দু‘আ

নফল নামায অধ্যায়

৪টি দু‘আ
অধ্যায় পরিচিতি

নফল নামাজ কী?

النفل

নফল (النفل) শব্দের অর্থ অতিরিক্ত, বাড়তি বা অনুদান। ইসলামী পরিভাষায়, ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুআক্কাদাহ ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে যে অতিরিক্ত নামাজ আদায় করা হয়, তাকে নফল নামাজ বলে।

নফল নামাজ আদায় করলে সওয়াব পাওয়া যায়; তবে কোনো কারণে আদায় করতে না পারলে গুনাহ হয় না।

وَمِنَ الَّیۡلِ فَتَہَجَّدۡ بِہٖ نَافِلَۃً لَّکَ ٭ۖ عَسٰۤی اَنۡ یَّبۡعَثَکَ رَبُّکَ مَقَامًا مَّحۡمُوۡدًا
রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়বে, যা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত ইবাদত। আশা করা যায় তোমার প্রতিপালক তোমাকে ‘মাকামে মাহমুদ’-এ পৌঁছাবেন।
তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন:
‘অতিরিক্ত ইবাদত’ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে, সে সম্পর্কে দু’টি মত আছে। (ক) কতক মুফাসসির বলেন, এ নামায অর্থাৎ, তাহাজ্জুদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য একটি অতিরিক্ত ফরয ছিল। সাধারণ মুসলিমদের প্রতি এটা ফরয করা হয়নি। (খ) কারও মতে অতিরিক্ত হওয়ার অর্থ নফল হওয়া। অর্থাৎ, তাহাজ্জুদ একটি নফল ইবাদত, যেমন আম মুসলিমদের জন্য, তেমনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যও।

‘মাকামে মাহমুদ’-এর শাব্দিক অর্থ ‘প্রশংসনীয় স্থান’। হাদীস দ্বারা জানা যায়, ‘মাকামে মাহমুদ’ হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বিশেষ পদমর্যাদা। এ মর্যাদার কারণে তাকে শাফায়াত করার অধিকার দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

নফল নামাযের ফযীলত:
ফরজ ইবাদতের পর আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো নফল নামায। নফল নামাযের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করে, গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং কিয়ামতের দিন ফরজ নামাযের ঘাটতি পূরণ করা হয়। তাই একজন মুমিনের উচিত ফরজ নামাযের পাশাপাশি যথাসম্ভব নফল নামাযেরও অভ্যাস গড়ে তোলা।

১. অধিক সিজদা অধিক মর্যাদার কারণ
হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন,দকোনো বান্দা আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি সিজদা করলে আল্লাহ তার বিনিময়ে একটি নেকি লিখে দেন, একটি গুনাহ মুছে দেন এবং তার মর্যাদা এক স্তর বৃদ্ধি করেন। তাই তোমরা বেশি বেশি সিজদা করো।’’
— সুনানে ইবনে মাজাহ**, হাদীস: ১৪২৪।

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, প্রতিটি নফল সিজদা বান্দার আমলনামায় নেকি বৃদ্ধি করে, গুনাহ মোচন করে এবং জান্নাতে মর্যাদা উন্নীত করে।

২. জান্নাত লাভের অন্যতম মাধ্যম
হযরত রবীআ ইবনে কা‘ব আল-আসলামী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। একদিন নবী ﷺ তাকে বললেন, "তুমি আমার কাছে কিছু চাও।" তিনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গ কামনা করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন,আমি তা করব। তবে তুমি অধিক পরিমাণে সিজদা করে আমাকে তোমার ব্যাপারে সহযোগিতা করো।"— মুসনাদে আহমাদ, হাদীস: ১৬৫৭৯।

এ হাদীস প্রমাণ করে যে, নফল নামায ও অধিক সিজদা জান্নাত লাভ এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সান্নিধ্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল।

৩. গুরুত্বপূর্ণ নফল নামাযসমূহ:
(ক) ইশরাকের নামায
সূর্য উদয়ের কিছুক্ষণ পর ইশরাকের নামায আদায় করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ। অনেক বুযুর্গ নিয়মিত চার রাকাত ইশরাক আদায় করতেন। বিশেষ করে তালিবুল ইলমদের জন্য এ আমল অত্যন্ত উপকারী।

(খ) যাওয়ালের নামায
যোহরের সময় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চার রাকাত নফল নামায আদায় করাকে অনেক আলেম যাওয়ালের নামায হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি নেকি অর্জনের একটি উত্তম মাধ্যম।

(গ) চাশতের (দুহা) নামায
সাধারণত সূর্য যথেষ্ট উপরে ওঠার পর থেকে যোহরের আগে পর্যন্ত এ নামাযের সময়। দুই, চার বা আট রাকাত পড়া যায়। সময় কম হলেও অন্তত দুই রাকাত আদায় করার চেষ্টা করা উচিত।

(ঘ) আওয়াবীনের নামায
মাগরিবের ফরজ ও সুন্নতের পর নফল নামায আদায় করাকে সালাতুল আওয়াবীন বলা হয়। ছয় রাকাত সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। নিয়মিত এ আমল আল্লাহর বিশেষ রহমত লাভের একটি মাধ্যম।

(ঙ) তাহাজ্জুদের নামায
তাহাজ্জুদ নফল নামাযসমূহের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, ফরজ নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো রাতের নামায (তাহাজ্জুদ)।"— সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১১৬৩।

শেষ রাতে আদায় করা উত্তম। তবে শেষ রাতে উঠতে না পারলে ঘুমানোর পূর্বেও কিছু নফল নামায পড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

সুতরাং, নফল নামায একজন মুমিনের ঈমান, তাকওয়া ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করে। এগুলোর মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়, মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, জান্নাত লাভের পথ সুগম হয় এবং আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়। তাই ফরজ ও সুন্নতের পাশাপাশি নিয়মিত ইশরাক, চাশত, আওয়াবীন, তাহাজ্জুদসহ অন্যান্য নফল নামাযের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিয়মিত নফল নামায আদায় করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

১

সালাতুল তাসবীহের ফযীলত

۞ سُبْحَانَ اللّٰهِ وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ وَلاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ وَاللّٰهُ أَكْبَرُ
উচ্চারণ

সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার।

অর্থ

আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেছি, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ব্যতীত কোন মা’বূদ নাই, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।

সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১২৯৯; সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১৩৮৭; সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং: ১২১৬
ফযীলত

রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর চাচা সাইয়্যিদুনা আব্বাস (রাযি) কে বলেন, আমি আপনাকে রহমতের কথা বলব? আমি আপনাকে পুরস্কারের কথা বলব? আমি আপনাকে প্রাপ্তির কথা বলব? আমি আপনাকে স্রষ্টার অনুগ্রহের কথা বলব? আমি আপনাকে সৃষ্টিকর্তার দয়া-অনুগ্রহ ও অনুকম্পার কথা বলব? যখন আপনি নামায-টি পড়বেন তখন আল্লাহ তা‘আলা আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের, নতুন ও পুরোনো , জানা এবং অজানা, ছোট-বড়, গুপ্ত ও প্রকাশিত সব পাপ মাফ করে দিবেন। তারপর নবীজী (ﷺ) সালাতুল তাসবীহ পড়ার পুরো ব্যাপারটি দেখিয়ে দিলেন এবং আরো বলেন, যদি পারেন তবে এই নামায দিনে একবার পড়বেন, না হলে প্রতি জুমআর দিনে, যদি তাও না পারেন তবে মাসে একবার, আর তাও না সম্ভব হলে বছরে একবার, আর এটাও যদি সম্ভব না হয় তবে পুরো জীবদ্দশায় একবার। পড়ার পদ্ধতি
চার রাকাত সালাতুত তাসবীহ নফল নামাযের নিয়ত করত যথারীতি সূরা ফাতেহার পর সূরা/কিরাত পাঠ করে তারপর দাঁড়ানো অবস্থাতেই উক্ত তাসবীহ ১৫ বার পড়বে, তারপর রুকুতে গিয়ে রুকুর তাসবীহ পড়ার পর উক্ত তাসবীহ ১০ বার, তারপর রুকু থেকে উঠে ’রব্বানা লাকাল হামদু’ বলার পর উক্ত তাসবীহ ১০ বার, তারপর সিজদায় গিয়ে সিজদার তাসবীহ বলার পর উক্ত তাসবীহ ১০ বার, সিজদা থেকে উঠে দুই সিজদার মাঝখানে বসে ১০ বার পড়বে। তারপর দ্বিতীয় সিজদায় অনুরূপ ১০ বার, তারপর দ্বিতীয় সিজদা থেকে উঠে বসে ১০ বার পড়বে। এই হল ১ রাকাতে ৭৫ বার। এরপর (আল্লাহু আকবার বলা ব্যতীতই) দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠবে এবং এইরূপে দ্বিতীয় রাকাত পড়বে। যখন দ্বিতীয় রাকাতে আত্তাহিয়্যাতু... পড়ার জন্য বসবে, তখন আগে উক্ত তাসবীহ ১০ বার পড়বে তারপর আত্যাহিয়‍্যাতু পড়বে। তারপর আল্লাহু আকবার বলে তৃতীয় রাকাতের জন্য উঠবে। অতঃপর তৃতীয় রাকাত ও চতুর্থ রাকাতেও উক্ত নিয়মে উক্ত তাসবীহ পাঠ করবে।

২

ইস্তিখারা

۞ اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَسْتَخِيْرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيْمِ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلَاۤ أَقْدِرُ وَتَعْلَمُ وَلَاۤ أَعْلَمُ وَأَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوْبِ، اَللّٰهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِىْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاقْدُرْهُ لِيْ وَيَسِّرْهُ لِيْ ثُمَّ بَارِكْ لِيْ فِيْهِ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هٰذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِيْ فِيْ دِيْنِيْ وَمَعَاشِىْ وَعَاقِبَةِ أَمْرِيْ فَاصْرِفْهُ عَنِّيْ وَاصْرِفْنِيْ عَنْهُ وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ثُمَّ أَرْضِنِيْ بِهٖ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখিরুকা বি‘ইলমিকা ওয়া আস্তাক্বদিরুকা বিক্বুদ্‌রাতিকা ওয়া আস্আলুকা মিন ফাদ্‌লিকাল আযীম। ফা ইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়ালা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়ালা আ‘লামু, ওয়া আনতা ’আল্লামূল গুয়ূব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আম্‌রা (বলে, মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন) খাইরুন লী ফী দ্বীনি ওয়া মা‘আশী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, ফাকদিরহু লী, ওয়া ইয়াস্‌সিরহু লী, ছুম্মা বারিক লী ফীহি। ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা (বলে, মনে মনে প্রয়োজন উল্লেখ করুন) শাররুন লী ফী দীনী ওয়া মা’আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী, ফাসরিফহু ‘আন্নী ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াকদুর লিয়াল-খাইর। হাইসু কা-না, সুম্মা আরদ্বিনী বিহ্।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের উসিলায় আপনার নিকট মঙ্গল কামনা করছি এবং আপনার কুদরতের উসিলায় আপনার নিকট শক্তি কামনা করছি এবং আপনার নিকট আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা, আপনি ক্ষমতাবান, আর আমি অক্ষম এবং আপনি সর্বজ্ঞানী আর আমি অজ্ঞ, এবং আপনি সমস্ত গোপন সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ! যদি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী এ কাজটি আমার জন্য আমার দ্বীন ও দুনিয়ার দিক দিয়ে এবং পরিণামে মঙ্গলজনক হয়, তবে তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন এবং একে সহজ করে দিন। অতঃপর এর মধ্যে আমার জন্য বরকত দান করুন। আর যদি আপনার জ্ঞান অনুযায়ী এ কাজটি আমার দ্বীন ও দুনিয়ার দিক দিয়ে এবং পরিণামে আমার জন্য মঙ্গলজনক না হয়, তবে আপনি এ কাজটিকে আমার থেকে দূরে রাখুন এবং যেখানেই আমার জন্য মঙ্গল রয়েছে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন এবং তাতেই আমাকে সন্তুষ্ট করে দিন।

সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩৮২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৪৮০

হযরত জাবির (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) আমাদের যাবতীয় কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে তিনি কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন । (আর বলতেন) যখন তোমাদের কারো কোন বিশেষ কাজ করার ইচ্ছা হয়, তখন সে যেন দু’রাকাত নামায পড়ে, এবং নিচের দু‘আটি পাঠ করে।
ফযীলত

ইস্তিখারার পদ্ধতি
প্রথমে দুই রাকাত নামায পড়বে ইস্তিখারার নিয়তে। (নিয়ত- হে আল্লাহ! যেভাবে কাজ করলে আমার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ হবে, সেইভাবে কাজটি করার তাওফীক দান করুন।) নামায শেষ করে উপরোক্ত দু‘আ পড়বে, এ দু‘আর যেখানে “হাজাল আমর” শব্দটি আসবে, সেখানে মনে মনে যে কাজটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে সেটি আরবীতে উচ্চারণ করবে বা মনে মনে সে বিষয়টি ভেবে নিবে।
উক্ত নামায শেষ করে কারো সাথে কথা না বলে কিবলামুখী হয়ে ঘুমিয়ে পড়বে। ঘুম থেকে জাগার পর মন যেদিকে সায় দিবে বা যেদিকে আগ্রহী হয়ে উঠবে, সেটিই ফলাফল মনে করবে।

তথ্যসূত্র: তুহফাতুল আলমায়ী, ২/৩৩৮

৩

ইস্তিখারার সংক্ষিপ্ত দু‘আ

ইস্তিখারার উল্লেখিত পদ্ধতি কিছুটা দীর্ঘ। অনেক সময় মানুষ সিদ্ধান্ত পৌঁছার জন্য এত দীর্ঘ সময় নাও পেতে পারে। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি সংক্ষিপ্ত দু‘আ আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। দু‘আটি এই-

۞ اَللّٰهُمَّ خِرْ لِيْ وَاخْتَرْلِيْ

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনিই ঠিক করে দিন যে, আমাকে কোনটি অবলম্বন করতে হবে।’(সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৫১৬; মুসনাদুল বাযযার, হাদীস নং: ৫৯; মুসনাদে আবু ইয়া'লা, হাদীস নং: ৪৪)

এছাড়া আরেকটি দু‘আ হাদীস শরীফে রয়েছে-

۞ اَللّٰهُمَّ اهْدِنِيْ، وَسَدِّدْنِيْ

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সহজ-সরল ও সোজা পথ দেখাও (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭২৫)

অনুরূপভাবে এ দু‘আটিও হাদীস শরীফে এসেছে-

۞ اَللّٰهُمَّ أَلْهِمْنِيْ رُشْدِيْ

অর্থ: হে আল্লাহ! যে পথটি সঠিক তা আমার অন্তরে ঢেলে দিন। (সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪৮৩)

যদি আরবীতে সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে নিজের ভাষায় এ দু‘আগুলো করা যেতে পারে। অনুরূপভাবে যদি মুখে উচ্চারণ সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে মনে মনে হলেও এ দু‘আগুলো করা।
৪

সালাতুল হাজত

বিশেষ কোন হালাল চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে আল্লাহ’র জন্য দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করাকে সালাতুল হাজত বলা হয়।(সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১৩৮৪) সংগত কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য বান্দা নিজ প্রভুর নিকটে ছবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করবে। (সূরা বাকারাহ, আয়াত নং: ১৫৩)
আল্লাহর নিকট বান্দার বিশেষ কোন প্রয়োজন হলে কিংবা শারীরিক মানসিক যে কোন পেরেশানি দেখা দিলে উত্তমভাবে উযূ করে দুই রাকাত নফল নামায পড়বে। অতঃপর আল্লাহর হামদ ও ছানা (প্রশংসা) এবং দরূদ শরীফ পাঠ করে আল্লাহর নিকট দু‘আ করবে।

۞ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ الْحَلِيْمُ الْكَرِيْمُ، سُبْحَانَ اللّٰهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ، أَسْأَلُكَ مُوْجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالْغَنِيْمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، لَاۤ تَدَعْ لِي ْذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهٗ ، وَ لَاۤ هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهٗ، وَلَاۤ حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ
উচ্চারণ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল হালিমুল কারীম। সুবহানাল্লাহি রব্বিল আরশিল আযীম। আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আছআলুকা মু’জিবাতি রহমাতিকা ওয়া আযা-ইমা মাগফিরাতিকা ওয়াল গ’নিমাতা মিন কুল্লি বিররিউ ওয়াস সালামাতা মিন কুল্লি ইছমিন, লা তাদা’লি- যাম্বান ইল্লা গাফারতাহু ওয়ালা হাম্মান ইল্লা ফাররাজতাহু ওয়ালা হাজাতান হিয়া লাকা রিজান ইল্লা কদাইতাহা ইয়া আর হামার রাহিমীন।

অর্থ

পরম সহনশীল ও দয়ালু আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। মহান আরশের রব আল্লাহ অতীব পবিত্র। সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক আল্লাহ্‌র জন্যই যাবতীয় প্রশংসা। হে আল্লাহ্! আমি তোমার নিকট অবধারিত রহমত, তোমার অফুরন্ত ক্ষমা, সকল সদাচারের ভান্ডার এবং প্রতিটি পাপাচার থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। আমি তোমার নিকট আরো প্রার্থনা করি যে, তুমি আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দাও, আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দাও, তোমার সন্তুষ্টিমূলক প্রতিটি প্রয়োজন পূরণ করে দাও।

ফযীলত

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা আল-আসলামী (রাযি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেন, আল্লাহ্‌র নিকট অথবা তাঁর কোন মাখলূকের নিকট কারো কোন প্রয়োজন থাকলে, সে যেন উযূ করে দু রাকাত নামায পড়ে, অতঃপর উপরোক্ত দু‘আ পাঠ করে। অতঃপর সে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য যা চাওয়ার আছে তা প্রার্থনা করবে। কারণ তা আল্লাহ্ই নির্ধারিত করেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে ইবনে মাজা, হাদীস নং: ১৩৮৪; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৪৭৯