হে আমার রব! আপনি আমাকে সাহায্য করুন, আমার বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করবেন না। আমাকে বিজয় দান করুন, আমার বিরুদ্ধে কাউকে বিজয়ী করবেন না। আমার পক্ষে কৌশল অবলম্বন করুন, আমার বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করবেন না। আমাকে হিদায়াত দান করুন এবং আমার জন্য হিদায়াতকে সহজ করে দিন। যে আমার ওপর বাড়াবাড়ি করে, তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করুন।
হে আমার রব! আমাকে আপনার অধিক জিকিরকারী, আপনার অধিক কৃতজ্ঞ, আপনাকে অধিক ভয়কারী, আপনার অধিক অনুগত, আপনার অধিক আজ্ঞাবহ, আপনার সামনে বিনয়াবনত এবং আপনার প্রতি অধিক আকুল ও বারবার প্রত্যাবর্তনকারী বানিয়ে দিন।
হে আমার রব! আমার তাওবা কবুল করুন, আমার পাপ ধুয়ে-মুছে দিন, আমার দুআ কবুল করুন, আমার দলিলকে সুদৃঢ় করুন, আমার জিহ্বাকে সঠিক ও সত্যভাষী করুন, আমার অন্তরকে হিদায়াত দিন এবং আমার বক্ষের বিদ্বেষ ও অন্তর্নিহিত মন্দভাব দূর করে দিন।
হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান, আমাদের জান্নাতে প্রবেশ করান, আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন এবং আমাদের সকল বিষয় সংশোধন করে দিন।
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরসমূহের মধ্যে সম্প্রীতি সৃষ্টি করে দিন, আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দিন, আমাদের শান্তির পথসমূহের হিদায়াত দান করুন এবং আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে মুক্তি দিন। প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যাবতীয় অশ্লীলতা থেকে আমাদের দূরে রাখুন।
আমাদের কান, চোখ, অন্তর, স্ত্রী-পরিবার ও সন্তান-সন্ততিতে বরকত দান করুন। আমাদের তাওবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি অধিক তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।
আমাদের এমন বানিয়ে দিন, যেন আমরা আপনার নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা আদায় করি, সেই নিয়ামতের কারণে আপনার প্রশংসা করি, সেগুলো গ্রহণ করি এবং আমাদের প্রতি আপনার নিয়ামতসমূহ পূর্ণ করে দিন।
ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি দীনের বিষয়ে অবিচলতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি উন্নত যোগ্যতা এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার নেয়ামতের শোকরগোজারি ও বন্দেগীর সৌন্দর্য এবং আপনার কাছে প্রার্থনা করি সত্যবাদী জিহ্বা, সুস্থ হৃদয় আর সুদৃঢ় চরিত্র। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি কল্যাণ, যা আপনি জানেন এবং ক্ষমা চাই ঐ সকল গুনাহ থেকে, যে সম্পর্কে আপনি অবগত। সকল অদৃশ্য বিষয় তো আপনার জানা। (সুতরাং ঐ সকল গুনাহ সম্পর্কেও আপনি অবগত, যা কোনো সৃষ্টির জানা নেই)।
হে আল্লাহ! আপনার ভয় থেকে আমাদের এমন অংশ দান করুন, যা আমাদের ও আপনার অবাধ্যতার মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আপনার আনুগত্যের এমন অংশ দান করুন, যা আমাদের আপনার জান্নাতে পৌঁছে দেয়। আর দৃঢ় বিশ্বাসের এমন অংশ দান করুন, যার মাধ্যমে আপনি দুনিয়ার বিপদাপদকে আমাদের কাছে সহজ করে দেন। যত দিন আমাদের জীবিত রাখেন, তত দিন আমাদের কান, চোখ ও শক্তিকে উপভোগ করার সুযোগ দিন। এগুলোকে আমাদের উত্তরাধিকারী করে দিন। যারা আমাদের প্রতি জুলুম করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিশোধ গ্রহণের শক্তি দিন এবং যারা আমাদের সঙ্গে শত্রুতা করে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সাহায্য করুন। আমাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে আমাদের বিপদগ্রস্ত করবেন না। দুনিয়াকে আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা, আমাদের জ্ঞানের চূড়ান্ত সীমা এবং আমাদের আকাঙ্ক্ষার সর্বোচ্চ লক্ষ্য বানাবেন না। আর এমন কাউকে আমাদের ওপর কর্তৃত্বশীল করবেন না, যে আমাদের প্রতি দয়া করে না।
ইয়া আল্লাহ্! আমাদের জন্য বর্ধিত কর এবং আমাদের জন্য কম করো না; আমাদের সম্মানিত কর, আমাদের হেয় করো না; আমাদের দান কর, আমাদের বঞ্চিত করো না; আমাদের প্রাধান্য দাও, আমাদের উপর কাউকে প্রাধান্য দিও না; আমাদের সন্তুষ্টি দান কর আর তুমিও আমাদের উপর সন্তুষ্ট থাক।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে নেক কাজ করা, মন্দ কাজ পরিত্যাগ করা এবং মিসকিনদের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি। আর প্রার্থনা করছি, আপনি যেন আমাকে ক্ষমা করেন ও আমার প্রতি দয়া করেন। যখন আপনি কোনো সম্প্রদায়ের জন্য ফিতনার ইচ্ছা করেন, তখন আমাকে ফিতনায় পতিত না করে মৃত্যু দান করুন। আমি আপনার ভালোবাসা, যারা আপনাকে ভালোবাসে তাদের ভালোবাসা এবং যে আমল আমাকে আপনার ভালোবাসার নিকটবর্তী করে, সেই আমলের ভালোবাসা প্রার্থনা করছি।
ইয়া আল্লাহ! আমাকে আপনার ভালোবাসা দান করুন এবং যার ভালোবাসা আপনার কাছে আমার জন্য উপকারী হয়, তার ভালবাসাও দান করুন। আপনি যখন আমাকে আমার প্রিয় বস্তু দান করেছেন, তখন একে আমার জন্য সহায়ক করুন আপনার প্রিয় কাজে। (অর্থাৎ আমার প্রিয় ও কাম্য যা কিছু আমি লাভ করেছি, তা আপনার পছন্দের বিষয়টি অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।) হে আল্লাহ! আমার যেসব কাম্য বস্তু আমার থেকে দূরে রেখেছেন, সেগুলো (থেকে দূরে থাকা) আমার জন্য ঐসব বিষয়ে মশগুল হওয়ার অবকাশ বানিয়ে দিন, যা আপনার কাছে প্রিয়। (অর্থাৎ স্বভাবগতভাবে যা কিছু আমার প্রিয়, তা থেকে যখন আপনি নিজ প্রজ্ঞায় আমাকে দূরে রাখবেন, তখন এই প্রতিক্রিয়া আমার মাঝে সৃষ্টি করুন যে, আমি শুধু এসবের স্থলে আপনার প্রিয় বিষয়গুলোকেই ভালোবাসতে শুরু করি।)
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এমন ঈমান প্রার্থনা করছি, যা থেকে ফিরে যাওয়া হবে না; এমন নেয়ামত প্রার্থনা করছি, যা কখনো শেষ হবে না; আর আপনার নবী মুহাম্মাদ ﷺ-এর সঙ্গে জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে, চিরস্থায়ী জান্নাতে সঙ্গ লাভের প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ঈমানের সাথে সুস্বাস্থ্য এবং প্রার্থনা করছি সদাচরণের সাথে ঈমান। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছার সাফল্য, যার পেছনে থাকবে পারলৌকিক সাফল্য, আর প্রার্থনা করছি তোমার রহমত, নিরাময় ও মাগফিরাত এবং তোমার সন্তুষ্টি।
হে আল্লাহ! আপনার অদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞান এবং সৃষ্টির ওপর আপনার ক্ষমতার উসিলায় প্রার্থনা করছি—আপনার জ্ঞানে যত দিন আমার বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর, তত দিন আমাকে জীবিত রাখুন। আর আপনার জ্ঞানে যখন আমার মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর, তখন আমাকে মৃত্যু দান করুন। আমি আপনার কাছে গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনাকে ভয় করার গুণ প্রার্থনা করছি। সন্তুষ্টি ও ক্রোধ উভয় অবস্থায় সত্যনিষ্ঠার বাণী প্রার্থনা করছি। এমন নেয়ামত প্রার্থনা করছি, যা কখনো শেষ হবে না; এমন চক্ষুশীতলতা প্রার্থনা করছি, যা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না। ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর আপনার প্রতি সন্তুষ্টি, মৃত্যুর পর প্রশান্তিময় জীবন, আপনার চেহারা মুবারকের দিকে তাকানোর আনন্দ এবং আপনার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রার্থনা করছি। আর ক্ষতিকর বিপদ ও পথভ্রষ্টকারী ফিতনা থেকে আপনার আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! ঈমানের সৌন্দর্যে আমাদের সুশোভিত করুন এবং আমাদের হিদায়াতপ্রাপ্ত পথপ্রদর্শক বানিয়ে দিন।
হে আল্লাহ! আপনার বান্দা ও নবী আপনার কাছে যে কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন, আমিও আপনার কাছে সেই কল্যাণ প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত এবং এমন কথা ও কাজ প্রার্থনা করছি, যা জান্নাতের নিকটবর্তী করে। আপনার কাছে আরও প্রার্থনা করছি, আপনি আমার জন্য যে ফয়সালাই করুন, তা যেন আমার জন্য কল্যাণকর হয়। আর আমার জন্য যে বিষয়ই নির্ধারণ করুন, তার পরিণতি যেন সঠিক ও মঙ্গলজনক হয়।
হে আল্লাহ! আমি দাঁড়ানো অবস্থায় ইসলামের ওপর থেকে আপনি আমাকে হেফাজত করুন। বসা অবস্থায় ইসলামের ওপর থেকে আমাকে হেফাজত করুন। শায়িত অবস্থায়ও ইসলামের ওপর থেকে আমাকে হেফাজত করুন। আর কোনো শত্রু ও হিংসুককে আমার বিপদে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ দেবেন না।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সব ধরনের কল্যাণ প্রার্থনা করছি, যার ভাণ্ডারসমূহ আপনার হাতে রয়েছে। আর আপনার হাতে থাকা সমস্ত কল্যাণও আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি
হে আল্লাহ! আমাদের কোনো গুনাহ অবশিষ্ট রাখবেন না, বরং তা ক্ষমা করে দিন। আমাদের কোনো দুশ্চিন্তা অবশিষ্ট রাখবেন না, বরং তা দূর করে দিন। আমাদের কোনো ঋণ অবশিষ্ট রাখবেন না, বরং তা পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিন। আর দুনিয়া ও আখিরাতের প্রয়োজনসমূহের মধ্যে কোনো প্রয়োজন অপূর্ণ রাখবেন না, বরং তা পূরণ করে দিন। হে সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু
হে প্রভু! তুমি যে রিযিক (জীবিকা) আমাকে দান করেছ, তাতেই আমাকে তুষ্ট রাখ। এবং উহাতে বরকত দান কর। এবং আমার প্রতিটি অনুপস্থিত বিষয়ক তুমি মঙ্গলের সহিত রক্ষণাবেক্ষণ কর।
হে আল্লাহ! আমি দুর্বল, তাই আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের পথে আমার দুর্বলতাকে শক্তিতে পরিণত করুন। আমার অগ্রভাগ ধরে আমাকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন। ইসলামকে আমার সন্তুষ্টির চূড়ান্ত লক্ষ্য বানিয়ে দিন। আমি অপমানিত ও অসহায়, তাই আমাকে সম্মানিত করুন। আমি অভাবগ্রস্ত, তাই আমাকে রিজিক দান করুন।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম প্রার্থনা, সর্বোত্তম দুআ, সর্বোত্তম সফলতা, সর্বোত্তম আমল, সর্বোত্তম প্রতিদান, সর্বোত্তম জীবন ও সর্বোত্তম মৃত্যু প্রার্থনা করছি। আমাকে অবিচল রাখুন, আমার আমলের পাল্লা ভারী করুন, আমার ঈমানকে সুদৃঢ় করুন, আমার মর্যাদা উন্নীত করুন এবং আমার নামাজ কবুল করুন। আমি আপনার কাছে জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদাসমূহ প্রার্থনা করছি। আমীন।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কল্যাণের সূচনাসমূহ, পরিণতিসমূহ, সামগ্রিক কল্যাণ, এর শুরু ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন—সব ধরনের কল্যাণ প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে যা কিছু আমার কাছে আসে, আমি যা কিছু করি, যে আমল করি এবং যা কিছু গোপনে ও প্রকাশ্যে সংঘটিত হয়—এসবের মধ্যে সর্বোত্তম কল্যাণ প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ! আমার জীবনের শেষাংশকে সর্বোত্তম করুন, আমার আমলের পরিণতিকে সর্বোত্তম করুন এবং আমার দিনগুলোর মধ্যে সেই দিনটিকে সর্বোত্তম করুন, যেদিন আমি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। হে ইসলাম ও ইসলামের অনুসারীদের অভিভাবক! আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত আমাকে এর ওপর অবিচল রাখুন। আমি আপনার কাছে আমার ও আমার অভিভাবকের অভাবমুক্তি প্রার্থনা করছি।
হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বার্ধক্যের মন্দ পরিণতি ও অন্তরের ফিতনা থেকে। আপনার সম্মান ও মহত্ত্বের উসিলায়—আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই—আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, যেন আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট হতে না দেন। আমি আশ্রয় চাই কঠিন বিপদ, দুর্ভাগ্যের পরিণতি, মন্দ ফয়সালা এবং শত্রুদের উল্লাস থেকে। আমি আশ্রয় চাই আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে, যা করিনি তার অনিষ্ট থেকেও; যা জানি তার অনিষ্ট থেকে এবং যা জানি না তার অনিষ্ট থেকেও। আপনার নেয়ামত চলে যাওয়া, আপনার দেওয়া নিরাপত্তা ও সুস্থতার পরিবর্তন, আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সকল অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই। আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, জিহ্বা, অন্তর ও বীর্যের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। অভাব-অনটন থেকে, কাউকে জুলুম করা বা কারও দ্বারা জুলুমের শিকার হওয়া থেকে, ধসে পড়া, উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া, ডুবে যাওয়া ও আগুনে পুড়ে যাওয়া থেকে আশ্রয় চাই। মৃত্যুর সময় শয়তানের আঘাতে আক্রান্ত হওয়া থেকে, আপনার পথে পৃষ্ঠ প্রদর্শনকারী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ করা থেকে আপনার আশ্রয় চাই।