দু‘আ

নামাযের মধ্যে দু‘আ অধ্যায়

২০টি দু‘আ
১

তাকবীরে তাহরীমা

۞ اَللّٰهُ أَكْبَرْ
উচ্চারণ

আল্লাহু আকবার।

অর্থ

আল্লাহ্‌ মহান।

ফযীলত

হযরত আবু হুমায়দ সাঈদী (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতে দাঁড়াতেন, তখন তিনি কিবলামুখী হতেন এবং তিনি তাঁর উভয় হাত উঠিয়ে বলতেন, আল্লাহু আকবার।

তথ্যসূত্র: সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮০৩

২

সানা

۞ سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ وَتَبَارَكَ اسْمُكَ وَتَعَالٰى جَدُّكَ وَ لَاۤ إِلٰهَ غَيْرُكَ
উচ্চারণ

সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়াতাবারাকাস্‌মুকা, ওয়াতা‘আলা জাদ্দুকা ওয়া লা-ইলাহা গাইরুক।

অর্থ

হে আল্লাহ্! আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। তুমি প্রশংসাময়, তোমার নাম বরকতময়, তোমার মর্যাদা অতি উচ্চে, আর তুমি ব্যতীত সত্যিকার কোনো মাবুদ নেই।

ফযীলত

হযরত আয়িশা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রিয় নবী (ﷺ) যখন নামায শুরু করতেন তখন উক্ত দু‘আ পাঠ করতেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৭৭৬; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮০৪, ৮০৬; মুসনাদে আহমাদ: ৬/২৩০

৩

আউযুবিল্লাহ

۞ أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণ

আ'উযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রাজীম।

অর্থ

হে আল্লাহ্! আমি অভিশপ্ত শয়তান হতে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

ফযীলত

হযরত আসওয়াদ ইবনে ইয়াযিদ (রহ) বলেন, আমি হযরত উমর (রাযি) কে তাকবীর দিয়ে নামায শুরু করতে দেখেছি। অতঃপর সানা বলেছেন। অতঃপর আউযুবিল্লাহ পড়েছেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে দারেকুতনী, হাদীস নং: ১১৪৬, ১১৪৭; সুনানে বায়হাকি, কুবরা, হাদীস নং: ২৩৫৮; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৭৬৪; ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮০৭; মুসনাদে আহমদ: ৪/৮০; তাবারানী কাবীর, হাদীস নং: ১৫৬৮, ২/১৩৪

৪

বিসমিল্লাহ্‌

۞ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহির রাহ্‌মানির রাহিম।

অর্থ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)।

ফযীলত

নাফে (রহ) হযরত ইবনে উমর (রাযি) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি সুরা ফাতেহা যখন শুরু করতেন তখন বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়তেন এবং যখন ফাতেহা শেষ করতেন তখনও বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পড়তেন।

তথ্যসূত্র: মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ৪১৭৮

৫

রুকুর দু‘আ

۞ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمْ
উচ্চারণ

সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম।

অর্থ

মহাপবিত্র আমার প্রতিপালক যিনি মহান

ফযীলত

হযরত হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন, যখন তিনি রুকু করতেন তখন তিন বার সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম পড়তেন। এরপর যখন সিজদা করতেন তখন তিন বার সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮৮৮; সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং: ১২৭৮, ১/৩৪০; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস নং: ৬৬৮, ১/৩৩৩; তাহাবী শরীফ: ১/২৩৫

৬

ক্বওমার দু‘আ-১

۞ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهْ
উচ্চারণ

সামি‘আল্লা-হু লিমান হামিদাহ।

অর্থ

আল্লাহ তার কথা শোনেন, যে তার প্রশংসা করে।

ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। এরপর রুকূ’তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ’ থেকে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন উক্ত দু‘আ পাঠ করতেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৮৯

৭

ক্বওমার দু‘আ-২

۞ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدْ
উচ্চারণ

রাব্বানা লাকাল হামদ্।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।

ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামায আরম্ভ করার সময় দাঁড়িয়ে তাকবীর বলতেন। এরপর রুকূ’তে যাওয়ার সময় তাকবীর বলতেন, আবার যখন রুকূ’ থেকে পিঠ সোজা করে উঠতেন তখন দাঁড়িয়ে উক্ত দু‘আ পাঠ করতেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৮৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৩৯২; বাইহাকী: ২/১২৭

৮

ক্বওমার দু‘আ-৩

۞ حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيْهِ
উচ্চারণ

হামদান্ কাছী-রান্ তাইয়্যিবান মুবা-রাকান ফি-হি।

অর্থ

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার জন্য অগণিত প্রশংসা, যা পবিত্র ও বরকতময়।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৯৯
৯

সিজদার দু‘আ

۞ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلٰى
উচ্চারণ

সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা।

অর্থ

মহাপবিত্র আমার প্রতিপালক যিনি সর্বোচ্চ।

ফযীলত

হযরত হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রাযি) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে শুনেছেন, যখন তিনি সিজদা করতেন তখন তিন বার উক্ত দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮৮৮; সুনানে দারাকুতনী: ১/৩৪০, হাদীস নং: ১২৭৮; সহীহ ইবনে খুযাইমা: ১/৩৩৩, হাদীস নং: ৬৬৮; তাহাবী শরীফ: ১/২৩৫

১০

দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِيْ وَارْحَمْنِيْ وَاجْبُرْنِيْ وَاهْدِنِيْ وَعَافِنِيْ وَارْزُقْنِيْ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাগ্‌ফিরলি ওয়ারহাম্‌নি ওয়াজ্‌বুরনি ওয়াহ্‌দিনি ওয়া ‘আ-ফিনি ওয়ার্‌যুক্বনি।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার উপর রহম করুন, আমার অবস্থার সংশোধন করুন, আমাকে সৎপথ প্রদর্শন করুন, আমাকে সুস্থতা দান করুন ও আমাকে রিযিক দান করুন।

ফযীলত

হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) দুই সিজদার মাঝে উক্ত দু‘আ পাঠ করতেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৫০; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৮৪; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৮৯৮

১১

তাশাহুদ

۞ اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهٗ، اَلسَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لَّاۤ إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهٗ وَرَسُوْلُهٗ
উচ্চারণ

আত্তাহিইয়াতু লিল্‌লাহি ওয়াস্‌ সালাওয়াতু ওয়াত্ ত্বাইয়িবাত। আসসালামু ‘আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ্‌। আস্‌সালামু ‘আলাইনা ওয়া ‘আলা ‘ইবাদিল্লাহিস্‌ সালিহীন। আশ্‌হাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্‌হাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আব্‌দুহু ওয়া রাসুলুহ্‌।

অর্থ

যাবতীয় সম্মান, যাবতীয় ইবাদত ও যাবতীয় পবিত্র বিষয় আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হউক এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও সমৃদ্ধি নাযিল হউক। শান্তি বর্ষিত হউক আমাদের উপর ও আল্লাহর সৎকর্মশীল বান্দাগণের উপর। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

ফযীলত

হযরত আবু মূসা আশ আরী (রাযি) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে খুতবা দেন এবং তিনি আমাদের সমস্ত বিধান শিক্ষা দেন এবং আমাদের সালাত শেখান। এরপর বলেন, যখন তোমরা সালাত আদায় করবে এবং বৈঠকে বসবে তখন উক্ত দু‘আই তোমাদের প্রথম কথা হবে।
হযরত ইবনে মাসঊদ (রাযি) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে তাশাহুদ শিক্ষা দিয়েছেন আমার হাত তাঁর হাতের মধ্যে রেখে যেমনিভাবে তিনি আমাকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৭৮৯; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১২৭৫

১২

দরূদ

۞ اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اۤلِ مُحَمَّدٍ ،كَمَا صَلَّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى اۤلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ ، اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ وَّعَلٰى اۤلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ وَعَلٰى اۤلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা ‘আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা ‘আলা ইব্‌রাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইব্‌রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ, আল্লাহুম্মা বারিক ‘আলা মুহাম্মাদিও ওয়া ‘আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাক্‌তা ‘আলা ইব্রাহীমা ওয়া ‘আলা আলি ইব্রাহীমা ইন্নাকা হামীদুম্ মাজীদ।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি রহমত বর্ষণ করুন মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপর, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহিম (আ.) ও ইবরাহিমের পরিবারের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! আপনি বরকত নাযিল করুন মুহাম্মাদ (ﷺ) ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপর, যেমন আপনি বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহিম (আ.) ও ইবরাহিমের পরিবারের উপর। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।

ফযীলত

হযরত কা‘আব ইবনে উজরাহ (রাযি) বলেন, আমরা রাসূল (ﷺ) এর নিকট জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ও আপনার পরিবার পরিজনের উপর কিভাবে দরূদ পাঠাব? কেননা আল্লাহ তা‘আলা তো আপনার উপর কিভাবে সালাম পাঠাতে হবে তা শিক্ষা দিয়েছেন। এই প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দরুদে ইবরাহীমী পড়তে নির্দেশ দিলেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩৩৭০; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৪৮৩; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ১২৮৮; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৯০৪

১৩

দু‘আ-ই মাসুরাহ-১ (তাওবা ও ক্ষমাপ্রার্থনার দু‘আ)

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا كَثِيْرًا وَّ لَاۤ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ، فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নি যলামতু নাফসী যুলমাং কাছিরা, ওয়া লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আংতা, ফাগফির লি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনি, ইন্নাকা আংতাল গফুরুর রাহিম।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আমার নফসের উপর অসংখ্য জুলুম করেছি। আপনি ছাড়া গুনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই। অতএব আপনি আমাকে আপনার পক্ষ হতে বিশেষভাবে ক্ষমা করুন এবং আমার উপর অনুগ্রহ করুন। নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল ও দয়াবান।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮৩৪; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৩১
ফযীলত

হযরত আবূ বকর সিদ্দীক (রাযি.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি প্রিয়নবী ﷺ এর নিকট আবেদন করলাম যে, আমাকে এমন একটি দু‘আ শিখিয়ে দিন যা আমি নামাযে পড়ব। তিনি বলেন প্রিয় নবী (ﷺ) আমাকে দু‘আয়ে মাছুরা পড়ার নির্দেশ দিলেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৮৩৪; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫৩১; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ৬৩০৩; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ৩৮৩৫

১৪

দু‘আ-ই মাসুরাহ-২

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ
উচ্চারণ

আল্লহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নাম ওয়া মিন আজাবিল কবরি ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামাতি ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে।

ফযীলত

হযরত আবু হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযে তাশাহ্‌হুদ পড়বে, তখন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করবে। তখন তিনি উক্ত দু‘আ বললেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৮৮

১৫

দু‘আ-ই কুনুত

۞ اَللّٰهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلَا نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ، اَللّٰهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعٰى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشٰى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা ,ওয়া নাসতাগ্‌ফিরুকা,ওয়া নু’মিনুবিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু আলাইক, ওয়ানুসনি আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা , ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ ওয়া নাতরুকু, মাই ইয়াফ জুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকানা’বুদু, ওয়ালাকানুছল্লি, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাসআ, ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রহমাতাকা, ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিলকুফ্‌ফারি মুলহিক।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্যপ্রার্থী এবং একমাত্র আপনার কাছেই ক্ষমাপ্রার্থী। আপনার উপর আমরা ঈমান এনেছি এবং আপনার উপরই ভরসা করি, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার শোকর আদায় করি, আপনার প্রতি অকৃতজ্ঞ হই না, যারা আপনার নাফরমানী করে, তাদেরকে পরিত্যাগ করি এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। হে আল্লাহ! আমরা আপনারই ইবাদাত করি, আপনার জন্যই নামায পড়ি এবং আপনার জন্যই সিজদা করি, আপনার দিকেই ধাবিত হই, আপনার হুকুম পালনের জন্যই প্রস্তুত থাকি, আপনার দয়ার আশা করি, এবং আমরা আপনার আযাবকে ভয় করি। নিশ্চাই আপনার প্রকৃত আযাব কাফেরদের উপর পতিত হবে।

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং: ৭১০০, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, খন্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১০৫-১২০; মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৫১৮, খন্ড: ১৫, পৃষ্ঠা: ৩৪০-৩৪৪;
১৬

সালাম

۞ اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ
উচ্চারণ

আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ।

অর্থ

আল্লাহর পক্ষ হতে আপনার উপর শান্তি ও অনুগ্রহ বর্ষিত হউক

ফযীলত

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযি) বর্ণনা করেন যে, প্রিয় নবী (ﷺ) ডান দিকে উক্ত দু‘আ বলে সালাম ফিরাতেন, এরপর বাম দিকেও উক্ত দু‘আ বলে সালাম ফিরাতেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২৯৫

১৭

নামাযের মধ্যে ওয়াসওয়াসা বন্ধের যিকির

۞ أَعُوْذُ بِا للہِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ
উচ্চারণ

আ’ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ শাইত্বা-নির রজীম।

অর্থ

আমি অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

ফযীলত

হযরত উসমান ইবনে আবূল আস (রাযি) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! শয়তান আমার এবং আমার সালাত ও কেরাতের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে তা আমার জন্য এলোমেলো করে দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তা এক (প্রকারের) শয়তান যার নাম ‘খিনযিব’। যখন তুমি তার উপস্থিতি অনুভব করবে তখন (আউযুবিল্লাহ পড়ে) তিনবার তোমার বামদিকে থু থু নিক্ষেপ করবে। তিনি বলেন, পরে আমি তা করলে আল্লাহ তা‘আলা আমার থেকে তা দূর করে দিলেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৫৫৫০

১৮

কুনুত-ই-নাযেলা

"اَللّٰهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّمَا قَضَيْتَ؛ إِنَّكَ تَقْضِىْ وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ"
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া ‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়াবা-রিক লী ফীমা আ‘ত্বাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা ফাইন্নাকা তাক্ব‌্দ্বী ওয়ালা ইউক্ব্‌দ্বা ‘আলাইকা। ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মাও ওয়া-লাইতা, ওয়ালা ইয়া‘ইয্যু মান ‘আ-দাইতা। তাবা-রক্‌তা রব্বানা ওয়া তা‘আ-লাইতা)

অর্থ

“হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে সুখদায়ক সৎ পথ প্রকৃত ইসলামের অনুগামী করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সুখশান্তিপূর্ণ মঙ্গলময় জীবন প্রদান করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সর্ব প্রকার কল্যাণ প্রদানের সহিত সাহায্য করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে যে সমস্ত মঙ্গলদায়ক জিনিস প্রদান করেছেন, সেগুলিকে আমার জন্য অধিকতর মঙ্গলদায়ক করুন। আপনি যে ফয়সালা করেছেন, তার অমঙ্গল হতে আমাকে রক্ষা করুন। কেননা সব জগতের সঠিক পরিচালনার জন্য যে ফয়সালা আপনি করেছেন, সেটাই সঠিক ফয়সালা। তাই আপনার ফয়সালার উপরে আর কোনো প্রকারের সঠিক ফয়সালা নেই। আপনি যাকে ভালো বাসবেন, সে কোনো দিন অপমানিত হতে পারে না। আর আপনি যার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করবেন, সে কোনো দিন শক্তিশালী হতে পারবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি মহাকল্যাণময় এবং মহামহিমান্বিত”।

(সুনানে আবু দাউদ হাদিস নাম্বারঃ১৪২৫)

দোয়াটি একইসাথে দু’আ-ই- কুনুত এবং কুনুত-ই-নাযেলা হিসাবে পড়া যায়।
ফযীলত

আবুল হাওরা (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন কতগুলো বাক্য শিখিয়েছেন, যা আমি বিতর সালাতে পাঠ করে থাকি। তা হলোঃ
"اَللَّهُمَّ اهْدِنِيْ فِيْمَنْ هَدَيْتَ، وَعَافِنِيْ فِيْمَنْ عَافَيْتَ، وَتَوَلَّنِيْ فِيْمَنْ تَوَلَّيْتَ، وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ، وَقِنِيْ شَرَّمَا قْضَيْتَ؛ إِنَّكَ تَقْضِىْ وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ، وَإنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَّالَيْتَ، وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ، تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ".

অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে সুখদায়ক সৎ পথ প্রকৃত ইসলামের অনুগামী করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সুখশান্তিপূর্ণ মঙ্গলময় জীবন প্রদান করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি যাদেরকে সর্ব প্রকার কল্যাণ প্রদানের সহিত সাহায্য করেছেন, আমাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আপনি আমাকে যে সমস্ত মঙ্গলদায়ক জিনিস প্রদান করেছেন, সেগুলিকে আমার জন্য অধিকতর মঙ্গলদায়ক করুন। আপনি যে ফয়সালা করেছেন, তার অমঙ্গল হতে আমাকে রক্ষা করুন। কেননা সব জগতের সঠিক পরিচালনার জন্য যে ফয়সালা আপনি করেছেন, সেটাই সঠিক ফয়সালা। তাই আপনার ফয়সালার উপরে আর কোনো প্রকারের সঠিক ফয়সালা নেই। আপনি যাকে ভালো বাসবেন, সে কোনো দিন অপমানিত হতে পারে না। আর আপনি যার জন্য অমঙ্গল নির্ধারণ করবেন, সে কোনো দিন শক্তিশালী হতে পারবে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি মহাকল্যাণময় এবং মহামহিমান্বিত”।

‘‘আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়া‘আ-ফিনী ফীমান ‘আ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আ‘তাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউকদা ‘আলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্যু মান ‘আ-দাইতা তাবা-রাকতা রববানা ওয়া তা‘আলাইতা।’’

১৯

আল্লাহর দিদার ও সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষার দু‘আ

اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ لَذَّةَ النَّظَرِ إِلَىٰ وَجْهِكَ، وَالشَّوْقَ إِلَىٰ لِقَائِكَ، فِي غَيْرِ ضَرَّاءَ مُضِرَّةٍ، وَلَا فِتْنَةٍ مُضِلَّةٍ.
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্‌আলুকা লায্‌যাতান্ নায্‌যরি ইলা ওয়াজ্‌হিকা, ওয়াশ্‌শাওকা ইলা লিক্বা-ইকা, ফী গাইরি দার্‌রাআ-মু-দির্‌রাতিন, ওয়ালা ফিতনাতিন মুদিল্লাতিন।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে (বেহেশতে) আপনার পবিত্র চেহারা দর্শনের স্বাদ এবং আপনার সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষা প্রার্থনা করছি—কোনো ক্ষতিকর কষ্ট ও পথভ্রষ্টকারী ফিতনায় পতিত হওয়া ছাড়া।

সুনানে নাসায়ী , হাদীস নং: ১৩০৫
ফযীলত

নবী ﷺ তাঁর উম্মতকে দুআর আদবসমূহ শিক্ষা দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তাঁর নাম ও গুণাবলির মাধ্যমে তাঁর কাছে ওসীলা গ্রহণ করা। কারণ, এটি দুআ কবুল হওয়ার অন্যতম মাধ্যম। উল্লেখিত দু‘আতে বিষয়গুলো বিদ্যমান রয়েছে।
আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ।

২০

মুমিন নারী-পুরুষ, সকল মুমিনের জন্য মাগফিরাত ও ঐক্যের দু‘আ

اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ، وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ، وَأَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِهِمْ، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِهِمْ، وَانْصُرْهُمْ عَلَى عَدُوِّكَ وَعَدُوِّهِمْ.
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মাগফির লিলমুমিনীনা ওয়াল মুমিনাত, ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত, ওয়া আল্লিফ বাইনা কুলূবিহিম, ওয়া আসলিহ যাতা বাইনিহিম, ওয়ানসুরহুম আলা আদুউয়্যিকা ওয়া আদুউয়্যিহিম।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি সকল মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, সকল মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারীকে ক্ষমা করুন। তাঁদের অন্তরসমূহের মধ্যে ভালোবাসা ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করুন, তাঁদের পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন করে দিন এবং আপনার ও তাঁদের শত্রুদের বিরুদ্ধে তাঁদের সাহায্য করুন।

কানযুল উম্মাল, হাদীস নং: ২১৯৫৯
ফযীলত

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.)-এর সকালের নামাযে কুনূতে নাঝেলার আমল
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) সকালের নামাযে রুকূ‘র পর কুনূত পাঠ করতেন। এরপর তিনি মুমিন ও মুসলিম নারী-পুরুষের জন্য মাগফিরাত কামনা, তাঁদের অন্তরসমূহে ভালোবাসা ও ঐক্য সৃষ্টি, পারস্পরিক সম্পর্ক সংশোধন এবং শত্রুর বিরুদ্ধে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনার জন্যে এই দু'আ পরতেন।