দু‘আ

সফর অধ্যায়

১৮টি দু‘আ
১

ঘর থেকে বের হওয়ার দু‘আ-১

۞ بِسْمِ اللهِ تَوَكَّلْتُ عَلَى اللهِ. لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ اِلَّا بِاللهِ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু ‘আলাল্লাহি, লা হাউলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

অর্থ

আল্লাহ তা‘আলার নামে (বের হলাম), আমি আল্লাহ তা‘আলার উপর ভরসা করলাম। আল্লাহর তাওফিক ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা কোনো নেক কাজ করা সম্ভব নয়।

সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং: ৫০৯৫; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪২৬
ফযীলত

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় এ দু‘আটি পাঠ করে তাকে (ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে) বলা হয় তুমি যথেষ্ট করে নিলে, বেঁচে গেলে, তোমার থেকে শয়তান দুর হয়ে গেল।
সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং :৩৪২৬

২

উপরে ওঠার সময় পড়বে

۞ اَللّٰهُ اَكْبَرْ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবার।

অর্থ

আল্লাহ সবচেয়ে বড়।

ফযীলত

হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে সফর করতাম। আমরা যখন উপরে আরোহণ করতাম তখন اَللّٰهُ اَكْبَرْ আর যখন নীচে অবতরণ করতাম তখন سُبْحَانَ اللّٰهِ বলতাম।

তথ্যসূত্র: মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৪০৪২

৩

নীচে নামার সময় পড়বে

۞ سُبْحَانَ اللّٰهِ
উচ্চারণ

সুব্‌হানাল্লাহ।

অর্থ

আমি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করছি।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ২৯৯৩
৪

বাড়ি থেকে বের হওয়ার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ إنيْ أَعُوْذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ ، أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ ، أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ ، أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা আন আদ্বিল্লা, আও উদ্বাল্লা, আও আযিল্লা, আও উযাল্লা, আও আযলিমা, আও উযলামা, আও আজহালা, আও ইয়ুজহালা ‘আলাইয়্যা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই যেন নিজেকে বা অন্যকে পথভ্রষ্ট না করি, অথবা অন্যের দ্বারা পথভ্রষ্ট না হই; আমার নিজের বা অন্যের পদস্খলন না করি, অথবা আমায় যেন পদস্খলন করানো না হয়; আমি যেন নিজের বা অন্যের উপর যুলম না করি অথবা আমার প্রতি যুলম না করা হয়; আমি যেন নিজে মুর্খতা না করি, অথবা আমার উপর মূর্খতা করা না হয়।

সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৯৪; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪২৭; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩৮৮৪
৫

সফরের দু‘আ

۞ اَللهُ أَكْبَرْ ، اَللهُ أَكْبَرْ ، اَللهُ أَكْبَرْ،
سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِيْنَ ، وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ ،
اَللّٰهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ فِي سَفَرِنَا هَذَا الْبِرَّ وَالتَّقْوَى ، وَمِنَ الْعَمَلِ مَا تَرْضَى ،
اَللّٰهُمَّ هَوِّنْ عَلَيْنَا سَفَرَنَا هَذَا وَاطْوِ عَنَّا بُعْدَهٗ ، اَللّٰهُمَّ أَنْتَ الصَّاحِبُ فِي السَّفَرِ ، وَالْخَلِيْفَةُ فِي الْأَهْلِ
اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ وَعْثَاءِ السَّفَرِ ، وَكَآبَةِ الْمَنْظَرِ، وَسُوْءِ الْمُنْقَلَبِ فِي الْمَالِ وَالْأَهْلِ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হা-যা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন। ওয়াইন্না ইলা রাবিবনা লামুনক্বালিবূন।
আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হা-যাল বিররা ওয়াত্তাক্বওয়া, ওয়ামিনাল আমালি মা-তারদ্বা।
আল্লাহুম্মা হাওওয়িন আলাইনা সাফারানা হা-যা ওয়া আত্বওয়ি আন্না বু‘দাহ।
আল্লাহুম্মা আন্তাস সা-হিবু ফিস সাফারি ওয়ালখালীফাতু ফিল আহলি।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আঊযুবিকা মিন ওয়া সা-ইস সাফারি, ওয়াকাআবাতিল মানযারি, ওয়াসূ-ইল মুনক্কালাবি ফিল মা-লি ওয়াল আহলি।

অর্থ

আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
পবিত্র ও মহান যিনি একে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। যদিও আমরা একে বশীভূত করতে সমর্থ ছিলাম না। অবশ্যই আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। ওগো আল্লাহ! নিশ্চয় আমরা তোমার কাছে প্রার্থনা করছি আমাদের এই যাত্রায় পুণ্যকর্ম, সংযমশীলতা এবং তোমার সন্তোষজনক কার্যকলাপ। হে আল্লাহ! আমাদের এ যাত্রাকে আমাদের জন্য সহজ করে দাও। আমাদের থেকে ওর দূরত্ব গুটিয়ে নাও। হে আল্লাহ! তুমিই সফরের সঙ্গী। আর পরিবার-পরিজনের জন্য (আমাদের) প্রতিনিধি। হে আল্লাহ! সফরের কষ্ট ও ক্লান্তি থেকে, ভয়ংকর দৃশ্য থেকে এবং বাড়ি ফিরে ধন-সম্পদ, পরিবার ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে কোন অপ্রীতিকর দৃশ্য থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

ফযীলত

হযরত ইবনে উমর (রাযি) হতে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) যখন সফরে বেরিয়ে উটের পিঠে স্থির হয়ে বসতেন, তখন তিনবার আল্লাহু আকবার’ পড়ে উপরোক্ত দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৩৪২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৭; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৫৯৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ৬০৮৬; সুনানে দারেমী, হাদীস নং: ২৬৭৩

৬

যানবাহনে আরোহণের দু‘আ-১

۞ بِسْمِ اللهِ اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، سُبْحَانَ الَّذِيْ سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِيْنَ ، وَإِنَّا إِلٰى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ ، اَللهُ أَكْبَرُ ، اَللهُ أَكْبَرُ ، اَللهُ أَكْبَرُ ، سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ فَاغْفِرْ لِيْ ، فَإِنَّهٗ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহ আলহামদুলিল্লাহি, সুবহানাল্লাযি সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুক্বরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বলিবুন।
আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।
সুবহানাকাল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী ফাগফিরলী, ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ

আল্লাহর নামে শুরু করছি। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, পবিত্রতা ঘোষণা করছি সেই সত্তার, যিনি এসব কিছুকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছেন। নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করব।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, আল্লাহ সর্বশক্তিমান।

ফযীলত

হযরত আলী ইবনে রাবীআহ (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আলী ইবনে আবূ ত্বালেব (রাযি) এর নিকট হাজির ছিলাম। যখন তাঁর নিকট আরোহণ করার উদ্দেশ্যে বাহন আনা হল এবং যখন তিনি বাহনের পাদানে স্বীয় পা রাখলেন তখন ‘বিসমিল্লাহ’ বললেন। অত:পর যখন তার পিঠে স্থির হয়ে সোজাভাবে বসলেন তখন উপরোক্ত দু‘আ পাঠ করলেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৬০২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৬

৭

নৌযান ও উড়োজাহাজে আরোহণের দু‘আ-২

۞ بِسْمِ اللهِ مَجْرٖهَا وَمُرْسَاهَا. اِنَّ رَبِّـيْ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
وَمَا قَدَرُوْا اللهَ حَقَّ قَدْرِهٖ وَالْاَرْضُ جَمِيْعًا قَبْضَتُهٗ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمٰوٰتُ مَطْوِيَّاتُٗ بِيَمِيْنِهٖ سُبْحَانَهٗ وَتَعَالٰى عَمَّا يُشْرِكُوْنَ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি মাজরেহা ওয়া মুরসাহা ইন্না রব্বী লাগাফূরুর রহীম। ওয়ামা ক্বদারুল্লাহা হাক্কা ক্বদরিহী ওয়াল আরযু জামী-‘আন ক্ববযতুহূ ইয়াউমাল ক্বিয়ামাহ, ওয়াস সামাওয়াতু মাত্ববিয়্যাতুম বিইয়ামীনিহ, সুবহানাহু ওয়াতা ‘আালা ‘আম্মা ইয়ুশরিকূন।

অর্থ

আল্লাহ তা‘আলার নামেই এর চলা ও অবস্থান করা। নিশ্চয় আমার প্রতিপালক অত্যন্ত ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু। তারা আল্লাহর যথোচিত সম্মান করে নাই। কিয়ামতের দিন সমস্ত পৃথিবী তাঁর হাতের মুষ্টিতে থাকবে এবং আকাশমণ্ডলী থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তাঁর ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি। তাদের শিরক থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।

সূরা হুদ, আয়াত নং: ৪১; সূরা যুমার, আয়াত নং: ৬৭; ত্ববারানী, হাদীস নং: ৬১৩৮; আল আযকার, হাদীস নং: ৫৩৫
৮

শহরে প্রবেশের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظْلَلْنَ ، وَرَبَّ الأَرَاضِيْنَ السَّبْعِ وَمَا أَقْلَلْنَ ، وَرَبّْ الشَّيَاطِيْنِ وَمَا أَضْلَلْنَ ، وَرَبَّ الرِّيَاحِ وَمَا ذَرَيْنَ ،
أَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ الْقَرْيَةِ وَخَيْرَ أَهْلِهَا وَخَيْرَ مَا فِيْهَا ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ أَهْلِهَا وَشَرِّ مَا فِيْهَا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা রব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওমা আদলালনা, ওরব্বাল আরাদিনা-স-সাবয়ী ওয়ামা আকলালনা, ওরব্বাশ-শায়াতিনি ওয়ামা আদলালনা ও রব্বার-রিয়াহি ওয়ামা যারাইনা।
আসআলুকা খাইরা হা-যিহিল-করয়াতি ও-খাইরা আহলিহা ও-খাইরা মা ফিহা ও আউজুবিকা মিন শাররিহা ওয়া-শাররি আহলিহা ওয়া-শাররি মা ফিহা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি সাত আসমানের এবং তার নীচে যা কিছু আছে তার রব। সাত জমিন এবং সেগুলো যা ধারন করে তার রব। সমস্ত শয়তানগুলো এবং তারা যাদের পথভ্রষ্ট করেছে তাদের রব। বাতাসের এবং বাতাস যা উড়িয়ে নিয়ে যায় তার রব। আমি আপনার নিকট এই গ্রাম এবং এর অধিবাসীদের অকল্যান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সুনানে বাইহাকী, হাদীস নং: ১০৩২৫; মুজামুল আওসাত’ হাদীস নং: ৭৫১৬;
৯

সফর অবস্থায় কোন গ্রাম বা মহল্লায় প্রবেশকালের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيْهَا
অতঃপর-
۞ اَللّٰهُمَّ ارْزُقْنَا جَنَاهَا وَحَبِّبْنَا اِلٰی اَهْلِهَا وَحَبِّبْ صَالِحِىْ اَهْلِهَا اِلَيْنَا
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী হা। (এরপর পড়বে) - আল্লাহুম্মার যুক্বনা জানাহা ওয়া হাব্বিবনা ইলা আহলিহা ওয়া হাব্বিব সালিহী আহলিহা ইলাইনা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য এ এলাকার (কল্যাণ) দান করুন এবং তাদের অন্তরে আমাদের প্রতি মহব্বত সৃষ্টি করে দিন এবং এর নেককার অধিবাসীদের প্রতি আমাদের অন্তরে মহব্বত দান করুন।

মা'আরিফুল হাদীস, হাদীস নং: ১২১৮; ত্ববারানী আউসাত, হাদীস নং: ৪৭৫৫
১০

সফরকালীন পড়ার দু‘আ

۞ سَمِعَ سَامِعٌ بِحَمْدِ اللهِ وَحُسْنِ بَلَائِهٖ عَلَيْنَا
۞ رَبَّـنَا صَاحِبْنَا وَأَفْضِلْ عَلَيْنَا عَائِذًا بِاللهِ مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ

ছামিয়া ছামিয়ুন বিহামদিল্লা-হি ওয়া হুসনি বা-লাইহি আলাইনা
রব্বানা ছাহিবনা ওয়া আফদিল আলাইনা আ-ইযান বিল্লাহি মিনান্নার।

অর্থ

শ্রোতা শ্রবণ করুন আল্লাহর প্রশংসা আমাদের জন্য তার উত্তম দান বখশিশ, কল্যাণ বয়ে এনেছে। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের সঙ্গী হন। আমাদের উপর ফযল ও করম করুন। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নাম থেকে।

ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সফরে থাকতেন, তখন এ দু‘আ পাঠ করতেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭১৮; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৮৬

১১

সূরা কাফিরুন, নাসর, ইখলাস, ফালাক্ব, ও নাস এর আমল

ফযীলত

হযরত জুবায়ের ইবনে মুতঈম (রাযি) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, হে জুবায়ের! তুমি কি এটা পছন্দ কর যে, যখন তুমি সফরে যাও তখন তোমার অবস্থা তোমার সকল সঙ্গীগন অপেক্ষা উত্তম ও তোমার পাথেয় সর্বাপেক্ষা বেশি হয়? আমি বলিলাম, জি হ্যাঁ। আমার পিতামাতা আপনার উপর কোরবান হউক! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এই পাঁচটি সূরা পাঠ করিও।
হযরত জুবায়ের (রাযি) বলেন, আমি ধনী হওয়া সত্ত্বেও পূর্বে যখন সফরে যেতাম তখন আমার অবস্থা সর্বাপেক্ষা ভগ্নাবস্থা এবং আমার পাথেয় সর্বাপেক্ষা কম হত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমাকে এই সূরাগুলি শিক্ষা দিলেন তখন থেকে আমি এটা পড়তে আরম্ভ করলাম, আর এর কারণে বাড়ি ফিরা পর্যন্ত সম্পূর্ন সফরে আমার অবস্থা সর্বাপেক্ষা উত্তম হতে লাগল এবং আমার পাথেয় সর্বাপেক্ষা বেশি হতে লাগল।

তথ্যসূত্র: হায়াতুস সাহাবা, পঞ্চম খন্ড, পৃষ্টা নং: ৫০

১২

সফর থেকে প্রত্যাবর্তনের দু‘আ

۞ اٰئِـبُوْنَ تَائِبُوْنَ عَا بِدُوْنَ لِرَبِّنَا حَامِدُوْنَ
উচ্চারণ

আাইবূনা তাইবূনা লিরব্বিনা হামিদূন।

অর্থ

আমরা এখন সফর হতে প্রত্যাবর্তন করছি। (নিজেদের গুনাহ হতে) তওবা করছি, (আল্লাহ পাকের) ইবাদতের ইরাদা করছি এবং আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসা করছি।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ১৭৯৭; মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং: ২১৯৭
১৩

সফরকারীদের জন্য বাসিন্দাদের দু‘আ-১

۞ أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكَ وَأَمَانَـتَكَ ، وَخَوَاتِيْمَ عَمَلِكَ
۞ أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكِ وَأَمَانَـتَكِ ، وَخَوَاتِيْمَ عَمَلِكِ
۞ أَسْتَوْدِعُ اللهَ دِينَكُمْ وَأَمَانَـتَكُمْ ، وَخَوَاتِيْمَ عَمَلِكُمْ
উচ্চারণ

একজন পুরুষের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদি-উল্লাহা দিনাকা ও-আমানাতাকা, ও-খাওয়াতিমা আমালিক
একজন মহিলার জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদি-উল্লাহা দিনাকি ও-আমানাতাকি, ও-খাওয়াতিমা আমালিকি
একাধিক পুরুষ/মহিলার জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদি-উল্লাহা দিনাকুম ও-আমানাতাকুম, ও-খাওয়াতিমা আমালিকুম

অর্থ

আমি তোমাদের ধর্ম, বিশ্বস্ততা এবং উত্তম পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহর নিকট সমর্পন করলাম।

সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ২৬০০; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪২,৩৪৪৩; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ২৮২৬
১৪

সফরকারীদের জন্য বাসিন্দাদের দু‘আ-২

۞ زَوَّدَكَ اللهُ التَّقْوَى ، وَغَفَرَ ذَنْبَكَ ، وَيَسَّرَ لَكَ الْخَيْرَ حَيْثُمَا كُنْتَ
উচ্চারণ

যাউওয়াদাকাল্লা-হুত্ তাক্বওয়া, ওয়াগাফারা যামবাকা, ওয়া ইয়াসসারা লাকাল খাইরা হাইসুমা কুন্ত্।

অর্থ

আল্লাহ তোমাকে তাকওয়া (সংযমশীলতার-পাথেয়) প্রদান করুন, তোমার গোনাহ মাফ করে দিন, তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহ যেন তোমার জন্য কল্যাণ সহজ করে দেন।

ফযীলত

হযরত আনাস (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি লোক নবী (ﷺ) এর নিকট এসে নিবেদন জানাল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি সফরে যাব, সুতরাং আমাকে পাথেয় দিন। তিনি উত্তরে এই দু‘আ দিলেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৪

১৫

সফরকারীদের জন্য বাসিন্দাদের দু‘আ-৩

۞ اَللّٰهُمَّ اطْوِ لَهُ الْبُعْدَ، وَهَوِّنْ عَلَيْهِ السَّفَرَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাত্ববি লাহুল বু’দা ওয়াহাওবিন আলাইহিস সাফার।

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি তার পথের দূরত্ব গুটিয়ে দিয়ো এবং তার জন্য সফর আসান করে দিয়ো।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরাইরা (রাযি) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইচ্ছা করেছি সফরে যাব আমাকে উপদেশ দিন।’ তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ-ভীতি অবলম্বন করো এবং প্রত্যেক উঁচু স্থানে নিয়মিত ‘আল্লাহু আকবার’ পড়ো।” যখন লোকটা পিছন ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি তার জন্য এই দু‘আ করলেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪৫

১৬

বাসিন্দাদের জন্য সফরকারীদের দু‘আ

۞ أَسْتَوْدِعُكَ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
۞ أَسْتَوْدِعُكِ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
۞ أَسْتَوْدِعُكُمُ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
উচ্চারণ

একজন পুরুষের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকাল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ।
একজন মহিলার জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকিল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ।
গোষ্ঠীর লোকেদের জন্য, উচ্চারণ: আসতাওদিউকুমুল্লাহাল্লাজি লা তাদিয়ু ওয়া দা-ই-য়ুহ

অর্থ

আল্লাহর উপর ভরসা করে তোমাদেরকে রাখলাম। যার উপর ভরসা করলে কখনো বিফলে যাবে না।

সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ২৮২৫
১৭

বিষাক্ত প্রাণী থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ

আউযুবি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি-মা-খলাক।

অর্থ

আমি আল্লাহ্‌ তা‘আলার সমস্ত (উপকারী ও শেফাদানকারী) কালিমা দ্বারা তার সমস্ত মাখলূকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

ফযীলত

(১) হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারীম (ﷺ) এর খেদমতে হাজির হল এবং আরয করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ, রাত্রে বিচ্ছুর কামড়ে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করলেন, যদি তুমি সন্ধ্যায় এই কালিমাগুলি পড়ে নিতে তবে বিচ্ছু কখনও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারত না।

(২) হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বর্ণনা করেন, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধার সময় তিনবার এই কালিমাগুলি বলবে-- সেই রাত্রে কোন প্রকার বিষ তার ক্ষতি করতে পারবে না। হযরত সুহাইল (রাযি) বলেন, আমাদের পরিবারের লোকেরা এই দু‘আ মুখস্ত করে রেখেছিল। তারা প্রতি রাত্রে তা পড়ে নিতো। এক রাত্রে এক মেয়েকে কোন বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে সে কোন প্রকার কষ্ট অনুভব করে নাই।
ফায়দা
কোন কোন ওলামায়ে কেরাম বলেন, ’আল্লাহ্‌ তা‘আলার সমস্ত কালিমা’ দ্বারা কুরআনে কারীম উদ্দেশ্য।

বি:দ্র: সফর চলাকালে কোথাও যাত্রাবিরতির সময় এই দু‘আ পড়া যায়।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭০৮,২৭০৯; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৬০৪; মেরকাত ৪: ১৬৮২

১৮

চিন্তামুক্ত সফরের দু‘আ

۞ رَبِّ اَدْخِـلْـنِـىْ مُـدْخَـلَ صِـدْقٍ وَّاَخْـرِجْـنِـىْ مُـخْـرَجَ صِـدْقٍ وَّاجْـعَـلْ لِّـىْ مِـنْ لَّدُنْـكَ سُلْطَانًا نَصِيْرًا
উচ্চারণ

রাব্বি আদ্‌খিল্‌নি মুদ্‌খালা সিদক্বিও ওয়া আখ্‌রিযনি মুখ্‌রাজা সিদ্‌কিও ওয়াজা’আল্লি মিল্লাদুন্‌কা সুল্‌তা-নান্ন নাসি-রা।

অর্থ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে প্রবেশ করাও কল্যাণের সাথে এবং আমাকে নিষ্ক্রান্ত বাহির করাও কল্যাণের সাথে এবং তোমার নিকট হতে আমাকে দান করো সাহায্যকারী শক্তি।

সূরা বানী ইসরাঈল, আয়াত নং: ৮০
ফযীলত

এ দু‘আ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শেখানো হয়েছে, যেন তিনি আরজ করছেন, হিজরত করে আমার মদীনায় গমন যেন হয় বরকতের কারণ। হিজরত করে মক্কা ত্যাগও হয় সৌভাগ্যের সূচনা। ‘সিদক’ তথা ইখলাস ও কামিয়াবি যেন হয় আমার সঙ্গী। আর আপন খাস রহমত ও নুসরত দ্বারা সর্বাবস্থায় আমাকে অবিচল রাখুন।