দু‘আ

ফযীলতপূর্ণ সূরা সমূহের অধ্যায়

২৪টি দু‘আ
১

সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত (৭০ হাজার ফেরেশতার) দু‘আ

۞ اَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْـعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ

۞ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ ۚ عٰلِمُ الۡغَيۡبِ وَالشَّهَادَةِ‌ ۚ هُوَ الرَّحۡمٰنُ الرَّحِيۡمُ‏ ﴿۲۲﴾ هُوَ اللّٰهُ الَّذِىۡ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ‌ۚ اَلۡمَلِكُ الۡقُدُّوۡسُ السَّلٰمُ الۡمُؤۡمِنُ الۡمُهَيۡمِنُ الۡعَزِيۡزُ الۡجَـبَّارُ الۡمُتَكَبِّرُ‌ؕ سُبۡحٰنَ اللّٰهِ عَمَّا يُشۡرِكُوۡنَ‏ ﴿۲۳﴾ هُوَ اللّٰهُ الۡخَـالِـقُ الۡبَارِئُ الۡمُصَوِّرُ‌ لَـهُ الۡاَسۡمَآءُ الۡحُسۡنٰى‌ؕ يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ‌ۚ وَهُوَ الۡعَزِيۡزُ الۡحَكِيۡمُ
উচ্চারণ

আউযুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম। তিনবার পড়ে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত ১ বার পাঠ করবে।
হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, ‘আ-লিমুল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি হুওয়াররাহমা-নুর রাহীম। হুওয়াল্লা-হুল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা-হু, আলমালিকুল কুদ্দূছুছ ছালা-মুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল ‘আযীযুল জাব্বা-রুল মুতাকাব্বির, ছুবহা-নাল্লা-হি ‘আম্মা-ইউশরিকূন। হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুছাওবিরু লাহুল আছমাউল হুছনা, ইউছাব্বিহু লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়া হুওয়াল ‘ আযীযুল হাকীম

অর্থ

তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই; দৃশ্য-অদৃশ্যের জ্ঞাতা; তিনিই পরম করুণাময়, দয়ালু। তিনিই আল্লাহ; যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনিই বাদশাহ, মহাপবিত্র, ত্রুটিমুক্ত, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষক, মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রতাপশালী, অতীব মহিমান্বিত, তারা যা শরীক করে তা হতে পবিত্র ও মহান। তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবনকর্তা, আকৃতিদানকারী, তাঁর রয়েছে সুন্দর নামসমূহ আসমান ও যমীনে যা আছে সবই তার মহিমা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশারী, প্রজ্ঞাময়।

ফযীলত

হযরত মা‘কাল ইবনে ইয়াসার (রাযি.) এর বর্ণিত রেওয়ায়েত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি সকালে ৩ বার “আউযুবিল্লাহিস সামিইল আলিমি মিনাশ শাইত্বনির রাজিম” পাঠ করার পর সূরা হাশরের সর্বশেষ তিন আয়াত পাঠ করবে। আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করে দিবেন, তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত পাঠকারীর জন্য রহমতের দু‘আ করবে। যেদিন এই আয়াত তিনটি পাঠ করবে সেদিন পাঠকারী মারা গেলে শহীদের মৃত্যু হাসিল করবে। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এভাবে পাঠ করবে সেও একই মর্তবা লাভ করবে।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৯২২

২

স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের জন্য দু‘আ

۞ رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّا تِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَّاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِيْنَ إِمَاماً
উচ্চারণ

রাব্বানা হাব্ লানা মিন্ আয্ওয়াজ্বিনা ওয়া যুররিইয়্যাতিনা ক্বুররাতা আ’ইউনিওঁ ওয়াজ্ব’আলঅনা লিল্ মুত্তাক্বিনা ইমামা।

অর্থ

হে আমাদের রব! তুমি আমাদেরকে এমন স্ত্রী-সন্তান দান কর যাদের দর্শনে আমাদের চক্ষুশীতল হয়ে যাবে। তুমি আমাদেরকে পরহেযগার লোকদের ইমাম (অভিভাবক) বানিয়ে দাও।

সূরা আল-ফুরকান আয়াত নং: ৭৪
ফযীলত

যারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যে, তিনি যেন তাদের সন্তান-সন্ততির মধ্য থেকে এমন লোক সৃষ্টি করেন, যারা তাঁর আনুগত্য করবে এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে—তাঁর কোনো শরিক নেই।

ইবনু আব্বাস রাযি. বলেন: এর দ্বারা তারা এমন সন্তান কামনা করে, যারা নেক আমল করবে। ফলে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের দেখে তাদের চোখ জুড়িয়ে যাবে।

ইকরিমা রহ. বলেন: তারা এর দ্বারা সন্তানদের সৌন্দর্য বা রূপ-লাবণ্য কামনা করেননি; বরং তারা চেয়েছেন, তাদের সন্তানরা যেন আল্লাহর অনুগত হয়।

হাসান বসরী রহ.-কে যখন এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি বললেন: এর অর্থ হলো—আল্লাহ যেন কোনো মুসলিম বান্দাকে তার স্ত্রী, ভাই এবং নিকটজনদের মধ্যে আল্লাহর আনুগত্য দেখতে দেন। আল্লাহর কসম! কোনো মুসলিমের চোখের জন্য এর চেয়ে অধিক প্রশান্তিদায়ক আর কিছু নেই যে, সে তার সন্তান, নাতি-নাতনি, ভাই অথবা কোনো প্রিয়জনকে আল্লাহর অনুগত অবস্থায় দেখতে পায়।”

তথ্যসূত্র: তাফসীরে ইবনে কাসীর

৩

কষ্টদায়ক জিনিস থেকে মুক্তির রুকাইয়া

সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস (৩বার)
উচ্চারণ

সূরা ইখলাস:

১. قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
২. اللَّهُ الصَّمَدُ
৩. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
৪. وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

সূরা ফালাক্ব:

১. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
২. مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
৩. وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
৪. وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
৫. وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

সূরা নাস:

১. قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
২. مَلِكِ النَّاسِ
৩. إِلَـٰهِ النَّاسِ
৪. مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
৫. الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
৬. مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ

অর্থ

সূরা ইখলাস:
১. কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।
২. আল্লা-হুসসামাদ।
৩. লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।
৪. ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।

সূরা ফালাক্ব:
১. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক
২. মিন শাররি মা-খালাক।
৩. ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।
৪. ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।
৫. ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

সূরা নাস:
১. কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,
২.মালিকিন্না-ছ,
৩. ইলা-হিন্না-ছ।
৪. মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।
৫. আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।
৬. মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

সূরা ইখলাস:
১. বলে দাও, কথা হল আল্লাহ সব দিক থেকে এক।
২. আল্লাহই এমন যে, সকলে তাঁর মুখাপেক্ষী, তিনি কারও মুখাপেক্ষী নন।
৩. তার কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন
৪. এবং তার সমকক্ষ নয় কেউ।

সূরা ফালাক্ব:
১. বল, আমি ভোরের মালিকের আশ্রয় গ্রহণ করছি
২. তিনি যা-কিছু সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে
৩. এবং অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন তা ছেয়ে যায়
৪. এবং সেই সব ব্যক্তির অনিষ্ট হতে, যারা (তাগা বা সুতার) গিরায় ফুঁ দেয়
৫. এবং হিংসুকের অনিষ্ট হতে, যখন সে হিংসা করে।

সূরা নাস:
১. বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি সমস্ত মানুষের প্রতিপালকের
২. সমস্ত মানুষের অধিপতির
৩. সমস্ত মানুষের মাবূদের
৪. সেই কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে, যে পেছনে আত্মগোপন করে
৫. যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়,
৬. সে জিনদের মধ্য হতে হোক বা মানুষের মধ্য হতে।
ফযীলত

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে খুবাইব (রাযি) থেকে বর্ণিত, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বল! আমি চুপ রইলাম। পুনরায় বললেন, বল! আমি চুপ রইলাম। আবার বললেন, বল! আমি আরয করলাম, কি বলব! ইরশাদ করলেন, সকাল বিকাল তিনবার সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক্ব, সূরা নাস পড়ে নিবে। এই সূরাগুলি প্রত্যেক কষ্টদায়ক জিনিস থেকে তোমার হিফাযত করবে। ফায়দা
কোনো কোনো ওলামায়ে কেরামের মতে হাদীস শরীফের উদ্দেশ্য এই যে, যারা বেশি পড়তে না পারে তারা যদি কমপক্ষে সকাল বিকাল এই তিনটি সূরা পড়ে নেয় তবে ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট হবে। (শরহুত তীবী)

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৮২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৭৫

৪

আয়াতে শেফা (রোগ মুক্তির ৬ টি আয়াত)

পবিত্র কুরআনে কারীমের ৬ টি আয়াত আয়াতে শেফা বা রোগ মুক্তির আয়াত নামে পরিচিত। এগুলো পড়ার পূর্বে সূরা ফাতিহা পড়ে নেয়া উত্তম।

۞ وَيَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِيْنَ
۞ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ وَهُدًى وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ
۞ وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ
۞ قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا هُدًى وَّشِفَاءٌ
উচ্চারণ

১. ওয়া ইয়াশফি ছুদু-রা ক্বাওমিম মু’মিনি-ন।
২. ওয়া শিফাউ’ল লিমা- ফিচ্ছুদু-রি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনি-ন।
৩. ইয়াখরুঝু মিমবুতু-নিহা- শারা-বুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু- ফি-হি শিফা-উ লিন্না-সি।
৪. ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল ক্বুরআ’নি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনি-ন।
৫. ওয়া ইজা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফি-নি।
৬. কুল হুওয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাওঁ ওয়া শিফাউন।

অর্থ

১. এবং আল্লাহ মু’মিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন।
২. এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।
৩. তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার।
৪. আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।
৫. এবং যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন
৬. বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার

১. সূরা তাওবার ১৪ নং আয়াত
২. সূরা ইউনূসের ৫৭ নং আয়াত
৩. সূরা নাহলের ৬৯ নং আয়াত
৪. সূরা বনী ইসরাঈলের ৮২ নং আয়াত
৫. সূরা আশ্-শুআরার ৮০ নং আয়াত
৬. সূরা হা-মীম এর ৪৪ নং আয়াত
ফযীলত

বুজুর্গানে দ্বীনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্তঃ কোনো একটি পানিভর্তি পাত্র হাতে নিয়ে মুখের সামনে রেখে আয়াতগুলো একবার মতান্তরে তিনবার পড়ে দম করতে হবে। এবং ওই পানি পান করতে হবে।
উপরোক্ত প্রতিটি আয়াতেই কুরআনে মুমিনদের জন্য ‘শেফা’, ‘রহমত’ প্রভৃতির কথা উল্লেখিত হয়েছে। তাফসীরবিদ ইমাম বায়হাকী (রহ.) ‘শেফা’ অর্থ আত্মা এবং দেহ উভয়ের শেফা বা নিরাময় বলেছেন। অর্থাৎ পবিত্র কুরআনে যেমন আত্মার যাবতীয় রোগ এবং মন্দ প্রবণতার চিকিৎসা রয়েছে, তেমনি দেহের যাবতীয় রোগ-ব্যাধিরও চিকিৎসা রয়েছে।
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, হুযূর পাক (ﷺ) বলেছেন, “আল্লাহ পাক এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি।
ইমাম সুবকী (রাহ.) উনাকে স্বপ্নে মহান আল্লাহ পাক বলেন, “তুমি কুরআন মাজিদের শেফার আয়াতসমূহ একত্র করে তা তোমার ছেলের নিকট পাঠ কর অথবা আয়াতগুলো একটি পাত্রে একত্রে লিখে তা ছেলেকে পান করাও, যতক্ষণ না তাতে সে সুস্থ হয়। অতঃপর তিনি অনুরূপ করলে উনার ছেলেকে মহান আল্লাহ পাক সুস্থতা দান করেন।”
যে ব্যক্তি কুরআনের মাধ্যমে আরোগ্য তালাশ করে না, তার কোন শেফা নেই। তাই আল কুরআন মানুষের হিদায়াতের পাশাপাশি তাদের রোগ-বালাই থেকে পরিত্রানের জন্যও কতই না কার্যকর, কতই না ফলপ্রসু। দুনিয়া ও আখিরাতের সমূহ কল্যাণ লাভের ক্ষেত্রে কতই না বাস্তব এর প্রতিটি তথ্য ও তত্ত্ব।
ইমাম যারকাশী (রাহ.) তার কিতাবে আবূল কাসেম আল কুশাইরীর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, তিনি নবীজী (ﷺ) কে স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি তাকে ৬টি আয়াতে শেফা পাঠ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: আল-মাদখাল; সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৬৭৮; তাফসীরে কুরতুবী, ১০: ২৩৫; তাফসীরে রূহুল মা’আনী, ৮: ১৪৫

৫

বজ্রপাতের সময়/মেঘের গর্জন শুনলে পড়বে-২

۞ سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِ هٖ وَالْمَلاَئِكةُ مِنْ خِيفَتِهٖ
উচ্চারণ

সুবহা-নাল্লাযী ইউসাব্বিহুর রা‘দু বিহামদিহি ওয়ালমালাইকাতু মিন খী-ফাতিহি

অর্থ

পবিত্র-মহান সেই সত্তা, যার ভয়ে রা‘দ ফেরেশতাসহ সকল ফেরেশতা মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে।

ফযীলত

সাহাবায়ে কিরাম (রাযি) মেঘের গর্জন শুনলে এই দু‘আ পড়তেন।
আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রাযি) মেঘের গর্জন শুনলে কথা বলা বন্ধ করে দিতেন এবং এই দু‘আ পড়তেন। অতঃপর তিনি (আমির ইবনে আবদুল্লাহ) বলতেন, যমীনের অধিবাসীদের জন্য এই আওয়াজ অত্যন্ত কঠিন আযাবের সংবাদ।

তথ্যসূত্র: মুওয়াত্তা মালেক, হাদীস নং: ১৮৬৭; আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৩৭১

৬

সূরা আল-ফাতিহা

اَلۡحَمۡدُ لِلّٰهِ رَبِّ الۡعٰلَمِيۡنَۙ‏ ﴿۱﴾ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِيۡمِۙ‏ ﴿۲﴾ مٰلِكِ يَوۡمِ الدِّيۡنِؕ‏ ﴿۳﴾ اِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَاِيَّاكَ نَسۡتَعِيۡنُؕ‏ ﴿۴﴾ اِهۡدِنَا الصِّرَاطَ الۡمُسۡتَقِيۡمَۙ‏ ﴿۵﴾ صِرَاطَ الَّذِيۡنَ اَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ ۙ‏ ﴿۶﴾ غَيۡرِ الۡمَغۡضُوۡبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا الضَّآلِّيۡنَ‏ ﴿۷﴾
উচ্চারণ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
আল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।
আররাহমা-নির রাহীম।
মা-লিকি ইয়াওমিদ্দীন।
ইয়্যা-কা না‘বুদুওয়া ইয়্যা-কা নাছতা‘ঈন।
ইহদিনাসসিরা-তাল মুছতাকীম।
সিরা-তাল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম ।
গাইরিল মাগদূ বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন।

অর্থ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। যাবতীয প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। যিনি বিচার দিনের মালিক। আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।

ফযীলত

১. আবু সাঈদ ইবনে মুআল্লা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একদা মসজিদে নববীতে নামায আদায় করছিলাম, এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডাকেন। ... তারপর তিনি আমাকে বললেন, তুমি মসজিদ থেকে বের হওয়ার পূর্বেই তোমাকে আমি কুরআনের এক মহান সূরা শিক্ষা দিব। তারপর তিনি আমার হাত ধরেন। এরপর যখন তিনি মসজিদ থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা করেন তখন আমি তাঁকে বললাম, আপনি না আমাকে কুরআনের শ্রেষ্ঠতম সূরা শিক্ষা দিবেন বলে বলেছিলেন? তিনি বললেন, اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক, এটা বারবার পঠিত সাতটি আয়াত বিশিষ্ট সূরা এবং মহান কুরআন যা আমাকেই প্রদান করা হয়েছে। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৪৪৭৪)

২. হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জিবরাঈল (আ.) নবী (ﷺ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন, ইত্যবসরে উপরের দিকে তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেয়ে নিজের মাথা তুললেন এবং বললেন, এটি আসমানের একটি দরজা যা আজই খুলে দেয়া হল; আজকের দিন ব্যতীত কখনও তা খোলা হয়নি। তখন সে দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতরণ করলেন। তিনি বললেন, ইনি একজন ফিরিশতা যিনি পৃথিবীতে অবতরণ করলেন, আজ ছাড়া অন্য কখনো তিনি অবতরণ করেননি। এরপর উক্ত ফিরিশতা সালাম করে বললেন, দুটি নূর এর সুসংবাদ গ্রহণ করুন যা আপনাকে দেয়া হয়েছে এবং যা আপনার আগে আর কোন নবীকে দেয়া হয়নি। তা হল সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারা’র শেষাংশ। এ দু’ টির যে কোন হরফ আপনি পাঠ করবেন তা আপনাকে দিয়েই দেয়া হবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮০৬)

৩. হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) সূত্রে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) একদিন উবাই ইবনে কাব (রাযি)–এর কাছে গেলেন। রাসুল (ﷺ) বললেন, নামাযে কি পাঠ কর? উবাই (রাযি) উম্মুল কুরআন সূরা ফাতিহা পাঠ করে শুনালেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, যে সত্তার হাতে আমার জান সেই সত্তার কসম! তওরাত, ইনজিল, যাবূর এবং ফুরকানেও এর মত কোন সূরা নাযিল হয়নি। এই সূরাটি হল বারবার পঠিত সাত আয়াত বিশিষ্ট সূরা এবং মহান কুরআন যা আমাকে প্রদান করা হয়েছে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৭৫)

৪. হযরত আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে ছিলেন। পথিমধ্যে এক স্থানে তিনি অবতরণ করলেন। তাঁর পাশেই আর একজন লোক অবতরণ করল। বর্ণনাকারী বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) তার দিকে তাকালেন এবং বললেন, আমি কি তোমাকে কুরআনের উত্তম সুরার কথা বলব না? সে বলল, জ্বী হ্যাঁ। তিনি তখন তিলাওয়াত করলেন, اَ لْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৪৮)

৭

সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত

۞ آمَنَ الرَّسُوْلُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُوْنَ ۚ كُلٌّ آمَنَ بِاللّٰهِ وَمَلَائِكَتِه وَكُتُبِه وَرُسُلِه لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِه ۚ وَقَالُوْا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيْرُ
لَا يُكَلِّفُ اللّٰهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا ۚ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ ۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَّسِيْنَا أَوْ أَخْطَأْنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِيْنَ مِن قَبْلِنَا ۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِه ۖ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۚ أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِيْنَ
উচ্চারণ

আ-মানাররাছূলু বিমাউনঝিলা ইলাইহি মির রাব্বিহী ওয়াল মু’মিনূন। কুল্লুন আ-মানা বিল্লাহি ওয়া মালাইকাতিহী ওয়া কুতুবিহী ওয়া রুছুলিহ, লা-নুফাররিকুবাইনা আহাদিম মির রুছুলিহ, ওয়া কা-লূ ছামি‘না ওয়াআতা‘না গুফরা-নাকা রাব্বানা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

লা-ইউকালিলফুল্লা-হু নাফছান ইল্লা-উছ‘আহা, লাহা-মা কাছাবাত ওয়া ‘আলাইহা-মাকতাছাবাত, রাব্বানা-লা-তুআ-খিযনা ইন নাছীনা-আও আখতা’না,-রাব্বানা ওয়ালা-তাহমিল ‘আলাইনা-ইসরান কামা-হামালতাহূ আলাল্লাযীনা মিন কাবলিনা, -রাব্বানা-ওয়ালা তুহাম্মিলনা-মা-লা-তা-কাতা লানা-বিহ, ওয়া‘ফু‘আন্না-ওয়াগফিরলানা-ওয়ারহামনা-আনতা মাওলা-না-ফানসুরনা-‘আলাল কাওমিল কা-ফিরীন।

অর্থ

(১) রাসূল (অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ ﷺ) তাতে ঈমান এনেছে, যা তাঁর উপর তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নাযিল করা হয়েছে এবং (তাঁর সাথে) মুমিনগণও। তাঁরা সকলে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছে। (তারা বলে,) আমরা তাঁর রাসূলগণের মধ্যে কোনও পার্থক্য করি না (যে, কারও প্রতি ঈমান আনব এবং কারও প্রতি আনব না)। এবং তাঁরা বলে, আমরা (আল্লাহ ও রাসূলের বিধানসমূহ মনোযোগ সহকারে) শুনেছি এবং তা (খুশীমনে) পালন করছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনার মাগফিরাতের ভিখারী, আর আপনারই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন।
(২) আল্লাহ কারও উপর তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করেন না। তার কল্যাণ হবে সে কাজেই যা সে স্বেচ্ছায় করে এবং তার ক্ষতিও হবে সে কাজেই, যা সে স্বেচ্ছায় করে। (হে মুসলিমগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে এই দু‘আ কর যে,) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দ্বারা যদি কোনও ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তবে সেজন্য তুমি আমাদের পাকড়াও করো না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের প্রতি সেই রকমের দায়িত্বভার অর্পণ করো না, যেমন তা অর্পণ করেছিলে আমাদের পূর্ববর্তীদের প্রতি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উপর এমন ভার চাপিয়ো না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদের (ত্রুটিসমূহ) মার্জনা কর, আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের অভিভাবক ও সাহায্যকারী। সুতরাং কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর।

সূরা বাকারা, আয়াত: ২৮৫, ২৮৬
ফযীলত

১. হযরত আবূ মাসউদ (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি রাতে সূরা বাকারার শেষ দু’টি আয়াত পাঠ করে, সেটাই তার জন্য যথেষ্ট। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫০০৮–৫০১০)

২. হযরত নোমান ইবনে বশীর (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, আসমান ও জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বৎসর পূর্বে আল্লাহ্‌ তা‘আলা একটি কিতাব লিখেছেন। উক্ত কিতাব থেকে দুইটি আয়াত নাযিল করেছেন যার উপর আল্লাহ্‌ তা‘আলা সূরা বাকারা শেষ করেছেন। এই আয়াতদ্বয় (আয়াত দুটি) একাধারে তিন রাত্র যে ঘরে পড়া হয়, শয়তান তার নিকটেও আসেনা। (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৫৭)

৩. হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, একবার জিবরাইল (আ.) নবী কারীম (ﷺ) এর নিকট বসে ছিলেন, এমন সময় আসমান থেকে কড় কড় আওয়াজ শুনা গেল। তিনি মাথা উঠালেন এবং বললেন, আসমানের একটি দরজা খুলল যা আজকের পূর্বে কখনো খুলে নাই। এই দরজা দিয়ে একজন ফিরিশতা অবতরন করেছেন। এই ফিরিশতা আজকের পূর্বে কখনো জমিনে আসেন নাই। সেই ফিরিশতা খেদমতে উপস্থিত হয়ে সালাম করলেন এবং আরয করলেন, সুসংবাদ হউক, আপনাকে দুইটি নূর দেওয়া হয়েছে যা আপনার পূর্বে কোন নবীকে দেওয়া হয় নাই। একটি সূরা ফাতিহা, দ্বিতীয়টি সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত। আপনি তা থেকে যেকোন বাক্য পড়বেন তা আপনাকে দেওয়া হবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮০৬)

ফায়দাঃ দুই আয়াতের যথেষ্ট হওয়ার দুই অর্থ: এক এই যে, উহার পাঠকারী সেই রাত্রে সকল খারাবী থেকে নিরাপদ থাকবে। দ্বিতীয় এই যে, এই দুই আয়াত তাহাজ্জুতের স্থলে হয়ে যাবে। (ইমাম নববী )

ফায়দাঃ অর্থাৎ, যদি প্রশংসামূলক বাক্য হয়, তবে প্রশংসা করার সওয়াব পাবেন, আর যদি দু‘আর বাক্য হয় তবে দু‘আ কবূল করা হবে।

৮

আয়াতুল কুরসী

۞ اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡحَـىُّ الۡقَيُّوۡمُ لَا تَأْخُذُهٗ سِنَةٌ وَّلَا نَوۡمٌ‌ؕ لَهٗ مَا فِى السَّمٰوٰتِ وَمَا فِى الۡاَرۡضِ‌ؕ مَنۡ ذَا الَّذِىۡ يَشۡفَعُ عِنۡدَهٗۤ اِلَّا بِاِذۡنِهٖ‌ؕ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ اَيۡدِيۡهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡ‌ۚ وَلَا يُحِيۡطُوۡنَ بِشَىۡءٍ مِّنۡ عِلۡمِهٖۤ اِلَّا بِمَا شَآءَ ۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ‌‌ۚ وَلَا يَـــُٔوۡدُهٗ حِفۡظُهُمَا ‌ۚ وَ هُوَ الۡعَلِىُّ الۡعَظِيۡمُ‏
উচ্চারণ

আল্লা-হু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া আল হাইয়ুল কাইয়ূমু লা-তা’খুযুহূ ছিনাতুওঁ ওয়ালা-নাওমুন লাহূ মা-ফিছ ছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইনদাহূইল্লা-বিইযনিহী ইয়া‘লামুমা-বাইনা আইদীহিম ওয়ামা-খালফাহুম ওয়ালা-ইউহীতূনা বিশাইইম মিন ‘ইলমিহীইল্লা-বিমা-শাআ ওয়াছি‘আ কুরছিইয়ুহুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা ওয়ালা-ইয়াঊদুহু হিফজু হুমা-ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ূল ‘আজীম।

অর্থ

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছে এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোনো কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

সূরা বাকারা, আয়াত: ২৫৫
ফযীলত

১. হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে রমযানে প্রাপ্ত যাকাতের মাল হেফাযতের দায়িত্ব দিলেন। এ সময় জনৈক ব্যক্তি এসে খাদ্য–দ্রব্য উঠিয়ে নিতে উদ্যত হল। আমি তাকে ধরে ফেললাম এবং বললাম, আমি তোমাকে আল্লাহর নবী (ﷺ) এর কাছে নিয়ে যাব।.....তখন লোকটি বলল, যখন আপনি ঘুমাতে যাবেন, তখন আয়াতুল কুরসী পাঠ করবেন। এর ফলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হবে এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান আপনার কাছে আসতে পারবে না। রাসূল (ﷺ) (এ ঘটনা শুনে) বললেন, (যে তোমার কাছে এসেছিল) সে সত্য কথা বলেছে, যদিও সে বড় মিথ্যাবাদী শয়তান। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫০০৮ -৫০১০)

২. হযরত আলী (রাযি) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এই মিম্বরের কাঠের উপর বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী নিয়মিত পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশে কেবল মৃত্যুই অন্তরায় হয়ে আছে। যে ব্যক্তি এ আয়াতটি বিছানায় শয়নের সময় পড়বে আল্লাহ তার ঘরে, প্রতিবেশির ঘরে এবং আশপাশের আরো অন্যান্য ঘরসহ নিরাপত্তা দান করবেন। (মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং: ৯৭৪)

৩. হযরত আলী (রাযি) বলেছেন, আমি মনে করিনা যে, এমন কোন ব্যক্তি যে জন্মগতভাবে মুসলমান হয়েছে বা সাবালক হওয়ার পর মুসলমান হয়েছে আর সে এই আয়াত اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡحَـىُّ الۡقَيُّوۡمُ পাঠ না করে রাত্র অতিবাহিত করতে পারে? হায়, যদি তোমরা জানতে, এই আয়াতের মর্তবা কি! তোমরাদের নবীকে এই আয়াত আরশের নিচে অবস্থিত খাজানা বা ভান্ডার থেকে দান করা হয়েছে এবং তোমাদের নবীর পূর্বে অন্য কোন নবীকে তা দেওয়া হয়নি। আমি এই আয়াত প্রতি রাত্রে তিনবার পাঠ করে শয়ন করি। এশার পরে দুই রাকাতে ও বিতরের নামাযেও তা পাঠ করি এবং বিছানায় শয়নের সময়েও তা পাঠ করি । (কানয)

৪. হযরত উবাই বিন কা’ব (রাযি) বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) আমাকে ইরশাদ করেছেন, হে আবূল মুনজির! এটি হযরত উবাই বিন কাব (রাযি) এর উপনাম। তোমার জানা আছে কি, তোমার নিকট কিতাবুল্লার সর্বাপেক্ষা মর্যাদাসম্পন্ন আয়াত কোনটি? আমি আরয করলাম আল্লাহ্‌ ও তার রাসূল-ই সর্বাপেক্ষা বেশি জানেন। নবী কারীম (ﷺ) দ্বিতীয়বার জিজ্ঞাসা করলেন, আবূল মুনজির! তোমার জানা আছে কি, কিতাবুল্লাহর সর্বাপেক্ষা মর্যাদাসম্পন্ন আয়াত তোমার নিকট কোনটি? আমি আরয করলাম, اَللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡحَـىُّ الۡقَيُّوۡمُ [আয়াতুল কুরসী]। তিনি আমার সিনার উপর হাত মারলেন (যেন এইরূপ উত্তরের কারণে সাবাশ দিলেন) এবং ইরশাদ করলেন, হে আবূল মুনযির! তোমার জন্য ইলম মোবারক হউক। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮১০)

এক বর্ণনায় আয়াতুল কুরসী সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, সেই পাক জাতের কসম, যার হাতে আমার প্রান, এই আয়াতের একটি জিহ্বা ও দুইটি ঠোট রয়েছে, এটি আরশের পায়ার নিকট আল্লাহ্‌ তা‘আলার পবিত্রতা বয়ান করে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২০৩২২)

৫. শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার আয়াত: হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সূরা বাকারায় একটি শ্রেষ্ঠ আয়াত রয়েছে, যে ঘরে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা হবে সেখান থেকে শয়তান পালাতে থাকে। (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৫৬
৬. হযরত আবূ উমামা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি ফরয নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোনো কিছু বাধা হবে না। (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২৪৭৭)

৭. হযরত আবূ যর জুনদুব ইবনে জুনাদাহ (রাযি) রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার প্রতি সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কোন আয়াতটি নাযিল হয়েছে? রাসূল (ﷺ) বলেছিলেন, আয়াতুল কুরসী। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮১০)

৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, প্রত্যেক জিনিসের একটি চূড়া হয় (যা সবার উপরে ও সর্বোচ্চ থাকে)। কুরআনে কারীমের চূড়া হল সূরা বাকারা। তাতে একটি আয়াত এমন আছে যা কুরআন শরীফের সমস্ত আয়াতের সর্দার, আর তা আয়াতুল কুরসী। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৭৮)

৯. হযরত মাকিল ইবনে ইয়াসার (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, কুরআনে কারীমের চূড়া অর্থাৎ সর্বোচ্চ অংশ হল সূরা বাকারা। তার প্রত্যেকের সহিত আশিজন ফেরেশতা অবতরন করেছেন এবং আয়াতুল কুরসী আরশের নিচ থেকে বের করা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তা‘আলার বিশেষ খাজানা থেকে নাযিল হয়েছে। অতঃপর তাকে সূরা বাকারার সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে--অর্থাৎ তার মধ্যে শামিল করা হয়েছে। সূরা ইয়াসীন কুরআনে কারীমের দিল। যে ব্যক্তি এটিকে আল্লাহ্‌ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং আখিরাতের নিয়তে পড়বে অবশ্যই তার মাগফিরাত করে দেওয়া হবে। অতএব এই সূরা নিজেদের মরণাপন্ন লোকদের নিকট পাঠ কর (যেন রূহ বের হতে সহজ হয়)। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৯৪১৯; আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৫৩)

ফায়দাঃ হাদীস শরীফে সূরা বাকারাকে কুরআন কারীমের চূড়া সম্ভবত এইজন্য বলা হয়েছে যে, ইসলামের বুনিয়াদী উসূল, আকীদাসমূহ ও শরীয়তের হুকুমসমূহের বিস্তারিত বর্ণনা যেরূপ সূরা বাকারা থেকে করা হয়েছে এই পরিমান ও এরূপ কুরআনে কারীমের আর কোন সূরায় করা হয়নি। (মাআরিফুল হাদীস)

৯

সূরা আল-কাহফ (দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচার দু‘আ)

(প্রথম ১০ আয়াত)

১

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَىٰ عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجًا ۜ

২

قَيِّمًا لِّيُنذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِّن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا

৩

مَّاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا

৪

وَيُنذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا

৫

مَّا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ ۚ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ ۚ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا

৬

فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَىٰ آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَٰذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا

৭

إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا

৮

وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا

৯

أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا

১০

إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إِلَى الْكَهْفِ فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا

(শেষ ১০ আয়াত)

১

الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاءٍ عَن ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا

২

أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَن يَتَّخِذُوا عِبَادِي مِن دُونِي أَوْلِيَاءَ ۚ إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا

৩

قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُم بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا

৪

الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا

৫

أُولَٰئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا

৬

ذَٰلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا

৭

إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا

৮

خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا

৯

قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا

১০

قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا
উচ্চারণ

(প্রথম ১০ আয়াত)

১
আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আনযালা ‘আলা ‘আবদিহিল্ কিতা-বা অ লাম্ ইয়াজ্ব‘আল্ লাহূ ‘ইওয়াজ্বা-।

২
ক্বাইয়্যিমাল্ লিয়ুনযিরা বা'সান্ শাদীদাম্ মিল্লাদুনহু অ-য়ুবাশ্ শিরাল্ মুমিনীনাল্লাযীনা ইয়া’মালূনাছ্ ছোয়া-লিহা-তি আন্না লাহুম্ আজ্বরান্ হাসানা-।

৩
মা-কিছীনা ফীহি আবাদা-।

৪
অ-য়ুনযিরাল্লাযিনা ক্ব-লুত্তাখাযাল্লা-হু অলাদা-।

৫
মা-লাহুম্ বিহী মিন্ ‘ইল্মিঁও অলা- লিআ-বা-য়িহিম্; কাবুরত্ কালিমাতান্ তাখরুজু মিন্ আফ্ওয়া-হিহিম্; ইঁইয়াকু লূনা ইল্লা-কাযিবা-।

৬
ফালা‘আল্লাকা বা-খি‘উন্নাফ্সাকা ‘আলা আ-ছা-রিহিম্ ইল্ লাম্ ইয়ুমিনূ বিহা-যাল্ হাদীছি আসাফা-।

৭
ইন্না- জ্বা‘আলনা-মা- ‘আলাল্ র্আদ্বি যীনাতাল্লাহা-লিনাব্লুওয়াহুম্ আইয়্যুহুম্ আহ্সানু ‘আমালা-।

৮
অইন্না-লাজ্বা-‘ইলূনা মা-‘আলাইহা-ছোয়া‘ঈদান্ জুরুযা-।

৯
আম্ হাসিবতা আন্না আছ্হা-বাল্ ক্বহ্ফি অর্রাক্বীমি কা-নূ মিন্ আ-ইয়া-তিনা- ‘আজ্বাবা।

১০
ইয্ আওয়াল্ ফিত্ইয়াতু ইলাল্ কাহ্ফি ফাক্ব-লূ রব্বানা আ-তিনা-মিল্লাদুন্কা রাহমাতাওঁ অহাইয়ি লানা- মিন্ আম্রিনা- রশাদা-।

(শেষ ১০ আয়াত)

১
আল্লাযীনা কা-নাত্ ‘আইয়ুনুহুম্ ফী গিত্বোয়া-য়িন্ ‘আন্ যিক্রী অকা-নূ লা- ইয়াস্তাত্বী ‘ঊনা সাম্‘আ-।

২
আফাহাসিবাল্ লাযীনা কাফারূ আইঁ ইয়াত্তাখিযূ ‘ইবা-দী মিন্ দূনী আওলিয়া-য়্; ইন্না ‘আ'তাদ্না-জ্বাহান্নামা লিল্ কা-ফিরীনা নুযুলা-।

৩
কুল্ হাল্ নুনাব্বিয়ুকুম্ বিল্আখ্সারীনা ‘আমা-লা-।

৪
আল্লাযীনা দ্বোয়াল্লা সা’ইয়ুহুম্ ফীল্ হা-ইয়া-তিদ্ দুন্ইয়া-অ হুম্ ইয়াহ্সাবূনা আন্নাহুম্ ইয়ুহ্সিনূনা ছুন্‘আ-।

৫
উলা-য়িকাল লাযীনা কাফারূ বিআ-ইয়া-তি রব্বিহিম্ অলিক্বা-য়িহী ফাহাবিত্বোত আ’মা-লূহুম্ ফালা-নুক্বীমু লাহুম্ ইয়াওমাল্ ক্বিয়া-মাতি অয্না-।

৬
যা-লিকা জ্বাযা-য়ুহুম্ জ্বাহান্নামু বিমা-কাফারূ অত্তাখাযূ আ-ইয়া-তী অরুসুলী হুযুওয়া-।

৭
ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূ অ‘আমিলুছ্ ছোয়া-লিহা-তি কা-নাত্ লাহুম্ জ্বান্নাতুল্ ফিরদাউসি নুযুলা-।

৮
খা-লিদীনা ফীহা-লা-ইয়াবগূনা ‘আন্হা-হিওয়ালা-।

৯
কুল্ লাও কা-নাল্ বাহরু মিদা-দাল্ লিকালিমাতি রব্বী লানাফিদাল্ বাহরু ক্বাব্লা আন্ তান্ফাদা কালিমা-তু রব্বী অলাও জ্বিনা-বিমিছ্লিহী মাদাদা-।

১০
কুল্ ইন্নামা আনা-বাশারুম্ মিছ্লুকুম্ ইয়ূহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলা-হুকুম্ ইলাহুঁও ওয়া- হিদুন্ ফামান্ কা-না ইয়ারজু লিক্বা রব্বিহী ফাল্ইয়া’মাল্ ‘আমালান্ ছোয়া-লিহাঁও অলা-ইয়ুশরিকু বি ই’বা-দাতি রব্বিহী আহাদা-।

অর্থ

(প্রথম ১০ আয়াত)

১
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি তাঁর বান্দার উপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে রাখেননি কোন বক্রতা ।

২
সরলরূপে, যাতে সে তাঁর পক্ষ থেকে কঠিন আযাব সম্পর্কে সতর্ক করে এবং সুসংবাদ দেয়, সেসব মুমিনকে, যারা সৎকর্ম করে, নিশ্চয় তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান।

৩
তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে।

৪
আর যেন সতর্ক করে তাদেরকে, যারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন’।

৫
এ ব্যাপারে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও না। বড় মারাত্মক কথা, যা তাদের মুখ থেকে বের হয়। মিথ্যা ছাড়া তারা কিছুই বলে না!

৬
হয়তো তুমি তাদের পেছনে পেছনে ঘুরে দুঃখে নিজকে শেষ করে দেবে, যদি তারা এই কথার প্রতি ঈমান না আনে।

৭
নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম।

৮
আর নিশ্চয় তার উপর যা রয়েছে তাকে আমি উদ্ভিদহীন শুষ্ক মাটিতে পরিণত করব।

৯
তুমি কি মনে করেছ যে, গুহা ও রাকীমের অধিবাসীরা ছিল আমার আয়াতসমূহের এক বিস্ময়?

১০
যখন যুবকরা গুহায় আশ্রয় নিল অতঃপর বলল, ‘হে আমদের রব, আমাদেরকে আপনার পক্ষ থেকে রহমত দিন এবং আমাদের জন্য আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক করে দিন’।

(শেষ ১০ আয়াত)

১
আমার স্মরণ থেকে যাদের চোখ ছিল আবরণে ঢাকা এবং যারা শুনতেও ছিল অক্ষম।

২
যারা কুফরী করছে, তারা কি মনে করেছে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করবে? নিশ্চয় আমি জাহান্নামকে কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত করছি।

৩
বল, ‘আমি কি তোমাদেরকে এমন লোকদের কথা জানাব, যারা আমলের দিক থেকে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত’?

৪
দুনিয়ার জীবনে যাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে, অথচ তারা মনে করছে যে, তারা ভাল কাজই করছে’!

৫
‘তারাই সেসব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে তাদের সকল আমল নিষ্ফল হয়ে গেছে। সুতরাং আমি তাদের জন্য কিয়ামতের দিন কোন ওজনের ব্যবস্থা রাখব না’।

৬
‘এ জন্যই তাদের প্রতিফল জাহান্নাম। কারণ তারা কুফরী করেছে এবং আমার আয়াতসমূহ ও আমার রাসূলগণকে বিদ্রুপের বিষয় বানিয়েছে’।

৭
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।

৮
সেখানে তারা স্থায়ী হবে। তারা সেখান থেকে অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হতে চাইবে না।

৯
বল, ‘আমার রবের কথা লেখার জন্য সমুদ্র যদি কালি হয়ে যায় তবে সমুদ্র নিঃশেষ হয়ে যাবে আমার রবের কথা শেষ হওয়ার আগেই। যদিও এর সাহায্যার্থে অনুরূপ আরো সমুদ্র নিয়ে আসি’।

১০
বল, ‘আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ। আমার নিকট ওহী প্রেরণ করা হয় যে, তোমাদের ইলাহই এক ইলাহ। সুতরাং যে তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে’।

আল কুরআন, সূরা নং-১৮ (সূরা কাহাফের ১-১০ এবং ১০১-১১০ নং আয়াত)
ফযীলত

১. হযরত সওবান (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের শেষ দশ আয়াত পড়ে, এই পড়া তার জন্য দাজ্জালের ফিতনা থেকে পরিত্রান হবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ২৬২৮৮)

২. হযরত আলী (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন সূরা কাহফ পড়বে, সে আট দিন পর্যন্ত অর্থাৎ আগামী জুমুআ পর্যন্ত সর্বপ্রকার ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। আর যদি এই সময়ের মধ্যে দাজ্জাল বাহির হয়ে আসে তবে সে তার ফেতনা থেকেও নিরাপদ থাকবে। (তাফসীরে ইবনে কাসীর; আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ১১০২)

৩. হযরত আবূ দারদা (রাযি) বর্ণনা করেন, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম তিন আয়াত পড়ে নিয়েছে তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে মুক্ত হয়েছে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৮৬)

৪. হযরত আবূ দারদা (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করে নিয়েছে সে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ হয়ে গিয়েছে। এক বর্ণনায় সূরা কাহফের শেষ দশ আয়াত মুখস্থ করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮০৯-১)

৫. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাযি) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সূরা কাহফ অক্ষর সমূহের সঠিক উচ্চারণের সহিত এমনভাবে পাঠ করেছে যেমনভাবে তা নাযিল করা হয়েছে, তবে এই সূরা তার পাঠকারীর জন্য কেয়ামতের দিন তার বসবাসের স্থান থেকে মক্কা মুকাররমা পর্যন্ত নূর হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি এই সূরার শেষ দশ আয়াত তিলাওয়াত করল, তারপর দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটল, তার উপর দাজ্জালের কোন শক্তি কার্যকর হবে না। (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৭০)

১০

সূরা ওয়াকিয়া

إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ ۝

لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ ۝

خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ ۝

إِذَا رُجَّتِ الْأَرْضُ رَجًّا ۝

وَبُسَّتِ الْجِبَالُ بَسًّا ۝

فَكَانَتْ هَبَاءً مُنْبَثًّا ۝

وَكُنْتُمْ أَزْوَاجًا ثَلَاثَةً ۝

فَأَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَيْمَنَةِ ۝

وَأَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ مَا أَصْحَابُ الْمَشْأَمَةِ ۝

وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ۝

أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ ۝

فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ۝

ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ۝

وَقَلِيلٌ مِنَ الْآخِرِينَ ۝

عَلَى سُرُرٍ مَوْضُونَةٍ ۝

مُتَّكِئِينَ عَلَيْهَا مُتَقَابِلِينَ ۝

يَطُوفُ عَلَيْهِمْ وِلْدَانٌ مُخَلَّدُونَ ۝

بِأَكْوَابٍ وَأَبَارِيقَ وَكَأْسٍ مِنْ مَعِينٍ ۝

لَا يُصَدَّعُونَ عَنْهَا وَلَا يُنْزِفُونَ ۝

وَفَاكِهَةٍ مِمَّا يَتَخَيَّرُونَ ۝

وَلَحْمِ طَيْرٍ مِمَّا يَشْتَهُونَ ۝

وَحُورٌ عِينٌ ۝

كَأَمْثَالِ اللُّؤْلُؤِ الْمَكْنُونِ ۝

جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ۝

لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا ۝

إِلَّا قِيلًا سَلَامًا سَلَامًا ۝

وَأَصْحَابُ الْيَمِينِ مَا أَصْحَابُ الْيَمِينِ ۝

فِي سِدْرٍ مَخْضُودٍ ۝

وَطَلْحٍ مَنْضُودٍ ۝

وَظِلٍّ مَمْدُودٍ ۝

وَمَاءٍ مَسْكُوبٍ ۝

وَفَاكِهَةٍ كَثِيرَةٍ ۝

لَا مَقْطُوعَةٍ وَلَا مَمْنُوعَةٍ ۝

وَفُرُشٍ مَرْفُوعَةٍ ۝

إِنَّا أَنْشَأْنَاهُنَّ إِنْشَاءً ۝

فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا ۝

عُرُبًا أَتْرَابًا ۝

لِأَصْحَابِ الْيَمِينِ ۝

ثُلَّةٌ مِنَ الْأَوَّلِينَ ۝

وَثُلَّةٌ مِنَ الْآخِرِينَ ۝

وَأَصْحَابُ الشِّمَالِ مَا أَصْحَابُ الشِّمَالِ ۝

فِي سَمُومٍ وَحَمِيمٍ ۝

وَظِلٍّ مِنْ يَحْمُومٍ ۝

لَا بَارِدٍ وَلَا كَرِيمٍ ۝

إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُتْرَفِينَ ۝

وَكَانُوا يُصِرُّونَ عَلَى الْحِنْثِ الْعَظِيمِ ۝

وَكَانُوا يَقُولُونَ أَئِذَا مِتْنَا وَكُنَّا تُرَابًا وَعِظَامًا أَئِنَّا لَمَبْعُوثُونَ ۝

أَوَآبَاؤُنَا الْأَوَّلُونَ ۝

قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ ۝

لَمَجْمُوعُونَ إِلَى مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ ۝

ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا الضَّالُّونَ الْمُكَذِّبُونَ ۝

لَآكِلُونَ مِنْ شَجَرٍ مِنْ زَقُّومٍ ۝

فَمَالِئُونَ مِنْهَا الْبُطُونَ ۝

فَشَارِبُونَ عَلَيْهِ مِنَ الْحَمِيمِ ۝

فَشَارِبُونَ شُرْبَ الْهِيمِ ۝

هَذَا نُزُلُهُمْ يَوْمَ الدِّينِ ۝

نَحْنُ خَلَقْنَاكُمْ فَلَوْلَا تُصَدِّقُونَ ۝

أَفَرَأَيْتُمْ مَا تُمْنُونَ ۝

أَأَنْتُمْ تَخْلُقُونَهُ أَمْ نَحْنُ الْخَالِقُونَ ۝

نَحْنُ قَدَّرْنَا بَيْنَكُمُ الْمَوْتَ وَمَا نَحْنُ بِمَسْبُوقِينَ ۝

عَلَى أَنْ نُبَدِّلَ أَمْثَالَكُمْ وَنُنْشِئَكُمْ فِي مَا لَا تَعْلَمُونَ ۝

وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ النَّشْأَةَ الْأُولَى فَلَوْلَا تَذَكَّرُونَ ۝

أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَحْرُثُونَ ۝

أَأَنْتُمْ تَزْرَعُونَهُ أَمْ نَحْنُ الزَّارِعُونَ ۝

لَوْ نَشَاءُ لَجَعَلْنَاهُ حُطَامًا فَظَلْتُمْ تَفَكَّهُونَ ۝

إِنَّا لَمُغْرَمُونَ ۝

بَلْ نَحْنُ مَحْرُومُونَ ۝

أَفَرَأَيْتُمُ الْمَاءَ الَّذِي تَشْرَبُونَ ۝

أَأَنْتُمْ أَنْزَلْتُمُوهُ مِنَ الْمُزْنِ أَمْ نَحْنُ الْمُنْزِلُونَ ۝

لَوْ نَشَاءُ جَعَلْنَاهُ أُجَاجًا فَلَوْلَا تَشْكُرُونَ ۝

أَفَرَأَيْتُمُ النَّارَ الَّتِي تُورُونَ ۝

أَأَنْتُمْ أَنْشَأْتُمْ شَجَرَتَهَا أَمْ نَحْنُ الْمُنْشِئُونَ ۝

نَحْنُ جَعَلْنَاهَا تَذْكِرَةً وَمَتَاعًا لِلْمُقْوِينَ ۝

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ ۝

فَلَا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ ۝

وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ ۝

إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ ۝

فِي كِتَابٍ مَكْنُونٍ ۝

لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُونَ ۝

تَنْزِيلٌ مِنْ رَبِّ الْعَالَمِينَ ۝

أَفَبِهَذَا الْحَدِيثِ أَنْتُمْ مُدْهِنُونَ ۝

وَتَجْعَلُونَ رِزْقَكُمْ أَنَّكُمْ تُكَذِّبُونَ ۝

فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ ۝

وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ ۝

وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ ۝

فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ ۝

تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ ۝

فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ ۝

فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّةُ نَعِيمٍ ۝

وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ ۝

فَسَلَامٌ لَكَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ ۝

وَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُكَذِّبِينَ الضَّالِّينَ ۝

فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ ۝

وَتَصْلِيَةُ جَحِيمٍ ۝

إِنَّ هَذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ ۝

فَسَبِّحْ بِاسْمِ رَبِّكَ الْعَظِيمِ ۝
উচ্চারণ

১. ইযা ওয়াক্বা‘তিল ওয়াক্বি‘আহ্।

২. লাইসা লিওয়াক্ব‘আতিহা কাযিবাহ্।

৩. খাফিদাতুর রাফি‘আহ্।

৪. ইযা রুজ্জাতিল আরদু রাজ্জা।

৫. ওয়া বুস্সাতিল জিবালু বাস্সা।

৬. ফাকানাত হাবা-আম মুমবাস্সা।

৭. ওয়া কুনতুম আযওয়াজান ছালাছাহ্।

৮. ফা-আসহাবুল মাইমানাতি মা আসহাবুল মাইমানাহ্।

৯. ওয়া আসহাবুল মাশআমাতি মা আসহাবুল মাশআমাহ্।

১০. ওয়াস্-সাবিকূনাস্-সাবিকূন।

১১. উলা-ইকাল মুকাররাবূন।

১২. ফী জান্নাতিন না‘ঈম।

১৩. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন।

১৪. ওয়া ক্বালীলুম মিনাল আখিরীন।

১৫. ‘আলা সুরুরিম মাওদূনাহ্।

১৬. মুতাক্বাবিলীনা ‘আলাইহা।

১৭. ইয়াতূফু ‘আলাইহিম উইলদানুম মুখাল্লাদূন।

১৮. বি-আকওয়াবিওঁ ওয়া আবা-রীক্বা ওয়া কা'সিম মিন মা‘ঈন।

১৯. লা ইউসাদ্দা‘ঊনা ‘আনহা ওয়া লা ইউনযিফূন।

২০. ওয়া ফাকিহাতিম মিম্মা ইয়াতাখাইয়ারূন।

২১. ওয়া লাহমি তইরিম মিম্মা ইয়াশতাহূন।

২২. ওয়া হূরুন ‘ঈন।

২৩. কা-আমছালিল লু’লু’ইল মাকনূন।

২৪. জাযা-আম বিমা কানূ ইয়া‘মালূন।

২৫. লা ইয়াসমা‘ঊনা ফীহা লাগওয়াওঁ ওয়া লা তা’ছীমা।

২৬. ইল্লা ক্বীলান সালামান সালামা।

২৭. ওয়া আসহাবুল ইয়ামীন, মা আসহাবুল ইয়ামীন।

২৮. ফী সিদরিম মাখদূদ।

২৯. ওয়া তালহিম মানদূদ।

৩০. ওয়া যিল্লিম মামদূদ।

৩১. ওয়া মা-ইম মাসকূব।

৩২. ওয়া ফাকিহাতিন কাছীরাহ্।

৩৩. লা মাক্বতূ‘আতিওঁ ওয়া লা মামনূ‘আহ্।

৩৪. ওয়া ফুরুশিম মারফূ‘আহ্।

৩৫. ইন্না আনশা’নাহুন্না ইনশা-আ।

৩৬. ফাজা‘আলনাহুন্না আবকারা।

৩৭. ‘উরুবান আত্রাবা।

৩৮. লি-আসহাবিল ইয়ামীন।

৩৯. ছুল্লাতুম মিনাল আওয়ালীন।

৪০. ওয়া ছুল্লাতুম মিনাল আখিরীন।

৪১. ওয়া আসহাবুশ্-শিমালি মা আসহাবুশ্-শিমাল।

৪২. ফী সামূমিওঁ ওয়া হামীম।

৪৩. ওয়া যিল্লিম মিন ইয়াহমূম।

৪৪. লা বারিদিওঁ ওয়া লা কারীম।

৪৫. ইন্নাহুম কানূ ক্বাবলা যালিকা মুতরাফীন।

৪৬. ওয়া কানূ ইউসিররূনা ‘আলাল হিনছিল ‘আযীম।

৪৭. ওয়া কানূ ইয়াক্বূলূনা আ-ইযা মিতনা ওয়া কুন্না তুরাবাঁও ওয়া ‘ইযামান, আ-ইন্না লামাব‘ঊছূন।

৪৮. আওয়া-আবা-উনাল আওয়ালূন।

৪৯. কুল ইন্নাল আওয়ালীন ওয়াল আখিরীন।

৫০. লামাজমূ‘ঊনা ইলা মীক্বাতি ইয়াওমিম মা‘লূম।

৫১. ছুম্মা ইন্নাকুম আইয়ুহাদ্-দাল্লূনাল মুকায্যিবূন।

৫২. লা-আকিলূনা মিন শাজারাতিম মিন যাক্কূম।

৫৩. ফামালি’ঊনা মিনহাল বুতূন।

৫৪. ফাশারিবূনা ‘আলাইহি মিনাল হামীম।

৫৫. ফাশারিবূনা শুরবাল হীম।

৫৬. হাযা নুযুলুহুম ইয়াওমাদ্দীন।

৫৭. নাহনু খালাক্বনাকুম ফালাওলা তুসাদ্দিকূন।

৫৮. আফারা-আইতুম মা তুমনূন।

৫৯. আ-আনতুম তাখলুকূনাহু আম নাহনুল খালিক্বূন।

৬০. নাহনু ক্বাদ্দারনা বাইনাকুমুল মাওতা ওয়া মা নাহনু বিমাসবূক্বীন।

৬১. ‘আলা আন নুবাদ্দিলা আমছালাকুম ওয়া নুনশি’আকুম ফী মা লা তা‘লামূন।

৬২. ওয়া লাক্বাদ ‘আলিমতুমুন নাশআতাল ঊলা ফালাওলা তাযাক্কারূন।

৬৩. আফারা-আইতুম মা তাহরুছূন।

৬৪. আ-আনতুম তাযরা‘ঊনাহু আম নাহনুয্-যারি‘ঊন।

৬৫. লাও নাশা-উ লাজা‘আলনাহু হুতামান ফাযালতুম তাফাক্কাহূন।

৬৬. ইন্না লামুগরামূন।

৬৭. বাল নাহনু মাহরূমূন।

৬৮. আফারা-আইতুমুল মা-আল্লাযী তাশরাবূন।

৬৯. আ-আনতুম আনযালতুমূহু মিনাল মুযনি আম নাহনুল মুনযিলূন।

৭০. লাও নাশা-উ জা‘আলনাহু উজাজান ফালাওলা তাশকুরূন।

৭১. আফারা-আইতুমুন নারাল্লাতী তূরূন।

৭২. আ-আনতুম আনশা’তুম শাজারাতাহা আম নাহনুল মুনশি’ঊন।

৭৩. নাহনু জা‘আলনাহা তাযকিরাতাঁও ওয়া মাতাআ‘ল লিলমুক্ববীন।

৭৪. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম।

৭৫. ফালা উক্বসিমু বিমাওয়াক্বি‘ইন নুজূম।

৭৬. ওয়া ইন্নাহু লাক্বাসামুল লাও তা‘লামূনা ‘আযীম।

৭৭. ইন্নাহু লাকুরআনুন কারীম।

৭৮. ফী কিতাবিম মাকনূন।

৭৯. লা ইয়ামাস্সুহু ইল্লাল মুতাহহারূন।

৮০. তানযীলুম মির রাব্বিল ‘আলামীন।

৮১. আফাবিহাযাল হাদীছি আনতুম মুদহিনূন।

৮২. ওয়া তাজ‘আলূনা রিযক্বাকুম আন্নাকুম তুকায্যিবূন।

৮৩. ফালাওলা ইযা বালাগাতিল হুলক্বূম।

৮৪. ওয়া আনতুম হীনাইযিন তানযুরূন।

৮৫. ওয়া নাহনু আক্বরাবু ইলাইহি মিনকুম ওয়া লাকিল লা তুবসিরূন।

৮৬. ফালাওলা ইন কুনতুম গাইরা মাদীনীন।

৮৭. তারজিঊনাহা ইন কুনতুম সাদিক্বীন।

৮৮. ফা-আম্মা ইন কানা মিনাল মুকাররাবীন।

৮৯. ফারাওহুঁওয়া রাইহানুঁওয়া জান্নাতু না‘ঈম।

৯০. ওয়া আম্মা ইন কানা মিন আসহাবিল ইয়ামীন।

৯১. ফাসালামুল্লাকা মিন আসহাবিল ইয়ামীন।

৯২. ওয়া আম্মা ইন কানা মিনাল মুকায্যিবীনাদ্-দাল্লীন।

৯৩. ফানুযুলুম মিন হামীম।

৯৪. ওয়া তাসলিয়াতু জাহীম।

৯৫. ইন্না হাযা লাহুয়া হাক্কুল ইয়াক্বীন।

৯৬. ফাসাব্বিহ বিসমি রাব্বিকাল ‘আযীম।

অর্থ

১. যখন অবশ্যম্ভাবী ঘটনা ঘটবে।

২. তখন এর সংঘটনকে অস্বীকার করার কেউ থাকবে না।

৩. তা নিচু ও উঁচুকারক জিনিস।

৪. যখন পৃথিবীকে প্রবল কম্পনে কাঁপিয়ে দেওয়া হবে।

৫. এবং পর্বতসমূহকে পিষে চূর্ণ করা হবে।

৬. ফলে তা বিক্ষিপ্ত ধুলোকণায় পরিণত হবে।

৭. এবং (হে মানুষ!) তোমরা তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হবে।

৮. সুতরাং যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান হাত বিশিষ্টগণ!

৯. আর যারা বাম হাত বিশিষ্ট, কী (হতভাগ্য) সে বাম হাত বিশিষ্টগণ!

১০. আর যারা অগ্রগামী, তারা তো অগ্রগামীই!

১১. তারাই আল্লাহর বিশেষ নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দা।

১২. তারা থাকবে নি‘আমতপূর্ণ উদ্যানে।

১৩. বহু সংখ্যক হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে

১৪. এবং অল্প সংখ্যক পরবর্তীদের মধ্য হতে।

১৫. সোনার তারে বোনা উঁচু আসনে

১৬. তারা পরস্পর সামনাসামনি হেলান দিয়ে থাকবে।

১৭. তাদের সামনে (সেবার জন্য) ঘোরাফেরা করবে চির কিশোরেরা,

১৮. এমন পান-পাত্র, জগ ও প্রস্রবণ-নিসৃত স্বচ্ছ সূরা পাত্র নিয়ে,

১৯. যা পানে তাদের মাথা ব্যথা হবে না এবং তারা চেতনা হারাবে না

২০. এবং তাদের পছন্দমত ফল নিয়ে,

২১. এবং তাদের চাহিদা মত পাখির গোশত নিয়ে

২২. এবং তাদের জন্য থাকবে আয়তলোচনা হুর,

২৩. যেন তারা লুকিয়ে রাখা মুক্তা।

২৪. তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ।

২৫. তারা সে জান্নাতে শুনবে না কোন অহেতুক কথা এবং না কোন পাপের কথা।

২৬. তবে সেখানে হবে কেবল শান্তিপূর্ণ কথা, কেবলই শান্তিপূর্ণ কথা।

২৭. আর যারা ডান হাত বিশিষ্ট, আহা, কেমন যে সে ডান-হাত বিশিষ্টগণ!

২৮. (তারা আয়েশে থাকবে) কাঁটাবিহীন কুল গাছের মাঝে

২৯. এবং কাঁদি ভরা কলা গাছ,

৩০. সুদূর বিস্তৃত ছায়া,

৩১. প্রবহমান পানি

৩২. এবং প্রচুর ফলমূলের ভেতর।

৩৩. যা কখনও শেষ হবে না এবং যাতে কোন বাধাও দেওয়া হবে না।

৩৪. আর তারা থাকবে উঁচুতে রাখা ফরাশে।

৩৫. নিশ্চয়ই আমি সে নারীদেরকে দিয়েছি নব উত্থান।

৩৬. সুতরাং তাদেরকে বানিয়েছি কুমারী।

৩৭. (স্বামীদের পক্ষে) প্রেমময়ী ও সমবয়স্কা।

৩৮. সবই ডান হাত বিশিষ্টদের জন্য।

৩৯. (যাদের মধ্যে) অনেকে হবে পূর্ববর্তীদের মধ্য হতে

৪০. এবং অনেকে হবে পরবর্তীদের মধ্য হতে।

৪১. আর যারা বাম হাতবিশিষ্ট, কী হতভাগ্য সে বাম-হাত বিশিষ্টগণ!

৪২. তারা থাকবে উত্তপ্ত বায়ু ও ফুটন্ত পানিতে।

৪৩. কালো ধুয়ার ছায়ায়

৪৪. যা হবে না শীতল, না উপকারী।

৪৫. ইতঃপূর্বে তারা ছিল আরাম-আয়েশের ভেতর।

৪৬. অতি বড় পাপের উপর অনড় থাকত।

৪৭. এবং বলত, আমরা যখন মরে যাব এবং মাটি ও অস্থিতে পরিণত হব, তখনও কি আমাদেরকে পুনরায় জীবিত করা হবে?

৪৮. এবং আমাদের বাপ-দাদাদেরকেও, যারা পূর্বে গত হয়ে গেছে?

৪৯. বলে দাও, নিশ্চয়ই আগের ও পরের সমস্ত মানুষকে

৫০. নির্দিষ্ট এক দিনের স্থিরীকৃত সময়ে একত্র করা হবে।

৫১. অতঃপর হে অবিশ্বাসী পথভ্রষ্টগণ! অবশ্যই তোমরা

৫২. এমন এক গাছ থেকে খাবে, যার নাম যাক্কুম।

৫৩. অতঃপর তা দ্বারা উদর পূর্ণ করবে।

৫৪. তদুপরি পান করবে ফুটন্ত পানি।

৫৫. পানও করবে সেইভাবে, যেভাবে পান করে তৃষ্ণার রোগে আক্রান্ত উট।

৫৬. এটাই বিচার দিবসে তাদের আপ্যায়ন।

৫৭. আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তোমরা কেন বিশ্বাস করছ না?

৫৮. আচ্ছা বল তো, তোমরা যে বীর্য স্খলন কর

৫৯. তা কি তোমরা সৃষ্টি কর না আমিই তার স্রষ্টা?

৬০. আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যুর ফায়সালা করে রেখেছি এবং এমন কেউ নেই, যে আমাকে ব্যর্থ করে দিতে পারে

৬১. এ ব্যাপারে যে, আমি তোমাদের স্থলে তোমাদের মত অন্য লোক আনয়ন করব এবং তোমাদেরকে এমন কোন রূপ দান করব, যা তোমরা জান না।

৬২. তোমরা তো তোমাদের প্রথম সৃজন সম্পর্কে অবগত আছ। তা সত্ত্বেও তোমরা কেন উপদেশ গ্রহণ কর না?

৬৩. তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা জমিতে যা-কিছু বোন,

৬৪. তা কি তোমরা উদগত কর, না আমিই তার উদগতকারী?

৬৫. আমি ইচ্ছা করলে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিতে পারি, ফলে তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে

৬৬. যে, আমরা তো দায়গ্রস্ত হয়ে পড়লাম,

৬৭. বরং আমরা সম্পূর্ণ বঞ্চিত হলাম!

৬৮. আচ্ছা বল তো, এই যে পানি তোমরা পান কর

৬৯. মেঘ থেকে তা কি তোমরা বর্ষণ করাও, না আমিই তার বর্ষণকারী?

৭০. আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত করে দিতে পারি। তবুও কি তোমরা শোকর আদায় কর না?

৭১. আচ্ছা বল তো, এই যে আগুন তোমরা জ্বালাও,

৭২. তার বৃক্ষ কি তোমরা সৃষ্টি কর, না আমিই তার স্রষ্টা?

৭৩. আমিই তাকে বানিয়েছি উপদেশের উপকরণ এবং মরুচারীদের জন্য উপকারী বস্তু।

৭৪. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর।

৭৫. যে সকল স্থানে নক্ষত্র পতিত হয় আমি তার শপথ করে বলছি,

৭৬. আর তোমরা যদি বোঝ, তো এটা এক মহা শপথ।

৭৭. নিশ্চয়ই এটা অতি সম্মানিত কুরআন,

৭৮. যা এক সুরক্ষিত কিতাবে (পূর্ব থেকেই) লিপিবদ্ধ আছে।

৭৯. একে স্পর্শ করে কেবল তারাই, যারা অত্যন্ত পবিত্র,

৮০. এটা জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ।

৮১. তবুও কি তোমরা এ বাণীকে অবহেলা কর?

৮২. এবং তোমরা (এর প্রতি) অবিশ্বাসকেই তোমাদের উপজীব্য বানিয়ে নিয়েছ?

৮৩. অতঃপর এমন কেন হয় না যে, যখন (কারও) প্রাণ কণ্ঠাগত হয়,

৮৪. এবং তোমরা (বিমর্ষ মনে তার দিকে) তাকিয়ে থাক,

৮৫. এবং তোমাদের চেয়ে আমিই তার বেশি কাছে থাকি, কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না।

৮৬. যদি তোমাদের হিসাব-নিকাশ হওয়ার না-ই থাকে,

৮৭. তবে তোমরা সেই প্রাণকে ফিরিয়ে আনছ না কেন যদি তোমরা সত্যবাদী হও?

৮৮. অতপর সে (মৃত ব্যক্তি) যদি আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের একজন হয়,

৮৯. তবে (তার জন্য) শুধু আরাম, সুরভি ও নি‘আমতপূর্ণ জান্নাত।

৯০. আর যদি হয় ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত,

৯১. তবে (তাকে বলা হবে যে,) তোমার জন্য রয়েছে শান্তি, যেহেতু তুমি ডান হাত বিশিষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।

৯২. আর যদি হয় সেই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান করত,

৯৩. তবে (তার জন্য আছে) ফুটন্ত পানির আপ্যায়ন,

৯৪. আর জাহান্নামে প্রবেশ।

৯৫. এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই যথার্থ সুনিশ্চিত বিষয়।

৯৬. সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তোমার মহান প্রতিপালকের নাম নিয়ে তার তাসবীহ পাঠ কর।

সূরা ওয়াকিয়া, ২৭ নং পারা
ফযীলত

১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এই ইরশাদ করতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি প্রতি রাত্রে সূরা ওয়াকিয়া পড়বে তার উপর অভাব আসবে না। (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ৬৮০; ফাযায়েলুল কুরআন: ২৫৭ পৃ.)

২. সূরা ওয়াকিয়ার বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বঃ অন্তিম রোগশয্যায় আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা)-এর শিক্ষাপ্রদ কথোপকথন: ইবনে কাসীর ইবনে আসাকিরের বরাত দিয়ে এই ঘটনা বর্ণনা করেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) যখন অন্তিম রোগশয্যায় শায়িত ছিলেন, তখন আমিরুল মু’মিনীন হযরত ওসমান গণী (রাযি) তাঁকে দেখতে যান। তখন তাঁদের মধ্যে শিক্ষাপ্রদ কথোপকথন হয়, তা নিম্নে উদ্ধৃত করা হল,
ওসমান গণী- ماتشتكي -আপনার অসুখটা কি ?
ইবনে মাসউদ- ذنوبي - আমার পাপসমূহই আমার অসুখ।
ওসমান গণী -ماتشتهي -আপনার বাসনা কি?
ইবনে মাসউদ -رحمة ربي-আমার পালনকর্তার রহমত কামনা করি।
ওসমান গণী—আমি আপনার জন্য কোন চিকিৎসক ডাকব কি?
ইবনে মাসউদ – الطبيب أمرضني- চিকিৎসকই আমাকে রোগাক্রান্ত করেছেন।
ওসমান গণী — আমি আপনার জন্য সরকারী বায়তুলমাল থেকে কোন উপঢৌকন পাঠিয়ে দেব কি?
ইবনে মাসউদ- لا حاجة لي فيها - এর কোন প্রয়োজন নেই।
ওসমান গণী—উপঢৌকন গ্রহণ করুন। তা আপনার পর আপনার কন্যাদের উপকারে আসবে।

ইবনে মাসউদ—আপনি চিন্তা করছেন যে, আমার কন্যারা দারিদ্র্য ও উপবাসে পতিত হবে। কিন্তু আমি এরূপ চিন্তা করি না। কারণ, আমি কন্যাদেরকে জোর নির্দেশ দিয়ে রেখেছি যে, তারা যেন প্রতি রাতে সূরা ওয়াক্বিয়া পাঠ করে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি,
যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সূরা ওয়াক্বিয়া পাঠ করবে, সে কখনও উপবাস করবে না। ইবনে কাসীর এই বর্ণনা উদ্ধৃত করার পর অন্যান্য সনদ ও কিতাব থেকেও এর সমর্থন পেশ করেছেন। إِذَا وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ
ইবনে কাসীর বলেন: ওয়াক্বিয়া কিয়ামতের অন্যতম নাম। কেননা, এর বাস্তবতায় কোনরূপ সন্দেহ ও সংশয়ের অবকাশ নেই।
كَاذِبَةٌ - لَيْسَ لِوَقْعَتِهَا كَاذِبَةٌ
শব্দটি عاقبة -এর ন্যায় একটি ধাতু। অর্থ এই যে, কিয়ামতের বাস্তবতা মিথ্যা থেকে পারে না।
خَافِضَةٌ رَافِعَةٌ
(তাফসীরে মারেফুল কুরআন সূরা ওয়াকিআহ দ্রষ্টব্য)

১১

সূরা আল-মূলক

تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَا تَرٰى فِي خَلْقِ الرَّحْمٰنِ مِنْ تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرٰى مِنْ فُطُورٍ

ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنْقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ

وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِلشَّيَاطِينِ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ

وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ

تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ

قَالُوا بَلٰى قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ

وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ

فَاعْتَرَفُوا بِذَنْبِهِمْ فَسُحْقًا لِأَصْحَابِ السَّعِيرِ

إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهٖ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ

هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِنْ رِزْقِهٖ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ

أَمْ أَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ

وَلَقَدْ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ

أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَّيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمٰنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُنْدٌ لَكُمْ يَنْصُرُكُمْ مِنْ دُونِ الرَّحْمٰنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ

أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ بَلْ لَجُّوا فِي عُتُوٍّ وَّنُفُورٍ

أَفَمَنْ يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهٖ أَهْدٰى أَمَّنْ يَّمْشِي سَوِيًّا عَلٰى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ

قُلْ هُوَ الَّذِي أَنْشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَا تَشْكُرُونَ

قُلْ هُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

وَيَقُولُونَ مَتٰى هٰذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ

قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِنْدَ اللهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُبِينٌ

فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هٰذَا الَّذِي كُنْتُمْ بِهٖ تَدَّعُونَ

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِيَ اللَّهُ وَمَنْ مَّعِيَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَنْ يُّجِيرُ الْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

قُلْ هُوَ الرَّحْمٰنُ آمَنَّا بِهٖ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ

قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَنْ يَّأْتِيْكُمْ بِمَاءٍ مَعِينٍ
উচ্চারণ

তাবা-রাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু ওয়া হুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন কাদীর। আল্লাযী খালাকাল মাওতা ওয়াল হায়া-তা লিইয়াবলুওয়াকুম আইয়ুকুম আহছানু‘আমালাওঁ ওয়া হুওয়াল ‘আঝীঝুল গাফূর। আল্লাযী খালাকা ছাব‘আ ছামা-ওয়া-তিন তিবা-কান মা- তারা- ফী খালকির রাহমা-নি মিন তাফা-উত ফারজি‘ইল বাসারা হাল তারা- মিন ফুতূর। ছু ম্মার জি‘ইলবাসারা কাররাতাইনি ইয়ানকালিব ইলাইকাল বাসারু খা-ছিআওঁ ওয়া হুওয়া হাছীর। ওয়া লাকাদ ঝাইয়ান্নাছ ছামাআদ্দুনইয়া- বিমাসা-বীহা ওয়াজা‘আলনা- হা- রুজূমাল লিশশায়া-তীনি ওয়া আ‘তাদনা- লাহুম ‘আযা- বাছছা‘ঈর। ওয়া লিল্লাযীনা কাফারূবিরাব্বিহিম ‘আযা- বুজাহান্নামা ওয়াবি’ছাল মাসীর। ইযাউলকূফীহা- ছামি‘উ লাহা- শাহীকাওঁ ওয়াহিয়া তাফূর। তাকা- দুতামাইয়াঝুমিনাল গাইজি কুল্লামাউলকিয়া ফীহা- ফাওজুন ছাআলাহুম খাঝানাতুহাআলাম ইয়া’তিকুম নাযীর। কা- লূবালা- কাদ জাআনা- নাযীরুন ফাকাযযাবনা- ওয়া কুলনা- মানাঝঝালাল্লা- হু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা- ফী দালা- লিন কাবীর। ওয়া কা-লূলাও কুন্না- নাছমা‘উ আও না‘কিলুমা- কুন্না-ফীআসহা-বিছছা‘ঈর। ফা‘তারাফূবিযামবিহিম ফাছুহকালিলআসহা-বিছ ছা‘ঈর। ইন্নাল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবীর। ওয়া আছিররূকাওলাকুম আবিজহারূবিহী ইন্নাহূ‘আলীমুম বিযা- তিসসুদূ র। আলা- ইয়া‘লামুমান খালাকা ওয়া হুওয়াল্লাতীফুল খাবীর। হুওয়াল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা যালূলান ফামশূফী মানা-কিবিহা- ওয়া কুলূমির রিঝকিহী ওয়া ইলাইহিন নুশূর। আ আমিনতুম মান ফিছছামাই আইঁ ইয়াখছিফা বিকুমুল আরদা ফাইযা- হিয়া তামূর। আম আমিনতুম মান ফিছছামাই আইঁ ইউরছিলা ‘আলাইকুম হা-সিবান ফাছাতা‘লামূনা কাইফা নাযীর। ওয়া লাকাদ কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাকাইফা কা- না নাকীর। আওয়ালাম ইয়ারাও ইলাত্তাইরি ফাওকাহুম সাফফা-তিওঁ ওয়াইয়াকবিদন । মাইউমছিকুহুন্না ইল্লাররাহমা-নু ইন্নাহূবিকুল্লি শাইয়িম বাসীর। আম্মান হা-যাল্লাযী হুওয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দূ নিররাহমা-নি ইনিল কাফিরূনা ইল্লা- ফী গুরূর। আম্মান হা- যাল্লাযী ইয়ারঝকুকুম ইন আমছাকা রিঝকাহূ বাল্লাজ্জূফী ‘উতুওবিওয়া নুফূর। আফামাইঁ ইয়ামশী মুকিব্বান ‘আলা- ওয়াজহিহী আহদা আম্মাইঁ ইয়ামশী ছাবি ইয়ান ‘আলা-সিরা-তিমমুছতাকীম। কুল হুওয়াল্লাযীআনশাআকুম ওয়া জা‘আলা লাকুমুছছাম‘আ ওয়াল আবসা-রা ওয়াল আফইদাতা কালীলাম মা-তাশকুরূন। কুল হুওয়াল্লাযী যারাআকুম ফিল আরদিওয়া ইলাইহি তুহশারূন। ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কুনতুম সা-দিকীন। কুল ইন্নামাল ‘ইলমু‘ইনদাল্লা- হি ওয়া ইন্নামাআনা নাযীরুম মুবীন। ফালাম্মা-রাআওহু ঝুলফাতান ছীআত ঊজূহুল্লাযীনা কাফারূওয়া কীলা হা-যাল্লাযী কুনতুম বিহী তাদ্দা‘ঊন। কুল আরাআইতুম ইন আহলাকানিয়াল্লা-হু ওয়া মাম্মা‘ইয়া আও রাহিমানা- ফামাইঁ ইউজীরুল কা-ফিরীনা মিন ‘আযা-বিন আলীম। কুল হুওয়াররাহমা-নুআ-মান্না-বিহী ওয়া‘আলাইহি তাওয়াক্কালনা-, ফাছাতা‘লামূনা মান হুওয়া ফী দালা-লিম মুবীন। কুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মাউকুম গাওরান ফামাইঁ ইয়া’তীকুম বিমাইম মা‘ঈন।

অর্থ

বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান। যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল। যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম করুণাময়ের সৃষ্টিতে তুমি কোন অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না। তুমি আবার দৃষ্টি ফিরাও, কোন ত্রুটি দেখতে পাও কি? অতঃপর তুমি দৃষ্টি ফিরাও একের পর এক, সেই দৃষ্টি অবনমিত ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপপঞ্জু দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের প্রতি নিক্ষেপের বস্তু বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের আযাব। আর যারা তাদের রবকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব। আর কতইনা নিকৃষ্ট সেই প্রত্যাবর্তনস্থল! যখন তাদেরকে তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তারা তার বিকট শব্দ শুনতে পাবে। আর তা উথলিয়ে উঠবে। ক্রোধে তা ছিন্ন ভিন্ন হবার উপক্রম হবে। যখনই তাতে কোন দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার প্রহরীরা তাদেরকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তোমাদের নিকট কি কোন সতর্ককারী আসেনি’? তারা বলবে, ‘হ্যা, আমাদের নিকট সতর্ককারী এসেছিল। তখন আমরা (তাদেরকে) মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছিলাম এবং বলেছিলাম, ‘আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা তো ঘোর বিভ্রান্তিতে রয়েছ’। আর তারা বলবে, ‘যদি আমরা শুনতাম অথবা বুঝতাম, তাহলে আমরা জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের মধ্যে থাকতাম না’। অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অতএব ধ্বংস জ্বলন্ত আগুনের অধিবাসীদের জন্য। নিশ্চয় যারা তাদের রবকে না দেখেই ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বড় প্রতিদান। আর তোমরা তোমাদের কথা গোপন কর অথবা তা প্রকাশ কর, নিশ্চয় তিনি অন্তরসমূহে যা আছে সে বিষয়ে সম্যক অবগত। যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষদর্শী, পূর্ণ অবহিত। তিনিই তো তোমাদের জন্য যমীনকে সুগম করে দিয়েছেন, কাজেই তোমরা এর পথে-প্রান্তরে বিচরণ কর এবং তাঁর রিয্ক থেকে তোমরা আহার কর। আর তাঁর নিকটই পুনরুত্থান। যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের সহ যমীন ধসিয়ে দেয়া থেকে কি তোমরা নিরাপদ হয়ে গেছ, অতঃপর আকস্মিকভাবে তা থর থর করে কাঁপতে থাকবে? যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপকারী ঝড়ো হাওয়া পাঠানো থেকে তোমরা কি নিরাপদ হয়ে গেছ, তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী? আর অবশ্যই তাদের পূর্ববর্তীরাও অস্বীকার করেছিল। ফলে কেমন ছিল আমার প্রত্যাখ্যান (এর শাস্তি)? তারা কি লক্ষ্য করেনি তাদের উপরস্থ পাখিদের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? পরম করুণাময় ছাড়া অন্য কেউ এদেরকে স্থির রাখে না। নিশ্চয় তিনি সব কিছুর সম্যক দ্রষ্টা। পরম করুণাময় ছাড়া তোমাদের কি আর কোন সৈন্য আছে, যারা তোমাদেরকে সাহায্য করবে ? কাফিররা শুধু তো ধোঁকায় নিপতিত। অথবা এমন কে আছে, যে তোমাদেরকে রিয্ক দান করবে যদি আল্লাহ তাঁর রিয্ক বন্ধ করে দেন? বরং তারা অহমিকা ও অনীহায় নিমজ্জিত হয়ে আছে। যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখের উপর ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক হিদায়াতপ্রাপ্ত নাকি সেই ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে ? বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি এবং অন্তকরণসমূহ দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর কর’। বল, ‘তিনিই তোমাদেরকে যমীনে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে সমবেত করা হবে’। আর তারা বলে, ‘সে ওয়াদা কখন বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও’। বল, ‘এ বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র’। অতঃপর তারা যখন তা আসন্ন দেখতে পাবে, তখন কাফিরদের চেহারা মলিন হয়ে যাবে এবং বলা হবে, ‘এটাই হল তা, যা তোমরা দাবী করছিলে’। বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি’? যদি আল্লাহ আমাকে এবং আমার সাথে যারা আছে, তাদেরকে ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তাহলে কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব থেকে কে রক্ষা করবে’? বল, ‘তিনিই পরম করুণাময়। আমরা তাঁর প্রতি ঈমান এনেছি এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করেছি। কাজেই তোমরা অচিরেই জানতে পারবে কে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে’? বল, ‘তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে চলে যায়, তাহলে কে তোমাদেরকে বহমান পানি এনে দিবে’ ?

সূরা মূলক, ২৯ নং পারা
ফযীলত

হযরত জাবির (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আলিফ–লাম–মীম তানযীল এবং তাবারাকাল্লাযী বিইয়াদিহিল মুলক সূরা দু’টি না পড়ে ঘুমাতেন না। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৯২)

১. হযরত ইবনে মাসউদ (রাযি) বলেন, কবরে মানুষের নিকট পায়ের দিক থেকে আযাব আসে তখন তার পা বলে আমার দিক থেকে আসার কোন রাস্তা নেই, কেননা এই ব্যক্তি সূরা মূলক পাঠ করত। অতঃপর আজাব সিনা অথবা পেটের দিক থেকে আসে তখন সিনা অথবা পেট বলে, আমার দিক থেকে তোমার আসার কোন রাস্তা নেই, কেননা এই ব্যক্তি সূরা মূলক পাঠ করত। অতঃপর আজাব মাথার দিক থেকে আসে তখন মাথা বলে, তোমার জন্য আমার দিক থেকে কোন রাস্তা নাই, কেননা এই ব্যক্তি সূরা মূলক পাঠ করত। (হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) বলেন,) এই সূরা কবরের আজাবকে বাধা প্রদানকারী। তাওরাতে তার নাম সূরা মূলক। যে ব্যক্তি কোন রাত্রে তা পাঠ করল সে অনেক বেশি সওয়াব উপার্জন করল। (আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৭৭)

২. রাসূল (ﷺ) বলেছেন, সূরা মুলক তার পাঠকারীর জন্য কিয়ামতের দিন ততক্ষণ পর্যন্ত শাফায়াত করতে থাকবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হবে। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৯১)

৩. রাসূল (ﷺ) সূরা মুলক পাঠ না করে কখনও ঘুমাতেন না। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৯১)

৪. হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) বলেছেন, তোমরা সূরা মুলক শিখ এবং নিজেদের স্ত্রী-পুত্রদের শিখাও। এটা কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবে এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে এই সূরা পাঠকারীর পক্ষে কথা বলে তাকে মুক্ত করবে। রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমি প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে সূরা মুলক থাকা পছন্দ করি। (তাফসীরে ফতহুল বয়ান)

৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
যে ব্যক্তি প্রতি রাতে তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল মুলকু.. পাঠ করবে, আল্লাহ্ তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। (আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) বলেন,) আমরা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে সূরাটিকে মানেআ’ বা বাধাদানকারী সূরা বলে আখ্যা দিতাম। এটি আল্লাহ তা‘আলার কিতাবের মাঝে এমন একটি সূরা, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে পাঠ করবে সে অধিক ও উৎকৃষ্ট আমল করবে। (সুনানুল কুবরা, নাসায়ী, হাদীস নং ১০৫৪৭)

১২

সূরা আল-ফীল

أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ

أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ

وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ

تَرْمِيهِم بِحِجَارَةٍ مِّن سِجِّيلٍ

فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَّأْكُولٍ
উচ্চারণ

আলাম তারা কাইফা ফা‘আলা রাব্বুকা বিআসহা-বিল ফীল।
আলাম ইয়াজ‘আল কাইদাহুম ফী তাদলীল
ওয়া আরছালা ‘আলাইহিম তাইরান আবা-বীল।
তারমীহিম বিহিজা-রাতিম মিন ছিজ্জীল।
ফাজা‘আলাহুম কা‘আসফিম মা’কূল।

ফযীলত

যে ব্যক্তি সূরা ফীল পাঠ করবে আল্লাহ তা‘আলা তার জীবদ্দশায় সকল ধরনের যমিনি মুসীবত থেকে হিফাযত করবেন।

তথ্যসূত্র: তাফসীরে বাইযাবী; তাফসীরে কাশশাফ ৬: ৪৩১; তাফসীরে মাজমাউল বয়ান ১০: ৪৪১

১৩

সূরা কুরাইশ

لِإِيلَافِ قُرَيْشٍ

إِيلَافِهِمْ رِحْلَةَ الشِّتَاءِ وَالصَّيْفِ

فَلْيَعْبُدُوا رَبَّ هَٰذَا الْبَيْتِ

الَّذِي أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَآمَنَهُم مِّنْ خَوْفٍ
উচ্চারণ

লিঈলা-ফি কুরাইশ।
ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশশিতাই ওয়াসসাঈফ।
ফালইয়া‘বুদূরাব্বা হা-যাল বাঈত।
আল্লাযীআতা‘আমাহুম মিন জূ‘ইওঁ
ওয়া আ-মানাহুম মিন খাওফ।

ফযীলত

১. আবূল হাসান কাযবিনী (র) বলেন : যে ব্যক্তি শত্রু, অথবা বিপদের আশংকা করে তার জন্য সূরা কুরাইশের তিলাওয়াত নিরাপত্তার রক্ষাকবচ। একথা উদ্ধৃত করে ইমাম জাযারী (র) বলেন—এটা পরীক্ষিত আমল। কাযী সানাউল্লাহ্, তাফসীরে মাযহারীতে বলেন, আমাকে আমার মুর্শিদ ’মির্যা মাযহার জান্-জানা’ বিপদাপদের সময় এই সূরা তিলাওয়াত করতে বলেছেন। তিনি বলেছেন প্রত্যেক বালামুসীবত দূর করার জন্য এটা পরীক্ষিত ও অব্যর্থ। কাযী সানাউল্লাহ্ (র) আরও বলেন, আমি বারবার এর পরীক্ষা করেছি। (তাফসীরে মা‘আরেফুল কুরআন)

২. হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সূরা কুরাইশ তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে কা‘বা তাওয়াফ ও তাতে ই‘তেকাফ সমপরিমাণ দশটি নেকি দান করবেন। (তাফসীরে বাইযাবী ও তাফসীরে কাশশাফ সূরা কুরাইশ দ্রষ্টব্য)

১৪

সূরা আল-মাঊন

أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ

فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ

وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ

فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ

الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ

الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ

وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ
উচ্চারণ

আরাআইতাল্লাযী ইউকাযযি বুবিদ্দীন।
ফাযা-লিকাল্লাযী ইয়াদু‘‘উল ইয়াতীম।
ওয়ালা-ইয়াহুদ্দু‘আলা-তা‘আ-মিল মিছকীন।
ফাওয়াইঁলুলিলল মুসাল্লীন।
আল্লাযীনাহুম ‘আন সালা-তিহিমি ছা-হূন।
আল্লাযীনা হুম ইউরাঊনা। ওয়া ইয়ামনা‘ঊনাল মা-‘ঊন।

ফযীলত

হযরত উবাই (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সূরা মাউন তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। যদিও সে যাকাত প্রদানকারী হয়।

তথ্যসূত্র: তাফসীরে কাবীর, ৩২: ১০৯; তাফসীরে কাশশাফ সূরা মা‘উন দ্রষ্টব্য

১৫

সূরা আল-কাওসার

إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
উচ্চারণ

ইন্নাআ‘তাইনা-কাল কাওছার।
ফাসাললি লিরাব্বিকা ওয়ানহার।
ইন্না শা-নিআকা হুওয়াল আবতার।

ফযীলত

১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কাউসার হল জান্নাতের একটা নহর। এর দুই তীর হল স্বর্ণের, মতি ও ইয়াকুতের উপর দিয়ে তা প্রবাহিত হয়। এর মাটি মিশক–আম্বার থেকে সুগন্ধ ময়। এর পানি মধু থেকে মিষ্টি এবং তুষার থেকে শুভ্র। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৬১)

২. হযরত আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি জান্নাতে পায়চারি করছিলাম। এমন সময় হঠাং একটি নহর আমার সামনে পড়ল এর উভয় তীরে মতির গম্বুজ। ফিরিশতাকে বললাম, এটি কি? তিনি বললেন, এটি কাউসার। আল্লাহ তা‘আলা আপনাকে যা দান করেছেন। নবী (ﷺ) বলেন, এরপর তিনি এর মাটিতে হাত মেরে মিশক আম্বর বের করে নিয়ে এলেন। তারপর আমার সামনে সিদরাতুল–মুন্তাহা উপস্থাপিত হল। সেখানে আমি মহাজ্যোতি প্রত্যক্ষ করেছি। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৬০)

৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম (ﷺ) ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাযে “সূরা কাফিরুন” ও “সূরা কুল হুআল্লাহু আহাদ” তিলাওয়াত করতেন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ১২৫৬)

৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সূরা কাউসার তিলাওয়াত করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতের সকল নহর (প্রসবন) থেকে পানি পান করাবেন। তার জন্য দশটি নেকি লিখা হবে দশ তারিখে বান্দার পক্ষ থেকে দেয়া কুরবানীর পশুর সমান। (তাফসীরে কাশশাফ, সূরা কাউসার দ্রষ্টব্য)

১৬

সূরা আল-কাফিরুন

قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ

لَا أَعْبُدُ مَا تَعْبُدُونَ

وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ

وَلَا أَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدتُّمْ

وَلَا أَنتُمْ عَابِدُونَ مَا أَعْبُدُ

لَكُمْ دِينُكُمْ وَلِيَ دِينِ
উচ্চারণ

কুল ইয়াআইয়ুহাল কা-ফিরূন।
লাআ‘বুদুমা-তা‘বুদূন।
ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।
ওয়ালা আনা ‘আ-বিদুম মা-‘আবাত্তুম,
ওয়ালাআনতুম ‘আ-বিদূনা মাআ‘বুদ।
লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।

ফযীলত

১. হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী কারীম (ﷺ) ফজরের দুই রাকাত সুন্নত নামাযে “সূরা কাফিরুন” ও “সূরা কুল হুআল্লাহু আহাদ” তিলাওয়াত করতেন।

২. ফারওয়া বিন নওফল (রহ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদা নবী (ﷺ) তাকে বলেন, তুমি শোয়ার সময় সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত করবে। কেননা, এ সূরা শিরক থেকে মুক্তকারী।
৩. আমর ইবনে মালিক বলেন, আবূল জাওযা বলতেন, তোমরা অধিক পরিমাণে সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত কর! এবং শিরক থেকে বেঁচে থাক।
৪. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সূরা কাফিরুন তিলাওয়াত করল! সে যেন কুরআনে কারীমের এক চতুর্থাংশ তিলাওয়াত করল। এবং শয়তানের ধোঁকা ও শিরক থেকে নিজেকে মুক্ত করল। এবং (কিয়ামতের) মহাভীতি থেকে নিজেকে দুশ্চিন্তা মুক্ত করল।

৫. হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, ইযা যুল যিলাত–এর সাওয়াব অর্ধেক কুরআনের সমান; কুল হুয়াল্লাহু আহাদ এক–তৃতীয়াংশ কুরআনের সমান; কুল ইয়া আয়্যূহাল কাফিরূন এক–চতুর্থাংশ কুরআনের সমান।

৬. এই সূরা মুসাফির অবস্থায় তিলাওয়াতের দ্বারা সাথী সঙ্গী ও পাথেয়ে বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ১২৫৬
সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৫৫
তাফসীরে দুররে মানসুর, সূরা কাফিরুন দ্রষ্টব্য
তাফসীরে কাশশাফ, সূরা কাফিরুন দ্রষ্টব্য
সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৯৪
আল জামে লিআহকামিল কুরআন, সূরা কাফিরুন দ্রষ্টব্য

১৭

সূরা আন-নাসর

إِذَا جَآءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ

وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
উচ্চারণ

ইযা-জাআ নাসরুল্লা-হি ওয়াল ফাতহ।
ওয়ারাআইতান্না-ছা ইয়াদখুলূনা ফী দীনিল্লা-হি আফওয়া-জা-। ফাছাব্বিহবিহামদি রাব্বিকা ওয়াছতাগফিরহু ইন্নাহূকা-না তাওওয়া-বা-।

ফযীলত

হযরত আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জনৈক সাহাবীকে বলেছিলেন, হে অমুক। তুমি কি বিয়ে করেছ? সে বলল, জ্বী না, ইয়া রাসুলাল্লাহ। আল্লাহর শপথ। আর আমার নিকট বিয়ে করার মত কোন সম্পদও নেই। তিনি বললেন, তোমার নিকট কি সূরা ইখলাস নেই? সে বলল জ্বী, হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটি হল কুরআনের এক–তৃতীয়াংশ। তিনি বললেন, তোমার কাছে কি সূরা নাসর নেই? সে বলল, জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটি হল কুরআনের এক–চতুর্থাংশ। তিনি আবার জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নিকট সূরা কাফিরুন নেই? সে বলল, জ্বী হ্যা। তিনি বললেন, এটি হল কুরআনের এক–চতুর্থাংশ। তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, তোমার নিকট কি সূরা যিলযাল নেই? সে বলল জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটিও কুরআনের এক–চতুর্থাংশ। অতএব তুমি বিয়ে কর। বিয়ে কর।

তথ্যসূত্র: আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৮০; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৯৫

১৮

সূরা আল-লাহাব

تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبّ

مَا أَغْنَىٰ عَنْهُ مَالُهُ وَمَا كَسَبَ

سَيَصْلَىٰ نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ

وَامْرَأَتُهُ حَمَّالَةَ الْحَطَبِ

فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِّن مَّسَدٍ
উচ্চারণ

তাব্বাত ইয়াদাআবী লাহাবিওঁ ওয়া তাবব।
মাআগনা-‘আনহু মা-লুহূওয়ামা-কাছাব।
ছাইয়াসলা-না-রান যা-তা লাহাব।
ওয়ামরাআতুহূ; হাম্মা-লাতাল হাতাব।
ফী জীদিহা-হাবলুম মিম মাছাদ।

ফযীলত

যে ব্যক্তি সূরা লাহাব তিলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ও আবূ লাহাবকে একি ঘরে একত্রিত করবেন না।

তথ্যসূত্র: তাফসীরে কাশশাফ; আল হাওয়ী ফী তাফসীরি কুরআনিল কারীম, সূরা লাহাব দ্রষ্টব্য

১৯

সূরা আল-ইখলাস

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ

اللَّهُ الصَّمَدُ

لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ

وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
উচ্চারণ

কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।
আল্লা-হুসসামাদ।
লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।
ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।

ফযীলত

১. হযরত আবূ দারদা (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কেউ কি এই বিষয়ে অক্ষম যে, এক রাত্রে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ পড়ে নিবে? সাহাবা (রাযি) আরয করলেন, কেউ এক রাত্রে কুরআনের এক তৃতীয়াংশ কি ভাবে পড়তে পারে? নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করলেন, قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ কুরআনের এক তৃতীয়াংশের সমান।

২. হযরত আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-র কাছে এসে আরয করলঃ আমি এই সূরাটি খুব ভালবাসি। তিনি বললেন, এর ভালবাসা তোমাকে জান্নাতে দাখিল করবে।

৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা সবাই একত্রিত হয়ে যাও। আমি তোমাদেরকে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ শুনাব। অতঃপর যাদের পক্ষে সম্ভব ছিল, তারা একত্রিত হয়ে গেলে তিনি আগমন করলেন এবং সূরা ইখলাস পাঠ করে শুনালেন। তিনি আরও বললেন, এই সূরাটি কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।-(মুসলিম, তিরমিযী) আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ীর এক দীর্ঘ বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মুসীবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়।

৪. ওকবা ইবনে আমের (রাযি)-এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আমি তোমাদেরকে এমন তিনটি সূরা বলছি, যা তাওরাত, ইঞ্জীল, যবুর, কুরআন সব কিতাবেই নাযিল হয়েছে। রাত্রিতে তোমরা ততক্ষণ নিদ্রা যেয়ো না, যতক্ষণ সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস না পাঠ কর। ওকবা (রাযি) বলেন, সেদিন থেকে আমি কখনও এই আমল ছাড়িনি।
৫. সূরা ইখলাসে তাওহীদ শিরকের পূর্ণ বিরোধিতা আছে, দুনিয়াতে তাওহীদ অস্বীকারকারী মুশরিকদের বিভিন্ন প্রকার বিদ্যমান আছে। সূরা ইখলাস সর্বপ্রকার মুশরিক সুলভ ধারণা খণ্ডন করে পূর্ণ তাওহীদের সবক দিয়েছে। তাওহীদ বিরোধীদের এক স্বয়ং আল্লাহর অস্তিত্বই স্বীকার করে না, কেউ অস্তিত্ব স্বীকার করে, কিন্তু তাকে চিরন্তন মানে না এবং কেউ উভয় বিষয় মানে, কিন্তু গুণাবলীর পূর্ণতা অস্বীকার করে। কেউ কেউ সবই মানে, কিন্তু ইবাদতে অন্যকে শরীক করে। اَللهُ اَحَدُٗ বাক্যে সব ভ্রান্ত ধারণার খণ্ডন হয়ে গেছে। কতক লোক ইবাদতেও শরীক করে না, কিন্তু অন্যকে অভাব পূরণকারী ও কার্যনির্বাহী মনে করে। صَمَد শব্দে এই ধারণা বাতিল করা হয়েছে। যারা আল্লাহর সন্তান আছে বলে বিশ্বাস করে, তাদেরকে لَمْ يَلِدْ বলে জওয়াব দেওয়া হয়েছে।

৬. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, এই সূরা পাঠকারীর জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৮১১-১
তাফসীরে ইবনে কাসীর
তাফসীরে ইবনে কাসীর
তাফসীরে ইবনে কাসীর
তাফসীরে মারেফুল কুরআন।
তাফসীরে কাশশাফ।

২০

সূরা আল-ফালাক

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ

مِن شَرِّ مَا خَلَقَ

وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ

وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ

وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
উচ্চারণ

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক
মিন শাররি মা-খালাক।
ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।
ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।
ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

ফযীলত

১. হযরত ওকবা ইবনে আমের (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে ওকবা ইবনে আমির, তুমি আল্লাহ্‌ তা‘আলার নিকট قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ অপেক্ষা অধিক প্রিয় এবং অধিক দ্রুত কবূল হওয়ার মত আর কোন সূরা পড়তে পার না। অতএব তুমি নামাযে এই সূরা পড়া ছাড়িও না।

২. সূরা ফালাক ও সূরা নাস এর ফজিলত: প্রত্যেক মু’মিনের বিশ্বাস এই যে, ইহকাল ও পরকালের সমস্ত লাভ-লোকসান আল্লাহ্ তা’আলার করায়ত্ত। তাঁর ইচ্ছা ব্যতিরেকে কেউ কারও অণু পরিমাণ লাভ অথবা লোকসান করতে পারে না। অতএব, ইহকাল ও পরকালের সমস্ত বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হচ্ছে নিজেকে আল্লাহর আশ্রয়ে দিয়ে দেওয়া এবং কাজেকর্মে নিজেকে তাঁর আশ্রয়ে যাওয়ার যোগ্য করতে সচেষ্ট হওয়া। সূরা ফালাকে ইহলৌকিক বিপদাপদ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা আছে এবং সূরা নাসে পারলৌকিক বিপদাপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে। নির্ভরযোগ্য হাদীসসমূহে উভয় সূরার অনেক ফযীলত ও বরকত বর্ণিত আছে। সহীহ মুসলিমে ওকবা ইবনে আমের (রাযি)-এর বর্ণিত হাদীসে রসূলূল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমরা লক্ষ্য করেছ কি. অদ্য রাত্রিতে আল্লাহ্ তা’আলা আমার প্রতি এমন আয়াত নাযিল করেছেন, যার সমতুল্য আয়াত দেখা যায় না অর্থাৎ قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ও قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ النَّاسِ আয়াতসমূহ। অন্য এক বর্ণনায় আছে তাওরাত, ইঞ্জীল, যবুর এবং কুরআনেও অনুরূপ কোন সূরা নেই। এক সফরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওকবা ইবনে আমের (রাযি)-কে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করালেন, অতঃপর মাগরিবের নামাযে এ সূরাদ্বয়ই তিলাওয়াত করে বললেন, এই সূরাদ্বয় নিদ্রা যাওয়ার সময় এবং নিদ্রা থেকে গাত্রোত্থানের সময়ও পাঠ কর। অন্য হাদীসে তিনি প্রত্যেক নামাযের পর সূরাদ্বয় পাঠ করার আদেশ করেছেন।

৩. হযরত আয়েশা (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন রোগে আক্রান্ত হলে এই সূরাদ্বয় পাঠ করে হাতে ফুঁ দিয়ে সর্বাঙ্গে বুলিয়ে দিতেন। ইন্তেকালের পূর্বে যখন তাঁর রোগযন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়, তখন আমি এই সূরাদ্বয় পাঠ করে তাঁর হাতে ফুক দিতাম। অতঃপর তিনি নিজে তা সর্বাঙ্গে বুলিয়ে নিতেন। আমার হাত তাঁর পবিত্র হাতের বিকল্প থেকে পারত না। তাই আমি এরূপ করতাম।

৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হাবীব (রাযি) বর্ণনা করেন, এক রাত্রিতে বৃষ্টি ও ভীষণ অন্ধকার ছিল। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে খুঁজতে বের হলাম। যখন তাঁকে পেলাম, তখন প্রথমেই তিনি বললেন: বল। আমি আরয করলাম, কি বলব? তিনি বললেন, সূরা ইখলাছ ও কুল আউজু সূরাদ্বয়। সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো তিনবার পাঠ করলে তুমি প্রত্যেক কষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে।

সারকথা এই যে, যাবতীয় বিপদাপদ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবায়ে কিরাম এই সূরাদ্বয়ের আমল করতেন। অতঃপর আয়াতসমূহের তাফসীর দেখুনঃ فلق --- قُلْ أَعُوْذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ--এর শাব্দিক অর্থ বিদীর্ণ হওয়া। এখানে উদ্দেশ্য নিশি শেষে ভোর হওয়া। অন্য এক আয়াতে আল্লাহর গুণ فَالِقُ الإِصْبَاحِ বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে আল্লাহর সমস্ত গুণের মধ্য থেকে একে অবলম্বন করার রহস্য এই থেকে পারে যে, রাত্রির অন্ধকার প্রায়ই অনিষ্ট ও বিপদাপদের কারণ হয়ে থাকে এবং ভোরের আলো সেই বিপদাপদের আশংকা দূর করে দেয়। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, যে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইবে, তিনি তার সকল মুসীবত দূর করে দেবেন।

তথ্যসূত্র: আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২২৯৩
সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১৫২৩; সহীহ মুসলীম, হাদীস নং: ৮১৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৬৮১২
তাফসীরে ইবনে কাসীর
তাফসীরে মাযহারী
মাযহারী, তাফসীরে মারেফুল কুরআন

২১

সূরা নাস

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ

مَلِكِ النَّاسِ

إِلَٰهِ النَّاسِ

مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ

الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ

مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ
উচ্চারণ

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,
মালিকিন্না-ছ,
ইলা-হিন্না-ছ।
মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।
আল্লাযী ইউওয়াছ ওয়িছু ফী সুদূরিন্নাছ-।
মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

ফযীলত

সূরা ফালাক দ্র.

২২

সূরা ইয়াসীন

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
يس (1) وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ (2) إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ (3) عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ (4) تَنْزِيلَ الْعَزِيزِ الرَّحِيمِ (5) لِتُنْذِرَ قَوْمًا مَا أُنْذِرَ آبَاؤُهُمْ فَهُمْ غَافِلُونَ (6) لَقَدْ حَقَّ الْقَوْلُ عَلَى أَكْثَرِهِمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (7) إِنَّا جَعَلْنَا فِي أَعْنَاقِهِمْ أَغْلَالًا فَهِيَ إِلَى الْأَذْقَانِ فَهُمْ مُقْمَحُونَ (8) وَجَعَلْنَا مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ سَدًّا وَمِنْ خَلْفِهِمْ سَدًّا فَأَغْشَيْنَاهُمْ فَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ (9) وَسَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ (10) إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ (11) إِنَّا نَحْنُ نُحْيِ الْمَوْتَى وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَآثَارَهُمْ وَكُلَّ شَيْءٍ أَحْصَيْنَاهُ فِي إِمَامٍ مُبِينٍ (12)
﴿
وَاضْرِبْ لَهُمْ مَثَلًا أَصْحَابَ الْقَرْيَةِ إِذْ جَاءَهَا الْمُرْسَلُونَ (13) إِذْ أَرْسَلْنَا إِلَيْهِمُ اثْنَيْنِ فَكَذَّبُوهُمَا فَعَزَّزْنَا بِثَالِثٍ فَقَالُوا إِنَّا إِلَيْكُمْ مُرْسَلُونَ (14) قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ (15) قَالُوا رَبُّنَا يَعْلَمُ إِنَّا إِلَيْكُمْ لَمُرْسَلُونَ (16) وَمَا عَلَيْنَا إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ (17) قَالُوا إِنَّا تَطَيَّرْنَا بِكُمْ لَئِنْ لَمْ تَنْتَهُوا لَنَرْجُمَنَّكُمْ وَلَيَمَسَّنَّكُمْ مِنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ (18) قَالُوا طَائِرُكُمْ مَعَكُمْ أَئِنْ ذُكِّرْتُمْ بَلْ أَنْتُمْ قَوْمٌ مُسْرِفُونَ (19) وَجَاءَ مِنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى قَالَ يَاقَوْمِ اتَّبِعُوا الْمُرْسَلِينَ (20) اتَّبِعُوا مَنْ لَّا يَسْأَلُكُمْ أَجْرًا وَهُمْ مُهْتَدُونَ (21) وَمَا لِيَ لَا أَعْبُدُ الَّذِي فَطَرَنِي وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (22) أَأَتَّخِذُ مِنْ دُونِهِ آلِهَةً إِنْ يُرِدْنِ الرَّحْمَنُ بِضُرٍّ لَا تُغْنِ عَنِّي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا وَلَا يُنْقِذُونِ (23) إِنِّي إِذًا لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (24) إِنِّي آمَنْتُ بِرَبِّكُمْ فَاسْمَعُونِ (25) قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَالَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ (26) بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ (27)
﴿
✷ وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَى قَوْمِهِ مِنْ بَعْدِهِ مِنْ جُنْدٍ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا كُنَّا مُنْزِلِينَ (28) إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ خَامِدُونَ (29) يَاحَسْرَةً عَلَى الْعِبَادِ مَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ (30) أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنَ الْقُرُونِ أَنَّهُمْ إِلَيْهِمْ لَا يَرْجِعُونَ (31) وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ (32) وَآيَةٌ لَهُمُ الْأَرْضُ الْمَيْتَةُ أَحْيَيْنَاهَا وَأَخْرَجْنَا مِنْهَا حَبًّا فَمِنْهُ يَأْكُلُونَ (33) وَجَعَلْنَا فِيهَا جَنَّاتٍ مِنْ نَخِيلٍ وَأَعْنَابٍ وَفَجَّرْنَا فِيهَا مِنَ الْعُيُونِ (34) لِيَأْكُلُوا مِنْ ثَمَرِهِ وَمَا عَمِلَتْهُ أَيْدِيهِمْ أَفَلَا يَشْكُرُونَ (35) سُبْحَانَ الَّذِي خَلَقَ الْأَزْوَاجَ كُلَّهَا مِمَّا تُنْبِتُ الْأَرْضُ وَمِنْ أَنْفُسِهِمْ وَمِمَّا لَا يَعْلَمُونَ (36) وَآيَةٌ لَهُمُ اللَّيْلُ نَسْلَخُ مِنْهُ النَّهَارَ فَإِذَا هُمْ مُظْلِمُونَ (37) وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ (38) وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ (39) لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ (40) ﴿
وَآيَةٌ لَهُمْ أَنَّا حَمَلْنَا ذُرِّيَّتَهُمْ فِي الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ (41) وَخَلَقْنَا لَهُمْ مِنْ مِثْلِهِ مَا يَرْكَبُونَ (42) وَإِنْ نَشَأْ نُغْرِقْهُمْ فَلَا صَرِيخَ لَهُمْ وَلَا هُمْ يُنْقَذُونَ (43) إِلَّا رَحْمَةً مِنَّا وَمَتَاعًا إِلَى حِينٍ (44) وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّقُوا مَا بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَمَا خَلْفَكُمْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ (45) وَمَا تَأْتِيهِمْ مِنْ آيَةٍ مِنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ (46) وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ أَنْفِقُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ قَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لِلَّذِينَ آمَنُوا أَنُطْعِمُ مَنْ لَوْ يَشَاءُ اللَّهُ أَطْعَمَهُ إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (47) وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ (48) مَا يَنْظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخِصِّمُونَ (49) فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ (50) وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُمْ مِنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنْسِلُونَ (51) قَالُوا يَاوَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَرْقَدِنَا هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ (52) إِنْ كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعٌ لَدَيْنَا مُحْضَرُونَ (53) فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ (54) ﴿
إِنَّ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ الْيَوْمَ فِي شُغُلٍ فَاكِهُونَ (55) هُمْ وَأَزْوَاجُهُمْ فِي ظِلَالٍ عَلَى الْأَرَائِكِ مُتَّكِئُونَ (56) لَهُمْ فِيهَا فَاكِهَةٌ وَلَهُمْ مَا يَدَّعُونَ (57) سَلَامٌ قَوْلًا مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ (58) وَامْتَازُوا الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ (59) ✷ أَلَمْ أَعْهَدْ إِلَيْكُمْ يَابَنِي آدَمَ أَنْ لَا تَعْبُدُوا الشَّيْطَانَ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُبِينٌ (60) وَأَنِ اعْبُدُونِي هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمٌ (61) وَلَقَدْ أَضَلَّ مِنْكُمْ جِبِلًّا كَثِيرًا أَفَلَمْ تَكُونُوا تَعْقِلُونَ (62) هَذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ (63) اصْلَوْهَا الْيَوْمَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ (64) الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ (65) وَلَوْ نَشَاءُ لَطَمَسْنَا عَلَى أَعْيُنِهِمْ فَاسْتَبَقُوا الصِّرَاطَ فَأَنَّى يُبْصِرُونَ (66) وَلَوْ نَشَاءُ لَمَسَخْنَاهُمْ عَلَى مَكَانَتِهِمْ فَمَا اسْتَطَاعُوا مُضِيًّا وَلَا يَرْجِعُونَ (67) وَمَنْ نُعَمِّرْهُ نُنَكِّسْهُ فِي الْخَلْقِ أَفَلَا يَعْقِلُونَ (68) وَمَا عَلَّمْنَاهُ الشِّعْرَ وَمَا يَنْبَغِي لَهُ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرٌ وَقُرْآنٌ مُبِينٌ (69) لِيُنْذِرَ مَنْ كَانَ حَيًّا وَيَحِقَّ الْقَوْلُ عَلَى الْكَافِرِينَ (70) ﴿
أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا خَلَقْنَا لَهُمْ مِمَّا عَمِلَتْ أَيْدِينَا أَنْعَامًا فَهُمْ لَهَا مَالِكُونَ (71) وَذَلَّلْنَاهَا لَهُمْ فَمِنْهَا رَكُوبُهُمْ وَمِنْهَا يَأْكُلُونَ (72) وَلَهُمْ فِيهَا مَنَافِعُ وَمَشَارِبُ أَفَلَا يَشْكُرُونَ (73) وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ آلِهَةً لَعَلَّهُمْ يُنْصَرُونَ (74) لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَهُمْ وَهُمْ لَهُمْ جُنْدٌ مُحْضَرُونَ (75) فَلَا يَحْزُنْكَ قَوْلُهُمْ إِنَّا نَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ (76) أَوَلَمْ يَرَ الْإِنْسَانُ أَنَّا خَلَقْنَاهُ مِنْ نُطْفَةٍ فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُبِينٌ (77) وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَنَسِيَ خَلْقَهُ قَالَ مَنْ يُحْيِ الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ (78) قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ (79) الَّذِي جَعَلَ لَكُمْ مِنَ الشَّجَرِ الْأَخْضَرِ نَارًا فَإِذَا أَنْتُمْ مِنْهُ تُوقِدُونَ (80) أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ (81) إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ (82) فَسُبْحَانَ الَّذِي بِيَدِهِ مَلَكُوتُ كُلِّ شَيْءٍ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ (83)
উচ্চারণ

১. ইয়া-ছীন।
২. ওয়াল কুরআ-নিল হাকীম।
৩. ইন্নাকা লামিনাল মুরছালীন।
৪. ‘আলা-সিরাতিম মুছতাকীম।
৫. তানঝীলাল ‘আঝীঝির রাহীম।
৬. লিতুনযিরা কাওমাম্মাউনযিরা আ-বাউহুম ফাহুম গা-ফিলূন।
৭. লাকাদ হাক্কাল কাওলু‘আলাআকছারিহিম ফাহুম লা-ইউ’মিনূন।
৮. ইন্না- জা‘আলনা-ফী আ‘না-কিহিম আগলা-লান ফাহিয়া ইলাল আযকা-নি ফাহুম মুকমাহূন।
৯. ওয়া জা‘আল না-মিম বাইনি আইদীহিম ছাদ্দাওঁ ওয়া মিন খালফিহিম ছাদ্দান ফাআগশাইনা-হুম ফাহুম লা-ইউবসিরূন।
১০. ওয়া ছাওয়াউন ‘আলাইহিম আ আনযারতাহুম আম লাম তুনযিরহুম লা-ইউ’মিনূন।
১১. ইন্নামা-তুনযিরু মানিত্তাবা‘আযযিকরা ওয়া খাশিয়াররাহমা-না বিলগাইবি ফাবাশশিরহু বিমাগফিরাতিওঁ ওয়া আজরিন কারীম।
১২. ইন্না-নাহনুনুহয়িল মাওতা-ওয়া নাকতুবুমা-কাদ্দামূওয়া আ-ছা-রাহুম ওয়া কুল্লা শাইয়িন আহসাইনা-হু ফীইমা-মিম মুবীন।
১৩. ওয়াদরিব লাহুম মাছালান আসহা-বাল কারইয়াহ । ইযজাআহাল মুরছালূন।
১৪. ইয আরছালনা ইলাইলিমুছনাইনি ফাকাযযাবূহুমা-ফা‘আঝঝাঝনা-বিছা-লিছিন ফাকালূইন্নাইলাউকুম মুরছালূন।
১৫. কা-লূমাআনতুম ইল্লা-বাশারুম মিছলুনা- ওয়ামাআনঝালাররাহমা-নুমিনশাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা-তাকযিবূন।
১৬. কা-লূরাব্বুনা-ইয়া‘লামুইন্না-ইলাইকুম লামুরছালূন।
১৭. ওয়ামা-‘আলাইনাইল্লাল বালা-গুল মুবীন।
১৮. কা-লূইন্না-তাতাইয়ারনা বিকুম লাইল্লাম তানতাহূলানারজুমান্নাকুম ওয়ালাইয়ামাছছান্নাকুম মিন্না-‘আযা-বুন আলীম।
১৯. কা-লূতাইরুকুম মা‘আকুম আইন যুক্কিরতুম বাল আনতুম কাওমুম মুছরিফূন।
২০. ওয়াজাআ মিন আকসাল মাদীনাতি রাজুলুইঁ ইয়াছ‘আ- কা-লা ইয়াকাওমিত্তাবি‘উল মুরছালীন।
২১. ইত্তাবি‘ঊ মাল্লা-ইয়াছআলুকুম আজরাওঁ ওয়া হুম মুহতাদূন।
২২. ওয়া মা-লিয়া লাআ‘বুদুল্লাযী ফাতারানী ওয়া ইলাইহি তুর জা‘উন।
২৩. আআত্তাখিযুমিন দুনিহীআ-লিহাতান ইয়ঁইউরিদনির রাহমা-নুবিদু ররিল লা-তুগনি ‘আন্নী শাফা-‘আতুহুম শাইআওঁ ওয়ালা-ইউনকিযূন।
২৪. ইন্নী ইযাল্লাফী দালা-লিম্মুবীন।
২৫. ইন্নীআ-মানতুবিরাব্বিকুম ফাছমা‘ঊন।
২৬. কীলাদ খুলিল জান্নাতা কা-লা ইয়া-লাইতা কাওমী ইয়া‘লামূন।
২৭. বিমা-গাফারালী রাববী ওয়া জা‘আলানী মিনাল মুকরামীন।
২৮. ওয়ামাআনঝালনা-‘আলা-কাওমিহী মিম বা‘দিহী মিন জুনদিম মিনাছ ছামাইওয়ামা-কুন্নামুনঝিলীন।
২৯. ইন কা-নাত ইল্লা-সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইযা-হুম খা-মিদূন।
৩০. ইয়া-হাছরাতান ‘আলাল ‘ইবা-দি মা-ইয়া’তীহিম মির রাছূলিন ইল্লা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিউন।
৩১. আলাম ইয়ারাও কাম আহলাকনা- কাবলাহুম মিনাল কুরূনি আন্নাহুম ইলাইহিম লাইয়ারজি‘উন।
৩২. ওয়া ইন কুল্লুল লাম্মা-জামী‘উল লাদাইনা-মুহদারূন।
৩৩. ওয়া আ-য়াতুল লাহুমুল আরদুল মাইতাতু আহইয়াইনা-হা-ওয়াআখরাজনা-মিনহাহাব্বান ফামিনহু ইয়া’কুলূন।
৩৪. ওয়া জা‘আল না-ফীহা-জান্না-তিম মিন নাখীলিওঁ ওয়া আ‘না-বিও ওয়া ফাজ্জারনা-ফীহামিনাল ‘উইঊন।
৩৫. লিইয়া’কুলূমিন ছামারিহী ওয়ামা-‘আমিলাতহু আইদীহিম আফালা-ইয়াশকুরূন।
৩৬. ছুবহা-নাল্লাযী খালাকাল আঝাওয়া-জা কুল্লাহা- মিম্মা-তুমবিতুলআরদুওয়া মিন আনফুছিহিম ওয়া মিম্মা-লা-ইয়া‘লামূন।
৩৭. ওয়া আ-য়াতুল্লাহুমুল্লাইলু নাছলাখুমিনহুন্নাহা-রা ফাইযা-হুম মুজলিমূন।
৩৮. ওয়াশশামছুতাজরী লিমুছতাকাররিল লাহা- যা-লিকা তাকদীরুল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।
৩৯. ওয়াল কামারা কাদ্দারনা-হু মানা-ঝিলা হাত্তা-‘আ-দাকাল ‘উরজুনিল কাদীম।
৪০. লাশশামছুইয়ামবাগী লাহাআন তুদরিকাল কামারা ওয়ালাল্লাইলুছা-বিকুন্নাহা-রি ওয়া কুল্লুন ফী ফালাকিইঁ ইয়াছবাহূন।
৪১. ওয়া আ-য়াতুল লাহুম আন্না-হামালনা-যুররিইয়াতাহুম ফিল ফুলকিল মাশহূন।
৪২. ওয়া খালাকনা-লাহুম মিম মিছলিহী মা ইয়ারকাবূন।
৪৩. ওয়া ইন নাশা’ নুগরিকহুম ফালা-ছারীখা লাহুম ওয়ালা-হুম ইউনকাযূন।
৪৪. ইল্লা-রাহমাতাম মিন্না -ওয়া মাতা-‘আন ইলা-হীন।
৪৫. ওয়া ইযা-কীলা লাহুমুত্তাকূ মা- বাইনা আইদীকুম ওয়ামা- খালফাকুম লা‘আল্লাকুম তুরহামূন।
৪৬. ওয়ামা-তা’তীহিম মিন আ-য়াতিম মিন আ-য়া-তি রাব্বিহিম ইল্লা-কা-নূ‘আনহা-মু‘রিদীন।
৪৭. ওয়া ইযা-কীলা লাহুম আনফিকূমিম্মা-রাঝাকাকুমুল্লা-হু কা-লাল্লাযীনা কাফারূ লিল্লাযীনা আমানূ আনুত‘ইমুমাল্লাও ইয়াশাউল্লা-হু আত‘আমাহূ ইন আনতুম ইল্লা-ফী দালা-লিম মুবীন।
৪৮. ওয়া ইয়াকূলূনা মাতা-হা-যাল ওয়া‘দুইন কনতুম সা-দিকীন।
৪৯. মা-ইয়ানজু রূনা ইল্লা সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান তা’খুযুহুম ওয়া হুম ইয়াখিসসিমূন।
৫০. ফালা-ইয়াছতাতী‘ঊনা তাওছিয়াতাওঁ ওয়ালাইলাআহলিহিম ইয়ারজি‘ঊন।
৫১. ওয়ানুফিখা ফিসসূরি ফাইযা-হুম মিনাল আজদা-ছিইলা-রাব্বিহিম ইয়ানছিলূন।
৫২. কা-লূইয়া-ওয়াইলানা-মাম বা‘আছানা-মিম মারকাদিনা-হা-যা-মাওয়া‘আদার রাহমা-নুওয়া সাদাকাল মুরছালূন।
৫৩. ইন কা-নাত ইল্লা-সাইহাতাওঁ ওয়া-হিদাতান ফাইযা-হুম জামী‘উল লাদাইনা-মুহদারূন।
৫৪. ফালইয়াওমা লা-তুজলামুনাফছুন শাইয়াওঁ ওয়ালা-তুজঝাওনা ইল্লা-মা-কুনতুম তা‘মালূন।
৫৫. ইন্না আসহা-বাল জান্নাতিল ইয়াওমা ফী শুগুলিন ফা-কিহূন।
৫৬. হুম ওয়া আঝওয়া-জুহুম ফী জিলা-লিন ‘আলাল আরাইকি মুত্তাকিঊন।
৫৭. লাহুম ফীহা-ফা-কিহাতুওঁ ওয়া লাহুম মা-ইয়াদ্দা‘ঊন।
৫৮. ছালা-মুন কাওলাম মিররাব্বির রাহীম।
৫৯. ওয়াম তা-ঝুল ইয়াওমা আইয়ুহাল মুজরিমূন।
৬০. আলাম আ‘হাদ ইলাইকুম ইয়া-বানীআ-দামা আল্লা-তা‘বুদুশশাইতা-না ইন্নাহূলাকুম ‘আদুওউম মুবীন।
৬১. ওয়া আনি‘বুদূ নী হা-যা-সিরা-তুম মুছতাকীম।
৬২. ওয়ালাকাদ আদাল্লা মিনকুম জিবিল্লান কাছীরা- আফালাম তাকূনূতা‘কিলূন।
৬৩. হা-যিহী জাহান্নামুল্লাতী কুনতুম তূ‘আদূন।
৬৪. ইসলাওহাল ইয়াওমা বিমা-কুনতুম তাকফুরূন।
৬৫. আলইয়াওমা নাখতিমু‘আলাআফওয়া-হিহিম ওয়াতুকালিলমুনা আইদীহিম ওয়া তাশহাদু আরজুলুহুম বিমা-কা-নূইয়াকছিবূন।
৬৬. ওয়ালাও নাশাউলাতামাছনা- আলা আ‘ইউনিহিম ফাছতাবাকুসসিরা-তা ফাআন্নাইউবসিরূন।
৬৭. ওয়ালাও নাশাউ লামাছাখনা-হুম ‘আলা মাকা-নাতিহিম ফামাছতাতা-‘ঊ মুদিইয়াওঁ ওয়ালাইয়ারজি‘ঊন।
৬৮. ওয়ামান নু‘আম্মির হু নুনাক্কিছহু ফিল খালকি আফালা-ইয়া‘কিলূন।
৬৯. ওয়ামা-‘আল্লামনা-হুশশি‘রা ওয়ামা-ইয়ামবাগী লাহূ ইন হুওয়া ইল্লা-যিকরুওঁ ওয়া কুরআ-নুম মুবীন।
৭০. লিইউনযিরা মান কা-না হাইয়াওঁ ওয়া ইয়াহিক্কাল কাওলু‘আলাল কা-ফিরীন।
৭১. আওয়ালাম ইয়ারাও আন্না-খালাকনা- লাহুম মিম্মা- ‘আমিলাত আইদীনাআন‘আ-মান ফাহুম লাহা-মা-লিকূন।
৭২. ওয়া যাল্লালনা-হা-লাহুম ফামিনহা-রাকূবুহুম ওয়া মিনহা-ইয়া’কুলূন।
৭৩. ওয়া লাহুম ফীহা-মানা-ফি‘উ ওয়া মাশা-রিবু আফালা-ইয়াশকুরূন।
৭৪. ওয়াত্তাখাযূমিন দূনিল্লা-হি আ-লিহাতাল লা‘আল্লাহুম ইউনসারূন।
৭৫. লা-ইয়াছতাতী‘ঊনা নাসরাহুম ওয়াহুম লাহুম জুনদুম মুহদারূন।
৭৬. ফালা-ইয়াহঝুনকা কাওলুহুম । ইন্না-না‘লামুমা-ইউছিররূনা ওয়ামা-ইউ‘লিনূন।
৭৭. আওয়ালাম ইয়ারাল ইনছা-নুআন্না-খালাকনা-হুমিননুতফাতিন ফাইযা-হুওয়া খাসীমুম মুবীন।
৭৮. ওয়া দারাবা লানা-মাছালাওঁ ওয়া নাছিয়া খালকাহূ কা-লা মাইঁ ইউহয়িল ‘ইজা-মা ওয়া হিয়া রামীম।
৭৯. কুল ইউহয়ী হাল্লাযী আনশাআহা আওওয়ালা মাররাতিওঁ ওয়া হুয়া বিকুল্লি খালকিন ‘আলীমু।
৮০. আল্লাযী জা‘আলা লাকুম মিনাশশাজারিল আখদারি না-রান ফাইযা-আনতুম মিনহু তূকিদূন।
৮১. আওয়া লাইছাল্লাযী খালাকাছছামা-ওয়াতি ওয়াল আরদা বিকা-দিরিন ‘আলা আইঁ ইয়াখলুকা মিছলাহুম বালা- ওয়া হুওয়াল খাল্লা-কুল ‘আলীম।
৮২. ইন্নামাআমরুহূ ইযাআরা-দা শাইআন আইঁ ইয়াকূলা লাহূকুন ফাইয়াকূন।
৮৩. ফাছুবহা-নাল্লাযী বিয়াদিহী মালাকূতুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া ইলাইহি তুর জা‘ঊন।

অর্থ

১. ইয়া-সীন।
২. হেকমতপূর্ণ কুরআনের শপথ!
৩. নিশ্চয়ই তুমি রাসূলগণের একজন।
৪. সরল পথে প্রতিষ্ঠিত।
৫. এ কুরআন অবতীর্ণ করা হচ্ছে সেই সত্তার পক্ষ হতে, যিনি পরাক্রমশালী, পরম দয়াময়।
৬. যাতে তুমি সতর্ক কর এমন এক সম্প্রদায়কে, যাদের বাপ-দাদাদেরকে পূর্বে সতর্ক করা হয়নি। ফলে তারা উদাসীনতায় নিপতিত।
৭. বস্তুত তাদের অধিকাংশের ব্যাপারে কথা পূর্ণ হয়ে আছে। সুতরাং তারা ঈমান আনবে না।
৮. আমি তাদের গলায় চিবুক পর্যন্ত বেড়ি পরিয়েছি। ফলে তারা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে আছে।
৯. এবং আমি তাদের সামনে এক অন্তরাল দাঁড় করিয়ে দিয়েছি এবং পিছনেও এক অন্তরাল দাঁড় করিয়ে দিয়েছি আর এভাবে তাদেরকে সব দিক থেকে ঢেকে দিয়েছি, ফলে তারা কোন কিছু দেখতে পায় না।
১০. তুমি তাদেরকে সতর্ক কর অথবা সতর্ক নাই কর উভয়টাই তাদের জন্য সমান। তারা ঈমান আনবে না।
১১. তুমি তো কেবল এমন ব্যক্তিকেই সতর্ক করতে পার, যে উপদেশ অনুযায়ী চলে এবং দয়াময় আল্লাহকে না দেখে ভয় করে। সুতরাং এরূপ ব্যক্তিকে সুসংবাদ শোনাও মাগফিরাত ও সম্মানজনক পুরস্কারের।
১২. নিশ্চয়ই আমিই মৃতদেরকে জীবিত করব এবং তারা যা কিছু সামনে পাঠায় তা লিখে রাখি আর তাদের কর্মের যে ফলাফল হয় তাও। এক সুস্পষ্ট কিতাবে প্রতিটি বিষয় সংরক্ষণ করে রেখেছি।
১৩. এবং (হে রাসূল!) তুমি তাদের সামনে দৃষ্টান্ত পেশ কর এক জনপদবাসীর, যখন তাদের কাছে এসেছিল রাসূলগণ।
১৪. যখন আমি তাদের কাছে (প্রথমে) পাঠিয়েছিলাম দু’জন রাসূল, তখন তারা তাদেরকে মিথ্যাবাদী বলল। তারপর তৃতীয়জনের মাধ্যমে আমি তাদেরকে শক্তিশালী করেছিলাম। তারপর তারা সকলে বলল, নিশ্চয়ই আমাদেরকে তোমাদের কাছে রাসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছে।
১৫. তারা বলল, তোমরা তো আমাদের মত মানুষই। দয়াময় আল্লাহ কিছুই নাযিল করেননি। তোমরা সম্পূর্ণ মিথ্যাই বলছ।
১৬. রাসূলগণ বলল, আমাদের প্রতিপালক ভালোভাবেই জানেন যে, আমাদেরকে বাস্তবিকই তোমাদের কাছে রাসূল বানিয়ে পাঠানো হয়েছে।
১৭. আর আমাদের দায়িত্ব তো কেবল স্পষ্টভাবে বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
১৮. জনপদবাসী বলল, আমরা তোমাদের মধ্যে অশুভতা লক্ষ করছি। তোমরা নিবৃত্ত না হলে আমরা অবশ্যই তোমাদের উপর পাথর নিক্ষেপ করব এবং অবশ্যই আমাদের হাতে তোমাদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তি ভোগ করতে হবে।
১৯. রাসূলগণ বলল, তোমাদের অশুভতা খোদ তোমাদেরই সঙ্গে রয়েছে। তোমাদের কাছে উপদেশ-বাণী পৌঁছেছে বলেই কি (তোমরা একথা বলছ?) প্রকৃতপক্ষে তোমরা এক সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
২০. শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এক ব্যক্তি ছুটে আসল। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা রাসূলগণের অনুসরণ কর।
২১. অনুসরণ কর তাদের, যারা তোমাদের কাছে কোন পারিশ্রমিক চায় না এবং যারা সঠিক পথে আছে।
২২. আমার কী যুক্তি আছে যে, আমি সেই সত্তার ইবাদত করব না, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং তারই দিকে তোমাদের সকলকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
২৩. আমি কি তাকে ছেড়ে এমন সব মাবুদ গ্রহণ করব, দয়াময় আল্লাহ আমার কোন অনিষ্ট করতে চাইলে যাদের সুপারিশ আমার কোন কাজে আসবে না এবং যারা আমাকে উদ্ধারও করতে পারবে না?
২৪. তা করলে নিঃসন্দেহে আমি সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পতিত হব।
২৫. আমি তোমাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান এনেছি। সুতরাং তোমরা আমার কথা শোন।
২৬. (শেষ পর্যন্ত জনপদবাসী তাকে হত্যা করে ফেলল এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তাকে) বলা হল, জান্নাতে প্রবেশ কর। সে (জান্নাতের নি‘আমত রাজি দেখে) বলল, আহা! আমার সম্প্রদায় যদি জানতে পারত
২৭. আল্লাহ কিভাবে আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে সম্মানিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন!
২৮. সেই ব্যক্তির পর আমি তার সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আসমান থেকে কোন বাহিনী পাঠাইনি এবং আমার তা পাঠানোর প্রয়োজনও ছিল না।
২৯. তা ছিল কেবল একটি মহানাদ, যাতে তারা সব নিভে নিথর হয়ে গেল।
৩০. আফসোস এসব বান্দার প্রতি! তাদের কাছে যে রাসূলই এসেছে তাকে নিয়ে তারা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত।
৩১. তারা কি দেখেনি তাদের পূর্বে আমি কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যারা তাদের কাছে ফিরে আসছে না?
৩২. এবং যত লোক আছে তাদের সকলকে অবশ্যই একত্র করে আমার সামনে হাজির করা হবে।
৩৩. আর তাদের জন্য একটি নিদর্শন হল মৃত ভূমি, যাকে আমি জীবন দান করেছি এবং তাতে শস্য উৎপন্ন করেছি অতঃপর তারা তা থেকে খেয়ে থাকে।
৩৪. আমি সে ভূমিতে সৃষ্টি করেছি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং তা থেকে উৎসারিত করেছি পানির প্রস্রবণ
৩৫. যাতে তারা তার ফল খেতে পারে। তাতো তাদের হাত তৈরি করেনি। তবুও কি তারা শোকর আদায় করবে না?
৩৬. পবিত্র সেই সত্তা, যিনি প্রতিটি জিনিস জোড়া-জোড়া সৃষ্টি করেছেন ভূমি যা উৎপন্ন করে তাও এবং তাদের নিজেদেরকেও আর তারা (এখনও) যা জানে না তাও।
৩৭. তাদের জন্য আরেকটি নিদর্শন হল রাত, যা থেকে আমি দিনের আবরণ সরিয়ে নেই, অমনি তারা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
৩৮. সূর্য আপন গন্তব্যের দিকে পরিভ্রমণ করছে। এসব পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তার স্থিরীকৃত (ব্যবস্থাপনা)।
৩৯. আর চাঁদের জন্য আমি নির্দিষ্ট করে দিয়েছি বিভিন্ন মনজিল। পরিশেষে তা (নিজ মনজিলসমূহ অতিক্রম করে) ফিরে আসে পুরানো খেজুর ডালার মত (সরু হয়ে)।
৪০. সূর্য পারে না চাঁদকে গিয়ে ধরতে আর রাতও পারে না দিনকে অতিক্রম করতে। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে সাঁতার কাটে।
৪১. তাদের জন্য আরেকটি নিদর্শন এই যে, আমি তাদের সন্তান-সন্ততিকে বোঝাই নৌযানে আরোহন করিয়েছিলাম।
৪২. আমি তাদের জন্য অনুরূপ আরও জিনিস সৃষ্টি করেছি, যাতে তারা সওয়ার হয়ে থাকে।
৪৩. আমি চাইলে তাদেরকে নিমজ্জিত করতে পারি, তখন তাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না এবং তাদের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হবে না
৪৪. তবে আমার পক্ষ হতে এক রহমত এবং এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত (জীবনের) আনন্দ ভোগের সুযোগ হিসেবে (আমিই তাদেরকে রক্ষা করে থাকি)।
৪৫. যখন তাদেরকে বলা হয়, বাঁচ তা হতে (সেই শাস্তি হতে) যা তোমাদের সামনে আছে এবং যা আছে তোমাদের পেছনে, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয় (তখন তারা তা গ্রাহ্য করে না)।
৪৬. এবং তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদের কাছে এমন কোন নিদর্শন আসে না, যা থেকে তারা মুখ ফেরায় না।
৪৭. যখন তাদেরকে বলা হয় আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছেন তা থেকে (গরীবদের জন্যও) ব্যয় কর, তখন কাফেরগণ মুসলিমদেরকে বলে, আমরা কি তাদেরকে খাবার খাওয়াব, যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করলে নিজেই খাওয়াতেন? (হে মুসলিমগণ!) তোমাদের অবস্থা এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তোমরা সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পড়ে রয়েছ।
৪৮. এবং তারা বলে, (কিয়ামতের) এ প্রতিশ্রুতি কবে পূর্ণ হবে? (হে মুসলিমগণ!) তোমরা সত্যবাদী হলে এটা বলে দাও।
৪৯. (প্রকৃতপক্ষে) তারা একটি মহানাদেরই অপেক্ষায় আছে, যা তাদেরকে পাকড়াও করবে তাদের বিতর্কে লিপ্ত থাকা অবস্থায়।
৫০. তখন আর তারা কোন অসিয়ত করতে পারবে না এবং পারবে না নিজ পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যেতে।
৫১. এবং শিঙ্গায় (দ্বিতীয়) ফুঁ দেওয়া হবে। অমনি তারা আপন-আপন কবর থেকে বের হয়ে তাদের প্রতিপালকের দিকে ছুটে চলবে।
৫২. তারা বলতে থাকবে, হায় আমাদের দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠাল? (উত্তর দেওয়া হবে,) এটা সেই জিনিস, যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলগণ সত্য কথা বলেছিল।
৫৩. আর কিছুই নয়, কেবল একটি মহানাদ হবে, অমনি তাদের সকলকে আমার সামনে উপস্থিত করা হবে।
৫৪. সুতরাং সে দিন কোন ব্যক্তির উপর জুলুম করা হবে না এবং তোমাদেরকে কেবল তোমাদের কৃতকর্মেরই প্রতিফল দেওয়া হবে।
৫৫. নিশ্চয়ই সে দিন জান্নাতবাসীগণ আপন ব্যস্ততায় মগ্ন থাকবে।
৫৬. তারা ও তাদের স্ত্রীগণ নিবিড় ছায়ায় আরামদায়ক আসনে হেলান দিয়ে থাকবে।
৫৭. সেখানে তাদের জন্য থাকবে ফলমূল এবং তারা যা কিছুর ফরমায়েশ করবে তাই তারা পাবে।
৫৮. দয়াময় প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদেরকে সালাম বলা হবে।
৫৯. আর (কাফেরদেরকে বলা হবে) হে অপরাধীগণ! আজ তোমরা (মুমিনদের থেকে) পৃথক হয়ে যাও।
৬০. হে আদম সন্তানগণ! আমি কি তোমাদেরকে গুরুত্ব দিয়ে বলিনি যে, তোমরা শয়তানের ইবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?
৬১. এবং তোমরা আমার ইবাদত কর। এটাই সরল পথ?
৬২. বস্তুত শয়তান তোমাদের মধ্য হতে একটি বড় দলকে গোমরাহ করেছিল। তবুও কি তোমরা বোঝনি?
৬৩. এটিই সেই জাহান্নাম, যার ভয় তোমাদেরকে দেখানো হত।
৬৪. আজ এতে প্রবেশ কর। যেহেতু তোমরা কুফর করতে।
৬৫. আজ আমি তাদের মুখে মোহর লাগিয়ে দেব। ফলে তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে এবং তাদের পা সাক্ষ্য দেবে তাদের কৃতকর্মের।
৬৬. আমি চাইলে (ইহকালেই) তাদের চোখ লোপ করে দিতে পারতাম। তখন তারা পথের সন্ধানে ছোটাছুটি করত, কিন্তু তারা কোথায় কি দেখতে পেত?
৬৭. আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকে স্ব-স্ব স্থানে বসিয়ে তাদেরকে বিকৃত (পঙ্গু) করে দিতে পারতাম ফলে তারা সামনে অগ্রসর হতে পারত না এবং পিছনেও ফিরে আসতে পারত না।
৬৮. আমি যাকে দীর্ঘায়ু দান করি সৃষ্টিগতভাবে তাকে উল্টিয়ে দেই। তথাপি

কি তারা উপলব্ধি করবে না?
৬৯. আমি তাকে (অর্থাৎ রাসূলকে) কাব্য চর্চা করতে শিখাইনি এবং তা তার পক্ষে শোভনীয়ও নয়। এটা তো এক উপদেশবাণী এবং এমন কুরআন যা (সত্যকে) সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করে।
৭০. যাতে প্রত্যেক জীবিতজনকে সতর্ক করে দেয় এবং যাতে কাফেরদের বিরুদ্ধে প্রমাণ চূড়ান্ত হয়ে যায়।
৭১. তারা কি দেখেনি যে, আমি নিজ হাতে সৃষ্ট বস্তু রাজির মধ্যে তাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তারাই তার মালিক হয়ে গেছে?
৭২. আমি সে জন্তুগুলিকে তাদের বশীভূত করে দিয়েছি। সুতরাং সেগুলোর কতক তাদের বাহন এবং কতক তারা আহার করে।
৭৩. এবং তাদের জন্যে এর মধ্যে আছে আরও বহু উপকারিতা এবং আছে পানীয় বস্তু। তথাপি কি তারা শোকর আদায় করবে না?
৭৪. তারা আল্লাহ ছাড়া বহু মাবুদ গ্রহণ করেছে এই আশায় যে, হয়ত তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
৭৫. (অথচ) তারা তাদের সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না; বরং তারা তাদের জন্য এমন এক বিরোধী সৈন্য হয়ে যাবে, যাদেরকে (কিয়ামতের দিন তাদের সামনে) উপস্থিত করা হবে।
৭৬. সুতরাং (হে রাসূল!) তাদের কথা যেন তোমাকে দুঃখ না দেয়। আমি অবশ্যই জানি তারা কী গোপন রাখছে আর কী প্রকাশ করছে।
৭৭. মানুষ কি লক্ষ করেনি আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু দ্বারা? অতঃপর সহসাই সে প্রকাশ্য বিতণ্ডাকারী হয়ে গেল।
৭৮. আমার সম্পর্কে সে উপমা রচনা করে, অথচ সে নিজ সৃজনের কথা ভুলে বসে আছে। সে বলে, কে এই অস্থিগুলিকে জীবিত করবে এগুলো পচে-গলে যাওয়া সত্ত্বেও?
৭৯. বলে দাও, সেগুলোকে জীবিত করবেন সেই সত্তা, যিনি তাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি প্রত্যেক সৃষ্টি সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
৮০. তিনিই সবুজ-সতেজ বৃক্ষ হতে তোমাদের জন্য আগুন সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর তোমরা তা হতে প্রজ্বলনের কাজ নাও।
৮১. তবে কি যে সত্তা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন তিনি কি তাদের অনুরূপ (পুনরায়) সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? কেন নয়? তিনি তো মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ!
৮২. তাঁর ব্যাপার তো এই যে, তিনি যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলেন, ‘হয়ে যা’। অমনি তা হয়ে যায়।
৮৩. অতএব পবিত্র সেই সত্তা, যার হাতে প্রতিটি জিনিসের শাসন-ক্ষমতা এবং তাঁরই কাছে তোমাদের সকলকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

কুরআনের ৩৬নং সূরা
ফযীলত

১. নবীজী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতি রাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে।

২. নবীজী (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি দৈনিক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

৩. হযরত মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রাযি)-এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সূরা ইয়াসীন কুরআনের হৃৎপিণ্ড। এ হাদীসে আরও আছে, যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসীন আল্লাহ্ ও পরকালের কল্যাণ লাভের নিয়তে পাঠ করে, তার মাগফিরাত হয়ে যায়। তোমরা তোমাদের মৃতদের উপর এ সূরা পাঠ কর।

৪. এ সূরার নাম যেমন সূরা ইয়াসীন প্রসিদ্ধ, তেমন এক হাদীসে এর নাম ’আযীমা’ ও বর্ণিত আছে। অপর এক হাদীসে বর্ণিত রয়েছে যে, তাওরাতে এ সূরার নাম ’মুয়িম্মাহ্’ বলে উল্লিখিত আছে। অর্থাৎ এ সূরা তার পাঠকের জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও বরকত ব্যাপক করে দেয়। এ সূরার পাঠকের নাম ’শরীফ’ বর্ণিত আছে। আরও বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন এর সুপারিশ ‘রবীয়া’ গোত্র অপেক্ষা অধিকসংখ্যক লোকের জন্য কবুল হবে। কতক বর্ণনায় এর নাম ‘মুদাফিয়াও’ বর্ণিত আছে। অর্থাৎ এ সূরা তার পাঠকদের থেকে বালা-মুসিবত দূর করে। কতক বর্ণনায় এর নাম ’কাযিয়া’-ও উল্লিখিত হয়েছে অর্থাৎ এ সূরা পাঠকের প্রয়োজন মিটায়।

৫. হযরত আবু যর (রাযি) বর্ণনা করেন, মরণোন্মুখ ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসীন পাঠ করা হলে তার মৃত্যু সহজ হয়।

৬. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাযি) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি সূরা ইয়াসীন অভাব-অনটনের বেলায় পাঠ করে তবে তার অভাব পূরণ হয়ে যায়।

৭. ইয়াহ্ইয়া ইবনে কাসীর বলেন, যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসীন পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে স্বস্তিতে থাকবে এবং যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে। তিনি আরও বলেন, আমাকে এ বিষয়টি এমন এক ব্যক্তি বলেছেন, যিনি এর বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং: ২৫৭৪
আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ৬৭৪
রূহুল মা’আনী, মাযহারী, মা‘আরেফুল কুরআন
রূহুল মা’আনী, মা‘আরেফুল কুরআন
মাযহারী, মা‘আরেফুল কুরআন
মাযহারী, মা‘আরেফুল কুরআন
মাযহারী, মা‘আরেফুল কুরআন

২৩

ঘুম থেকে উঠে এই দু‘আ পড়বে-৪

﴿اِنَّ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ وَاخْتِلَافِ الَّيْلِ وَالنَّھَارِ لَاٰيٰتٍ لِّاُولِي الْاَلْبَابِ ١٩٠؁ڌالَّذِيْنَ يَذْكُرُوْنَ اللّٰهَ قِيٰمًا وَّقُعُوْدًا وَّعَلٰي جُنُوْبِھِمْ وَيَتَفَكَّرُوْنَ فِيْ خَلْقِ السَّمٰوٰتِ وَالْاَرْضِ ۚ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هٰذَا بَاطِلًا ۚ سُبْحٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ١٩١؁رَبَّنَآ اِنَّكَ مَنْ تُدْخِلِ النَّارَ فَقَدْ اَخْزَيْتَهٗ ۭ وَمَا لِلظّٰلِمِيْنَ مِنْ اَنْصَارٍ ١٩٢؁رَبَّنَآ اِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يُّنَادِيْ لِلْاِيْمَانِ اَنْ اٰمِنُوْا بِرَبِّكُمْ فَاٰمَنَّاڰ رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوْبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّاٰتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْاَبْرَارِ ١٩٣؁ۚرَبَّنَا وَاٰتِنَا مَا وَعَدْتَّنَا عَلٰي رُسُلِكَ وَلَا تُخْزِنَا يَوْمَ الْقِيٰمَةِ ۭاِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ ١٩٤؁فَاسْتَجَابَ لَھُمْ رَبُّھُمْ اَنِّىْ لَآ اُضِيْعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِّنْكُمْ مِّنْ ذَكَرٍ اَوْ اُنْثٰى ۚ بَعْضُكُمْ مِّنْۢ بَعْضٍ ۚ فَالَّذِيْنَ ھَاجَرُوْا وَاُخْرِجُوْا مِنْ دِيَارِھِمْ وَاُوْذُوْا فِيْ سَبِيْلِيْ وَقٰتَلُوْا وَقُتِلُوْا لَاُكَفِّرَنَّ عَنْھُمْ سَيِّاٰتِھِمْ وَلَاُدْخِلَنَّھُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِھَا الْاَنْھٰرُ ۚ ثَوَابًا مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ۭوَاللّٰهُ عِنْدَهٗ حُسْنُ الثَّوَابِ ١٩٥؁لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا فِي الْبِلَادِ ١٩٦؁ۭ مَتَاعٌ قَلِيْلٌ ۣ ثُمَّ مَاْوٰىھُمْ جَهَنَّمُ ۭوَبِئْسَ الْمِھَادُ ١٩٧؁لٰكِنِ الَّذِيْنَ اتَّقَوْا رَبَّھُمْ لَھُمْ جَنّٰتٌ تَجْرِيْ مِنْ تَحْتِھَا الْاَنْھٰرُ خٰلِدِيْنَ فِيْھَا نُزُلًا مِّنْ عِنْدِ اللّٰهِ ۭ وَمَا عِنْدَ اللّٰهِ خَيْرٌ لِّلْاَبْرَارِ ١٩٨؁وَاِنَّ مِنْ اَھْلِ الْكِتٰبِ لَمَنْ يُّؤْمِنُ بِاللّٰهِ وَمَآ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ وَمَآ اُنْزِلَ اِلَيْھِمْ خٰشِعِيْنَ لِلّٰهِ ۙ لَا يَشْتَرُوْنَ بِاٰيٰتِ اللّٰهِ ثَـمَنًا قَلِيْلًا ۭ اُولٰۗىِٕكَ لَھُمْ اَجْرُھُمْ عِنْدَ رَبِّھِمْ ۭ اِنَّ اللّٰهَ سَرِيْعُ الْحِسَابِ ١٩٩؁يٰٓاَيُّھَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا ۣوَاتَّقُوا اللّٰهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ ٢٠٠؁ۧ﴾
উচ্চারণ

(ইন্না ফী খলকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়াখতিলা-ফিল লাইলি ওয়ান্নাহা-রি লাআয়া-তিল্ লিউলিল্ আলবা-ব। আল্লাযীনা ইয়াযকুরূনাল্লাহা কিয়া-মাও ওয়াকু‘উদাঁও ওয়া‘আলা জুনূবিহিম ওয়াইয়াতাফাক্কারূনা ফী খলকিস্ সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, রববানা মা খালাকতা হাযা বা-তিলান, সুবহানাকা ফাকিনা ‘আযা-বান্ নার। রববানা ইন্নাকা মান তুদখিলিন্ না-রা ফাকাদ আখযাইতাহু, ওয়ামা লিয্যালিমীনা মিন আনসা-র। রববানা ইন্নানা সামি‘না মুনাদিইয়াইয়্যুনা-দী লিলঈমানি আন্ আ-মিনু বিরব্বিকুম ফাআ--মান্না। রব্বানা ফাগফির লানা যুনূবানা ওয়াকাফফির ‘আন্না সায়্যিআ-তিনা ওয়া তাওয়াফ্‌ফানা মা‘আল আবরা-র। রববানা ওয়া আতিনা মা ওয়া‘আদতানা ‘আলা রুসুলিকা ওয়ালা তুখযিনা ইয়াওমাল কিয়া-মাতি, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী‘আদ। ফাস্তাজাবা লাহুম রববুহুম আন্নী লা উদী‘উ আমালা ‘আমিলিম মিনকুম মিন যাকারিন ওয়া উনসা বা‘দুকুম মিন বা‘দ, ফাল্লাযীনা হা-জারূ ওয়া উখরিজূ মিন দিয়ারিহিম ওয়া ঊ-যূ ফী সাবীলী ওয়া কা-তালু ওয়া কু-তিলু লাউকাফফিরান্না ‘আনহুম সায়্যিআ-তিহিম ওয়ালাউদখিলান্নাহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহ-তিহাল আনহারু, ছাওয়া-বাম্ মিন ‘ইনদিল্লাহি, ওয়াল্লা-হু ইনদাহু হুসনুছ ছাওয়া-ব। লা ইয়াগুররান্নাকা তাকল্লুবুল্লাযীনা কাফারূ ফিল্ বিলা-দ। মাতা‘উন কালীলুন ছুম্মা মা’ওয়াহুম জাহান্নামু ওয়া বি’সাল মিহা-দ। লা-কিনিল্লাযীনাত্তাকাও রববাহুম লাহুম জান্না-তুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খা-লিদ্বীনা ফীহা নুযুলাম্ মিন ইনদিল্লাহি ওয়ামা ইনদাল্লাহি খাইরুল লিল্ আবরার। ওয়াইন্না মিন আহলিল কিতাবি লামইয়ূ’মিনু বিল্লাহি ওয়ামা উনযিলা ইলাইকুম ওয়ামা উনযিলা ইলাইহিম খা-শিঈনা লিল্লা-হি লা ইয়াশতারূনা বিআ-য়া-তিল্লাহি ছামানান্ কালীলা। উলা-ইকা লাহুম আজরুহুম ‘ইনদা রববিহিম। ইন্নাল্লাহা সারী‘উল হিসাব। ইয়া আয়্যুহাল্লাযীনা আমানুসবিরূ ওয়াসা-বিরূ ওয়া রা-বিতু ওয়াত্তাকুল্লাহা লা‘আল্লাকুম তুফলিহুন)।

অর্থ

নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনে নিদর্শনাবলী রয়েছে বোধশক্তি সম্পন্ন লোকদের জন্য। যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহ্‌র স্মরণ করে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্বন্ধে চিন্তা করে, আর বলে, ‘হে আমাদের রব! আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অত্যন্ত পবিত্র, অতএব আপনি আমাদেরকে আগুনের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।’ ‘হে আমাদের রব! আপনি কাউকেও আগুনে নিক্ষেপ করলে তাকে তো আপনি নিশ্চয়ই হেয় করলেন এবং যালেমদের কোন সাহায্যকারী নেই।’ ‘হে আমাদের রব, আমরা এক আহ্বায়ককে ঈমানের দিকে আহ্বান করতে শুনেছি, ‘তোমরা তোমাদের রবের উপর ঈমান আন।’ কাজেই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব! আপনি আমাদের পাপরাশি ক্ষমা করুন, আমাদের মন্দ কাজগুলো দূরীভূত করুন এবং আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের সহগামী করে মৃত্যু দিন। ‘হে আমাদের রব! আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে আমাদেরকে যা দিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা আমাদেরকে দান করুন এবং কেয়ামতের দিন আমাদেরকে হেয় করবেন না। নিশ্চয় আপনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না।’ তারপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বলেন, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের মধ্যে আমলকারী কোনো নর বা নারীর আমল বিফল করি না; তোমরা একে অপরের অংশ। কাজেই যারা হিজরত করেছে, নিজ ঘর থেকে উৎখাত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং যুদ্ধ করেছে ও নিহত হয়েছে আমি তাদের পাপ কাজগুলো অবশ্যই দূর করব এবং অবশ্যই তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতে, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। এটা আল্লাহ্‌র কাছ থেকে পুরস্কার; আর উত্তম পুরস্কার আল্লাহ্‌রই কাছে রয়েছে। যারা কুফরী করেছে, দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই আপনাকে বিভ্রান্ত না করে। এ তো স্বল্পকালীন ভোগ মাত্র; তারপর জাহান্নাম তাদের আবাস; আর ওটা কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল! কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। এ হচ্ছে আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আতিথেয়তা; আর আল্লাহ্‌র কাছে যা আছে তা সৎকর্মপরায়ণদের জন্য উত্তম। আর নিশ্চয় কিতাবীদের মধ্যে এমন লোকও আছে যারা আল্লাহ্‌র প্রতি বিনয়াবনত হয়ে তাঁর প্রতি এবং তিনি যা তোমাদের ও তাদের প্রতি নাযিল করেছেন তাতে ঈমান আনে। তারা আল্লাহ্‌র আয়াত তুচ্ছ মূল্যে বিক্রি করে না। তারাই, যাদের জন্য আল্লাহ্‌র কাছে পুরস্কার রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর, ধৈর্যে প্রতিযোগিতা কর এবং সবসময় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক, আর আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার”

সুরা আলে ইমরান ১৯০-২০০।
মুসলীম - ২৫৬/৪৮৭, বুখারী- ৪২১১/৪৫৬৯
ফযীলত

ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। একদা তিনি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে রাত কাটালেন। (তিনি দেখলেন) আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠলেন এবং বাইরে গিয়ে আকাশের দিকে তাকালেন এর পরে সূরাহ্ আ-লি ইমরানের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন "আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের আবর্তনে জ্ঞানীদের জন্যে বহু নিদর্শন রয়েছে ..... অতএব আপনি অনুগ্রহ করে আমাদেরকে আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন" পর্যন্ত পড়লেন– (সূরাহ্ আ-লি “ইমরান ৩ঃ ১৯০-১৯১)। অতঃপর ঘরে ফিরে এসে মিসওয়াক ও ওযু করলেন। এরপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। সালাত শেষে শুয়ে পড়লেন। পুনরায় কিছুক্ষণ পরে উঠে বাইরে গেলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে উক্ত আয়াতটি পাঠ করলেন। অতঃপর ফিরে এসে (আবার) মিসওয়াক করে ওযু করলেন; অতঃপর ফজরের নামায আদায় করলেন। (সহীহ মুসলীম, হাদীস নং: ২৫৬/৪৮৭; সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৪২১১/৪৫৬৯)

২৪

সূরা আলাম নাশরাহ

أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ (1) وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ (2) الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ (3) وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ (4) فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (5) إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا (6) فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ (7) وَإِلَى رَبِّكَ فَارْغَبْ (8)
উচ্চারণ

১) আলাম নাশরাহলাকা সাদরাক। ২) ওয়া ওয়াদা‘না-‘আনকা বিঝরাক ৩) আল্লাযীআনকাদা জাহরাক। ৪) ওয়া রাফা‘না-লাকা যিকরাক। ৫) ফাইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-। ৬) ইন্না মা‘আল ‘উছরি ইউছরা-। ৭) ফাইযা-ফারাগতা ফানসাব। ৮) ওয়া ইলা- রাব্বিকা ফারগাব।

অর্থ

১) আমি কি আপনার বক্ষ উম্মুক্ত করে দেইনি? ২) আমি লাঘব করেছি আপনার বোঝা, ৩) যা ছিল আপনার জন্যে অতিশয় দুঃসহ। ৪) আমি আপনার আলোচনাকে সমুচ্চ করেছি। ৫) নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। ৬) নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। ৭) অতএব, যখন অবসর পান পরিশ্রম করুন। ৮) এবং আপনার পালনকর্তার প্রতি মনোনিবেশ করুন।

সূরা আলাম নাশরাহ, সূরা - 94
ফযীলত

عن النبي صلى الله عليه وسلم: «من قرأ ألم نشرح، فكأنما جاءني وأنا مغتم ففرج عنى

أخرجه الثعلبي والواحدي وابن مردويه بأسانيدهم إلى أبى بن كعب. ورواه سليم الزهري في البر عنه مرسلا

تفسير الكشاف للزمخشري