দু‘আ

সামাজিকতা অধ্যায়

২০টি দু‘আ
১

কোনো মুসলমানের সাথে সাক্ষাত হলে বলবে

۞ اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهٗ
উচ্চারণ

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

অর্থ

আপনার উপর শান্তি ও আল্লাহ পাকের রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

ফযীলত

হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রাযি) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম। নবী (ﷺ) বললেন, দশ (নেকী)। অতপর অন্য এক ব্যক্তি এসে বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্। নবী (ﷺ) বললেন, বিশ (নেকী)। তারপর আরেক ব্যক্তি এসে, বলল, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। নবী (ﷺ) বললেন, ত্রিশ (নেকী)।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৬৮৯

২

সালামের উত্তরে বলবে

۞ وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَ رَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهٗ
উচ্চারণ

ওয়া আলাইকুমুস্‌ সালাম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

অর্থ

এবং আপনার উপরেও শান্তি ও আল্লাহ পাকের রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি মসজিদে নববীতে এসে প্রবেশ করল। পরে এসে তাঁকে সালাম করল। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন: ওয়া আলায়কা (তোমার উপরও শান্তি বর্ষিত হোক)। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৬৯২; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ২৩৫) ফযীলত: একদা একব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলেঃ আসসালামু আলাইকুম। নবী (ﷺ) তার সালামের জবাব দিলে সে ব্যক্তি বসে পড়ে। তখন নবী (ﷺ) বলেন, সে দশটি নেকী পেয়েছে। এরপর এক ব্যক্তি এসে বলেঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। তিনি তার সালামের জবাব দিলে সে ব্যক্তি বসে পড়ে। তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ সে বিশটি নেকী পেয়েছে। এরপর এক ব্যক্তি এসে বলেঃ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু। নবী (ﷺ) তার সালামের জবাব দিলে সে বসে পড়ে। তখন তিনি বলেনঃ সে ত্রিশটি নেকী পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫১৯৫

৩

অমুসলিমের সালামের জবাবে যা বলবে

۞ وَعَلَيْكُمْ
উচ্চারণ

ওয়া ‘আলাইকুম

অর্থ

তোমাদের উপরও

ফযীলত

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আহলে কিতাবের কেউ তোমাদের সালাম করলে তোমরা (শুধু এতটুকু) বলবে, ‘ওয়া আলাইকুম” (তোমাদের প্রতিও)।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২১৬৩, ৫৪৬৭

৪

মুসাফাহা করার দু‘আ

۞ يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَ لَكُمْ
উচ্চারণ

ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম।

অর্থ

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকেও ক্ষমা করুন এবং আপনাদেরকেও ক্ষমা করুন।

সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং: ৫২১১; আউনুল মা’বুদ (শামসুল হক আজিমাবাদী), ১৪: ৮১
ফযীলত

হযরত কাতাদা (রাযি) থেকে বর্ণিত, আমি আনাস (রাযি) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের মধ্যে কি মুসাফাহা করার রেওয়ায ছিল? তিনি বললেন, হ্যা।
হাদীসে মুসাফাহা করার সময় মুসাফাহাকারীদের পরস্পরের জন্য মাগফিরাত তলবের কথা এসেছে।
বারা ইবনে আযিব (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, দুই মুসলিমের যখন সাক্ষাত হয় আর তারা পরস্পর মুসাফাহা করে তখন তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই আল্লাহ্ তা’আলা তাদের (গুনাহ) মাফ করে দেন।
হাদীসে বর্ণিত ইস্তিগফার কীভাবে করতে হবে, তার ব্যাখ্যায় হাদীসবিশারদগন يَغْفِرُ اللهُ لَنَا وَ لَكُمْ (ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়ালাকুম) এর কথা বলেছেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৮২৯; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৭২৭; আবূ দাঊদ, হাদীস: ৫২১১; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩৭০৩
সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৭২৭; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫১২১ আউনুল মা’বুদ (শামসুল হক আজিমাবাদী) ১৪: ৮১

৫

হাই আসলে পড়বে

۞ لَاحَوْلَ وَلَاقُوَّةَ اِلَّابِاللهِ الْعَلِىِّ الْعَظِيْمِ
উচ্চারণ

লা-হাওলা ওয়ালা-কুওয়্যাতা ইল্লা-বিল্লা-হিল্ আলিয়্যিল্ আযীম।

অর্থ

কোন শক্তি নেই। কোন সামর্থ্য নেই একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা বান্দার হাঁচি পছন্দ করেন ও হাই তোলা অপছন্দ করেন। তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় এবং আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন তা শুনতে পায় এমন প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা। হাই তোলা সম্পর্কে কথা হল এটা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়। তোমাদের কারও যখন হাই আসে, তখন যথাসম্ভব তা ফেরানোর চেষ্টা করবে। কেননা কেউ যখন হাই তোলে, তখন শয়তান তাকে নিয়ে হাসে।
নোট: বিভিন্ন হাদীসে দু‘আটির ফযীলতের আলোচনা এসেছে। তবে স্বতন্ত্রভাবে হাই আসলে এই দু‘আ পড়তে হবে এমন কথা কুরআন ও হাদীসের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায় না। যেহেতু হাই শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং দু‘আটির মাধ্যমেও আল্লাহর কাছে পানাহ/আশ্রয় চাওয়া হয়, সেজন্য হাই আসলে উক্ত দু‘আ সুন্নাহ/জরুরী মনে না করে পড়া যেতে পারে।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬২২৩; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৭৪৭

৬

হাঁচি দিলে পড়বে

۞ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ
উচ্চারণ

আলহামদুলিল্লাহ

অর্থ

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ হাঁচি দেয়, তখন সে যেন ″আলহামদুলিল্লাহ″ বলে।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬২২৪: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৭৩৯

৭

যে ব্যক্তি হাঁচি শুনবে সে বলবে

۞ يَرْحَمُكَ اللهُ
উচ্চারণ

ইয়ার হামুকাল্লাহ

অর্থ

আল্লাহ আপনার প্রতি দয়া করুন।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা (বান্দার) হাঁচি পসন্দ করেন ও হাই তোলা অপসন্দ করেন। তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেয় এবং আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন যে তা শুনতে পায় এমন প্রত্যেক মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।

তথ্যসূত্র: রিয়াযুস সালিহীন, হাদীস নং: ৮৭৭

৮

এরপর হাঁচিদাতা বলবে

۞ يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ
উচ্চারণ

ইয়াহ্‌ দিকুমুল্লহু ওইয়ুছ লিহু বালাকুম

অর্থ

আল্লাহ আপনাকে হিদায়াত দান করুন। এবং আপনার অবস্থা ভালো করে দিন।

ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন তোমাদের কেউ হাঁচি দেয়, তখন সে যেন ″আলহামদুলিল্লাহ″ বলে। আর তার শ্রোতা যেন এর জবাবে ″ইয়ারহামুকাল্লাহ″ বলে। আর যখন সে ″ইয়ারহামুকাল্লাহ″ বলবে, তখন হাঁচিদাতা তাকে বলবেঃ ″ইয়াহদিকুমুল্লাহু ওয়া ইয়ুসলিহু বালাকুম″।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬২২৪; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৭৩৯

৯

কেউ উপকার করলে তাঁর জন্যে এই বলে দু‘আ করবে

۞ جَزَاكَ اللّٰهُ خَيْرًا
উচ্চারণ

জাযাকাল্লাহু খাইরান।

অর্থ

আল্লাহ তা’আলা আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২০৩৫; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ২৭৬
১০

কাউকে বিদায় দেয়ার সময় পড়বে

۞ اَسْتَوْدِعُ اللهَ دِيْنَكُمْ وَاَمَانَتَكُمْ وَخَوَاتِيْمَ اَعْمَالِكُمْ
উচ্চারণ

আস্তাউদি‘উল্লাহা দ্বীনাকুম, ওয়া আমানাতাকুম ওয়া খওয়াতীমা আ’মালিকুম।

অর্থ

তোমাদের দ্বীন ও ঈমানকে এবং তোমাদের আমানতদারীকে এবং তোমাদের ঈমানের উপর মৃত্যু আল্লাহ তা’আলার হাতে সোপর্দ করছি।

ফযীলত

হযরত ইবনে উমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী (ﷺ) কোন ব্যক্তিকে যখন বিদায় জানাতেন তখন নিজ হাতে তার হাত ধরতেন। ঐ ব্যক্তি যতক্ষণ না নিজে নবী (ﷺ) এর হাত ছাড়ত ততক্ষণ তিনি তার হাত ছাড়তেন না। এই সময় তিনি দু‘আটি পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৪২; সুনানে আবূ দাউদ, ১: ৩৫০; মুসতাদরাকে হাকীম ২: ৯৭

১১

কারো থেকে বিদায় নেয়ার সময় এ দু‘আ পড়বে

۞ اَسْتَوْدِعُكُمُ اللهَ الَّذِيْ لَا تَضِيْعُ وَدَائِعُهٗ
উচ্চারণ

আস্তাউদি‘উ কুমুল্লা হাললাযী লা তাযী‘উ ওয়াদা ই ‘উহূ।

অর্থ

আমি তোমাকে এমন সত্তার কাছে আমানত রেখে যাচ্ছি, যিনি তার আমানত কখনও নষ্ট করেন না।

আল আযকার, পৃষ্ঠা ৩৭০
১২

মজলিস থেকে উঠার সময় পড়বে

۞ رَبِّ اغْفِرْ لِيْ، وَتُبْ عَلَيَّ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الغَفُوْرُ
উচ্চারণ

রব্বিগফির লী ওয়াতুব ‘আলাইয়্যা, ইন্নাকা আনতাত্ তাউওয়া-বুল গাফূর।

অর্থ

হে আমার রব্ব! আপনি আমাকে মাফ করুন এবং তাওবাহ কবূল করুন; নিশ্চয় আপনিই তওবা কবূলকারী ক্ষমাশীল।

ফযীলত

হযরত ইবনে উমর (রাযি) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, প্রতিটি মাজলিসে হিসাব করে দেখা গেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উক্ত মাজলিস থেকে উঠে যাওয়ার আগে এক শতবার বলতেন, “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার তাওবা গ্রহণ কর। কারণ তুমিই তওবা কবূলকারী, ক্ষমাকারী”।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৩৪

১৩

মজলিসের কাফফারার দু‘আ

۞ سُبْحَانَ اللهِ وَبِحَمْدِه سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
উচ্চারণ

সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহী সুবহানাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লা- আনতা আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইকা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমরা আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি এবং প্রশংসা ব্যক্ত করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া অন্য কোন মা‘বুদ নেই, আমি আপনার নিকট ক্ষমা চাচ্ছি এবং আপনার দিকেই ধাবিত হচ্ছি।

ফযীলত

হযরত জুবায়ের ইবনে মুতইম (রাযি) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোন যিকিরের মজলিসের শেষে এই দু‘আ পড়ল।
উক্ত মজলিস আল্লাহ তা’আলার নিকট কবূল হয়ে যায় এবং এর সওয়াব আল্লাহ তা‘আলার নিকট রক্ষিত হয়ে যায়। যদি এমন মজলিসে পড়া হয় যেখানে অযথা কথাবার্তা বলা হয়েছে তবে এই দু‘আ উক্ত মজলিসের কাফফারা হয়ে যায়। তাছাড়া এই দু‘আ সেই জিকিরের মজলিসের জন্য এমন, যেমন (গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্রের উপর) মোহর লাগিয়ে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২৩৪৬

১৪

কাউকে হাসিমুখে দেখলে পড়বে

۞ اَضْحَكَ اللّٰهُ سِنَّكَ
উচ্চারণ

আয হাকাল্লাহু সিন্নাকা।

অর্থ

আল্লাহ পাক আপনাকে সর্বদা হাসিমুখ রাখুন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩২৯৪
১৫

নিজের প্রশংসা শুনলে বলা

۞ اَللّٰهُمَّ لاَ تُؤَاخِذْنِيْ بِمَا يَقُولُوْنَ ، وَاغْفِرْ لِيْ مَا لاَ يَعْلَمُوْنَ وَاجْعَلْنِيْ خَيْرًا مِّمَّا يَظُنُّوْنَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা লা তুআখিযনি বিমা ইয়াক্বুলুনা ওয়াগফিরলি মা লা ইয়া’লামুনা ওয়াজ’আলনি খইরাম মিম্মা ইয়াযুন্নুন।

অর্থ

হে আল্লাহ! তাদের কথার জন্য আমাকে পাকড়াও করো না; তারা যা জানে না, সেসব বিষয়ে আমাকে মাফ করো; আর আমাকে তাদের ধারণার চেয়ে উত্তম বানিয়ে দাও।

আল-বায়হাকী, শু‘আবুল ঈমান, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫০৪, হাদীস নং: ৪৫৩৪; আল-আদাবুল মুফরাদ
হাদীস নং: ৭৬৬
১৬

যে ব্যক্তি বলবে,আমি আপনাকে আল্লাহ্‌র জন্য ভালোবাসি তার জন্য দু‘আ

۞ أَحَبَّكَ الَّذِيْ أَحْبَبْتَنِيْ لَهٗ
উচ্চারণ

আহাব্বাকাল্লাযী আহবাবতানী লাহু

অর্থ

যাঁর (আল্লাহর) জন্য আপনি আমাকে ভালোবেসেছেন, তিনি আপনাকে ভালোবাসুন!

ফযীলত

হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাযি) সূত্রে বর্ণিত, এক লোক নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। এ সময় অন্য এক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অবশ্যই এই ব্যক্তিকে ভালোবাসি। নবী (ﷺ) তাকে বললেন, তুমি কি তাকে তোমার ভালোবাসার কথা জানিয়েছো? সে বললো, না। তিনি (ﷺ) বললেন, তুমি তাকে জানিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, সুতরাং সে ঐ ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বললো, আমি আপনাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসি। সে বললো, যাঁর উদ্দেশ্যে আপনি আমাকে ভালোবাসেন তিনিও আপনাকে ভালোবাসুন।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫১২৫

১৭

কেউ বরকতের দু‘আ করলে বলবে

۞ وَفِيْكَ بَارَكَ اللهُ
উচ্চারণ

ওয়াফীকা বারাকাল্লাহু

অর্থ

আপনাকেও আল্লাহ বরকত দান করুক।

ফযীলত

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করে, তোমরা বিনিময় দাও। যদি বিনিময় দেওয়ার সামর্থ্য না থাকে তবে তার জন্য দু‘আ করতে থাক; যাতে তোমরা অনুধাবন করতে পার যে, তোমরা তাদের বিনিময় দান করেছ।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১৬৭২১৬৭২,; আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ২৭৮

১৮

ঋণ পরিশোধের দু‘আ-১

۞ اَللّٰهُمَّ اكْفِنِيْ بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِيْ بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিক ওয়া আগনিনি বি ফাদলিকা আম্মান সিওয়াক

অর্থ

হে আল্লাহ! তুমি তোমার হারাম থেকে বাঁচিয়ে তোমার হালাল রিযিক দ্বারা আমাকে পরিতুষ্ট করে দাও। (হালাল রুজিই যেন আমার জন্য যথেষ্ট হয়) এবং তোমার অনুগ্রহে ছাড়া অন্য সবকিছু থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দাও।

ফযীলত

হযরত আবূ ওয়ায়েল (রহ) বলেন, একজন মুকাতাব (মুক্তিপণ আদায়ের শর্তে আযাদকৃত গোলাম) হযরত আলী (রাযি) এর খেদমতে হাজির হয়ে আরয করল, আমি (মুক্তিপণের নির্ধারিত) মাল আদায় করতে পারছি না। হযরত আলি (রাযি) বললেন, আমি কি তোমাকে সেই কালিমাগুলো শিখিয়ে দিব না যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে শিখিয়েছেন? যদি তোমার উপর (ইয়ামানের) শীর পাহাড় সমতূল্য ঋণও হয় তবে আল্লাহ তা‘আলা সেই ঋণকে আদায় করে দিবেন। তুমি এই দু‘আ পড়। ফায়দা
মুকাতাব সেই গোলামকে বলা হয় যাকে তার মনিব বলেছে যে, যদি তুমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই পরিমাণ মাল আদায় করে দিতে পার তবে তুমি আযাদ হয়ে যাবে। যে মাল নির্ধারিত হয় তাকে ‘বদলে কিতাবাত’ বা মুক্তিপণ বলা হয়।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৬৩; মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীস নং: ২৪৪৯,
আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব, হাদীস নং: ২৮১১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১২৫০

১৯

ঋণ পরিশোধের দু’আ-২

«بارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ، إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالأَدَاءُ»
উচ্চারণ

বা-রাকাল্লা-হু লাকা ফী আহলিকা ওয়া মা-লিকা, ইন্নামা জাযা-উস সালাফে আল-হামদু ওয়াল আদা-উ

অর্থ

আল্লাহ আপনার পরিবারে ও সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের প্রতিদান তো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সঠিকভাবে তা আদায় করণ।

নাসায়ী হাঃ ৪৬৮৩, ইবনে মাজাহ হাঃ ২৪২৪
ফযীলত

নাসায়ী থেকেঃ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْنِ
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ اسْتَقْرَضَ مِنِّي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْبَعِينَ أَلْفًا فَجَاءَهُ مَالٌ فَدَفَعَهُ إِلَيَّ وَقَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِي أَهْلِكَ وَمَالِكَ إِنَّمَا جَزَاءُ السَّلَفِ الْحَمْدُ وَالْأَدَاءُ
আমর ইবন আলী (রহঃ) ... ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ইবন আবদুল্লাহ ইবন আবু রাবীআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি তার পিতার মাধ্যমে তার দাদা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট হতে চল্লিশ হাজার দিরহাম কর্জ নিয়েছিলেন। এরপর তাঁর নিকট মাল আসলে তিনি তা আদায় করে বলেনঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমার ঘরে এবং মালে বরকত দান করুন। কর্জের বিনিময় তো এই যে, লোক কর্জদাতার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে এবং তা আদায় করবে।

তথ্যসূত্র: সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ৪৬৮৩; আন্তর্জাতিক নং: ৪৬৮৩

২০

ঋণ ও মানুষের হক থেকে মুক্তির দু‘আ

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিনাল মা'ছামি ওয়াল মাগরাম।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গুনাহ এবং ঋণের বোঝা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

সহীহ মুসলিম হাদীস নং: ৫৮৯