দু‘আ

সুস্থতা-অসুস্থতা অধ্যায়

১৪টি দু‘আ
১

দৃষ্টি, শ্রবণের সুস্থতা,দারিদ্র্যমুক্তি ও নিরাপত্তার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَدَنِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ سَمْعِيْ، اَللّٰهُمَّ عَافِنِيْ فِيْ بَصَرِيْ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ، وَالْفَقْرِ، اَللّٰهُمَّ إِنِّيْ أَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ، لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ী, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারী, লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাকরি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আনতা।

অর্থ

হে আল্লাহ! আপনি আমাকে শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। হে আল্লাহ! আমার শ্রবণে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। আমার দৃষ্টিতে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করুন। আপনি ব্যতিত কোনো ইলাহ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার আশ্রয় গ্রহণ করছি কুফুরী ও দারিদ্র্য থেকে। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পানাহ চাই কবরের আজাব থেকে। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।

সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ৫০৯০; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১৯৫৩৮
২

কঠিন রোগমুক্তির দু‘আ

۞ رَبِّ اَنِّـىْ مَـسَّـنِـىَ الـضُّـرُّ وَاَنْـتَ اَرْحَـمُ الـرّٰحِـمِـيْـنَ
অর্থ

আমি দুঃখ-কষ্টে পড়েছি, তুমিতো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।

সূরা আম্বিয়া, আয়াত নং: ৮৩
৩

জ্বর হলে এ দু‘আ পড়বে

۞ بِسْمِ اللّٰهِ الْكَبِيْرِ اَعُوْذُ بِاللّٰهِ الْعَظِيْمِ مِنْ شَرِّ كُلِّ عِرْقٍ نَّعَّارٍ وَمِنْ شَرِّ حَرِّ النَّارِ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহিল কাবীরি আ‘ঊযুবিল্লা হিল ‘আযীমি মিন শাররি কুল্লি ‘ইরক্বিন না‘আা রিন ওয়া মিন শাররি হার রিন্নার।

অর্থ

মহান আল্লাহর নামের সাথে আমি মহান আল্লাহ তা‘আলার আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রত্যেক উত্তেজিত ধমনীর অনিষ্ট থেকে এবং দোযখের উত্তাপের অনিষ্ট থেকে।

সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ২০৭৫
৪

শ্বেত ও কুষ্ঠরোগ এবং মহামারী থেকে পানাহ চাওয়ার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَ الْجُنُوْنِ وَ الْجُذَامِ وَمِنْ سَىِّءِ الْاَسْقَامِ
উচ্চারণ

আল্লহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল বারাসি ওয়াল জুনুনি ওয়াল জুযামি ওয়া মিন ছাইয়্যি ইল আসক্বম।

অর্থ

হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেতকুষ্ঠ উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং সমস্ত খারাপ রোগ থেকে।

ফযীলত

হযরত আনাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম (ﷺ) এই দু‘আ পড়তেন।

তথ্যসূত্র: সুনানে আবূ দাউদ, হাদীস নং: ১৫৫৪; সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং: ৫৪৯৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ১২৫৯২

৫

অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে পড়বে

۞ لَا بَأْسَ طَهُوْ رٌ إِنْ شَاءَ اللّٰهُ – أَسْأَلُ اللّٰهَ الْعَظِيْمَ رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ أَنْ يَشْفِيَكَ
উচ্চারণ

লা বা’সা তাহুরুন ইনশাআল্লাহ, আস আলুল্লাহাল ‘আযীম রব্বাল ‘আরশিল ‘আযীম আইঁ ইয়াশ ফিয়াক।

অর্থ

বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেই। (আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন) ইনশাআল্লাহ্‌ এই রোগ (বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতা থেকে) পবিত্রতা সাধনকারী।
এরপরে সাতবার এই দু‘আ পড়বে : আমি আরশে আযীমের মালিক, মহান আল্লাহ্‌ তা‘আলার নিকট আপনার সুস্থতার জন্যে দু‘আ করছি।

ফযীলত

হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেন, কেউ মৃত্যু আসন্ন নয় এমন কোনো রোগীকে দেখতে গেলে, সে তার সামনে এই দু‘আ সাতবার পাঠ করবে, এর ফলে আল্লাহ তাকে (মৃত্যু আসন্ন না হলে) রোগমুক্ত করবেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৬৬২; সুনানে আবূ দাঊদ, হাদীস নং: ৩১০৬

৬

আয়াতে শেফা (রোগ মুক্তির ৬ টি আয়াত)

পবিত্র কুরআনে কারীমের ৬ টি আয়াত আয়াতে শেফা বা রোগ মুক্তির আয়াত নামে পরিচিত। এগুলো পড়ার পূর্বে সূরা ফাতিহা পড়ে নেয়া উত্তম।

۞ وَيَشْفِ صُدُوْرَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِيْنَ
۞ وَشِفَآءٌ لِّمَا فِی الصُّدُوۡرِ وَهُدًى وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ یَخۡرُجُ مِنۡۢ بُطُوۡنِہَا شَرَابٌ مُّخۡتَلِفٌ اَلۡوَانُہٗ فِیۡہِ شِفَآءٌ لِّلنَّاسِ
۞ وَنُنَزِّلُ مِنَ الۡقُرۡاٰنِ مَا هُوَ شِفَآءٌ وَّرَحۡمَۃٌ لِّلۡمُؤۡمِنِیۡنَ
۞ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِيْنِ
۞ قُلْ هُوَ لِلَّذِيْنَ آمَنُوْا هُدًى وَّشِفَاءٌ
উচ্চারণ

১. ওয়া ইয়াশফি ছুদু-রা ক্বাওমিম মু’মিনি-ন।
২. ওয়া শিফাউ’ল লিমা- ফিচ্ছুদু-রি ওয়া হুদাও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনি-ন।
৩. ইয়াখরুঝু মিমবুতু-নিহা- শারা-বুম মুখতালিফুন, আলওয়ানুহু- ফি-হি শিফা-উ লিন্না-সি।
৪. ওয়া নুনাজ্জিলু মিনাল ক্বুরআ’নি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিলমু’মিনি-ন।
৫. ওয়া ইজা মারিদতু ফা হুয়া ইয়াশফি-নি।
৬. কুল হুওয়া লিল্লাযীনা আ-মানূ হুদাওঁ ওয়া শিফাউন।

অর্থ

১. এবং আল্লাহ মু’মিনদের (মুসলমানদের) অন্তরসমূহ শান্ত করে দেন।
২. এবং অন্তরের রোগের নিরাময়, হেদায়েত ও রহমত মুসলমানদের জন্য।
৩. তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার।
৪. আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা রোগের সুচিকিৎসা এবং মুমিনের জন্য রহমত।
৫. এবং যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন
৬. বলুন, এটা বিশ্বাসীদের জন্য হেদায়েত ও রোগের প্রতিকার

১. সূরা তাওবার ১৪ নং আয়াত
২. সূরা ইউনূসের ৫৭ নং আয়াত
৩. সূরা নাহলের ৬৯ নং আয়াত
৪. সূরা বনী ইসরাঈলের ৮২ নং আয়াত
৫. সূরা আশ্-শুআরার ৮০ নং আয়াত
৬. সূরা হা-মীম এর ৪৪ নং আয়াত
ফযীলত

বুজুর্গানে দ্বীনের অভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্তঃ কোনো একটি পানিভর্তি পাত্র হাতে নিয়ে মুখের সামনে রেখে আয়াতগুলো একবার মতান্তরে তিনবার পড়ে দম করতে হবে। এবং ওই পানি পান করতে হবে।
উপরোক্ত প্রতিটি আয়াতেই কুরআনে মুমিনদের জন্য ‘শেফা’, ‘রহমত’ প্রভৃতির কথা উল্লেখিত হয়েছে। তাফসীরবিদ ইমাম বায়হাকী (রহ.) ‘শেফা’ অর্থ আত্মা এবং দেহ উভয়ের শেফা বা নিরাময় বলেছেন। অর্থাৎ পবিত্র কুরআনে যেমন আত্মার যাবতীয় রোগ এবং মন্দ প্রবণতার চিকিৎসা রয়েছে, তেমনি দেহের যাবতীয় রোগ-ব্যাধিরও চিকিৎসা রয়েছে।
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) থেকে বর্ণিত, হুযূর পাক (ﷺ) বলেছেন, “আল্লাহ পাক এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেননি যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি।
ইমাম সুবকী (রাহ.) উনাকে স্বপ্নে মহান আল্লাহ পাক বলেন, “তুমি কুরআন মাজিদের শেফার আয়াতসমূহ একত্র করে তা তোমার ছেলের নিকট পাঠ কর অথবা আয়াতগুলো একটি পাত্রে একত্রে লিখে তা ছেলেকে পান করাও, যতক্ষণ না তাতে সে সুস্থ হয়। অতঃপর তিনি অনুরূপ করলে উনার ছেলেকে মহান আল্লাহ পাক সুস্থতা দান করেন।”
যে ব্যক্তি কুরআনের মাধ্যমে আরোগ্য তালাশ করে না, তার কোন শেফা নেই। তাই আল কুরআন মানুষের হিদায়াতের পাশাপাশি তাদের রোগ-বালাই থেকে পরিত্রানের জন্যও কতই না কার্যকর, কতই না ফলপ্রসু। দুনিয়া ও আখিরাতের সমূহ কল্যাণ লাভের ক্ষেত্রে কতই না বাস্তব এর প্রতিটি তথ্য ও তত্ত্ব।
ইমাম যারকাশী (রাহ.) তার কিতাবে আবূল কাসেম আল কুশাইরীর ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, তিনি নবীজী (ﷺ) কে স্বপ্ন দেখেন যে, তিনি তাকে ৬টি আয়াতে শেফা পাঠ করার নির্দেশ দিচ্ছেন।

তথ্যসূত্র: আল-মাদখাল; সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৫৬৭৮; তাফসীরে কুরতুবী, ১০: ২৩৫; তাফসীরে রূহুল মা’আনী, ৮: ১৪৫

৭

বিষাক্ত প্রাণী থেকে বাঁচার দু‘আ

۞ أعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
উচ্চারণ

আউযুবি কালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন সাররি-মা-খলাক।

অর্থ

আমি আল্লাহ্‌ তা‘আলার সমস্ত (উপকারী ও শেফাদানকারী) কালিমা দ্বারা তার সমস্ত মাখলূকের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

ফযীলত

(১) হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারীম (ﷺ) এর খেদমতে হাজির হল এবং আরয করল, ইয়া রাসূলুল্লাহ, রাত্রে বিচ্ছুর কামড়ে আমার খুব কষ্ট হয়েছে। নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করলেন, যদি তুমি সন্ধ্যায় এই কালিমাগুলি পড়ে নিতে তবে বিচ্ছু কখনও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারত না।

(২) হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বর্ণনা করেন, নবী কারীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সন্ধার সময় তিনবার এই কালিমাগুলি বলবে-- সেই রাত্রে কোন প্রকার বিষ তার ক্ষতি করতে পারবে না। হযরত সুহাইল (রাযি) বলেন, আমাদের পরিবারের লোকেরা এই দু‘আ মুখস্ত করে রেখেছিল। তারা প্রতি রাত্রে তা পড়ে নিতো। এক রাত্রে এক মেয়েকে কোন বিষাক্ত প্রাণী দংশন করলে সে কোন প্রকার কষ্ট অনুভব করে নাই।
ফায়দা
কোন কোন ওলামায়ে কেরাম বলেন, ’আল্লাহ্‌ তা‘আলার সমস্ত কালিমা’ দ্বারা কুরআনে কারীম উদ্দেশ্য।

বি:দ্র: সফর চলাকালে কোথাও যাত্রাবিরতির সময় এই দু‘আ পড়া যায়।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭০৮,২৭০৯; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৬০৪; মেরকাত ৪: ১৬৮২

৮

কষ্ট দূর করার দু‘আ

۞ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللّٰهِ وَلَا مَنْجَاَ مِنَ اللّٰهِ إِلَّا إِلَيْهِ
উচ্চারণ

লা হাওলা ওয়ালা-ক্বুওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহি ওয়ালা মানজা মিনাল্লহি ইল্লা ইলাইহি।

অর্থ

আল্লাহর তাওফীক ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা বা কোনো নেক কাজ করা সম্ভব নয়। এবং আল্লাহর সাহায্য ছাড়া মুক্তি পাওয়ার কোন পথ নেই।

ফযীলত

হযরত আবূ হুরায়রা (রাযি) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দু‘আটি আমাকে বেশি বেশি পড়তে বলেছেন। কেননা এটা জান্নাতের রত্নভান্ডার। প্রসিদ্ধ তাবেয়ী হযরত মাকহূল রহ. বলেছেন, যে ব্যক্তি উক্ত দু‘আ পড়বে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর থেকে সত্তর প্রকারের কষ্ট দূর করবেন। যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট হল দারিদ্রতা।

তথ্যসূত্র: সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৬০১

৯

একান্ত প্রিয় বস্তু হারিয়ে গেলে যে দু‘আ পড়বে

۞ اِنَّا لِلّٰهِ وَاِنَّا اِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ. اَللّٰهُمَّ أْجُرْنِيْ فِـيْ مُصِيْبَتِيْ. وَاَخْلِفْ لِيْ خَيْرًا مِّنْهَا
উচ্চারণ

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজি‘ঊন, আল্লাহুম্মা’ জুরনী ফী মুসী বাতী ওয়া আখলিফলী খইরম মিনহা।

অর্থ

নিঃসন্দেহে আমরা আল্লাহ তা‘আলারই জন্য এবং আল্লাহ তা‘আলারই দিকে ফিরে যাব। হে আল্লাহ ! আমাকে আমার মুসিবতের উপর সওয়াব দান করুন, আর যে জিনিস আপনি আমার নিকট থেকে নিয়ে গিয়াছেন তা থেকে উত্তম জিনিস আমাকে দান করুন।

ফযীলত

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী হযরত উম্মে সালামাহ (রাযি) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে ইরশাদ করতে শুনেছি, যে বান্দার উপর কোন মুসীবত আসে এবং সে এই দু‘আ পড়ে নেয়, আল্লাহ তা‘আলা তাকে উক্ত মুসিবতে সওয়াব দান করেন এবং হারানো জিনিসের বিনিময়ে তা অপেক্ষা উত্তম জিনিস দান করেন।
হযরত উম্মে সালামাহ (রাযি) বলেন, যখন হযরত আবূ সালামাহ (রাযি) এর ইন্তেকাল হয়ে গেল তখন আমি এইভাবে দু‘আ করলাম যেভাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এই দু‘আর হুকুম দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা আমাকে আবূ সালামাহ থেকে উত্তম বদল দান করলেন। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে আমার স্বামী বানিয়ে দিলেন।

তথ্যসূত্র: সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৯১৮

১০

বদনজর থেকে বাঁচার দু‘আ-৪

۞ اَعُوْذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَّهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
উচ্চারণ

আ‘ঊযু বিকালিমা তিল্লা হিত তা ম্মাতি মিন কুল্লি শাইত্বা নিউ ওয়া হা ম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি ‘আইনীন লাম্মাতিন।

অর্থ

সকল শয়তান, কীটপতঙ্গ ও বদ নযর থেকে আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ কালিমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাচ্ছি।

ফযীলত

হযরত ইবনে ‘আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) হাসান এবং হুসাইন (রাযি)-এর জন্য নিম্নোক্ত দু‘আ পড়ে পানাহ চাইতেন আর বলতেন, তোমাদের পিতা ইবরাহীম (আ) ইসমাঈল ও ইসহাক (আ)-এর জন্য দু‘আ পড়ে পানাহ চাইতেন। আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমার দ্বারা প্রত্যেক শয়তান, বিষাক্ত প্রাণী এবং প্রত্যেক কুদৃষ্টির অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি।

তথ্যসূত্র: সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৩৩৭১

১১

দুর্ভাগ্য এবং দুশমনের হাসি থেকে রক্ষা পাওয়ার দু‘আ

۞ اَللّٰهُمَّ اِنِّىْ اَعُوْذُبِكَ مِنْ جَهْدِالْبَلَاءِ وَدَرْكِ الشَّقَاءِ وَسُوْءِ الْقَضَاءِ و شَمَاتَةِ الْاَعْدَاءِ
উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই ওয়া দারকিশ শাক্বা-ই ওয়া সূ-ইল ক্বদা-ই ওয়া শামাতাতিল আ’দা।

অর্থ

হে আল্লাহ, অবশ্যই আমি তোমার নিকট কঠিন দুরাবস্থা, দুর্ভাগ্যের নাগাল, মন্দভাগ্য এবং দুশমনের হাসি থেকে রক্ষা কামনা করছি।

সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২৭০৭; মা'আরিফুল হাদীস, হাদীস নং: ১৩০২
১২

বদনজরের দোয়া-১

بِسْمِ اللّٰهِ أَرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ

أَرْقِيكَ
উচ্চারণ

বিসমিল্লা-হি আরকীকা মিন কুল্লি শাইইন ইউ’যীকা,
মিন শার্রি কুল্লি নাফসিন আও ‘আইনিং হা-সিদিন,
আল্লাহু ইয়াশফীকা, বিসমিল্লা-হি আরকীকা।

অর্থ

আমি আল্লাহর নামে আপনাকে রুকইয়াহ করছি, সেই সব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দিচ্ছে। সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদ নজর থেকে আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দিক; আমি আল্লাহর নামে রুকইয়াহ করছি।

সহীহ মুসলিম,হাদিস নং: ৫৫১২
ফযীলত

باب الطِّبِّ وَالْمَرَضِ وَالرُّقَى
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ جِبْرِيلَ، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ فَقَالَ " نَعَمْ " . قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ .
৫৫১২। বিশর ইবনে হিলাল সাওওয়াফ (রাহঃ) ... সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থতা বোধ করছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি (জিবরাঈল) বললেনঃ
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি- সে সব জিনিস থেকে, যা আপনাকে কষ্ট দেয়, সব প্রাণের অনিষ্ট কিংবা হিংসুকের বদ নযর থেকে আল্লাহ আপনাকে শিফা দিন; আল্লাহর নামে আপনাকে ঝাড়-ফুঁক করছি।
আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ (সহীহ মুসলিম)
হাদিস নং: ৫৫১২
তাহকীকঃ তাহকীক নিষ্প্রয়োজন
বর্ণনাকারীঃ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)(মৃত্যুঃ ৭৪ হিজরী)

باب مَا جَاءَ فِي التَّعَوُّذِ لِلْمَرِيضِ
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الْبَصْرِيُّ الصَّوَّافُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، أَنَّ جِبْرِيلَ، أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ اشْتَكَيْتَ قَالَ " نَعَمْ " . قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَعَيْنِ حَاسِدٍ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ .
৯৭৪. বিশর ইবনে হিলাল আস সাওওয়াফ আল- বাসরী (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, জিবরাঈল (আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, হে মুহাম্মাদ! আপনি কি অসুস্থ? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জিবরাঈল তখন পাঠ করলেনঃ
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ وَعَيْنِ حَاسِدٍ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ وَاللَّهُ يَشْفِيكَ
আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ফুঁক দিচ্ছি ঐ সব কিছু থেকে যা আপনাকে কষ্ট দেয়। সকল অনিষ্ঠকর প্রাণী থেকে এবং সকল কুদৃষ্টি থেকে। আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ফুঁক দিচ্ছি। আর আল্লাহই আপনাকে শিফা দান করবেন। - ইবনে মাজাহ, মুসলিম
আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ (জামে' তিরমিযী)
হাদিস নং: ৯৭২ আন্তর্জাতিক নং: ৯৭২
তাহকীকঃ বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
বর্ণনাকারীঃ আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)(মৃত্যুঃ ৭৪ হিজরী)

১৩

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া-২

بِاسْمِ اللّٰهِ يُبْرِيْكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَّشْفِيْكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِيْ عَيْنٍ
উচ্চারণ

বিসমিল্লাহি ইয়ুবরিকা, ওয়ামিন কুল্লি দাঈন য়াশফীকা, ওয়ামিন শাররি হাসিদিন ইযা হাসাদা, ওয়া শাররি কুল্লি যি আইনিন।

অর্থ

আল্লাহর নামে, তিনি আপনাকে (রোগ) মুক্ত করুন, সব রোগ হতে আপনাকে নিরাময় করুন, আর হিংসুকের অনিষ্ট হাত-যখন সে হিংসা করে আর সব বদ নযরওয়ালার অনিষ্ট হতে।

আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ (সহীহ মুসলিম)
হাদিস নং: ৫৫১১
ফযীলত

الجامع لابن وهب ت مصطفى أبو الخير (ص: 786)
708 - قَالَ ابْنُ الْهَادِ: وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَيْضًا، كَانَتْ تَقُولُ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ , إِذَا اشْتَكَى رَقَاهُ جِبْرِيلُ، قَالَ: «بِسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ»

باب الطِّبِّ وَالْمَرَضِ وَالرُّقَى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ الدَّرَاوَرْدِيُّ، عَنْ يَزِيدَ، - وَهُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُسَامَةَ بْنِ الْهَادِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهَا قَالَتْ كَانَ إِذَا اشْتَكَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَقَاهُ جِبْرِيلُ قَالَ بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ .

৫৫১১। ইবনে আবু উমর মাক্কী (রাহঃ) ... রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সহধর্মিনী আয়েশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অসুস্হ হয়ে পড়লে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) এ দুআ পড়ে তাকে ফুঁকে দিলেনঃ
بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْن
(অর্থাৎ) আল্লাহর নামে, তিনি আপনাকে (রোগ) মুক্ত করুন, সব রোগ হতে আপনাকে নিরাময় করুন, আর হিংসুকের অনিষ্ট হাত-যখন সে হিংসা করে আর সব বদ নযরওয়ালার অনিষ্ট হতে।
আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ (সহীহ মুসলিম)
হাদিস নং: ৫৫১১

১৪

বদনজর থেকে বাঁচার দোয়া-৩

اَللّٰهُمَّ ذَا السُّلْطَانِ الْعَظِيْمِ، ذَا الْمَنِّ الْقَدِيْمِ، وَذَا الْوَجْهِ الْكَرِيْمِ ، وَلِيِّ الْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ وَالدَّعَوَاتِ الْمُسْتَجَابَاتِ ، عَافِنَا مِنْ أَنْفُسِ الْجِنِّ ، وَأَعْيُنِ الْإِنْسِ
উচ্চারণ

আল্লা-হুম্মা যা-সুলতানিল আযীম, যাল মান্নিল কাদীম,
ওয়া যা-লিওয়াজহিল কারীম, ওয়ালিয়্যিল কালিমা-তিত তা-ম্মা-তি ওয়াদ্দা‘ওয়া-তিল মুসতাজা-বা-ত,
‘আ-ফিনা- মিন আনফুসিল জিন্নি, ওয়া আ‘ইয়ুনিল ইন্স।

অর্থ

হযরত আলি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবীজি (সা) এর পেরেশান অবস্থায় জিবরাইল আ. আসলেন। তিনি জিগ্যেস করেন হে মুহাম্মাদ! আপনি চিন্তিত কেন? আপনার চিন্তার ফুটেজ চেহারায় ভেসে উঠেছে? তিনি বলেন হাসান ও হুসাইনের বদ নজর লেগেছে। সে (জিবরাইল) বলে আপনি বদ নজর সম্পর্কে সত্য বলেছেন। কারণ নজর লাগা সত্য। জিবরাইল বলে আমি কি আপনাকে এমন কিছু কালিমা শিক্ষা দিব না? যার মাধ্যমে তাদের আরোগ্য লাভ করা সম্ভব? তিনি (সা) বললেন সেগুলো কি? সে (জিবরাইল) বলে তা হলো, اللَّهُمَّ ذَا السُّلْطَانِ الْعَظِيمِ , ذَا الْمَنِّ الْقَدِيمِ , ذَا الْوَجْهِ الْكَرِيمِ , وَلِيَ الْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ وَالدَّعَوَاتِ الْمُسْتَجَابَاتِ , عَافِ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ مِنْ نَفْسِ الْجِنِّ وَأَعْيُنِ الْإِنْسِ ফলে উভয়ে সুস্থ হয়ে নবীজির সামনে খেলা করেন। নবীজি সা এর মাধ্যমে উম্মতকে শিফা লাভের আদেশ দেন।

ফযীলত

من حديث خيثمة بن سليمان (ص: 204)

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَشْوَرِيُّ , حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ رَبِّهِ الْبَصْرِيُّ , عَنْ أَبِي رَجَاءٍ , عَنْ شُعْبَةَ , عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ , عَنِ الْحَارِثِ , عَنْ عَلِيٍّ , عَلَيْهِ السَّلَامُ , أَنَّ جِبْرِيلَ , أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَافَقَهُ مُغْتَمًّا فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ , مَا هَذَا الْغَمُّ الَّذِي أَرَاهُ فِي وَجْهِكَ؟ قَالَ: «الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ أَصَابَتْهُمَا عَيْنٌ» , قَالَ: صَدِّقْ بِالْعَيْنِ؛ فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ , أَفَلَا عَوَّذْتَهُمَا بِهَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ , قَالَ: «وَمَا هُنَّ يَا جِبْرِيلُ؟» قَالَ: قُلِ: اللَّهُمَّ ذَا السُّلْطَانِ الْعَظِيمِ , ذَا الْمَنِّ الْقَدِيمِ , ذَا الْوَجْهِ الْكَرِيمِ , وَلِيَ الْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ وَالدَّعَوَاتِ الْمُسْتَجَابَاتِ , عَافِ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ مِنْ نَفْسِ الْجِنِّ وَأَعْيُنِ الْإِنْسِ , فَقَالَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَقَامَا يَلْعَبَانِ بَيْنَ يَدَيْهِ , فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «عَوِّذُوا أَنْفُسَكُمْ وَنِسَاءَكُمْ وَأَوْلَادَكُمْ بِهَذَا التَّعْوِيذِ؛ فَإِنَّهُ لَمْ يَتَعَوَّذِ الْمُتَعَوِّذُونَ بِمِثْلِهِ»

الحجة في بيان المحجة (1/ 522)

335 - أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، نَا أَبُو عبد الله الْجِرْجَانِيّ، أَنا مُحَمَّد ابْن مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَمْزَةَ، نَا عُبَيْدُ بْنُ مُحَمَّدِ إِبْرَاهِيمَ الْكَشْوَرِيُّ الصَّنْعَانِيُّ، نَا عَبْدُ رَبِّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ رَبِّهِ الْعَبْدِيُّ، عَنْ أَبِي رَجَا، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْحَارِثِ، عَنْ عَلِيٍّ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - أَنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلامُ أَتَى النَّبِي - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ - فَوَافَقَهُ مُغْتَمًّا فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ مَا هَذَا الْغَمُّ الَّذِي أَرَاهُ فِي وَجْهِكَ؟ قَالَ: الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ أَصَابَتْهُمَا عَيْنٌ، فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ صَدِّقْ بِالْعَيْنِ، فَإِنَّ الْعَيْنَ حَقٌّ، ثُمَّ قَالَ: أَفَلا عَوَّذْتَهُمَا بِهَؤُلاءِ الْكَلِمَاتِ قَالَ: وَمَا هُنَّ يَا جِبْرِيلُ؟ قَالَ: قُلِ اللَّهُمَّ ذَا السُّلْطَانِ الْعَظِيمِ، ذَا الْمَنِّ الْقَدِيمِ، ذَا الْوَجْهِ الْكَرِيمِ، وَالْكَلِمَاتِ التَّامَّاتِ، وَالدَّعَوَاتِ الْمُسَتَجَابَاتِ عَافِ الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ مِنْ أنفس الْجِنّ وأعين الْإِنْس فَقَالَهَا النَّبِي

- صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ - فقاما يلعبان بَين يَدَيْهِ، فَقَالَ النَّبِي - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم َ - لأَصْحَابِهِ عَوِّذُوا نِسَاءَكُمْ وَأَوْلادَكُمْ بِهَذَا التَّعَوُّذِ فَإِنَّهُ لَمْ يَتَعَوَّذِ الْمُتَعَوِّذُونَ بِمِثْلِهِ.