দু‘আ

হজ্জ অধ্যায়

২৪টি দু‘আ
১

বাড়ি থেকে বের হওয়ার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إنيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ ، أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ ، أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ ، أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন আদ্বিল্লা, আও উদ্বাল্লা, আও আযিল্লা, আও উযাল্লা, আও আযলিমা, আও উযলামা, আও আজহালা, আও ইয়ুজহালা ‘আলাইয়্যা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই যেন নিজেকে বা অন্যকে পথভ্রষ্ট না করি, অথবা অন্যের দ্বারা পথভ্রষ্ট না হই; আমার নিজের বা অন্যের পদস্খলন না করি, অথবা আমায় যেন পদস্খলন করানো না হয়; আমি যেন নিজের বা অন্যের উপর যুলম না করি অথবা আমার প্রতি যুলম না করা হয়; আমি যেন নিজে মুর্খতা না করি, অথবা আমার উপর মূর্খতা করা না হয়।

সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৯৪; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪২৭; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩৮৮৪
২

সফরের দু‘আ

۞ اَللهُ أَكْبَرْ ، اَللهُ أَكْبَرْ ، اَللهُ أَكْبَرْ،
سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِيْنَ ، وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ ،
اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى ، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى ،
اَللّٰهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهٗ ، اَللّٰهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ ، وَالْخَلِيْفَةُ فِي الْأَهْلِ
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ ، وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন। ওয়াইন্না ইলা রাবিবনা লামুনক্বালিবূন।
আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বিররা ওয়াত্তাক্বওয়া, ওয়ামিনাল আমালি মা-তারদ্বা।
আল্লাহুম্মা হাওওয়িন আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়া আত্বওয়ি আন্না বু‘দাহ।
আল্লাহুম্মা আন্তাস সা-হিবু ফিস সাফারি ওয়ালখালীফাতু ফিল আহলি।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন ওয়া সা-ইস সাফারি, ওয়াকাআবাতিল মানযারি, ওয়াসূ-ইল মুনক্কালাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহলি।

অর্থ

আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
পবিত্র ও মহান যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। ওগো আল্লাহ! নিশ্চয় আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আমাদের এই যাত্রায় পুণ্যকর্ম, সংযমশীলতা এবং তোমার সন্তোষজনক কার্যকলাপ। হে আল্লাহ! আমাদের এ যাত্রাকে আমাদের জন্য সহজ করে দাও। আমাদের থেকে ওর দূরত্ব গুটিয়ে নাও। হে আল্লাহ! তুমিই সফরের সঙ্গী। আর পরিবার-পরিজনের জন্য (আমাদের) প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! সফরের কষ্ট ও ক্লান্তি থেকে, ভয়ংকর দৃশ্য থেকে এবং বাড়ি ফিরে ধন-সম্পদ, পরিবার ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে কোন অপ্রীতিকর দৃশ্য থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

ফযীলত

হযরত ইবনে উমর (রাযি) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) যখন সফরে বেরিয়ে উটের পিঠে স্থির হয়ে বসতেন, তখন তিনবার আল্লাহু আকবার’ পড়ে উপরোক্ত দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৪২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৭; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৫৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ৬০৮৬; সুনানে দারেমী, হাদীস নং: ২৬৭৩

৩

যানবাহনে আরোহণের দু‘আ-১

۞ بِسْمِ اللهِ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِيْنَ ، وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، اَللهُ أَكْبَرُ ، اَللهُ أَكْبَرُ ، اَللهُ أَكْبَرُ ، سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ ، فَإِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহি, সুবহানাল্লাযি সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বলিবুন।
আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী ফাগফিরলী, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ

আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, পবিত্রতা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি এসব কিছুকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করব।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান।

ফযীলত

হযরত আলী ইবনে রাবীআহ (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে আবূ ত্বালেব (রাযি) এর নিকট হাজির ছিলাম। যখন তাঁর নিকট আরোহণ করার উদ্দেশ্যে বাহন আনা হল এবং যখন তিনি বাহনের পাদানে স্বীয় পা রাখলেন তখন ‘বিসমিল্লাহ’ বললেন। অত:পর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন উপরোক্ত দু‘আ পাঠ করলেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৬০২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৬

৪

শহরে প্রবেশের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظْلَلْنَ ، وَرَبَّ الأَرَاضِيْنَ السَّبْعِ وَمَا أَقْلَلْنَ ، وَرَبّْ الشَّيَاطِيْنِ وَمَا أَضْلَلْنَ ، وَرَبَّ الرِّيَاحِ وَمَا ذَرَيْنَ ،
أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيْهَا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা রব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওমা আদলালনা, ওরব্বাল আরাদিনা-স-সাবয়ী ওয়ামা আকলালনা, ওরব্বাশ-শায়াতিনি ওয়ামা আদলালনা ও রব্বার-রিয়াহি ওয়ামা যারাইনা।
আসআলুকা খাইরা হা-যিহিল-করয়াতি ও-খাইরা আহলিহা ও-খাইরা মা ফিহা ও আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া-শাররি আহলিহা ওয়া-শাররি মা ফিহা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি সাত আসমানের এবং তার নীচে যা কিছু আছে তার রব। সাত জমিন এবং সেগুলো যা ধারন করে তার রব। সমস্ত শয়তানগুলো এবং তারা যাদের পথভ্রষ্ট করেছে তাদের রব। বাতাসের এবং বাতাস যা উড়িয়ে নিয়ে যায় তার রব। আমি আপনার নিকট এই গ্রাম এবং এর অধিবাসীদের অকল্যান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং: ১০৩২৫; মুজামুল আওসাত’ হাদীস নং: ৭৫১৬;
৫

সফরকালীন পড়ার দু‘আ

۞ سَمِعَ سَامِعٌ بِحَمْدِ اللهِ وَحُسْنِ بَلَائِهٖ عَلَيْنَا
۞ رَبَّـنَا صَاحِبْنَا وَأَفْضِلْ عَلَيْنَا عَائِذًا بِاللهِ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ

ছামিয়া ছামিয়ুন বিহামদিল্লা-হি ওয়া হুসনি বা-লাইহি আলাইনা
রব্বানা ছাহিবনা ওয়া আফদিল আলাইনা আ-ইযান বিল্লাহি মিনান্নার।

অর্থ

শ্রোতা শ্রবণ করুন আল্লাহর প্রশংসা আমাদের জন্য তার উত্তম দান বখশিশ, কল্যাণ বয়ে এনেছে। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের সঙ্গী হন। আমাদের উপর ফযল ও করম করুন। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নাম থেকে।

ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে থাকতেন, তখন এ দু‘আ পাঠ করতেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭১৮; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৮৬

৬

সফরকারীদের জন্য বাসিন্দাদের দু‘আ-১

۞ أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكَ وَأَمَانَـتَكَ ، وَخَوَاتِيْمَ عَمَلِكَ
۞ أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكِ وَأَمَانَـتَكِ ، وَخَوَاتِيْمَ عَمَلِكِ
۞ أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِينَكُمْ وَأَمَانَـتَكُمْ ، وَخَوَاتِيْمَ عَمَلِكُمْ
উচ্চারণ

একজন পুরুষের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদি-উল্লাহা দিনাকা ও-আমানাতাকা, ও-খাওয়াতিমা আমালিক
একজন মহিলার জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদি-উল্লাহা দিনাকি ও-আমানাতাকি, ও-খাওয়াতিমা আমালিকি
একাধিক পুরুষ/মহিলার জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদি-উল্লাহা দিনাকুম ও-আমানাতাকুম, ও-খাওয়াতিমা আমালিকুম

অর্থ

আমি তোমাদের ধর্ম, বিশ্বস্ততা এবং উত্তম পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সমর্পন করলাম।

সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৬০০; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪২,৩৪৪৩; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ২৮২৬
৭

সফরকারীদের জন্য বাসিন্দাদের দু‘আ-২

۞ زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى ، وَغَفَرَ ذَنْبَكَ ، وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُمَا كُنْتَ
উচ্চারণ

যাউওয়াদাকাল্লা-হুত্ তাক্বওয়া, ওয়াগাফারা যামবাকা, ওয়া ইয়াসসারা লাকাল খাইরা হাইসুমা কুন্ত্।

অর্থ

আল্লাহ তোমাকে তাকওয়া (সংযমশীলতার-পাথেয়) প্রদান করুন, তোমার গোনাহ মাফ করে দিন, তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহ যেন তোমার জন্য কল্যাণ সহজ করে দেন।

ফযীলত

হযরত আনাস (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক নবী (ﷺ) এর নিকট এসে নিবেদন জানাল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যাব, সুতরাং আমাকে পাথেয় দিন। তিনি উত্তরে এই দু‘আ দিলেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৪

৮

সফরকারীদের জন্য বাসিন্দাদের দু‘আ-৩

۞ اَللّٰهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبُعْدَ، وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাত্ববি লাহুল বু’দা ওয়াহাওবিন আলাইহিস সাফার।

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি তার পথের দূরত্ব গুটিয়ে দিয়ো এবং তার জন্য সফর আসান করে দিয়ো।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরাইরা (রাযি) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইচ্ছা করেছি সফরে যাব আমাকে উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ-ভীতি অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে নিয়মিত ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ো।” যখন লোকটা পিছন ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি তার জন্য এই দু‘আ করলেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৫

৯

বাসিন্দাদের জন্য সফরকারীদের দু‘আ

۞ أَسْتَوْدِعُكَ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
۞ أَسْتَوْدِعُكِ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
۞ أَسْتَوْدِعُكُمُ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
উচ্চারণ

একজন পুরুষের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকাল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ।
একজন মহিলার জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকিল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ।
গোষ্ঠীর লোকেদের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকুমুল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ

অর্থ

আল্লাহর উপর ভরসা করে তোমাদেরকে রাখলাম। যার উপর ভরসা করলে কখনো বিফলে যাবে না।

সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ২৮২৫
১০

তালবিয়া

ইহরাম অবস্থায় ‘তালবিয়া’ পাঠ করতে হয়।
তালবিয়ার বাক্যগুলো এরূপ:-
۞ لَبَّيْكَ اَللّٰهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لاَ شَرِيْكَ لَكَ
উচ্চারণ

লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'মাতা লাকা ওয়াল মুলক লা-শারীকা লাক।

অর্থ

আমি উপস্থিত, হে আল্লাহ্! আমি উপস্থিত; আমি উপস্থিত, তোমার কোন শরীক নেই, আমি উপস্থিত; নিশ্চয় সব প্রশংসা এবং অশেষ অনুগ্রহ এবং আধিপত্যের তুমিই মালিক তোমার কোন অংশীদার নেই।

ফযীলত

ইহরাম, হজ্জ ও উমরাহর জন্য তালবিয়া পাঠ করা একান্ত জরুরী। হজ্জে ৩টি ফরযের এটা অন্যতম।
বি:দ্র: মসজিদে হারামে প্রবেশের পূর্বে তালবিয়া বলা বন্ধ করতে হবে।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৫৪৯, ১৫৫০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১১৮৪, ১২১৮; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১৮১২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৮২৫; ৮২৬

১১

হজরে আসওয়াদকে চুমু দিয়ে বা ইশারা করে তাওয়াফ শুরু করার দু‘আ

۞ اَللّٰهُ أَكْبَرْ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবার।

অর্থ

আল্লাহ সবার চেয়ে বড়।

ফযীলত

কাবাঘর তওয়াফ করার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উটের পিঠে সওয়ার হয়ে তার সাহাবী (রাযি) নিয়ে যখনই হজরে আসওয়াদ পাথরের কাছে পৌছতেন তখনই এই দু‘আ বলতেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৬১২-১৬১৩, ১৬৩২

১২

উভয় জগতের কল্যাণ চেয়ে দু‘আ অথবা রোকনে ইয়ামানী এবং হজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানের দু‘আ

۞ رَبَّـنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণ

রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্কিনা আযাবান্নার।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে দান কর দুনিয়ার কল্যাণ এবং আখিরাতেরও কল্যাণ এবং আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।

১৩

সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ে আরোহণের দু‘আ

۞ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللهِ
أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِه
اَللّٰهُ أَكْبَرْ ، اَللّٰهُ أَكْبَرْ ، اَللّٰهُ أَكْبَرْ ،
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ ، أَنْجَزَ وَعْدَهٗ ، وَنَصَرَ عَبْدَهٗ ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهٗ
উচ্চারণ

ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শা‘আইরিল্লাহ।
আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহী।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াহদাহু লা শরীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।

অর্থ

নিশ্চয়ই সাফা-মারওয়া পাহাড় আল্লাহর নিদর্শানাবলীর মধ্য থেকে অন্যতম নিদশর্ন।
আল্লাহ যেভাবে শুরু করেছেন, আমিও সেভাবে শুরু করছি।
আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।
আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তিনি একক। তার কোন শরীক নাই। সকল ক্ষমতা তার এবং সকল প্রশংসার উপযুক্ত তিনিই। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি একক, তিনি তার ওয়াদা পূরন করেন, তার বান্দাদের সাহায্য করেন এবং একাই সম্মিলিত দুশমন বাহিনীকে পরাজিত করেন।

ফযীলত

হযরত জাবির (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সাফা পাহাড়ে আরোহণ করতেন তখন বলতেনঃ
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِاللهِ
أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللهُ بِه
এরপর সাফা পাহাড়ের শীর্ষে আরোহণের পর যখন কাবা শরীফ দেখতে পেতেন তখন বলতেন-
اَللّٰهُ أَكْبَرْ ، اَللّٰهُ أَكْبَرْ ، اَللّٰهُ أَكْبَرْ ،
তারপর তিনি সাফা পাহাড়ে উঠে, কাবামুখী হয়ে নীচের দু‘আ ৩ বার পড়তেন-
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ ، أَنْجَزَ وَعْدَهٗ ، وَنَصَرَ عَبْدَهٗ ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهٗ

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২১৮; সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং: ১৯০৫;
সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং : ৮৬২; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং ৩০৭৪

১৪

যমযমের পানি পান করার দু‘আ

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَسْئَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَّرِزْقًا وَّاسِعًا وَّشِفَاءً مِّنْ كُلِّ دَاءٍ ۞
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ‘ইলমান নাফি‘আও, ওয়া রিযক্বন
ওয়াসি‘আও, ওয়া শিফাআম মিন কুল্লি দাইন।

অর্থ

হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার নিকট উপকারী ইলম এবং প্রশস্ত রিযিক এবং সর্বপ্রকার রোগের শিফা চাচ্ছি।

ফযীলত

মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বকর (র) থেকে বর্ণিত । তিনি বলেন, আমি হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি)-এর নিকট বসা ছিলাম। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এলো। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কোত্থেকে এসেছ? সে বলল, যমযমের নিকট থেকে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, তুমি কি তা থেকে প্রয়োজন মত পান করেছ? সে বলল, কিরুপে? তিনি বললেন, তুমি যখন তা থেকে পান করবে, তখন কিবলামুখী হবে, আল্লাহর নাম স্বরণ করবে, তিনবার নিঃশ্বাস নিবে এবং তৃপ্তি সহকারে পান করবে। পানি পান শেযে তুমি মহামহিম আল্লাহর প্রশংসা করবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমাদের ও মুনাফিকদের মধ্যে নিদর্শন এই যে, তারা তৃপ্তিসহকারে যমযমের পানি পান করে না ।

তথ্যসূত্র: মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ১৭৩৯; দারাকুতনী, হাদীস নং: ২৭১২; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং: ৯১১২

১৫

আরাফার দিনের দু‘আ

۞ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।

অর্থ

আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তিনি একক। তার কোন শরীক নাই। সকল ক্ষমতা তার এবং সকল প্রশংসার উপযুক্ত তিনিই। তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৮৫
১৬

মুজদালিফার দু‘আ

۞ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ لَا شَرِيْكَ لَهٗ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلٰى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهٗ ، أَنْجَزَ وَعْدَهٗ ، وَنَصَرَ عَبْدَهٗ ، وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهٗ
উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ।

ফযীলত

নবী (ﷺ) কিভাবে হজ্ব আদায় করেছেন সে বর্ণনা দিয়ে জাবির (রাযি) যে লম্বা একটা হাদীস বর্ণনা করেছেন তাতে আছে- তিনি সাফা পাহাড় দিয়ে শুরু করেছেন। সাফা পাহাড়ের একেবারে শীর্ষে উঠেছেন যাতে কাবাকে দেখতে পান। এরপর কিবলামুখি হন এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও মহত্বের ঘোষণা দেয়ার পর এই দু‘আ বলেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২১৮

১৭

জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপের দু‘আ

۞ اَللّٰهُ أَكْبَرْ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবর।

অর্থ

আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।

ফযীলত

প্রত্যেকবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তিন জামারাতের যেকোন জামারাতে কংকর তথা পাথর নিক্ষেপ করতেন তখন বলতেন-
اَللّٰهُ أَكْبَرْ প্রথম জামরাত শেষ হওয়ার পর তিনি একটু উচু কিবলার সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়ে তার হাত উত্থাপিত করতেন এবং দু‘আ করতেন। তিনি একই কাজ দ্বিতীয় জামরাতে কংকর নিক্ষেপের সময়েও করতেন। কিন্তু তৃতীয়বার করতেন না।
বি:দ্র: জামরাত হচ্ছে মিনায় পাথর মারার জন্য নির্ধারিত স্থান। এখানে হাজিদের নিয়ম মতো পাথর মারতে হয়। যখন হযরত ইব্রাহীম (আ.) হযরত ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানির জন্য নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন শয়তান এ জায়গায় তাঁকে বিরত রাখার জন্য ওয়াসওয়াসা দিয়ে বাধা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। সেই ঘটনা স্মরণ করে এখানে পাথর মারা হয়।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৭৫১

১৮

জবাই করার দু‘আ

۞ بِسْمِ اللهِ وَاللهُ أَكْبَرْ ، اَللّٰهُمَّ هَذَا مِنْكَ وَلَكَ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা হা-জা মিনকা ওয়া-লাক।

অর্থ

শুরু করছি আল্লাহর নামে, এবং আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। হে আল্লাহ, এটি আপনার থেকে এবং আপনার জন্যে।

সুনানে দারিমী, হাদীস নং: ১৯৮৮
১৯

৯ই যিলহজ্ব এর দু‘আ (তাকবীরে তাশরীক)

۞ اَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ. لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ . وَللهُ أَكْبَرْ اَللهُ أَكْبَرْ. وَ لِلّٰهِ الْحَمْدُ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।

অর্থ

আল্লাহ মহান! আল্লাহ মহান! আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, এবং আল্লাহ মহান, আল্লাহ মহান। এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং: ১৭১৯; আদ্দুররুল মুখতার: ২/১৭৭,১৮০
২০

হজরে আসওয়াদ এবং মাকামে ইবরাহীমের মাঝের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ قَنِّعْنِيْ بِمَا رَزَقْتَنِيْ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْهِ، وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ لِّيْ بِخَيْرٍ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা কান্নি‘নী বিমা রাযাকতানী, ওয়াবারিকলী ফীহি, ওয়াখলুফ আলাইয়া কুল্লা গা-ইবাতিন লী বিখাইরিন।

অর্থ

হে প্রভু! তুমি যে রিযিক (জীবিকা) আমাকে দান করেছ, তাতেই আমাকে তুষ্ট রাখ। এবং উহাতে বরকত দান কর। এবং আমার প্রতিটি অনুপস্থিত বিষয়ক তুমি মঙ্গলের সহিত রক্ষণাবেক্ষণ কর।

আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৬৮৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ৩০২৪৮
ফযীলত

এই বরকতময় দুআতে বান্দার কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া যেকোনো কল্যাণের পরিবর্তে আল্লাহর কাছে তার চেয়ে উত্তম কিছু প্রার্থনা করা হয়েছে। এর মধ্যে নিজের বিষয়গুলো আল্লাহর কাছে সোপর্দ করার শিক্ষা রয়েছে, যাতে মানুষ দুঃখ, অনুশোচনা ও আফসোসে নিজেকে ব্যস্ত না রাখে।

তথ্যসূত্র: তুহফাতুয যাকিরীন, পৃষ্ঠা ২৪২; আওরাদুয যাকিরীন, পৃষ্ঠা ২১০।

২১

রাসূল (ﷺ) এর রওজা পাকের সামনে দাঁড়িয়ে সালাম বলা

۞ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ
۞ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا حَبِيْبَ اللهِ
۞ اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ يَا نَبِىَّ اللهِ
উচ্চারণ

আসসালামু ‘আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ।
আসসালামু ‘আলাইকা ইয়া হাবীবাল্লাহ।
আসসালামু ‘আলাইকা ইয়া নাবিয়্যাল্লাহ।

অর্থ

হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উপর সালাম।
হে আল্লাহর হাবীব! আপনার উপর সালাম।
হে আল্লাহর নবী! আপনার উপর সালাম।
বি:দ্র: পারলে এ জাতীয় আরও বাক্য যোগ করা যায়। না পারলে বা বেশী সময় না পেলে যতটুকু সম্ভব বলবে, অন্তত প্রথম বাক্যটা বলবে।

ইরশাদুস সারি ইলা মানাসিকিল মুল্লা আলী কারী, পৃ.৩৩৮
২২

বাইতুল্লাহ থেকে বিদায় নেয়ার সময় দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ لَا تَجْعَلْ هٰذَا اَۤخِرَ الْعَهْدِ بِبَيْتِكَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা লা তাজ‘আল হাযা আ-খিরাল আহদি বিবাইতিক।

অর্থ

হে আল্লাহ, তোমার ঘরের এই (সফর) শেষ বিদায় যেন না হয়।

ইতহাফুস সাদাতিল মুতকীন শরহে ইহয়াউু উলুমুদ্দীন: ৪/৪১৪
২৩

চিন্তামুক্ত সফরের দু‘আ

۞ رَبِّ اَدْخِـلْـنِـىْ مُـدْخَـلَ صِـدْقٍ وَّاَخْـرِجْـنِـىْ مُـخْـرَجَ صِـدْقٍ وَّاجْـعَـلْ لِّـىْ مِـنْ لَّدُنْـكَ سُلْطَانًا نَصِيْرًا
উচ্চারণ

রাব্বি আদ্‌খিল্‌নি মুদ্‌খালা সিদক্বিও ওয়া আখ্‌রিযনি মুখ্‌রাজা সিদ্‌কিও ওয়াজা’আল্লি মিল্লাদুন্‌কা সুল্‌তা-নান্ন নাসি-রা।

অর্থ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্ত বাহির করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান করো সাহায্যকারী শক্তি।

সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত নং: ৮০
ফযীলত

এ দু‘আ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেখানো হয়েছে, যেন তিনি আরজ করছেন, হিজরত করে আমার মদীনায় গমন যেন হয় বরকতের কারণ। হিজরত করে মক্কা ত্যাগও হয় সৌভাগ্যের সূচনা। ‘সিদক’ তথা ইখলাস ও কামিয়াবি যেন হয় আমার সঙ্গী। আর আপন খাস রহমত ও নুসরত দ্বারা সর্বাবস্থায় আমাকে অবিচল রাখুন।

২৪

আল-মাশআর আল-হারামের সন্নিকটে দোয়া করা

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ.
উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ।

অর্থ

নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতীত। তাঁর শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য। প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতীত। তিনি প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল দলকে পরাজিত করেছেন।

সহিহ মুসলিম, হাদীস নং: ১২১৮
ফযীলত

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে হজ্ব আদায় করেছেন সে বর্ণনা দিয়ে জাবির (রাঃ) যে লম্বা একটা হাদিস বর্ণনা করেছেন তাতে আছে- তিনি সাফা পাহাড় দিয়ে শুরু করেছেন। সাফা পাহাড়ের একেবারে শীর্ষে উঠেছেন যাতে কাবাকে দেখতে পান। এরপর কিবলামুখি হন এবং আল্লাহর একত্ববাদ ও মহত্বের ঘোষণা দিয়ে বলেন:

لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الأَحْزَابَ وَحْدَهُ.

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহ। লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদা, আনজাযা ওয়াদাহ, ওয়া নাসারা আবদাহ, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদা।

অর্থ- “নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতীত। তাঁর শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর জন্য। প্রশংসা তাঁর জন্য। তিনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান। নেই কোন উপাস্য এক আল্লাহ ব্যতীত। তিনি প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সকল দলকে পরাজিত করেছেন। এরপর তিনি দোয়া করেন। এভাবে তিনবার বলেছেন।”

তথ্যসূত্র: [সহিহ মুসলিম (১২১৮)]