত হয়েছে।
আল্লাহ তাআলাকে পাওয়ার একমাত্র পথ হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর অনুসরণ। তাই তাঁর জন্য হৃদয়ের গভীরে মহববত ও ভালবাসা পোষণ করা এবং দু‘আ করা প্রত্যেক উম্মতের ঈমানী কর্তব্য।
কুরআন মাজীদে আল্লাহ তা‘আলা নবী (ﷺ)-এর জন্য দরূদ পাঠের আদেশ করেছেন। এটা একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তাঁর রাসূলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত ও বরকত লাভের অন্যতম উপায়।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
۞ اِنَّ اللّٰہَ وَمَلٰٓئِکَتَہٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡہِ وَسَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠান। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরূদ পাঠাও এবং অধিক পরিমাণে সালাম পাঠাও।

সূরা আহযাব, আয়াত নং: ৫৬
ফযীলত

১. দরূদ পাঠকারীর রহমত, মাগফিরাত ও দরজা বুলন্দ হয়।
২. দরূদ পাঠকারীর জন্য ফেরেশতারা মাগফিরাতের দু‘আ করেন।
৩. দরূদ পাঠকারীর জন্য শাফাআত অবধারিত হয়।
৪. দরূদ পাঠকারী কিয়ামতের দিন নবীজীর সবচেয়ে নিকটবর্তী হবে।
৫. দরূদ পাঠকারীর উভয় জগতের সকল আশা পূরণ হয়।
৬. দরূদ পাঠ করার ফলে সদকার সওয়াব অর্জিত হয়।
৭. দরূদ বিহীন দু‘আ আসমান-যমীনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে।
৮. উম্মতের সালাম নবীজীর নিকট পৌঁছানো হয়।

তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ৩৪৮৪; ইবনে আবী শাইবা: ৬/৪৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১২৮২

২

দুরূদে ইবরাহীম

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণ

আল্লহুম্মা সাল্লি আ’লা- মুহাম্মাদিও ওয়া আ’লা- আ-লি মুহাম্মাদিন কামা- সল্লাইতা আ’লা- ইব্‌রা-হীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্‌রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিও ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারাক্‌তা আ’লা ইব্রা-হীমা ওয়া আ’লা আ-লি ইব্রা-হীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিজনের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর পরিজনের প্রতি, নিশ্চই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর পরিজনের প্রতি, যেভাবে আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইব্রাহীম (আঃ) ও তাঁর পরিজনের প্রতি, নিশ্চই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩৫৭; সুনানে নাসাঈ, হাদীস নং: ১২৮৭
৩

জুমার দিন আসরের পরের দরূদ

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدِنِ النَّبِيِّ الأُمِّىِّ وَعَلٰى اٰلِهٖ وَسَلِّمْ تَسْلِيْمًا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সাল্লি ’আলা মুহাম্মাদিনিন্নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আ’লা আ-লিহী ওয়া সাল্লিম তাসলিমা।

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি শান্তি ও রহমত বর্ষণ কর উম্মী নবী মুহাম্মদ (ﷺ) এর উপর ও তার পরিবারবর্গের উপর।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন আসরের নামাযের পর নিজের স্থানে বসে ৮০ বার দুরুদটি পড়বে, তার ৮০ বছরের গোনাহ্ মাফ হবে এবং তার আমলনামায় ৮০ বছরের ইবাদত-বন্দেগীর সওয়াব লেখা হবে।

তথ্যসূত্র: আদদুররুল মানযূদ ফিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহিবিল মাকামিল মাহমূদ: পৃ. ১৬০

৪

সংক্ষিপ্ত দরূদ-১

۞ اَللّٰهُـــمَّ صَـــلِّ عَلٰـى مُحَمَّــــدٍ وَّآلِ مُحَمَّدٍ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা- মুহাম্মাদ ওয়াআলী মুহাম্মাদ।

অর্থ

হে আল্লাহ! দয়া ও রহমত কর হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর প্রতি এবং তার পরিবারের প্রতি।

সুনানে কুবরা, হাদীস নং: ১২১৬
৫

সংক্ষিপ্ত দরূদ-২

۞ صَلَّى اللهُ (تَعَالٰى) عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
উচ্চারণ

সাল্লাল্লাহু (তা‘আলা) আলাইহি ওয়াসাল্লাম

অর্থ

“আল্লাহ্‌ (তাআ’লা) তাঁর (মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে শান্তি দান করুন।”

৬

অতীব গুরুত্বপূর্ন একটি দরূদ

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সল্লিআ’লা- মুহাম্মাদিও ওয়া আনযিলহুল মাক্ব’আদাল মুক্বার্‌রবা ই’নদাকা ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ্‌।

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর রহমত বর্ষিত কর, এবং কিয়ামতের দিন তুমি তাঁকে তোমার নিকটতম স্থানে অধিষ্ঠিত কর।

ফযীলত

হযরত রুয়াইফি' ইবনে ছাবেত আনছারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের (ﷺ) উপর দরূদ পড়বে এবং বলবে, হে আল্লাহ্! রোজ কিয়ামতে তাকে তুমি তোমার নিকট সম্মানিত স্থান দান করো। তার জন্য আমার সুপারিশ সুনিশ্চিত হয়ে যাবে।
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ), হাদীস নং: ৯৩৬

এ হাদীসটি তাবারানীও তাঁর মু'জামে কবীর' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তাতে দু'আর প্রসঙ্গটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে:
مَنْ قَالَ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمُقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجَبَتْ لَهُ شَفَاعَتِي
এতে সালাত ও সালামের পূর্ণ শব্দগুলো এসে গেছে এবং তা অত্যন্ত মুখতসরও বটে।

এমনি তো রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর গোটা উম্মতের জন্যে ইনশাল্লাহ শাফাআত করবেন। কিন্তু যে সব উম্মতীরা এ শব্দমালা যোগে তাঁর প্রতি দরূদ প্রেরণ করবে এবং আল্লাহ তা'আলার দরবারে তাঁর জন্যে এরূপ দু'আ করবে, তাদের ব্যাপারে শাফা'আত করাকে তিনি তাঁর বিশেষ কর্তব্য বলে জ্ঞান করবেন। আশা করা যায় যে, তিনি তাদের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব সহকারেই সুপারিশ করবেন।
اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَاَنْزِلْهُ الْمَقْعَدَ الْمَقَرَّبَ عِنْدَكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
-হে আল্লাহ! মুহাম্মদ (স)-এর প্রতি রহম কর এবং কিয়ামতের দিন তাঁকে তোমার নিকটতম আসনে অধিষ্ঠিত কর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)

তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৬৩৭৯

৭

নবীজি ﷺ ও সকল মুমিন-মুসলিমের জন্য দরূদ পাঠ

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُوْلِكَ، وَصَلِّ عَلٰى الْمُؤْمِنِيْنَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِيْنَ وَالْمُسْلِمَاتِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রসূলিকা, ওয়া সাল্লি আলাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনাত, ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত।

অর্থ

ইয়া আল্লাহ! রহমত বর্ষণ করুন আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এবং সকল মুমিন ও মুসলিম নর-নারীর প্রতি।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪০৮; জামে তিরমিযী, হাদীস নং: ৪৮৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং: ৯০৬
ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ যে ব্যক্তি একবার আমার প্রতি দরূদ পাঠ করে আল্লাহ্ তা'আলা তাহার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।

তথ্যসূত্র: আল আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৬৪৯

৮

দরূদে মুহাম্মাদ (ﷺ)

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ ‘আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইব্রাহিম, ওয়া বারিক ‘আলা মুহাম্মাদ, ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা ‘আলা ইব্রাহিমা ওয়া আলি ইব্রাহিম।

অর্থ

ইয়া আল্লাহ! রহমত বর্ষণ করুন আপনার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপর, যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম আ.-এর উপর। এবং বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদ ﷺ-এর উপর ও তাঁর পরিবাবর্গের উপর, যেমনিভাবে বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম আ. ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩৫৮; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৪৮৪
ফযীলত

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ যে ব্যক্তি আমার উপর অধিক দরূদ পাঠ করে, কিয়ামতের দিন সে-ই আমার অধিকতর নিকটবর্তী থাকবে।

তথ্যসূত্র: জামে' তিরমিযী, হাদীস নং: ৪৮৪, আন্তর্জাতিক নং: ৪৮৪

৯

সংক্ষেপ দরূদ-৩

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدِنِ النَّبِيِّ، وَأَزْوَاجِهٖ أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِيْنَ، وَذُرِّيَّتِهٖ وَأَهْلِ بَيْتِهٖ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى آلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন্-নাবিয়্যি, ওয়া আজওয়াজিহি উম্মাহাতিল মুমিনীন, ওয়া জুররিয়্যাতিহি ওয়া আহলি বাইতিহি, কামা সাল্লাইতা ‘আলা আলি ইব্রাহিম, ইন্নাকা হামিদুম মজীদ।

অর্থ

ইয়া আল্লাহ! নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁর স্ত্রীগণ-উম্মাহাতুল মুমিনীনের উপর, তাঁর সন্তান-সন্ততি ও নিকটাত্মীয়দের প্রতিও; যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম আ.-এর পরিজনদের প্রতি। আপনি নিশ্চয়ই অতি প্রশংসনীয়, মহা মহীয়ান।

সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৯৮২; সুনানে কুবরা, বাইহাকী ২/১৫১; আলকাউলুল বাদী‘, পৃ. ১১৭ (সালিহ লিলআমাল)
ফযীলত

আবু হুরায়রা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ এই দরূদ পাঠের দ্বারা যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ মাত্রায় সাওয়াব প্রাপ্তির আশা রাখে সে যেন আমাদের আহলে বায়ত’ [নবী করীম (ﷺ) এর পরিবার পরিজনবর্গ] এর উপর দরুদ পাঠ করতে গিয়ে এরূপ বলেঃ ‘আল্লাহুম্মা সাল্লে আলা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যি ওয়া আয্ওয়াজিহি উম্মুহাতিল মু’মিনীন, ওয়া যুররিয়্যাতিহী ওয়া আহলে বায়তিহী কামা সাল্লায়তা আলা আলে ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।’’

তথ্যসূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৯৮২

১০

আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রাযিঃ)-এর শেখানো দুরুদ শরীফ

۞ اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلاَتَكَ وَرَحْمَتَكَ وَبَرَكَاتِكَ عَلَى سَيِّدِ الْمُرْسَلِينَ وَإِمَامِ الْمُتَّقِينَ وَخَاتَمِ النَّبِيِّينَ مُحَمَّدٍ عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ إِمَامِ الْخَيْرِ وَقَائِدِ الْخَيْرِ وَرَسُولِ الرَّحْمَةِ
اللَّهُمَّ ابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا يَغْبِطُهُ بِهِ الأَوَّلُونَ وَالآخِرُونَ
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাজ‘আল সালা-তাকা ওয়া রাহমাতাকা ওয়া বারাকা-তিকা ‘আলা সাইয়্যিদিল মুরসালীন, ওয়া ইমামিল মুত্তাকীন, ওয়া খা-তামিন নাবিয়্যীন, মুহাম্মাদিন ‘আবদিকা ওয়া রাসূলিকা, ইমামিল খাইরি, ওয়া কা-ইদিল খাইরি, ওয়া রাসূলির রাহমাহ।

আল্লাহুম্মাব‘আসহু মাকামাম মাহমূদান ইয়াগবিতুহু বিহিল আওয়ালূনা ওয়াল-আখিরূন।

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন, কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

আল্লাহুম্মা বা-রিক ‘আলা মুহাম্মাদিন ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদিন, কামা বা-রাকতা ‘আলা ইবরাহীমা ওয়া ‘আলা আ-লি ইবরাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।

অর্থ

“হে আল্লাহ! আপনি আপনার প্রশান্তি আপনার রহমত ও বরকত আপনার বান্দা ও রাসূল, রাসূলকুলের শিরোমণি, মুত্তাকীগণের ইমাম, সর্বশেষ নবী, কল্যাণ ও মঙ্গলের ইমাম, রহমতের রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর প্রতি নাযিল করুন।
হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে মাকামে মাহমুদে (জান্নাতের চরম প্রশংসিত স্থানে) পৌঁছে দিন, যার জন্য পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণ আকাঙ্ক্ষা করে থাকেন।
হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) এবং তাঁর বংশধরদের উপর রহমত নাযিল করুন, যেরূপ আপনি রহমত নাযিল করেছেন ইবরাহীম (আ:) ও তাঁর বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর বংশধরদের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনিই তো বরকত দান করেছেন ইবরাহীম (আ:) ও তাঁর বংশধরদের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত, গৌরবান্বিত।

সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৯০৬